somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

দ্বিতীয় পর্ব

০২ রা অক্টোবর, ২০১৭ সকাল ৯:১৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



এই মাত্র খবর পেলাম- আমি যে মেয়েটিকে বিয়ে করেছিলাম সে আত্মহত্যা করেছে।

আমরা পালিয়ে বিয়ে করি। অথবা বলা যায় পালিয়ে বিয়ে করতে বাধ্য হই। মেয়ের বাপ মা কিছুতেই রাজী হচ্ছিল না। মেয়েটির নাম সুমি। খুব সুন্দরী মেয়ে। ঢাকার একটি নামকরা কলেজে লেখা পড়া করছে। চমৎকার একদম আধুনিক। একটু বেশীই আধুনিক। আমার সাথে পরিচয় হয় ঢাকার একটি নাইট ক্লাবে। বিয়েটা আমার কাছে মুখ্য বিষয় না। এটা আমার কাছে এক ধরনের খেলা। এই খেলা গত পনের বছরে অসংখ্যবার খেলেছি। আমি বুঝি না শিক্ষিত এবং ভদ্র ঘরের মেয়ে গুলো এত নির্বোধ হয় কি করে?

আমি খুব দুষ্টলোক। শুধু দুষ্টলোক না অতি বদ লোক। নেশা করি। সব রকম নেশাই করি। ঢাকা শহরে যারা নেশা দ্রব্য বিক্রি করে তারা সবাই আমাকে চিনে। এমনও হয়েছে রাত দু'টায় গিয়ে ইয়াবা কিনে এনেছি। এক এলাকায় না পেলে অন্য এলাকায় গিয়েছি। ঢাকা শহরের এমন কোনো এলাকা নেই যেখানে নেশা জাতীয় দ্রব্য পাওয়া যায় না। অথচ রাজনীতিবিদরা কত রকম চেটাং চেটাং কথা বলেন। এক সিরিঞ্জ নিলেই আমার মাথা পরিস্কার হয়ে যায়।
মেয়েদের সাথে প্রেমের অভিনয় করি, তাদেরকে বিছানায় নিই। ভিডিও করে রাখি। মেয়ে গুলোকেও আমার সাথে নেশা করতে বাধ্য করি। কোনো রকমে একবার নেশা ধরিয়ে দিতে পারলে- তারপর তারা আমাকে খুঁজে নেয়। যার দিকে আমার চোখ পড়ে তাকে হাসিল করেই ছাড়ি। সুমি মেয়েটাকে পুরোপুরি নেশাগ্রস্ত করতে সক্ষম হই খুব অল্প সময়ে। অসংখ্যবার তাকে বিছানায় নিই। বেশ কিছু ভিডিও ক্লিপ আমার কাছে আছে। সুমি বেশ কয়েকবার আমাকে ছেড়ে যেতে চেয়েছিল। যখন তাকে ভিডিও ক্লিপ এর কথা বলেছি, তখন আবার সুরসুর করে আমার কাছে চলে আসছে। এরকম অসংখ্য মেয়ের ভিডিও ক্লিপ আমার কাছে আছে। টাকার দরকার হলেই মেয়ে গুলোকে ভয় দেখাই- তারা আমার জন্য টাকা নিয়ে আসে। সেই টাকা দিয়ে আমি নেশা করি। নেশা করার দ্রব্যের অনেক দাম।

সুমি ফাঁসিতে ঝুলে মারা গেছে শুনেও আমি মোটেও বিচলিত নই।যারা নেশা করে শেষমেষ তাদের এই অবস্থাই হয়। একশ জনের মধ্যে তিনজন বড়জোর চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হতে পারে। সুমি মরছে ভালো হইছে। অর কাছ থেকে পাওয়ার আর কিছু ছিল না। সুমির সব রস শুসে নেয়া হয়েছে। সুমির কথা মনে পড়লে ভিডিও ক্লিপ গুলো দেখব। সুমির মৃত্যুতে পুলিশ আমাকে ধরবে না। কারন আমি সুমিকে যখন যা বলি সে তা'ই করেছে। আমি বলেছিলাম তুমি ফাঁসিতে ঝোলার আগে কাগজে লিখে দিও 'আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী না'। সুমি তাই'ই লিখে মরেছে। কিন্তু সমস্যা হলো পোষ্টমোরটেম রিপোর্টে অনেক অজানা সত্য কথা বের হয়ে এসেছে। সুমির বাসার দাড়োয়ানের কাছ থেকে সব তথ্যই আমি পাই। কখন তাদের বাসায় কে আসলো, কে গেলো। এজন্য অবশ্যই দাড়োয়ানকে আমি টাকা দেই। সুমি ফাসি নিয়েছে এই খবরটাও দাড়োয়ানই আমাকে দেয়।

আমার যখন নেশা মাথায় চড়ে যেত কিন্তু হাতে টাকা থাকত না। তখন আমি সুমিকে অনেক বুঝিয়ে সুঝিয়ে অন্য পুরুষের কাছে নিয়ে যেতাম- সেই সব পুরুষ সুমিকে ভোগ করত, বিনিময়ে আমি অনেক টাকা পেতাম। সেই টাকা দিয়ে আমি নেশা করতাম। সুমিকেও নেশা করাতাম। একসময় এটা আমাদের অভ্যাসে পরিনত হয়ে গেল। পোষ্টমোরটেম রিপোর্টে বের হয়ে গেল- সুমির শরীরে অসংখ্য দাগ। খামচির দাগ, কামড়ের দাগ। আচড়ের দাগ। সারা শরীরে অসংখ্য ক্ষত-বিক্ষত অবস্থা। মানুষ টাকা দিয়ে নিয়ে গিয়ে তো আর সোনার পালঙ্কে শুইয়ে রাখে না। তারা ক্ষুধার্ত শেয়াল কুকুরের মতো খুবলে খায়। সুমি যতই লিখে যাক 'আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী না। কিন্তু পুলিশ ইচ্ছা করলে আমাকে গ্রেফতার করতে পারে। পুলিশ আমাকে প্রচুর ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। প্রচুর টাকা চায়। টাকা দিলে তারা চুপ করে থাকবে বলেছে। পনের লক্ষ চেয়েছে কিন্তু আমি জানি পাঁচ দিলেও চুপ থাকবে।

সুমির বাবা মা দুইজনই চাকরি করেন। মেয়ের সাথে সারাদিন শুধু মোবাইলে যোগাযোগ করতো। সুমির বাবা ফোন দিয়ে বলতো- তুমি কই মা? সুমি বলতো- আমি ক্লাশে বাবা। কিন্তু সুমি তখন আমার কোলে বসা। নেশায় বুঁদ হয়ে আছে। বাসায় সারাদিন কেউ না থাকায়- যখন তখন আমার কাছে চলে আসতে পারতো। আমিও মাঝে মাঝে সুমির বাসায় চলে যেতাম। দুইজন একসাথে নেশা করে অন্যভুবনে চলে যেতাম। আহ সে এক অদ্ভুত ব্যাপার! সুমিকে আমি কখনও ভালোবাসিনি। শুধু ভালোবাসার অভিনয় করে গেছি। শরীরের জন্য আর নেশা করার টাকার জন্য। কিন্তু মেয়েটা সত্যি সত্যি আত্মহত্যা করবে বুঝতে পারিনি। অবশ্যই মেয়েটা অনেক বার আমার কাছ থেকে পলাতে চেয়েছে- কিন্তু আমি মেয়েটিকে নানান ভয়ভীতি দেখিয়েছি। ভিডিও ক্লিপ গুলো নেটে ছেড়ে দিব বলে ভয় দেখিয়েছি। ভয়ের চোটে সে আমার কাছে ছুটে এসেছে। অল্পতেই ইমোশনাল হয়ে যাওয়া মেয়ে গুলোকে সহজেই বাগে আনা যায়।

আপনারা হয়তো আমাকে খারাপ ভাবছেন। আমার মুখে হয়তো থু থু দিতে ইচ্ছা করছে। দেখুন আমি কত ভালো। সব সত্য স্বীকার করলাম। কিন্তু এই সমাজে আমার মতো ছেলের অভাব নেই। আমার কাছ থেকে তাদের কাছে ভিডিও ক্লিপের সংখ্যা অনেক বেশি। আমার থেকে হাজার গুন বেশি নেশা তারা করে। নিজের গার্ল ফ্রেন্ডকে মধ্যরাতে অন্য লোকের হাতে তুলে দিয়ে আসে। আবার সকালে গিয়ে নিয়ে আসে। নির্বোধ মেয়ে গুলো সুন্দরী হওয়ার কারনে অনেক টাকা পাওয়া পায়। সেই টাকা দিয়ে নেশা করে। সেই সমস্ত মেয়ের সারা শরীরের অসংখ্যা দাগ। কামড়ের দাগ'ই বেশি। দেখলে ভয় পেয়ে যাবেন।


সর্বশেষ এডিট : ০২ রা অক্টোবর, ২০১৭ সকাল ৯:১৯
৮টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

=নীলাম্বরী সেজে আছি=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:৩৮



এই এসো না কাছে এসো,
নীল শাড়ীতে নীলাম্বরী
ঠায় দাঁড়িয়ে অপেক্ষাতে
এসে ভাসাও প্রেমের তরী।

নীল সমুদ্দুর ডেকেছে আজ
তাই দাঁড়িয়ে আছি একা
এসো তুমি হাওয়ায় উড়ে
এসে করো একটু দেখা।

হাঁটতে ইচ্ছে বালিচরে,
তুমি আমার - পাশে হাঁটবে?
মনের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মূল্যস্ফীতি বাড়লে বা কমলে আমরা টের পাই না কেন ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:৫১


গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ের কারণে বাংলাদেশে এখন কয়টা ঋতু আছে তা কেউ বলতে পারে না। আমার মনে হয় গ্রীষ্ম আর বর্ষার একটা মিশ্র ঋতু আছে, আর আছে শীত। এই গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মুহাম্মদ আলি জিন্না

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:৩৫



১৮৭৬ সালে করাচিতে এক দুষ্ট বালকের জন্ম হয়।
এবং ৭৬ বছর বয়সে দীর্ঘদিন যক্ষা রোগে ভূগে- দেশ ভাগের পরের বছর মারা যান। এই দুষ্ট বালক'ই পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা। নাম তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

সেরা লেখক

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৪৭



বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ভালো লেখক এক কথায় - হুমায়ূন আহমেদ। হুমায়ূন আহমেদের লেখা উপন্যাস মধ্যাহ্ন বা দেয়াল - এর পাশাপাশি রাখার মতো বাংলাদেশে আর কোনো উপন্যাস আছে কিনা আমার জানা... ...বাকিটুকু পড়ুন

=ডায়াটে একদিনের খাবার=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:৫১

ডায়াটের প্রথম দিকে-একদিনের খাবার। বর্তমানে আমাদের দেহে রোগসুগের অভাব নাই। ডায়াবেটিস, প্রেসার, ক্যান্সারসহ নানাবিধ রোগ বলা নাই কওয়া নাই শরীরে এসে বাসা বাঁধে।

আর এসব রোগের একমাত্র কারণ আনহেলদি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×