
পৃথিবীর সব মানূষের ভূতের বা ভয়ের অভিজ্ঞতা আছে। তার নিজের ব্যাখ্যার অতীত কোনো না কোনো গল্প আছে। আমার নিজের একটা অভিজ্ঞতার কথা বলি-
অনেকে প্রায়ই জানতে চায়- তুমি কখনো ভূত দেখেছো?
তখন আমি বলি খুব দেখেছি, তাহলে শুনুন-
সে কথা মনে হলে আজও গায়ে কাটা দেয়। পাশের গ্রামে সেবার পূজোর সময় যাত্রাপালা হয়েছিল। খুব নামকরা দল। পালা শেষ হতে-হতে রাত দুটো। তিনজন মিলে ফিরছিলাম। পথ একেবারে সুনসান। সাথের দুজন বটতলার কাছে এসে অন্য দিকে চলে গেল। আমি একা। আমি মোটামোতি সাহসী। ভয় ডর খুব কম। নেই বললেই চলে।
তালুকদার বাড়ির পুকুরের ধার বরাবর রাস্তা দিয়ে হাটছি। শীতের শুরু। চারপাশে নানান রকম গাছপালা। অল্প অল্প কুয়াশা। সুন্দর জোছনা রাত। তবে এ জায়গাতে দিনের বেলাও খুব বেশি লোক চলাচল করে না। অনেক আগে এখানে এ গ্রামের চেয়ারম্যানকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছিল। তাই গ্রামের মানুষ বলে- এ জায়গাটা দোষি।
যাই হোক, আপন মনে গুনগুন করে গান গাইতে গাইতে আমি হাটছিলাম। হঠাৎ সামনে দেখি একটা লোক নিচু হয়ে কি যেন খুঁজছে। আমি সামনে গিয়ে বললাম- কে ওখানে? কেউ জবাব দিল না। তখন আমি বললাম, কিছু হারিয়ে থাকলে তো আর এই অন্ধকারে খুঁজে পাবেন না। এখন বাড়ি চলে যান, সকালে এসে খুঁজবেন। তখন লোকটা সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে আমার দিকে তাকালো। বিড়বিড় করে যেন কি বলছে।
খুব ভয় পেলাম। হাত পা শক্ত হয়ে গেল। নড়াচড়া করতে পারছিলাম না। মনে হচ্ছে আমি অজ্ঞান হয়ে যাবো। ঠিক তখন ভূতটা বাতাসে মিলিয়ে গেল। আল্লাহ আল্লাহ করতে করতে আর ঠকঠক করে কাঁপতে কাঁপতে বাড়ি ফিরে আসি। পরপর সাত দিন জ্বরে খুব ভূগলাম। আমার দাদী আমাকে একটা তাবিজ পড়িয়ে দিলো গলায়।
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে ডিসেম্বর, ২০১৭ বিকাল ৩:৪৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




