
১। বিয়েতে বেশি খরচ করার কোনো মানে হয় না, মাত্র কয়েক ঘন্টার একটা অনুষ্ঠান। মানূষ খেয়ে যাবে, তারপর বদনাম করবে-খাবার ভালো হয়নি। অমুক বিয়ের খাবারটা ভালো ছিল। ধর্মীয়ভাবেও বলা হয়েছে বিয়ে শাদীতে বেশি খরচ না করতে। আমাদের প্রিয় নবী হযরত মোহাম্মদ (সঃ) শুধু খেজুর খাইয়ে বিয়ের কথা বলেছেন। এক হাদীসে তিনি বলেছেন- যে বিয়েতে খরচ যত কম হয়, সেই বিয়েতে আল্লাহ তত খুশি হন। কাজেই যারা বিবাহ করবেন- মিতব্যয়ী হবেন। অযথা ফালতু খরচ করবেন না। আর যদি আপনাদের টাকা বেশি হয়ে থাকে- তাহলে দরিদ্র মানূষদের সাহায্য করেন। শীতের মধ্যে বিয়েসাদী বেশি হয়। অপচয়ও বেশি হয়। আর শীতে দরিদ্র মানূষেরা বেশি কষ্ট করে, তাদের শীতের জামা নেই। কম্বল নেই।
২। ফক ফেস্টিবল, না কি যেন হয়। আরও নানান ফেস্টিবল আছে। একদম মধ্যরাত পর্যন্ত এসব অনুষ্ঠান হয়। যারা এইসব অনুষ্ঠান আসেন- তারা অনুষ্ঠান শেষে বাড়ি ফেরার পথে কি দেখেন না- কত মানুষ রাস্তায় শুয়ে আছে। মারাত্মক মানবতার পরাজয়। তারা এক শ' জন ঐ সব অনুষ্ঠানে না গিয়ে, সবাই মিলে গৃহহীনদের জন্য কিছু করতে পারেন না? নানান অকেশোনে নানান জায়গায় নানান ধরনের কনসার্ট হয়। সে সব কনসার্ট না করে দরিদ্র মানূষদের জন্য কিছু করা যায় না? মানুষ হয়ে জন্মেছেন, তাই দুস্থ মানবের জন্য কিছু করার দরকার আছে না? লেখা পড়া শিখেছেন, চাকরি বা ব্যবসা করছেন- বিয়ে করেছেন- ৬০/৭০ বয়সের মধ্যে তো মরেই যাবেন। তাই মরে যাওয়ার আগে মানূষের জন্য কিছু করুন। এটা আপনার দায়িত্ব। আপনার যতটুকু সাধ্য আছে- তার মধ্যেই করুন।
৩। এই যে প্রতিদিন সকালে লক্ষ লক্ষ ছেলে ধোয়া পরিস্কার শার্ট প্যান্ট আর সু পড়ে, ক্লিন সেভ করে অফিসের উদ্যেশে বের হয়। অফিসে যায়। অল্প কয়েকজন ছাড়া তারা কিন্তু কেউ সুখী নয়। চাকরিতে সুখী নয়, সংসারেও সুখী নয়। কর্পোরেট দুনিয়াটা খুব খারাপ। খুব নিষ্ঠুর। এই দুনিয়াতে সবাই তাল মিলিয়ে চলতে পারে না। সরকারী অফিস গুলোতে অযোগ্য লোকদের ভিড়। কারন সেখানে চাকরি হয় মামা, চাচা আর টাকার জোরে। যোগ্যতা লাগে না। অবশ্য মামা চাচা আর দুলাভাই এর কল্যাণে অনেক অযোগ্য লোক বড় বড় পদ দখল করে আছে। আর সত্যিকার যার যোগ্যতা আছে- সে হয়তো ছোট একটা পদে কোনো রকমে টিকে আছে। আমি সব মানূষের মুখের দিকে খুব মন দিয়ে তাকিয়ে থাকি। ছেলেটা বা মেয়েটা যতই হাসি খুশ ভাব দেখাক কিন্তু আমি তারপরও তাদের গোপন দুঃখ কষ্ট গুলো ঠিক টের পাই। মুখের মধ্যে অদৃশ্য হাজার হাজাত কষ্টের ছাপ দেখতে পাই।
৪। দেশের অবস্থা ভালো না। শিক্ষা খাত প্রায় ডুবতে বসেছে। স্বাস্থ্যখাতের অবস্থাও ভালো না। সরকারি হাসপাতালে গেলেই বুঝবেন দেশ চিকিৎসাখাতে কত দূর এগিয়েছে। সবাই তো স্কয়ার বা ল্যাব এইড যেতে পারে না। নদী ভাঙ্গন অব্যহত আছে। চুরী ছিনতাই খুব বেড়েছে। সরকারি অফিস গুলোতে দুর্নীতির মাত্রা বেড়েই চলেছে। বাজারে নকল পণ্যে সয়লাব। জিনিস পত্রের দাম বেড়েই চলেছে। বিশেষ করে পেঁয়াজ আর চাল। প্রতিটা গলিতে নেশা দ্রব্য খুবই সহজলব্য। হাত বাড়াতেই পাওয়া যায়। পতিতাদের সংখ্যাও খুব বাড়ছে। রাস্তার একপাড়ে মসজিদ অন্যপারে ব্রোথেল। চাকরির বাজার মন্দা। অল্প কিছু মানুষের হাতে টাকার অভাব নেই। আর বেশির ভাগ মানুষের কাছেই টাকা নেই। ঢাকা শহরে যারা বাসে চলাচল করে তাদের কষ্টের শেষ নেই। দুঃখ-কষ্ট ভরা মানূষের জীবন। যত যাই'ই হোক, সামনে নতুন বছর আসছে- এই বছরে সব কিছু ঠিক হয়ে যাবে, এই ভাবনাটাই এখন ভাবতে চাই।
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে ডিসেম্বর, ২০১৭ বিকাল ৫:২০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


