somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

আমার কোনো দিনও গাড়ি কেনা হবে না

১৪ ই জানুয়ারি, ২০১৮ বিকাল ৩:২৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আমার যদি একটা গাড়ি থাকতো! আমি কি কোনো দিন গাড়ি কিনতে পারবো? আমার আত্মীয় স্বজন সবার'ই গাড়ি আছে। আমার আপন বড় ভাই এর গাড়ি আছে। আমার ছোট ভাইও নাকি গাড়ি কিনবে। ইদানিং গাড়ির খুব অভাব বোধ করছি। সুরভি নানান কাজে প্রায়ই বাইরে যায়। এমন কি তার বাবার বাড়িতেও তো মাসে দুই একবার যায়। বাস বা সিএনজি'র সার্ভিস তো ভালো নয়। বেচারির জন্য আমার খুব মায়া হয়। প্রিয় মানূষের জন্য কিছু করতে না পারার কষ্টটা অনেক বড়।

আমার জীবনে আমি গাড়ি নিয়ে অনেকবার অপমানিত হয়েছি। একই জাগায় যাচ্ছি, আমার পরিচিত আমাকে রেখে অন্যজনকে নিয়ে গাড়িতে করে চলে গেল আমার সামনে দিয়ে। এক বিয়ের অনুষ্ঠানে যাবো- এক আত্মীয়র কাছে গাড়ি চাইলাম দুই ঘণ্টার জন্য- গাড়ি দিল না। আত্মীয়র কথা কি বলব- নিজেই ভাইয়ের কাছেই গাড়ি চাইলে গাড়ি পাই না। নানান ধরনের কথা বার্তা। আব্বা যখন গাড়ির ব্যবসা করতো- তখন গাড়ি চাইলেই পেতাম।

ত্রিশ-পয়ত্রিশ বছর তো আমি লোকাল বাসে করেই কাটিয়ে দিলাম। এখন আর পারি না। দৌড়ে দৌড়ে বাসে উঠতে, নামতে। ঘন্টার পর ঘন্টা বাসের জন্য দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। যা-ও দুই একটা বাস আসে এমন ভীড়, এমন ধাক্কাধাক্কি, সবার সাথে আমি পেরে উঠি না। অসহায়ের মতো, এতিমের মতো দাঁড়িয়ে থাকি। মাইলের পর মাইল হাঁটি। রাতে পা ব্যাথায় ঘুমাতে পারি না। দিনের পর দিন যাতায়াত করতে সীমাহীন কষ্ট। আর ভালো লাগে না।

মাঝে মাঝে ইচ্ছা করে একটা পুরান গাড়ি ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে কিনেই ফেলি। আবার ভাবি মাসে মাসে লোন শোধ করবো কিভাবে? যা বেতন পাই, তা দিয়ে ডাল ভাত খেয়ে বেঁচে আছি কোনো রকমে। যখনই ভাবি এই জীবনে আমার গাড়ি কেনা হবে না- তখন কষ্টে বুকটা ভেঙ্গে যায়। এক আকাশ হাহাকার আমার গলা টিপে ধরে। ছোটবেলা থেকেই গাড়ির প্রতি আমার এক আকাশ দুর্বলতা। নানান রকম খেলনা গাড়ি ছিল আমার। রিমোট ওয়ালা গাড়ি ছিল আমার। সারাদিন গাড়ি গাড়ি খেলতাম। এখনও খেলনার দোকানে গেলে গাড়ি গুলো হাতে নিয়ে দেখি। রাস্তায় যখন আমার সামনে দিয়ে কোনো গাড়ি শাঁ শাঁ করে চলে যায়। আমি হা করে তাকিয়ে দেখি। রাস্তায় প্রায়ই যত্রতত্র পারকিং করে রাখা গাড়ি গুলো ছুঁয়ে দেখি। কি যে আনন্দ পাই! মনে মনে ভাবি একদিন আমার নিজেরও একটা গাড়ি হবে। আমি অপেক্ষা করি। অপেক্ষা করতে আমার ভালই লাগে।

ভাবতেই তো ভালো লাগে- নিজের একটা গাড়ি! ড্রাইভার সালাম দিয়ে দরজা খুলে দিবে। ছুটির দিনে আমি আর সুরভি ''পাগলা হাওয়ার বাদল দিনে'' গানটা শুনতে শুনতে কোনো বন্ধুর বাড়ি বেড়াতে যাবো। অনেকে ড্রাইভারদের সাথে খারাপ ব্যবহার করে। আমি কোনো দিনও ড্রাইভারদের সাথে খারাপ ব্যবহার করবো না। আসলে আমি খারাপ ব্যবহার করতে জানি'ই না। ড্রাইভারকে ভালো টাকা বেতন দিবো। বছরে দুই ঈদে দুইবার ফুল বোনাস দিবো। পহেলা বৈশাখেও কিছু দিয়ে দিব। দুপুরের খাবার দিবো। রাত দশটার পর ডিউটি করলে ওভারটাইম দিয়ে দিব।

যখন সুরভি'র সাথে চুটিয়ে প্রেম করতাম। বাসে, সিএনজিতে ঘুরে বেড়াতাম- তখন সুরভিকে আমি কথা দিয়েছিলাম দেখো, ''একদিন আমি গাড়ি কিনব।'' আমি কথা দিলে কথা রাখি- সুরভি খুব ভালো করেই জানে। অনেক কথাই রেখেছি। কিন্তু গাড়িটা মনে হয় আর কিনতে পারব না। জীবনের অনেক গুলো স্বপ্নের মতো এই গাড়ি কেনার ইচ্ছাটাও বোধহয় কোনো দিন সত্যি হবে না। সম্ভব না। একেবারেই সম্ভব না। শুধু মনে মনে 'গাড়ি কিনব' ভেবে এক রকমের শান্তি পাই। বাস্তব বড় কঠিন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আমাকে লোকাল বাসে করেই চলাচল করতে হবে।

গতকালের একটা ঘটনা বলি- আমি আর সুরভি যাবো মিরপুর, পল্লবী। সুরভি'র বড় ভাইয়ের এনগেজমেন্টের অনুষ্ঠানে। বড় ভাই, আর ভাবিকে আগেই বলে রেখেছি গাড়ি লাগবে। আমি, সুরভি রেডি হয়ে নিচে নেমেছি ড্রাইভার আর আসে না। এক ঘন্টা অপেক্ষা করলাম ড্রাইভার আর আসে না। দুঃখে কষ্টে আমার চোখে পানি এসে পড়েছে। ভাবী-বড় ভাই ড্রাইভারকে ফোন দিচ্ছে ড্রাইভার ফোন ধরে না। শেষে ভাবী বলল- ও আজ তো শুক্রবার ড্রাইভার আসবে না। এদিকে সবাই আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে। শেষে রাস্তার মোড়ে গিয়ে দাড়ালাম। একটাও সিএনজি নেই। এক ঘন্টা দাঁড়িয়ে থাকার পর একটা সিএনজি পেলাম। সেই সিন এনজিওয়ালা বলল- চার শ' পঞ্চাশ টাকা দিতে হবে। কিন্তু ন্যায্য ভাড়া হলো- ২২০ টাকা।

গেলাম পল্লী। অনুষ্ঠান শেষে হতে হতে রাত বারোটা বেজে গেল। রাত বারোটায় পল্লবী থানার সামনে দাঁড়িয়ে আছি। কোনো সিএনজি নেই, বাস নাই। যাও দুই একটা আছে আমার গন্তব্যে যাবে না। শীতের রাত। রাত সাড়ে বারোটা বেজে গেছে। সাথে সুরভি, তখন কেমন লাগে? এই রকম পরিস্থিতিতে নিজেকে খুব অসহায় লাগে। হতভাগা মনে হয়।
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই জানুয়ারি, ২০১৮ বিকাল ৩:২৯
৩০টি মন্তব্য ২৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমার মহাজাগতিক ভাবনাকে এআই আমার সেরা পোষ্ট হিসাবে সাব্যস্ত করেছে

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০২ রা অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:১২



মহাজাগতিক ভাবনা

মহাজগতের প্রথমের পূর্ব অবস্থান শূন্য। কারণ প্রথমের পূর্ব অবস্থান শূন্যই হয়ে থাকে।শূন্য অবস্থানে সীমাদাতা না থাকায় তাতে যা হবে তা’ অসীম হবে।সকল অসীম একত্রে মিলে এক হবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

সালমান মুক্তাদিরের বিরুদ্ধে এ্যাকশান নিয়ে সরকার কি বার্তা দিচ্ছে?

লিখেছেন আফনান আব্দুল্লাহ্, ০২ রা অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:০৫

সালমান মুক্তাদির দেখি জঘন্য মানুষ। ওয়াইন, ওম্যান আর ওয়েল্থ – পুরুষ নষ্টের এই তিন ডব্লিউ-ই তার অস্থিমজ্জা ও লিভারে ঢুকেছে



এদিক-ওদিক ব্যাপক আম-লিচু করে বেড়িয়েছে। নিজের স্টুডিওতে আজেবাজে শুটিং করেছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিনয়: মুমিনের এক অনন্য মহৎ গুণ; কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে একটি বিশ্লেষণ

লিখেছেন নতুন নকিব, ০২ রা অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৫

বিনয়: মুমিনের এক অনন্য মহৎ গুণ; কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে একটি বিশ্লেষণ

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

ভূমিকা

মানুষের প্রকৃত সৌন্দর্য তার বাহ্যিক চেহারা, ধন-সম্পদ বা সামাজিক মর্যাদায় নিহিত নয়। বরং তাঁর চরিত্র,... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছবি ব্লগ -৪ বর্ষণ মুখর সকাল

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ০২ রা অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫৯


আজ মেঘলা আকাশ। আজ ভীষণ বর্ষণ মুখর এক সকাল। অনেকের কাছে এরকম প্রকৃতি এক অপূর্ব দৃশ্য নিয়ে আসে। আবার অনেকের কাছে মেঘলা আকাশের বর্ষণ মুখর সকাল মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার দিনগুলি আর ফিরবে নারে || সহেলিয়া ও সোনারুর কণ্ঠে নতুন ভার্সন

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ০২ রা অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:৩০

আমার দিনগুলি আর ফিরবে নারে
যারে হারাইয়াছি মায়ের কোলে
আর কি ফিরা পাবো তারে

মন যে আমার কান্দে সদাই
ফিরা যাইতে সোনার শৈশবে
হায়রে কোথায় আমার ঘুড্ডি নাটাই
খেলার সাথি কই সবে

কে যে আমায় নিত্যি ডাকে
ঘুমের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×