
একদিন দুপুরবেলা হুট করে রোদ চলে গেল। তারপর চারপাশ অন্ধকার হয়ে গেল। আকাশ ভরা মেঘ জমতে শুরু করলো। আকাশে মেঘ জমতে শুরু করলেই শহরবাসী কিছুটা রোমান্টিক হয়ে উঠে। এক রিকশাওয়ালা তো বলেই ফেলল- আরে আল্লাহর কি কেরামতি, মুহূর্তের মধ্যে কড়া রোদ চইল্লাহ গেল। চাইরদিক আন্ধার হইয়া গেল! চারদিক আন্ধার হওয়ার খুশিতে সে রাস্তার পাশের চায়ের দোকান থেকে এক কাপ চা খেল তারপর একটা বেনসন সিগারেট ধরিয়ে উদাস ভঙ্গিতে আকাশের দিকে তাকালো। অকারনেই শহরবাসী খুব বেশি ছোটাছোটি শুরু করলো।
ঠিক এই রকম সময়ে একটা মেয়ে নীলক্ষেত মোড়ে দাঁড়িয়ে আছে। সে যাবে খিলগাঁ। একটাও রিকশা নেই। অন্য সময় রিকশা জট পাকিয়ে বসে থাকে। মেয়েটা খুব সুন্দর। নীল রঙের একটা জামা পড়েছে। খুব বেশি সাজেনি তবে চোখে মোটা করে কাজল দিয়েছে, কপালে ছোট্র একটা টিপ। আর দুই হাত ভরতি কাঁচের চুড়ি। তাতেই মেয়েটা খুব সুন্দর লাগছে। মেয়েটা অসহায়ের মতো আসে পাশে তাকাচ্ছে। কিন্তু একটাও রিকশা নেই। আকাশের যে অবস্থা, যে কোনো মুহূর্তে ঝুম বৃষ্টি নেমে যাবে। মেয়েটার ইচ্ছা করছে একটা রিকশা নিয়ে সারা ঢাকা শহর ঘুরে বেড়াতে। সাথে থাকবে প্রিয় একজন মানূষ। নাটক সিনেমাতে তো এরকমই হয়। বাস্তব মাঝে মাঝে নাটক সিনেমাকেও ছাড়িয়ে যায়।
বাইকে বসে একটা ছেলে চা খাচ্ছিল নীলক্ষেত মোড়ে। চায়ের কাপ হাতে নিয়ে এক আকাশ অবাক চোখে নীল জামা পরা মেয়েটার দিকে তাকিয়ে আছে ছেলেটা। সুন্দর একটা মেয়ের দিকে সুন্দর করে তাকিয়ে থাকতেও এক ধরনের আনন্দ হয়। মেয়েটা রিকশা পাচ্ছে না, তাই দেখে ছেলেটার খুব কষ্ট লাগছে। ছেলেটার ইচ্ছা করছে ঢাকা শহরের সমস্ত রিকশা নিয়ে মেয়েটার সামনে হাজির করতে। দুই এক ফোঁটা করে বৃষ্টির ফোঁটা পড়তে শুরু করেছে, সাথে আকাশে মেঘের বিশাল গর্জন। আর চারিপাশে কি ঠান্ডা বাতাস। বাতাসে মেয়েটার মাথা ভরতি চুল উড়ছে।
দেখতে দেখতে ঝুম বৃষ্টি শুরু হয়ে গেল। ছেলেটা মেয়ের সামনে গিয়ে বলল- আমার বাইকে উঠুন। ভিজে যাচ্ছেন তো! মেয়েটা বলল- বাইকে উঠলে কি বৃষ্টিতে ভিজবো না? তারপর দুইজন'ই হেসে ফেলল। সহজ সরল সুন্দর হাসি। অতপরপর যা হয় আর কি... দু'জন মিলে অনেকক্ষন বৃষ্টিতে ভিজল বাচ্চাদের মতোন। তারপর শীতে থরথর করে কাঁপতে শুরু করলো। ছেলেটা বলল- চলুন কফি খাই। তাতে ঠান্ডা কিছুটা কমবে। মেয়েটা বলল চলুন।
পর-পর দু'জনে চার মগ কফি খেয়ে ফেললো। মুখে কোনো কথা নেই। কিন্তু চোখে চোখে কোটি কোটি কথা হয়ে গেল। এদিকে বৃষ্টি আর কমে না। রাস্তায় পানি জমে গেছে। বিশাল বিশাল ঢেউ। বাংলা সিনেমাতে যা হয় তাই'ই হলো। ছেলেটা তার বাইকে করে মেয়েটাকে তার বাসায় পৌঁছে দিয়ে আসে। ছেলেটা ভদ্র এবং ভালো, তাই ইচ্ছা করে দুষ্ট প্রেমিকদের মতো একটু পর-পর হার্ডব্রেক করেনি। বাসায় ফিরেই মেয়েটা জ্বরে পড়ে। ছেলেটাও। শুধু বাংলা সিনেমাতে এমন হয় না, বাস্তবেও হয়।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে জানুয়ারি, ২০১৮ রাত ১০:২২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




