somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

নতুন দু'টি বইয়ের খবর

০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ সকাল ৯:৫২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমরা সাধারণত নতুন লেখকদের বই কিনি না। এতে করে আমরা তিনটা ভুল কাজ করি।
এক, নতুন লেখক বের হয়ে আসার পথ নষ্ট করি।
দুই, নতুন অভিজ্ঞতা, অনুভূতি আস্বাদনের পথ বন্ধ করি।
তৃতীয়টি মারাত্মক, ভাষা সাহিত্যের বিকাশের পথ বন্ধ করি।

তাই প্রতিবার বই মেলায় অন্তত দুজন নতুন লেখকের বই কিনুন। একটা বিষয় দারুণ সত্য যে পৃথিবীর সবচেয়ে খারাপ বইও অন্তত একটা ভাল লাইন আপনাকে আস্বাদন করতে দেবে। সবচেয়ে অপ্রয়োজনীয় বইও মগজকে একবার নাড়া দিবে।

প্রতিদিন চায়ের কাপের পাশে বই থাকুক, মনিটরের পাশে থাকুক বই, বিছানায় বালিশের পাশে থাকুক বই, বই থাকুক বাথরুমে, জ্যামের বাসে, কিবা যাত্রা পথে। ইলেকট্রিক বিল অথবা ব্যাংকে লম্বা লাইনে দাড়িয়ে আপনার হাতে একটা বই থাকতেই পারে। সময়কে উপভোগ করতে চান বা সময় থেকে পালিয়ে থাকতে চান বই হোক শ্রেষ্ঠ সঙ্গী।




এই বইটি লিখেছেন আমার বড় ভাই। তিনি একজন সাংবাদিক। খুব পরিশ্রমী একজন মানুষ। একবার ফাহাদ ভাই আমাকে মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচিয়েছিলেন। আমি দেখেছি 'আমাদের বঙ্গবন্ধু বই লিখতে তাকে কি পরিমান পরিশ্রম করতে হয়েছে। আমার মনে হয় এই বইয়ের প্রথম পাঠক আমি। প্রকাশকের কাছে পান্ডুলিপি জমা দেয়ার আগে ফাহাদ ভাই বইটি আমাকে পড়তে দিয়েছেন। এজন্য আমি গর্বিত। যারা বঙ্গবন্ধুকে ভালোবাসেন এবং যারা বঙ্গবন্ধুকে জানতে চান তারা অবশ্যই বইটি সংগ্রহ করবেন।


লেখকের প্রথম উপন্যাস ‘বসন্ত রোদন’। বইটি পড়লে আপনি হাসতে হাসতে মাটিতে গড়াগড়ি খাবেন। বইয়ের কয়েকটা লাইন তুলে দিলাম- ''সাত্তার তেহারি ঘরের সামনে প্রকাণ্ড এক হাতি দাঁড়িয়ে আছে। দেয়াল ঘড়ির ঘণ্টার মত সুর দোলাচ্ছে। সাধারণত কোনো কিছুর ঘ্রাণ নেয়ার জন্য হাতি শুঁড় দোলায়। ভয়ে লোকজন কাছে ভিড়ছে না। দূরে গোল হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। রাস্তাঘাটে প্রায়ই এ ধরনের দৃশ্য দেখা যায়। একটা হাতি শরীর দুলিয়ে হাঁটছে। দোকানে দোকানে গিয়ে শুঁড় বাড়িয়ে দিচ্ছে। দোকানি টাকা দিলে সে শুঁড়ের মাথায় নিয়ে তার পিঠে বসা মনিবের কাছে দিয়ে আবার অন্য দিকে যাচ্ছে। কিছু মানুষ হাতির পিছু পিছু যায়। কেউ হাঁটে গলাগলি ধরে। এদের দেখলে বোঝা যায়, এই শহরে শুধু ব্যস্তই না, বেকার মানুষও আছে। এদের মধ্যে একশ্রেণি আছে উৎসুক জনতা। যেকোনো কিছুইতেই তাদের অতি উৎসাহ। সুপার সারপ্রাইজড পিপল। এদের চোখে কয়েক হাজার পাওয়ারের বিস্ময় ক্ষমতা। পথে দগদগে ঘাঁ ওয়ালা ভিখারি দেখলেও এরা দাঁড়িয়ে পড়ে। অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে থাকে।
সাত্তার তেহারি ঘর অবরোধ করা হাতিটির পিঠে দশ-বারো বছরের এক কিশোর বসা। সে লাঠি দিয়ে হাতিটির কুলার মতো কানের গোড়ায় আঘাত করছে। সম্ভবত হাতিটিকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। কাজ হচ্ছে না। হাতিটি শক্ত হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। একচুলও নড়ছে না। মাঝেমধ্যে শুড় উঁচিয়ে ফোঁস ফোঁস শব্দ করছে। ভিড় ঠেলে সামনে গেলাম। সাত্তার ভাইকে এতক্ষণ দেখা যাচ্ছিল না। তিনি উঁচু টুলের ওপর বসে তেহারির ডেকচি ধরে আছেন। আমাকে দেখে চিৎকার করে উঠলেন।
জিতু ভাই! আমাকে বাঁচান।
সমস্যা কী ভাই?
সমস্যার কথা কী বলব ভাই। এক ঘণ্টার উপরে হাতিটা দোকান অবরোধ করেছে। তেহারির ডেকচি নেওয়ার অবরোধ। ডেকচি না নিয়া নড়বে না। একশ টাকার কড়কড়া নোট দিলাম। নিলো না। জীবজন্তুর কী আবদার দেখেন! এখন আমি কী করবো বুঝতেছি না।
হাতি তেহারি খায় নাকি?''

উল্লেখ্য, গত বছর ফাহাদ ভাইয়ের ''দানামাঝির বউ' বইটি পাঠকদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল। এছাড়া তার 'তিন যোদ্ধার মুখোমুখি' সাক্ষাৎকার ভিত্তিক বইটি সূধী জনের নজর কেড়েছে।
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ সকাল ৯:৫২
৭টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মাইক্রোপ্লাস্টিক: অদৃশ্য প্লাস্টিক কীভাবে আমাদের খাবার ও শরীরে ঢুকছে?

লিখেছেন কাবিল, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:০৪


মাইক্রোপ্লাস্টিক (Microplastic) হলো খুব ছোট প্লাস্টিকের কণা। সাধারণভাবে ৫ মিলিমিটারের চেয়ে ছোট প্লাস্টিক কণাকে মাইক্রোপ্লাস্টিক বলা হয়। এর থেকেও অনেক ক্ষুদ্র কণা আছে—সেগুলোকে ন্যানোপ্লাস্টিক বলা হয়। এগুলো এত ছোট হতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

এনসিপিকে মারছে কেন? (অথবা) এনসিপি মার খাচ্ছে কেন?

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:৪০


(ইহা নাকি এনসিপিকে পিষিয়ে মারবে!)

এনসিপিকে মারছে কেন (?) অথবা এনসিপি মার খাচ্ছে কেন? প্রশ্ন দুটো হলেও আদতে প্রশ্ন একটাই উত্তরও একটাই। বিগত ১৫/১৬ বছর অর্থাৎ খুনি হাসিনার আমলে যাহারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সংকীর্ণ মন

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৩৮


রাস্তার মোড় যেনো সংকীর্ণ মন
ঘর উঠনে রাখবে আর কত কাল
চোখের নেশায় লালসার আগুন
জ্বলছে নিভবে না আর অমরণ

কখন মন জানালায় দেখেছ পায়রা
ভাবনার সফলী মাঠে যাচ্ছে উড়ে
দেখো নাই যে শান্তির পায়রা মন-
সংকীর্ণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

জুলাই আন্দোলনের সম্ভাবনাময়, রৌদ্রোজ্জ্বল মুখগুলো ডানপন্থার অনুরাগী হচ্ছে! দায় কার?

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০৩



জুলাই আন্দোলনের অন্যতম সেই আইকনিক ফটো--যেখানে দেখা যাচ্ছিল একটা ভার্সিটির ফাস্ট কি সেকেন্ড ইয়ারের মেয়ে পুলিশের গাড়ি আটকাচ্ছে, ওর ভার্সিটির এক বড় ভাইকে পুলিশের গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছাত্রদলকে সামলাতে না পারলে ক্যাম্পাসগুলো সহিংসতায় পূর্ণ হবে।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৪ ঠা আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:০৮


রাতে রংপুর, সকালে জগন্নাথ। আজকে জগন্নাথে ছাত্রদলের হামলার শিকার একযোগে সব বিরোধী দল। এসব কি ছাত্রদলের কাজ? নাকি ছাত্রদলের ভেতর ছাত্রলীগ প্রবেশ করেছে? জকসু জিএসের জীবন আশংকাজনক। দেশে যখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×