somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

আমার বন্ধু শাহেদ

২৩ শে মার্চ, ২০১৮ দুপুর ১২:৩১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



শাহেদ আমার বন্ধু। আজ শাহেদের কাহিনিই বলব। সে নিজেই আমাকে অনুরোধ করেছে, আমাকে নিয়ে লিখ। শাহেদ দেখতে বেশ স্মার্ট। হাসি খুশি প্রানবন্ত। শাহেদের সাথে আমার পরিচয় প্রায় ছোটবেলা থেকেই। ধনী পরিবারের বাবা মার একমাত্র সন্তান। শাহেদের সাথে আমার একটা খুব মিল- আমরা কখনও রাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে আড্ডা দেইনি। পথ দিয়ে হেঁটে যাওয়া মেয়েদের দিকে কুৎসিতভাবে তাকাইনি। যখন আমাদের সমবয়সীরা রাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে আড্ডা দিত তখন আমরা বই নিয়ে পড়তে বসতাম। আমাদের এলাকায় আমরা দুইজনই ছিলাম বেশ ভদ্র, সবচেয়ে বড় কথা লেখা পড়াতে খুব ভালো ছিলাম। ছুটির দিনে আমরা সানরাইজ ক্লাবে ক্রিকেট খেলতাম, ফুটবল খেলতাম। শাহেদ ক্রিকেটে ভালো। আমি ফুটবলে। অন্য পাড়ার ছেলেদের সাথে টুনামেন্ট খেলে আমরা অনেক মেডেল আর কাপ জিতেছি।

দুইজন দুই ইউনিভার্সিটিতে ভরতি হলাম। ততদিনে শাহেদরা এখানকার বাড়ি ভাড়া দিয়ে উত্তরা বাড়ি করে চলে যায়। আগের মতো খুব একটা দেখা সাক্ষাৎ হয় না। এভাবে কেটে গেল ছয়টি বছর। শাহেদ কোথায় আছে জানি না। তার কথা প্রায় ভুলেই গেলাম। আমি সুতা বোতাম এর ব্যবসা শুরু করে লস খেলাম। বিয়ে করলাম। একটা মেয়ে আছে আমার। এখন চাকরি করছি একটা শিপিং মিলে। অফিসের কাজে কক্সবাজার গিয়ে অপ্রত্যাশিতভাবে শাহেদের সাথে আমার দেখা। শাহেদ জোর করে ধরে একটা ফাইভ স্টার হোটেলে নিয়ে গেল। সে কক্সবাজার এসেছে বেড়াতে। এখনও বিয়ে করেনি। কলেজে পড়ার সময় আমি প্রায়ই বলতাম, বন্ধু তুমি সিনেমার নায়ক হও। গানের গলাও বেশ ভালো। রবীন্দ্রনাথের 'বঁধু কোন আলো লাগলো চোখে' এই গানটা অসাধারন গায়। আমি যখনই বলতাম বন্ধু গানটা দুই লাইন গেয়ে শোনাও। সাথে সাথে গাইতো।

হোটেল কক্স হ্যাভেন এর ছাদে বিশাল বার। শাহেদ এক বোতল ভদকা নিয়ে বসলো। একটার পর একটা সিগারেট টেনে যাচ্ছে। অ্যালকোহল মানেই আস্তে আস্তে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাওয়া, এমনটাই মনে করেন অধিকাংশ মানুষ। আমি এমনটা ভাবি না। কিন্তু এসব আমাকে টানে না। শাহেদ আমাকে খুব একটা জোর করলো না, এজন্য মনে মনে তাকে ধন্যবাদ দিলাম। শাহেদ এখন নাটক-সিনেমা লিখে, গান লিখে। তার লেখা গান দিয়েই সিনেমা হিট হয়। প্রায়ই খবরের কাগজে তার ছবি দেখা যায়। শাহেদ হঠাৎ বলল, আমি ঈশ্বর বিশ্বাস করি না। যারা ধর্ম পালন করে তাদেরকে আমার নির্বোধ বলে মনে হয়। আচ্ছা, তুই কি ভিক্টর হুগো'র 'The man who laugh' বইটা পড়েছিস? আমার ইচ্ছা করে সমস্ত প্রার্থনালয় গুলোকে লাইব্রেরী বানিয়ে ফেলি। আমাদের মতো দরিদ্র দেশে ধার্মিক দরকার নেই। দরকার মেধাবী মানুষ। শাহেদ আমার দিকে উত্তেজিতভাবে তাকিয়ে বলল, বন্ধু তুই আমাকে বল ঈশ্বর বলে কি সত্যি কেউ আছে?
আমি শাহেদকে ভালো করে লক্ষ্য করলাম, সে পুরোপুরি মাতাল হয়েছে কিনা। মাতালের কথার কোনো দাম নেই। তবে সে মাতাল হয়নি সহজ স্বাভাবিক আছে। আমি কথা ঘুরানোর জন্য বললাম, কক্সবাজার এলি কেন? শাহেদ বলল, সমুদের পাড়ে বসে মদ খাবো আর ইচ্ছে মতো চাঁদ দেখবো।

শাহেদ বোতল প্রায় শেষ করে ফেলেছে। তার চোখ লাল হয়ে গেছে। সে বলল, দোস্ত আমি একটা অন্যায় করেছি। একদিন এক মেয়ে আমার কাছে সিনেমায় অভিনয় করার জন্য এসেছিল। মেয়েটি দেখতে বেশ। একদম সহজ সরল সুন্দর। মুখটায় এক আকাশ মায়া!
জিজ্ঞেস করলাম তোমার নাম কি?
সে বলল, মাধবী।
আমি বললাম, এই সিনেমার জগৎটা খুব ভালো নয়। অনেক কিছু ত্যাগ করতে হয়।
মাধবী মোনালিসার ছবির সোফায় বসে আছে, স্থির। হঠাৎ আমার কি হলো কে জানে, আমি ছুটে গিয়ে মেয়েটির ঠোটে চুমু খেলাম। হালকা চুমু নয়, গাঢ় চুমু। প্রথমে মাধবী সারা দেয়নি তাই বেশ জোর করতে হয়েছিল। চুমু শেষ করার পর আমার মনে হলো কাজটি আমি ঠিক করিনি। আমার অন্যায় হয়েছে। তুই তো জানিস, কলেজে পড়ার সময় থেকেই অনেক সুন্দরী মেয়ে আমার সাথে ঢলাঢলি করতে চেয়েছিল আমি সেসব সুযোগ নেইনি। হঠাৎ আমার কি হলো আমি বুঝতে পারলাম না। আমি কোনোদিন কোনো মেয়ের উপর জোর করিনি। কবিতা যেমন জোর করে লেখা যায় না, তেমনি জোর করে চুমু খেয়েও স্বাদ পাওয়া যায় না।

মেয়েটির চোখ দিয়ে টপ টপ করে পানি পড়ছে। মনে হলো মাধবীর ঠোটটি অনেকখানি ফুলে গেছে।
মাধবী আহত গলায় বলল, এটা আপনি কি করলেন?
আমি বললাম, মাধবী তুমি চিৎকার চেচামেচি করে লোক জরো করে, আমাকে মার খাওয়াতে পারো।
মাধবী বলল, না। আপনার বিপদ হোক তা আমি চাই না।
এই কথা শুনে আমার ইচ্ছা করলো মেয়েটি শক্ত করে বুকে জড়িয়ে ধরি।
বুকে জড়িয়ে ধরার সুযোগ পেলাম না। তার আগেই মেয়েটি চোখ মুছতে মুছতে চলে গেল। দরজার কাছে গিয়ে একবার আমার দিকে ফিরে তাকালো। আমি তার চোখের দিকে তাকালাম। আহ্ সেই চাহনি আমি আমৃত্যু ভুলতে পারবো না।

শাহেদ পুরো বোতল শেষ করে আরেক বোতল অর্ডার করলো। সে এখনও মাতাল হয়নি। শাহেদ আমাকে করুন গলায় বলল দোস্ত, মেয়েটাকে খুজে দিতে পারছি। আমি এই মেয়েটাকে বিয়ে করতে চাই। আমি মেয়েটার সাথে অবিচার করেছি। মেয়েটাকে বিয়ে করলেই আমার পাপ মোচন হবে।
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে মার্চ, ২০১৮ দুপুর ১২:৩১
৯টি মন্তব্য ৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'মেটিকুলাসলি ডিজাইন' করে সিলেটকে অশান্ত করে তোলার অর্থ কি?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ৩০ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ৮:১৫

সিলেটে এন,সি,পি সাংগঠনিক ভাবে দূর্বল।
দলের ভিতরে কোন্দল মারাত্মক তা ফেসবুকে দলীয় নেতা কর্মীদের পোস্ট দেখে বুঝা যায়।
অথচ, সামনে সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন।
এই পরিস্থিতিতে, দলের মানুষদের 'গরম' করে তোলার একটাই... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্বাক্ষী থেকো বাংলাদেশ, স্বাক্ষী থেকো ১৮ কোটি মানুষ।

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ৩০ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ৯:২৮

স্বাক্ষী থেকো বাংলাদেশ, স্বাক্ষী থেকো ১৮ কোটি মানুষ।
================================
ইতিহাস কখনো মুছে যায় না। যে জাতি তার মানুষের কান্না, আর্তনাদ ও ন্যায়বিচারের দাবি ভুলে যায়, সে জাতির ভবিষ্যৎও প্রশ্নের মুখে পড়ে।
আজ এক... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকস্বাধীনতা নাকি বাকসন্ত্রাস?

লিখেছেন জুল ভার্ন, ৩১ শে জুলাই, ২০২৬ সকাল ১০:৩২

বাকস্বাধীনতা নাকি বাকসন্ত্রাস?

বাকস্বাধীনতা একটি গণতান্ত্রিক সমাজের মৌলিক অধিকার। কিন্তু বাকস্বাধীনতা মানে যা খুশি তাই বলা নয়; অন্যের সম্মান, নিরাপত্তা ও সামাজিক স্থিতিশীলতাকে উপেক্ষা করারও নাম নয়।

কোনো ব্যক্তি, পরিবার, গোষ্ঠী বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আবার সমস্যা, ব্লগ আমাকে কেন ভোগাচ্ছে?

লিখেছেন মেহবুবা, ৩১ শে জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:৪৩

আবার সমস্যা ব্লগ ঠিকমত দেখা যায় না। কিছুদিন আগে এমনটি হয়েছিল। ব্লগার সুলাইমান সহজ করে সমাধান বের করে দিয়েছিল। এবার একই সমস্যা হচ্ছে তবে সেই একই উপায়ে কাজ হচ্ছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশ কি ইরানের নতুন শত্রু হতে চলেছে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ৩১ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১:০৬


মরুভূমির গরম বাতাস আর লোহিত সাগরের নোনা জলীয় বাষ্প যেখানে এসে মেশে, বাব এল মানদেব প্রণালীর সেই জায়গাটায় রাতের অন্ধকার নামলেই একটা অদ্ভুত নীরবতা ছেয়ে যায়। কিন্তু সেই নীরবতা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×