
আমরা মানুষ হয়ে যখন জন্মগ্রহণ করেছি, পশু হয়ে বেঁচে থাকতে চাই না , আমরা ভালো মানুষ হয়ে বেঁচে থাকতে চাই। ভালো মানুষ হবার প্রথম ও প্রধান শর্ত হলো 'মন'কে অসম্ভব সুন্দর করতে হবে। একদম স্বচ্ছ পবিত্র। সহজ সরল। যদি এক কথায় বলি, তাহলে বলতে হবে- যে খারাপ কাজ করে না, তাকে ভালো মানুষ বলে। ফরিদপুরের রাজেন্দ্র কলেজের একজন শিক্ষককে জিজ্ঞেস করলাম- স্যার ভালো মানুষের সংজ্ঞা কি? স্যার বললেন, ভালো মানুষের কোন কমন সংজ্ঞা নেই। স্যারের কথা শুনে আমি চিন্তায় পরে গেলাম। যদি সব মানুষ কোন নির্দিষ্ট মানুষকে ভালো বলে সে কি ভালো মানুষ? দেশের উন্নয়নের জন্য সত্যিকার অর্থে আমাদের অনেক ভালো মানুষ দরকার। দুনিয়াজুড়ে মুখোশ পরা মানুষের ভিড়ে সহজ-সরল সত্য মানুষ খুঁজে পাওয়া দায়। ভালো মানুষের মুখোশ পরে খারাপ মানুষগুলো দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছে।
কিছু মানুষ জন্মগতভাবেই ভালো হয়ে জন্ম নেয়। বিজ্ঞানের ভাষায় এদের জেনিটিক্যালি গুড হিউম্যান বলা হয়। এই শ্রেণির মানুষ সহজে মিথ্যা বলেন না। দ্বন্দ্ব-ফ্যাসাদে জড়ান না। সমাজের আইন-কানুন মেনে চলেন। বিনয়ী মন এবং বিনয়ী আচার-আচরণ তাদের সর্বজন শ্রদ্ধেয় মানুষ হিসেবে পরিচিত করে তোলে। এই পৃথিবীতে অনেক ধরনের মানুষই রয়েছেন। কেউ হয়তবা অনেক ভালো, কেউ অনেক বেশি খারাপ, কেউ আবার মাঝামাঝি পর্যায়ের। কিন্তু মানুষ জন্মগতভাবে কখনই খারাপ থাকে না। জন্মের পর পরিবেশগত কারণে বা অন্য কোনো বাস্তব কারণে খারাপের পথে অগ্রসর হয়। তবু সব মানুষের ভেতরেই একটি পবিত্র সত্ত্বা রয়েছে। মাদ্রাসা-মসজিদ, মন্দির, প্যাগোডা, চার্চ যেখানেই যাই ধর্মের মুখোশ পরা একদল অমানুষের দেখা পাই। তারা নিজেদের জন্য ধর্ম ব্যবহার করছে। আমাদের চারপাশে ভালো মানুষদের এই যে অভাব, এ জন্য আজ আমরাই দায়ী।
ভালো মানুষ হওয়ার আরও একটি সূতিকাগার হলো পরিবার। উত্তম পিতামাতা এবং পারিবারিক শিক্ষা মানুষের মনে এমন এক জাদুকরী প্রভাব বিস্তার করে থাকে যে, মানুষ চেষ্টা করলেও সেই প্রভাব থেকে বেরিয়ে আসতে পারে না। শৈশব স্মৃতি, কৈশোরের শিক্ষা এবং শৈশব স্বাস্থ্যের দায়-দায়িত্ব, ভালো-মন্দ এবং আবেগ-অনুভূতি মানুষ মৃত্যু পর্যন্ত স্মরণ রাখতে বাধ্য হয়। মানুষ হওয়া মানে সত্য বলা, কারো ক্ষতি না করা, প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা, আপদে-বিপদে অন্যকে সাহায্য করা, সদাচরণ করা ইত্যাদি। সকলে যদি প্রকৃত মানুষ হতো তাহলে পারস্পরিক হিংসা-বিদ্বেষ, ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে মানব জাতি এক শান্তির সমাজে বসবাস করতো। আইন, আদালত, বিচার, সালিশ, থানা, পুলিশ কোন কিছুর প্রয়োজন হতো না। কারো অভাব-অভিযোগ থাকতো না। আনন্দ, সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধিতে ভরে যেত গোটা সমাজ। আমাদের উদ্দেশ্য হওয়া উচিত সেবার মাধ্যমে, ক্ষুদ্র ব্যক্তি স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে মানুষের মতো মানুষ হওয়া। ভালো মানুষ হওয়া।
বর্তমান বিশ্ব পুরোপুরি বাণিজ্য নির্ভর। যার কারণে ডোনাল্ড ট্রাম্প আমেরিকার প্রেসিডেন্ট। বাংলাদেশে এখনও প্রচুর দক্ষ ও ভালো মানুষ আছেন যারা সরকারে স্থান পেলে দেশের আমূল পরিবর্তন করতে পারেন। দেশের শিক্ষা ও শিল্প প্রসারে যুগান্তকারী পরিবর্তন আনতে হলে উপযুক্ত লোকদের মন্ত্রীসভায় আসতে হবে। আমরা বাচ্চাদের বলি তোমাদের বড় হতে হবে। পাশাপাশি একথাও তো বলতে পারি, তোমাদের ভালো মানুষ হতে হবে। বড় হবার চেয়ে ভালো মানুষ হওয়া অনেক বেশি কঠিন। আমরা অর্থে গরিব নয়, মনে গরিব, তার চেয়েও বেশি গরিব চিন্তায়। বাঘকে কিন্তু বশে আনা যায়, আপনারা চিড়িয়াখানায় দেখেছেন বাঘের খাঁচায় ঢুকে একটা মানুষ কাছে গিয়ে মাংস দিয়ে তাকে বশে আনছে। অর্থাৎ বাঘও বশে আসে। কিন্তু সেই কৌশলটা সত্যি জানতে হয়, কাজটিকে ভালোবাসতে হয়, ভালোবেসে করতে হয়। যদি তা না পেরে থাকেন- আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে অভিযুক্ত করবেন যে, কেন আমি পারছি না?
একটা সহজ সরল সত্য কথা বলি- আমরা নিজেদের যতটা ভালো মনে করি ততটা ভালো হয়ত আমরা নই। আমি সবার উদ্দেশ্যে বলতে চাই- জীবনে একজন ভালো মানুষ হন। সকলের সাথে ভালো ব্যবহার করুন। ভালো মানুষ হওয়া খুবই জরুরি। আমি আশা করব, আপনারা সবাই সে রকমই হবেন। আর কিছু না হোক, একজন ভালো মানুষ হওয়া খুবই জরুরি। যে ভালো কাজ করে সে'ই ভালো মানুষ। কাজ দিয়েই মানুষের মন জয় করে নেওয়া যায়। তাই একটু একটু করে নিজেকে বদলাই। মনমানসিকতা বদলাই। একটু একটু করে মানবিক হই।
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা মে, ২০১৮ রাত ১০:১০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




