
ভাই শুনুন।
আমি লোকটির দিকে তাকালাম। চিনি না। সম্পূর্ণ অপরিচিত। আমি কিছুটা অবাক হয়ে বললাম, আমাকে বলছেন?
জ্বী আপনাকে।
বলুন।
লোকটি চুপ করে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। কিছু বলছে না।
ঘটনা শুরু এভাবে- আমি অফিস থেকে বাসায় ফিরছিলাম। সময় তখন সন্ধ্যা ছয়টা। বাস থেকে নেমে কিছু দূর যেতেই লোকটি আমাকে ডাক দিল। তার বয়স হবে পঁচিশ থেকে ত্রিশ এর মধ্যে। পোশাকে দরিদ্রতার ছাপ স্পষ্ট। মাথা ভরতি চুল, মুখ ভরতি দাঁড়ি। তবে চোখ দু'টাতে খুব মায়া-মায়া ভাব প্রবল।
লোকটি অনেকক্ষন পর বলল আচ্ছা, প্রান্থপথ মোড়টা কোন দিকে?
আমি বললাম, আপনি যেখানটায় দাঁড়িয়ে আছেন এটাকেই প্রান্থপথ মোড় বলে।
লোকটি বলল, আসলে আমি কাতার যাবো।
আমি বুঝতে পারছি না, লোকটি কি মদ-তদ খেয়েছে কিনা। নাকি পাগল। না, মদ খায়নি। মদ খেলে বুঝা যেত।
আমি আমার গন্তব্যে হাঁটা শুরু করলাম। কিছু দূর গিয়ে আমি পেছন ফিরে তাকালাম, দেখি লোকটা আমার পেছন পেছন আসছে। আমি লোকটিকে বললাম, আমি তো কাতার যাচ্ছি না। বাসায় যাচ্ছি। আপনি আমার পেছন পেছন আসছেন কেন?
লোকটি বলল, আমি আপনাকে এক কাপ চা খাওয়াবো।
আমি বললাম, এখন আমার মোটেও চা খাওয়ার ইচ্ছা নাই।
আমি কিছুই বুঝতে পারছি না ঘটনা কি? লোকটি কি ছিনতাইকারী দলের লোক? নাকি মানসিক ভারসাম্যহীণ একজন মানুষ?
এবার আমি লোকটিকে জিজ্ঞেস করলাম, আপনার ঘটনা কি খুলে বলুন তো?
লোকটি বলল, আপনাকে আমি কিছু দিতে চাই। তার আগে আসুন চা খাই এক কাপ।
আমরা রাস্তার পাশের একটি চায়ের দোকানে বসলাম।
লোকটি চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে বলল, আপনি কি 'পদ্মা নদীর মাঝি' বইটা পড়েছেন?
আমি বললাম, বেশ কয়েকবার পড়েছি।
কোন চরিত্রটি আপনার মনে দাগ কেটেছে?
আমি বললাম, উপন্যাসের নায়িকা কপিলা।
লোকটি বলল, আমার কাছে ভালো লেগেছে হোসেন মিয়া চরিত্রটি। রহস্যময় একটি চরিত্র।
আমার চা খাওয়া শেষ। চায়ের কাপটি দোকানদারের কাছে ফেরত দিয়ে, একটি সিগারেট ধরিয়ে দেখি লোকটি নেই। আশে পাশে কোথাও নেই।
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই মে, ২০১৮ রাত ৯:৪২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



