somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

বউ দিয়ে সুখ নাই

০৯ ই মে, ২০১৮ রাত ৯:৪৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



শাহেদ বিয়ে করেছে আজ চার বছর হয়ে গেল। তার জীবনে শান্তি নেই। তিন বছর প্রেম করেছে নীলার সাথে। শাহেদ প্রায়ই বলে আমাকে, দোস্ত মানুষের জীবনে প্রেমের সময়টাই শ্রেষ্ঠ সময়। আর বিয়ের পরের সময়টা হলো মন্দ সময়। কোনো সুখ নাই, কোনো আনন্দ নাই। আগে জানলে সারা জীবন প্রেম করেই কাটিয়ে দিতাম। বিয়ে করতাম না। নো নেভার। নীলাকে প্রতিমাসে দশ হাজার টাকা হাত খরচ দেই। এর মধ্যে মোবাইল খরচ আলাদা। মোবাইলে প্রতিদিন একশ' করে টাকা দিতে হয়। কোনো কোনোদিন দেড় শ'। বান্ধবীদের রাজ্যের ফালতু প্যাচাল পাড়ে।

শাহেদ প্রতি শুক্রবার বিকেলে আমার বাসায় আসে। তার দুঃখের কথা বলতে। দোস্ত বাজার থেকে এত বড় একটা রুই মাছ এনেছি। আরাম করে খাবো। এমন রান্না করেছে নীলা তরকারি মুখেই দিতে পারি না। কোনো স্বাদ নাই। কোনো দিন লবন একেবারে কম দেয়, কোনোদিন খুব বেশি দেয়। মাছ ভাজতে গিয়ে পুড়ে ফেলে। আমি কিচ্ছু বলি না। চুপ করে দুই নলা ভাত খেয়ে উঠে যাই। পেটও ভরে না। ক্ষুধায় ঘুম আসে না। শেষে বিস্কুট খাই। আমি ভদ্রলোকের ছেলে তাই নীলার সাথে চিল্লাচিল্লি করি না। আমার জাগায় অন্য কোনো ছেলে হলে কান ধরে বাসা থেকে বের করে দিত। বিয়ের আগে কত শখ ছিল ইচ্ছা মতোন বাজার করবো। বউ মজা করে রান্না করবে, আমি আরাম করে বসে খাবো। প্রচুর বাজার করি কিন্তু আরাম করে খেতে পারি না।

শাহেদকে দেখে আমার খুবই মায়া লাগছে। আমার ছোট বেলার বন্ধু। আমরা একই এলাকায় থাকি। একই সাথে লেখা পড়া করেছি। সুরভি চা আর নুডুলস দিয়ে গেল। শাহেদ মুহূর্তের মধ্যে গপ গপ করে সবটুকু নুডুলস খেয়ে ফেলল। তারপর চায়ে চুমুক দিয়ে বলল, অসাধারন হয়েছে নুডুলস আর চা। আর যদি এই চা আর নুডুলস নীলা বানাতো দোস্ত তাহলে মুখেই দিতে পারতি না। হয় চিনি খুব কম হবে অস্থবা লিকার একেবারে পাতলা হবে। দোস্ত আমার আর ভালো লাগে না। ইদানিং তো সে সকালে নাস্তাও বানায় না। ঘুম থেকেই উঠতে পারে না। আমি না খেয়ে অফিসে যাই। দুপুরে হোটেলে খাই। রাতে বাসায় এসেও আরাম করে খেতে পারি না। মাঝে মাঝে ইচ্ছা করে বনে জঙ্গলে চলে যাই।

শাহেদ অসুখী মুখের ভাব করে বলল, দোস্ত দুঃখের কথা আর কি বলব- রাতে আরাম করে ঘুমাতেও পারি না, খুব নাক ডাকে। বিয়ের আগে কত শখ ছিল বউ মাথা টিপে দিবে। পা টিপে দিবে। আমি আরাম করে ঘুমাবো। আমার অনেক দেখভাল করবে। আর এখন অফিসে যাওয়ার সময় মোজা খুজে পাই না। শেষে দুই পায়ের দুই মোজা পড়ে যেতে হয়। বউ জামাও আয়রন করে দেয় না। দোকান থেকে আয়রন করে আনতে হয়। এমনকি রাতে ঘনিষ্ট হবো প্রস্তুতি নিয়েছি, বিছানায় গিয়ে দেখি সে ঘুমিয়ে পড়েছে। নাক ডাকছে। দোস্ত আমার জীবনে শান্তি নাই। সুখ নাই। বউ দিয়ে যদি শান্তি না পাই তাহলে আর কিসে পাবো বোল? আমি সারাদিন খেটে মরি। আমার তো একটু সুখ শান্তি দরকার। আমি তো রোবট না।

শাহেদের জন্য আমার খুব মায়া হয়। খুব ভালো একটা ছেলে। শাহেদ আমার দিকে তাকিয়ে বলল, দোস্ত তুই আল্লাহর রহমতে খুব সুখে আছিস। ভাবীর হাতের রান্নার খুব স্বাদ। ঘর দুয়ার কি রকম পরিস্কার পরিচ্ছন্ন। শাহেদ এক আকাশ আক্ষেপ নিয়ে বলল- প্রথম প্রথম বিয়ের পর আমার আর্থিক অবস্থা খারাপ ছিল। একবার দেশি একটা শ্যাম্পু এনেছিলাম বলে নীলা কি রাগ টাই না করলো! সে নাকি কোনো দিন দেশি শ্যাম্পু ব্যবহার করেনি। দোস্ত এখন প্রতি সপ্তাহে পার্লারে যায়। আর এতগুলা টাকা ফালতু খরচ করে আসে। আমি কিচ্ছু বলি না। চুপ করে থাকি। এটা বুঝে না পার্লারের সৌন্দর্য ক্ষনিকের জন্য। নকল সৌন্দর্য বেশিক্ষন দীর্ঘ স্থায়ী হয় না। মাথার চুল গুলো কত লম্বা ছিল। কেটে ছোট করে ফেলেছে। তারউপর আবার কালার করেছে। ছিঃ।

দোস্ত কত শখ ছিল বিয়ের পর আমার পছন্দের মুভি গুলো বউ এর সাথে দেখব। একটা মুভি ছাড়ি দুইজন মিলে দেখব। কিন্তু সে মুহূর্তের মধ্যে ঘুমিয়ে যায়। শুধু ঘুমায় না, নাকও ডাকে।
আমি বললাম, শাহেদ সব কথা বাদ দে, শুধু বল নীলা কি তোকে ভালোবাসে?
শাহেদ চুপ করে আছে।
আমি কি বলি, মন দিয়ে শোন গাধা।
এক, যে তোকে ভালোবাসে তার ভালোবাসার মর্যাদা রাখতে চেষ্টা কর।
দুই, নীলা মেয়েটা খুব ভালো একটা মেয়ে। একজন মানূষের রান্না সব সময় ভালো নাও হতে পারে।
তিন, তুই সকালে বের হোস রাতে ফিরিস। নীলা সারাদিন বাসায় একা থাকে তাই বান্ধবীদের সাথে মোবাইলে কথা বলে।
চার, মেয়েরা কসমেটিকসের ব্যাপারে খুব দুর্বল। তারা বাজারের সেরাটাই ব্যবহার করতে চায়। এটা দোষের কিছু নয়।
পাঁচ, নীলার বাবা তো এক কোটিপতি ছেলের সাথে তার মেয়ের বিয়ে ঠিক হয়েছিল। নীলা সেই কোটিপতিকে বিয়ে না করে তোকে করেছে।
ছয়, মনে রাখিস- বিয়ের পর সুখী হবার মূল মন্ত্র হলো, বিয়ের পর যত 'ছাড়' দিবি তত সুখে থাকবি। সংসারে সুখ চাইলে অনেক কিছু 'ত্যাগ' করতে হয়। জীবনে যত 'ছাড়' দিবি, যত 'ত্যাগ' করবি ততই সুখে থাকতে পারবি।
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই মে, ২০১৮ রাত ৯:৪৬
২১টি মন্তব্য ২১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

"বন্যরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে"-.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৮ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ২:৪০




"বন্যরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে"- বাংলা সাহিত্যের এই বহুল পরিচিত পঙ্‌ক্তির মর্মার্থ আমরা সবাই জানি। তবে মানুষের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা, বিশেষ করে শিশুদের প্রতি স্বতঃস্ফূর্ত স্নেহ ও আন্তরিকতারও... ...বাকিটুকু পড়ুন

মিথ্যে বলতে পারি না

লিখেছেন স্প্যানকড, ২৮ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৪


ছবি নেট


মিথ্যে বলতে পারি না,
আজও আমি স্পষ্ট দেখি
ঘরের মেঝেতে এক টুকরো রোদ
জানি না কী করে যেতে হয় ভুলে
পুরনো সব রোগ
সেই ভালো হতো যদি মিশে যেতাম স্রোতে।

মিথ্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

কেন নিজে নিজে এআই দিয়ে, নেট ঘেটে ডাঃ জাহাঙ্গীর কবির স্যারের সব সত্যতা পাচ্ছে...!

লিখেছেন লিংকন বাবু০০৭, ২৮ শে জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:০৬

বারডেম সহ সকল ডাক্তারদের উচিত নন কমিউনিকেবল ডিজিজ গুলো বেশি বেশি ঔষধ দিয়ে, ছয় বেলার জায়গায় দরকার হলে আরো কয়য়েক বেলা মুড়ি, বিস্কুট, খই এর সাথে আরো কিছু যোগ করে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেবদাস, কালজয়ী উপন্যাস এবং চিত্রনাট্যের পটভূমি

লিখেছেন মেহবুবা, ২৯ শে জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:২৮


প্রথম ১৯২৮ সনে নির্বাক "দেবদাস" মুক্তি পায় ফনী বর্মা এবং তারকবালা অভিনীত ছিল সেটি। এরপর প্রমথেশ বড়ুয়া এবং যমুনা বড়ুয়া অভিনীত সবাক দেবদাস মুক্তি পায় ১৯৩৫ সনে। তারপর... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে হৃদয় বিলিয়ে দেয়, বিশ্ব চরাচরে

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ২৯ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১:৪৩




যে হৃদয় বিলিয়ে দেয়, বিশ্ব চরাচরে
শান্ত গৌরবে, সেই আত্মারা কোথায় বেঁচে রয়।
দয়ার প্রতিটি বীজ সর্ন্তপণে বপন করা হয়,
সপ্তাকাশে উজ্জ্বল ফসল তবে অবধারিত রয়।

সাত আকাশের চরাচরে , ছায়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

×