somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

আসুন লেবানন দেশটি সম্পর্কে জানি

১০ ই মে, ২০১৮ বিকাল ৫:০১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আরব বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দর লেবানন। লেবানন এশিয়ার মধ্যপ্রাচ্যের একটি রাষ্ট্র। ভূমধ্যসাগরের পাড়ে অবস্থিত পশ্চিম এশিয়ার একটি দেশ। বিশ্বের অন্যতম পুরাতন শহর হিসেবে বিবেচনা করা হয়। লেবাননের রাজধানী বৈরুত। বৈরুতের সবচেয়ে জনপ্রিয় দর্শনীয় স্থান রাওশি। লেবাননের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ শহর বৈরুত, বালবেক ও ত্রিপোলিত। পুরো দেশটিতে খ্রিস্টান, সুন্নী মুসলমান ও শিয়া মুসলমানেরা একত্রে বাস করেন। তাদের সংসদের আসনসমূহের অর্ধেক খ্রিস্টান ও অর্ধেক মুসলমানদের জন্য সংরক্ষিত। আরবি ভাষা লেবাননের সরকারি ভাষা। দেশটির ৯০%-এরও বেশি লোক আরবি ভাষাতে কথা বলে। লেবাননে মোট ১৮টি ধর্মীয় গোষ্ঠী বিদ্যমান। কিন্তু তাদের মধ্যে নজিরবিহীন সমঝোতা বিদ্যমান। লেবাননের প্রতিটা শহরে বাংলাদেশিরা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে।

বারবার যুদ্ধের কবলে পড়েও নিজেকে ফিরিয়ে আনার তাগিদ লেবাননের মধ্যে ছিল সব সময়ই। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর লেবাননের দায়িত্ব দেয়া হয় ফ্রান্সের ওপর। ১৯৭৫-৯০ সালের গৃহযুদ্ধের আগ পর্যন্ত দেশটিতে বিরাজ করছিল শান্তি ও সমৃদ্ধশীল অবস্থা। পর্যটন, কৃষি, ব্যাংকিং ইত্যাদি নিয়ে বেশ ভালো সময়ই কাটায় লেবানন। বলা হতো সুইজারল্যান্ডের মতোই পূর্ণ বিকাশ ঘটেছিল লেবাননে। এক সময় আলেকজান্ডার এসে বিধ্বস্ত করে দিয়ে যায় লেবাননকে। লেবাননের আদালত তিন স্তরের। প্রথমত, প্রারম্ভিক পর্যায়, দ্বিতীয় পর্যায়টি হলো আপিলের, তৃতীয় পর্যায়টি হলো চূড়ান্ত ফয়সালা বা মীমাংসার। শান্তি সহযোগীতা এবং বন্ধুত্বের মাধ্যমে সুদূর লেবাননে দায়িত্ব পালন করছেন বাংলাদেশ নৌ-বাহিনীর সদস্যরা।

১৯৮২ সাল থেকে লেবাননে শুরু হয় রক্তয়ী গৃহযুদ্ধ। যার কবলে পড়ে নিহত হয় দেড় লাখ মানুষ, আহত হয় আরো দুই লাখ। আর ঘরবাড়ি হারিয়ে বাস্তুহীন হয়ে পড়ে নয় লাখ মানুষ। ১৯৯০ সালে তায়েফ চুক্তির মাধ্যমে এ গৃহযুদ্ধ বন্ধ হয়। লেবাননের সেনাবাহিনীর সদস্যসংখ্যা ৭২ হাজারের কিছু বেশি। ভ্রমণ করার স্বাধীনতা এবং সীমাবদ্ধতার দিক দিয়ে বিবেচনা করলে লেবাননের পাসপোর্ট বিশ্বের সেরা দশটি বাজে পাসপোর্টের মধ্যে অন্যতম। লেবাননের ভিসা আপাতত সাধারন বাঙালিদের জন্য বন্ধ। ১৯৮০/৮২ সাল থেকে লেবানন বাংলাদেশীদের প্রবেশ আরম্ভ হয়।তখন হয়ত ৮০/৯০ জন লোক থেকে আজ বাংলাদেশের শ্রম বাজারে লেবানন প্রবাসীদের এত লোকের আগমন। এটা বাংলাদেশের অনেক বড় গর্বের বিষয়।

লেবাননের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি পর্যটকও বেড়াতে যায় গত বছর। লেবাননের দক্ষিণে আছে ইসরাইল। লেবাননের বেশির ভাগ স্থান জুড়েই রয়েছে পাহাড়। দেশটির মোট আয়ের ৬৭ শতাংশ আসে এই পর্যটন খাত থেকেই। লেবাননে মোট ৪১টি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। লেবাননের মানুষ প্রবাসের জন্য বেশি পছন্দ করে ব্রাজিলকে। প্রবাসী ১৩ মিলিয়ন লোকের মধ্যে ৭ মিলিয়নই থাকে ব্রাজিলে। অস্ট্রেলিয়ায় রয়েছে দুই লাখ ৭০ হাজার লেবাননি।

লেবাননে দেড় লাখ বাংলাদেশি বিভিন্ন পেশায় কাজ করছে। তাদের মধ্যে বাংলাদেশি নারী অভিবাসীর সংখ্যা লক্ষাধিক। তাদের মধ্যে প্রায় ২০ হাজার বাংলাদেশি অবৈধভাবে বসবাস করছেন। লেবাননের অনেক সম্ভাবনার শ্রমবাজার নষ্ট করছেন বাংলাদেশি দালালরাই। লেবাননের প্রবাসী কর্মীরা যা বেতন পান, তার অর্ধেকের বেশী খরচ হয়ে যায় আকামার জন্য, তারপর থাকা খাওয়া সহ অন্যান্য যাবতীয় খরচতো রয়েছেই।

১৯৫৯ সালে লেবাননের মানুষ প্রথম টিভির দেখা পায়। বর্তমানে সেখানে নয়টি জাতীয় টিভি চ্যানেল আছে। যার একটি মাত্র সরকারি, আর বাকি সব বেসরকারি। লেবাননের প্রধান খেলাগুলোর মধ্যে বাস্কেটবল, ফুটবল ও রাগবি বেশ জনপ্রিয়। সাহিত্যের আকাশে লেবাননের বড় তারকা ছিলেন খলিল জিবরান। তার লিখিত দ্য প্রপেট বিশ্বের বিশটি ভাষায় অনূদিত হয়েছে।


রমজানে লেবাননের জনপ্রিয় খাবার কাটায়েফ প্যানকেক। সেই কেক বানানোর প্রস্তুতি চলছে। সে দেশের মানুষ কাটায়েফ প্যানকেক দিয়ে ইফতার করতে খুবই পছন্দ করে।

সর্বশেষ এডিট : ১০ ই মে, ২০১৮ বিকাল ৫:০২
১৫টি মন্তব্য ১৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আজকের ডায়েরী- ২০০

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:০১



বাঙ্গালীদের খাদ্যাভাস বদলে গেছে।
অদ্ভুত সব খাবার মানুষ এখন খায়। আগ্রহ নিয়েই খায়। ইউটিউব দেখে মানুষের চিন্তা চেতনা এবং ব্যবহার বদলে গেছে। বাংলাদেশে খাবারের ব্যবসায় লস নাই। মানুষজন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কেউ জানে না.....অপ্‌সরাপু মেইড মাই ডে!!!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:১২

গানঃ কেউ জানে না
গানের লিংক - https://on.soundcloud.com/t6S1rpHbzq62HoSW98



হয়নি বলা হয়নি বলা...
সবচে' আপন যে জন ছিলো
সবচে' দূরের মানুষ সেও।
হঠাৎ কোথা হারিয়ে গেলো!
একটা অজান সূর।
কোন সুদূরে কোন অপারে
কোন সে অচিনপুর!


==========
কবিতার... ...বাকিটুকু পড়ুন

শুভ জন্মদিন আফীক

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:১৩


তোর সাত বছর
কোন দিক দিয়ে গেলো
মনেই পড়ছে না;
জানিস কি অদ্ভুত সময়?
সময়ের উষ্ণভাজে
বেঁচে থাকাটাই ১ বিস্ময়!
শুভ জন্মদিনের
শুভেচ্ছাটা আরও খুশি
যেনো রঙিন ক্ষণ;
শত কষ্টের মাঝে মানুষ
হওয়াটা আনন্দাশ্রু;
মানুষের মত মানুষ হও
শুভ জন্মদিন- শুভ... ...বাকিটুকু পড়ুন

দৃষ্টিকটু পোশাক ও দৃষ্টিকটু আচরণ

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৪



আপডেট - হাফপেন্ট আন্দোলন: ৩০/০৯/২০২৬
হাফপেন্ট পরে মেট্রো ট্রেন ও বাসে চলাচল বাংলাদেশের একটি নাগরিক চাহিদা হতে পারে। যেহেতু সমস্যা মেট্রোতে হয়েছে, আমি ধারণা করেছি বাংলাদেশে ফেসবুকে “হাফপেন্ট আন্দোলন” হওয়ার সম্ভবনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগের স্বাস্থ্য ভালো?

লিখেছেন শূন্য সারমর্ম, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:৫১




ব্লগ কেমন আছে? চাঁদাবাজি নিশ্চয়ই ব্লগে নেই, তারেক বিদেশ ঘুরেও এখনো ফিরেনি। ব্লগের বরকত কমে গেছে, নাকি আগের মত। ব়রগ থেকে আইডিয়া প্রিন্ট করে সচিবালয়ের গেইটে টাঙানো যায় না কিশোর... ...বাকিটুকু পড়ুন

×