
বর্তমান জগত হচ্ছে প্রতিযোগিতার।
একজন বন্ধু অথবা সহকর্মী আমার যতটা সহযোগী তার চেয়ে অনেক বেশি প্রতিযোগী।
যতই সময় গড়াচ্ছে পৃথিবীর মানুষগুলো যেন একেকটা নির্জন দ্বীপের মত একাকী হয়ে যাচ্ছে। ভোগবাদী পুঁজিবাদী সমাজ'ই আমাদেরকে এখানে টেনে নিয়ে নিয়ে যাচ্ছে?
কেউ ধর্ষক হিসাবে জন্মায় না। প্রকৃতি কাউকেই ধর্ষক হিসাবে পৃথিবীতে তৈরী করেনি। বরং এই সমাজব্যবস্থা'ই ধর্ষক তৈরী করছে। পর্নোগ্রাফি সব গুলো সাইট বাংলাদেশে বন্ধ করে দেওয়া হোক। পৃথিবীতে শীর্ষ দ্বিতীয় রমরমা ব্যাবসার নাম পর্নগ্রাফি। অস্ত্রের পরেই পর্নগ্রাফির স্থান। বিনোদনের এত এত মাধ্যম থাকতে কেন পর্ণগ্রাফিই হয়ে ওঠে তরুন সমাজের আনন্দের আশ্রয়? কারন খুব সহজেই পর্ণগ্রাফি দেখার সুযোগ আছে। ছেলে মেয়েরা বিপথে যাচ্ছে। এই বিপথে যাওয়া ছেলে মেয়েরা দেশের হাল ধরবে কি করে?
শারিরীক চাহিদার মিটানোর জন্য কেউ কাউকে ধর্ষণ করে না। একটা মানুষ আরেকটা মানুষকে ধর্ষণযোগ্য তখনই মনে করে যখন পর্নগ্রাফি দেখতে-দেখতে, দৃষ্টিভঙ্গি হয় ধর্ষকামী। যে দিনের পর দিন পর্ণ ভিডিও গুলো দেখে- তার রুচিবোধ নষ্ট হয়ে যায়। হিতাহিত জ্ঞান কমতে থাকে। মনের মধ্যে তীব্র ইচ্ছা জাগে পর্ণভিডিও গুলোর মতো কিছু করতে। রাস্তা ঘাটে, বাসে, লঞ্চে, অফিস আদালতে একটা মেয়েকে দেখলেই প্রথমেই তার অবচেতন মন পর্ণ ভিডিও'র মতোন মেয়েটাকে নিয়ে ভেবে কিছুক্ষন কুৎসিত আনন্দ পেতে চায়। এবং যারা প্রচুর পর্ণ দেখে তারাই মেয়েদের দিকে কুৎসিত ভাবে তাকিয়ে থাকে। মনে মনে মেয়েটার সাথে....
আজ যদি আমাদের চারপাশে প্রচুর শিল্প-সাহিত্যের চর্চা হত। প্রতিটা পাড়ায়-পাড়ায়, মহল্লায়-মহল্লায়, গ্রামে-গ্রামে একটা করে লাইব্রেরী থাকতো। তাহলে, আমাদের দৃষ্টিভঙ্গিই বদলে যেত। এই জন্যই বলি, আমাদের দেশে যে পরিমান মসজিদ আছে, সে পরিমান লাইব্রেরী নাই। বিশ্বাস করুন আযানের সময় পাঁচটা সাতটা মসজিদ থেকে একই সময় আযান শুরু হয়। যেন তাদের প্রতিযোগিতা। একটা আযানের ধ্বনিও স্পষ্ট শোনা যায় না।
মানুষ তো শুধু সৃষ্টিশীল হয়ে উঠতে পারে অথবা বিধ্বংসী হয়ে উঠতে পারে। এই সমাজে সৃষ্টিশীল হওয়ার পথ খুব কম। আর মোবাইল অথবা কম্পিউটার টিপলেই- মুহূর্তেই রঙিন দুনিয়ার হাতছানি। আবার যারা সংস্কৃতি চর্চা করে তাদেরকেও আমি পুরোপুরি ভালো মানুষ বলব না। তাদের বেশির ভাগ'ই হয় লুচ্চা। এই সমাজে একটা মাস্টার্স পাশ করা মেয়ে একা ইন্টারভিউ দিতে যেতে সাহস পায় না।
এই ভয়াবহ বিধ্বংসী পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের পথ একটাই— পর্নগ্রাফি নির্মূলের মাধ্যমে একটা সৃষ্টিশীল নির্মল বিশুদ্ধ চিত্ত-বিনোদনভিত্তিক সমাজের নির্মাণ করা। প্রচুর লাইব্রেরী করতে হবে। খেলার আয়োজন করতে হবে। সবার আগে বাবা ও মাকে খুব খুব সচেতন হতে হবে। এছাড়া বিকল্প কোনো রাস্তা আপাতত দেখতে পাচ্ছি না।
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই মে, ২০১৮ রাত ৯:৫১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


