somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

গত কয়েকদিন

০৪ ঠা আগস্ট, ২০১৮ বিকাল ৪:০৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আমি মাঝে মাঝে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেই। বর্তমান সময়ে চলাকালীন আন্দোলন নিয়ে আমি দুই একটা কথা লিখেছি। যা লিখেছি নিরপেক্ষ থেকেই লিখেছি। নিজের মনে যে কথা আসছে- সেই কথাই লিখেছি। আমার স্ট্যাটাস পড়ে বেশ কিছু মানুষ আমাকে দালাল, রাজাকার, চাটুকার ইত্যাদি বলছেন। কেউ কেউ বাপ মা তুলে খারাপ গালাগাল দিচ্ছেন। কেউ আনফ্রেন্ড বা ব্লক করছেন। ধরে নিলাম আমি স্ট্যাটাস কোনো পক্ষের হয়ে লিখেছি- তা-ও আপনারা খারাপ ভাষায় আমাকে যা-তা বলতে পারেন না। অনেকের স্ট্যাটাস পড়লে আমার মেজাজ প্রচন্ড খারাপ হয়- কিন্তু আমি তো কখনও কাউকে খারাপ ভাষায় কিছু বলিনি। সরকারের ভালো দিকগুলো তুলে ধরলে হয় দালাল আর সরকারের বিপক্ষে কথা বললে প্রতিবাদী! কি অদ্ভুত!

আমি কাজ করে ভাত খাই। কোনো দল করি না। কোনো দল আমার সংসার চালায় না। মাথার ঘাম পায়ে ফেলে টাকা ইনকাম করি। সৎ ভাবে জীবন যাপন করি। কাউকে কোনোদিন কটু কথা বলেছি কিনা মনে পড়ে না। কারোর ক্ষতি করিনি কোনো দিন। সারা জীবন দেশ এবং দশের মানূষের মঙ্গল কামনা করি। এই সামু ব্লগেই তো আমি কত বছর ধরে আছি। কোনো দিন কাউকে একটা বাজে কথা বলি নাই। আমার কোনো পোষ্টের মধ্যে খারাপ শব্দ ব্যবহার করি নাই। আমি কোনো দল করি না। কাজ করি ভাত খাই। যে ভালো কাজ করে তাদের ভালো বলি, যে মন্দ কাজ করে তাদের দুষ্টলোক বলি।

গত কয়েকদিন আমার রাস্তায় চলাচল করতে খুব কষ্ট হচ্ছে। কোনো বাস নেই। রিকশা বা সিএনজি'তে করে যাতায়াত করতে হচ্ছে। বাসের ভাড়ার চেয়ে পনের-বিশ গুন বেশি খরচ হচ্ছে। আমার তো অফুরন্ত টাকা না। মাস শেষে অল্প কিছু টাকা পাই। তা দিয়ে কোনো রকমে খেয়েপড়ে বেঁচে আছি। এই যে এখন আমার হিসাবের বাইরে বেশি টাকা খরচ হচ্ছে এই টাকাটা আমাকে দিবে? ছাত্ররা আন্দোলন করছে করুক, তার জন্য আমি সহ আমার মতো অসংখ্য মানূষের বেগ পেতে হচ্ছে- তার খবর কে রাখে? গতকাল মিরপুর গিয়েছি। অন্য সময় খরচ হয় যেতে আসতে ষাট টাকা। এই আন্দোলনের জন্য আমার খরচ হয়েছে-সাত শ' টাকা। আর ভোগান্তি তো আছেই। পরিবহনের লোকেরা বাস রাস্তায় বের করতে ভয় পাচ্ছে, যদি ভেঙ্গে দেয়। কিছু হলেই তো লোকজন সবার আগে বাস ভাঙ্গে। আমাদের দেশে তো অফুরন্ত বাস নেই। প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। তা-ও যদি আমরা ভেঙ্গে ফেলি। তাহলে তো আমাদেরই ভূগতে হবে। কোনো মানুষই ইচ্ছা করে একসিডেন্ট করে না। তবে রাস্তায় চলাচলরত মানুষ সচেতন হলে এবং ড্রাইভাররা সাবধানতা অবলম্বন করলে দুর্ঘটনা অনেক কমিয়ে আনা সম্ভব।

স্কুল কলেজের ছেলে মেয়েরা রাস্তায় নেমে লাইসেন্স চেক করছে। গাড়ি, মটরসাইকেল আর রিকশাওয়ালাকে বলছে নিয়ম মেনে চলতে, লেন ঠিক রাখতে। তারা ভালো কথা বলছে। আবার কোথাও কোথাও ছেলে মেয়েরা রাস্তা আটকে মিটিং মিসিল করছে। চিৎকার চেচামেচি করে যেন কি কি বলছে। লক্ষ লক্ষ মানুষ যাতায়াত করে যে পথ দিয়ে, সে পথ তোমরা আটকে রেখেছো- এটা তো ঠিক না বাবারা। তোমরা ছাত্র মানুষ তোমরা মানূষের উপকার করবে- কিন্তু সমস্যা তৈরি করবে কেন? কারো কারো হাতে আবার হ্যান্ড মাইক। পুরো রাস্তা আটকে চিৎকার করে বলছে 'ইউ ওয়ান্ট জাস্টিস'। সাধারন মানূষ অসহায়ের মতো তাকিয়ে আছে, তারা তাদের গন্তব্যে যেতে পারছে। তাদের চোখে মুখে অনেক ক্ষোভ দেখা যায়। তারা হয়তো মনে মনে অকথ্য ভাষায় এই সমস্ত ছেলে মেয়েদের আর তাদের বাবা মাদের গালি দিচ্ছে।

এই সব ছাত্রদের আন্দোলনের সাথে নানান পেশারা মানুষ যোগ দিচ্ছে। যারা যোগ দিচ্ছে বা যারা তাদের সাধুবাদ জানাচ্ছে অবশ্যই তাদের কোনো উদেশ্য আছে। উদেশ্যটা হয়তো ভালো নয়। যার যা কাজ তাকে তাই করতে হয়। একজনের কাজ আরেকজন সঠিকভাবে- সুন্দরভাবে করতে পারে না। তুমি আমার লাইসেন্স দেখতে চাইতে পারো না। সরকার তোমাকে এই দায়িত্ব দেয়নি। আচ্ছা, রাস্তায় যদি একজন মানুষ না খেয়ে থাকে- তোমরা কি তাকে খাবার কিনে দাও? অথবা কেউ যদি টাকার অভাবে চিকিৎসা না করাতে পারে তাকে কি তোমরা চিকিৎসা করার টাকা দাও? যারা রাস্তায় ঘুমায় তাদেরকে কি তোমরা ডেকে নিয়ে তোমার ঘরে জায়গা দাও? যার চাকরি নেই, তাকে কি তোমরা চাকরি দাও? এসব তো করো না। এসব করতে পারলে আমি তোমাকে বলতাম সাবাশ বাপের ব্যাটা। লাইসেন্স চেক করার চেয়ে বেশি দরকার- দরিদ্র মানূষের থাকা, খাওয়া আর চাকরির ব্যবস্থা করার। পারলে এসব করে দেখাও। তবেই দেশ বদলাবে দ্রুত।

ইদানিং মনে হচ্ছে এই দেশে জন্মগ্রহন করে পাপ করেছি। আমি কারো সাথে পাচে নাই। কাজ করি ভাত খাই। সহজ সরল জীবন যাপন করি। মনের খোরাকের জন্য মাঝে মাঝে বই পড়ি আর ব্লগে লিখি। এই লেখা পড়া করাটাই আমার সারাদিনের বিনোদন আর শান্তি। নাটক সিনেমা দেখা বাদ দিয়েছি। আজ রাস্তায় বের হয়ে শুনলাম, এক রিকশাওয়ালা বলছে, এই দেশে কোনো শালাই ভালো না। সব গুলা বদ। রাজা, মন্ত্রী, উজির, নাজির কেউ ভালা না। এই ছাত্ররাও ভালো না। দেশের কোটি মানুষ তিন বেলা ঠিকমত খেতে পায় না, চিকিৎসা পায় না, চাকরি পায় না- সেদিকে তাদের নজর নাই, আইছে লাইসেন্স চেক করতে। গিয়ে দ্যাখ তোদের বাপ দাদারও লাইসেন্স নাই। আমি রিকশাওয়ালাকে বুঝালাম, এই ছাত্ররা যতটুকু করছে সেটাও অনেক বড় ব্যাপার।

অনেকে বলছেন এই আন্দোলন যারা করছে তারা একটা মহৎ কাজ করেছে। যা এত বছর কেউ করেনি ছাত্ররা করে দেখিয়েছে। এটা আমি মানি। তারা একটা ভালো ধাক্কা দিয়েছে দেশের সমস্ত মানুষ আর সরকারকে। আর এই সমস্ত ছাত্রদের প্ল্যাকার্ড ফেস্টুন যারা এডিট করে বাজে সব্দ বসিয়েছে ওদের জুতা পিটা করা উচিত। ওদের কঠিন বিচার করা উচিত। ওরা বাস ড্রাইভারের চেয়ে হাজার গুন বেশি খারাপ। এই সমস্ত এডিট যারা করে তারা অমানূষের বাচ্চা। এডিট করে তিলকে তাল বানিয়ে ফেলে। আমি কখনও গালি দেই না তবে ওদেরকে শুয়োরের বাচ্চা বলে গালি দিতে আমার কোনো সমস্যা হবে না।


বিঃ দ্রঃ ছবিটা আজ তুলেছি। সময় তখন দুপুর ২ টা কুড়ি মিনিট। মগবাজার ওয়াললেস থেকে। রাস্তা বন্ধ করে সকাল থেকেই চুরু হয়েছে ছাত্র ছাত্রীদের হ্যান্ড মাইক নিয়ে আহাজারি।
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা আগস্ট, ২০১৮ বিকাল ৪:০৭
১৮টি মন্তব্য ১৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আদর্শের মুখোশ, নাকি অনলাইন প্রোপাগান্ডা: 'ন্যায়পরায়ণ' সাজার আড়ালে আসল রূপ কোনটা?

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ২৩ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ৮:২২



ধর্ম, নৈতিকতা আর আদর্শের মুখোশ পরে যখন ভেতরে ভেতরে চরম অবক্ষয় চলে, তখন সাধারণ মানুষ হিসেবে মুখ বুজে মেনে নেওয়া কঠিন!
ধর্ষণের অভিযোগ এআই (AI) দাবি করা কিংবা অনৈতিক ঘটনাকে ‘দ্বিতীয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

সুখী শিক্ষার্থীরাই ভালো শিক্ষার্থী, ওরাই সবচেয়ে মেধাবী

লিখেছেন মোঃ ফরিদুল ইসলাম, ২৩ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ৯:৩৮

​আজকের প্রতিযোগিতাপূর্ণ শিক্ষাব্যবস্থায় আমরা ‘মেধা’ শব্দটিকে জিপিএ-৫, গোল্ডেন মেডেল কিংবা পরীক্ষার খাতার নম্বরের ফ্রেমে বন্দি করে ফেলেছি। ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কোচিং, প্রাইভেট আর মুখস্থ বিদ্যার যাঁতাকলে পিষ্ট হওয়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

মওলা

লিখেছেন আরমান আরজু, ২৩ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১০:১৪

মাহরাম নয়, এমন পুরুষকে কি একজন স্ত্রীলোক নিজের স্তনের দুধ পান করাতে পারবেন?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৪ শে জুলাই, ২০২৬ সকাল ৯:২১

আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: সাহলা বিনতে সুহাইল নবী করীম ﷺ-এর নিকট এসে বলল: হে আল্লাহর রাসূল! আমার নিকট সালেমের আসাটা আবু হুযাইফা ভালো মনে করছেন না। নবী বললেন:... ...বাকিটুকু পড়ুন

লুচ্চামি আর যৌন হতাশা এক বিষয় না।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৪ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:৫২


সম্প্রতি জামায়াতের এক লুচ্চা এমপি-র অন্তত দুইজন তরুণী নিয়ে কট খাওয়ার ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। তিনি তরুণী নিয়ে হোটেল, কোচিং সেন্টারে রুম ডেট করতেন। নেটিজেনরা তার এই লুচ্চামি এমনভাবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×