
সময় দুপুর দুইটা।
কমলাপুর রেলস্টেশনের কাছে দাঁড়িয়ে আছি। যাবো মগবাজার মোড়ে। বাস নাই। পায়ে ব্যথ্যা তাই হেঁটেও যাওয়া সম্ভব না। পকেটে টাকা আছে মাত্র তিন শ'। কোনো রিকশাওয়ালা কমলাপুর থেকে মগবাজার যাবে না ১৫০ টাকার কমে। অথচ বাসে ভাড়া দশ টাকা। দশ টাকার ভাড়া ১৫০ টাকা দিয়ে যেতে ইচ্ছা করে না। কি করবো বুঝতে পারছি না! সারা শরীর ঘামে ভেজা। ক্ষুধাও লেগেছে খুব। পল্টন থেকে কমলাপুর হেঁটেই এসেছিএকটু আগে। পকেটে আছে ৩০০ টাকা। সকালে ৫০০ টাকা নিয়ে বাসা থেকে বের হয়েছি। অলরেডি দুই শ' খরচ হয়ে গেছে।
এক বুড়ো রিকশাওয়ালা হঠাত আমার সামনে এসে বললো- কই যাবেন? উঠেন? যা ভাড়া দিয়েন? আমি বললাম, মগবাজার মোড়ে যাবো। ৮০ টাকা দিব। বুড়ো রিকশাওয়ালা বলল- উঠেন। আমি রিকশায় উঠে বসলাম। তারপর ভালো করে লক্ষ্য করে দেখি, রিকশাওয়ালা খুব বুড়ো। সে রিকশা টানতেই পারছে না। খুব বেগ পেতে হচ্ছে তার। একদম কুঁজো হয়ে গেছে। বুড়ো রিকশাওয়ালাকে দেখে আমার খুব মায়া লাগলো। একরকম অপরাধ বোধে ভূগতে থাকলাম। আমার বাপে চেয়ে বেশি বয়স হবে বুড়োর। মনে মনে ভাবছি দেশ উন্নয়নের মহাসড়কে অথচ এদের কোনো উন্নতি হয় না। আমি বুড়োকে বললাম, সরকার বয়স্ক ভাতা দিচ্ছে জানেন নাকি? বুড়ো হাপাচ্ছে কথা বলার শক্তি তার নাই।
আমি রিকশা থেকে নেমে পড়লাম। আমার পক্ষে এই রিকশায় যাওয়া সম্ভব না। পকেটে থাকা তিন শ' টাকা দিয়ে দিলাম বুড়ো রিকশাওয়ালাকে। তারপর একবারও পেছনের দিকে না তাকিয়ে সামনের দিকে হাঁটতে শুরু করলাম দ্রুত। হাঁটতে হাঁটতে মগবাজার মোড়ে আসলাম। টানা ৫৫ মিনিট হাঁটলাম। প্রচন্ড কষ্ট হয়েছে। সবচেয়ে বড় কথা খুব ক্ষুধা লেগেছে। বাসায় ফিরবো সন্ধ্যা সাত টায়। ক্ষুধা লাগলে আমার মাথা কাজ করে না। আর মেজাজ থাকে প্রচন্ড গরম হয়ে। তখন অযথাই মানূষের সাথে চিল্লাচিল্লি করি। এখন আমার পেট ভরে খেতে হবে। কথায় আছে পেট ভরে খেলে পিঠ ভরে সহা যায়।
শূন্য পকেটে মগবাজার মোড়ের 'ডি তাজ' হোটেলে ঢুকলাম। ইচ্ছা মতো খেলাম। পাগলের মতো খেলাম। ভাত, রুই মাছ, করলা ভাজি, ডাল। পরে আবার ওয়েটার খাসির মাংস নিয়ে আসছে। সেটাও খেলাম। কোক খেলাম। বিল হলো- ৩৫৫ টাকা। ক্যাশের ম্যানেজার আমার পরিচিত। আমি হাত তুলে বললাম পরে। ম্যানেজার হেসে দিলো। ম্যানেজারের কাছ থেকে বিশ টাকা নিয়ে ওয়েটারকে দিলাম। হোটেলের পাশে সিগারেটের দোকান আছে। আমার খুব পরিচিত দোকান। সে-ও রিকশাওয়ালার মতো বুড়ো হবে। ১০টা বেনসন সুইস সিগারেট নিলাম বাকিতে। সিগারেটে একটা লম্বা টান দিতেই মনে হলো আমি একজন সুখী মানুষ।

সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই আগস্ট, ২০১৮ বিকাল ৫:০৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


