
দেশ যখন মোটামোটি ভালোই চলছিল, তখন'ই কোনো না কোনো ইস্যু ধরে একদল দুষ্টলোক অরাজকতা শুরু করে দিল। বাসে আগুন, ব্যস্ত রাস্তা বন্ধ করে সারাদিন হ্যান্ড মাইক হাতে নিয়ে চিৎকার করে বলে- 'ইউ ওয়ান্ট জাস্টিস'। অন্য সব সরকারের চেয়ে হাসিনার সরকার দেশের উন্নয়নের জন্য বেশি কাজ করছে। এটা তো সত্য। এই সত্য স্বীকার করতে সমস্যা কি? মেট্রোরেলের কাজ খুব জোরেশোরে চলছে, বিশ্বাস না হলে- মিরপুর দশ নম্বর গিয়ে নিজের চোখে দেখে আসুন। দেশের মানুষ কোনোদিন ভাবতেও পারেনি এই বাংলাদেশে মেট্রোরেল হবে। পদ্মা সেতুর কাজ চলছে। এই পদ্মা সেতু করতে আগের কোনো সরকার সাহস করেনি। শেখ হাসিনা করে দেখিয়ে দিয়েছেন। দিন-রাত পদ্মা সেতুর কাজ চলছে। নদীর কাছে গেলে পদ্মা সেতুর পিলার গুলো দেখা যায়। ঢাকা মাওয়া রোডের চার লেইনের কাজ চলছে। বিশ্বাস না হলে গিয়ে নিজের চোখে দেখে আসুন। কাজেই আমি বলতে চাই উন্নয়ন হচ্ছে।
অতীত ভুলে গেলে চলবে না। একটা সময় দিনের পর দিন হরতাল, অবরোধ হতো। মানুষ ঘর থেকে বের হতে পারতো না। বাস থেকে মানুষকে নামতেও দিত না তার আগেই বাসে আগুন ধরিয়ে দিত। কি ভয়াবহ সময় গুলো আমরা পার করে এসেছি। আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর, দেশ কিন্তু প্রতি বছরের মতো পর-পর দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়নি। একবার ভেবে দেখুন আমাদের মতো দরিদ্র দেশের নিজস্ব স্যাটালাইট আছে। বিএনপি ক্ষমতায় থাকলে- এই স্যাটালাইট পেতেন? পদ্মা সেতু পেতেন? মেট্রোরেল পেতেন? মৌচাক মগবাজার ফ্লাইওভার প্রতিদিন ব্যাবহার করছি। বাংলা মটর থেকে দুই মিনিটের মধ্যে রাজারবাগ মোড়ে চলে আসি। আগে লাগতো এক ঘন্টা। যে যতটূকু করে ততটূকু বলা উচিত। বললে জাতি হিসেবে আমরা ছোট হয়ে যাব না। প্রধানমন্ত্রী তো ইচ্ছা করলে পারেন সব ছেড়ে ছুড়ে উন্নত কোনো দেশে বাকিটা জীবন কাটিয়ে দিতে। তিনি তা না করে এই দেশকে ভালোবেসে নিজের সবটূকু মেধা এই দেশের মানূষের জন্য ঢেলে দিচ্ছেন। সারাক্ষন উনি দেশের মানূষের মঙ্গলের চিন্তা করেন।
সাধারন জনগন কি চায়? তারা চায় যেন সুন্দরভাবে জীবন যাপন করতে পারে। জনগনের শান্তি যারা নষ্ট করে তারা দেশের শত্রু। আমার নিজের কথাই বলি। আমি রাজনীতি করি না। কোনোদিন মিটিং মিসিল করি নাই। মানব বন্ধন করি নাই। কিন্তু আমি আমার দেশকে ভালোবাসি। দেশের মানূষকে ভালোবাসি। তবে ইদানিং আমাদের দেশে দুষ্টলোকের সংখ্যা অনেক বেড়ে গেছে। এই দুষ্টলোকেরাই তৃতীয় পক্ষ। তারা সুযোগ পেলেই শুধু উস্কানি দেয়। দেশে অস্থিরতা তৈরি করে। এই দেশে জন্ম নিয়ে তুমি কি করে পারো এই দেশের ক্ষতি করতে? যখন তুমি বাসে আগুন দাও, তোমার মনে হয় না, দরিদ্র দেশের বাস ভেঙ্গে, আগুন দিয়ে তুমি ক্ষতি করলে? যখন তুমি আন্দোলন নাম দিয়ে রাজপথ আটকে রাখো- তখন তোমার খারাপ লাগে না, তুমি এই দেশে মানুষ হয়ে কিভাবে লক্ষ লক্ষ মানুষের যাতায়াতের বিঘ্ন ঘটাও। এই শিক্ষা তোমাকে কে দিয়েছে?
আমাদের প্রধানমন্ত্রী মাত্র পাঁচ ঘন্টা ঘুমান। বাকি সময় দেশের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। ছোট্র একটা দেশ। মানুষ বেশি। সমস্যাও বেশি। একটা, একটা করে সমস্যা কাটিয়ে সামনের দিকে যাওয়া খুব কঠিন। আমাদের এই প্রিয় দেশ ধীরে ধীরে সামনের দিকে যাচ্ছে। আমাদের সবার উচিত সরকারকে সাহায্য করা। যারা উস্কানি দেয় তাদের বুঝানো। যারা মন্দ কাজ করে তাদের বুঝানো। আমি জানি, আমাদের দেশের সব মানুষ খারাপ না। আমাদের দেশের বেশির ভাগ মানূষই ভালো। সহজ সরল। অল্প কিছু দুষ্টলোক আছে। তারা সব সময় দেশের ক্ষতির চিন্তা করে। এই অল্প কিছু দুষ্টলোকদের ধরে আমাদের বুঝাতে হবে। সুন্দর করে বুঝাতে পারলেই তারা নিজের ভুল বুঝতে পাড়বে। আসুন দেশকে ভালোবাসি। দেশের মানূষকে ভালোবাসি। দেশের মঙ্গলের জন্য কাজ করি।
এই লেখা পড়ে নিশ্চয়ই কেউ কেউ আমাকে দালাল বলবেন। চাটুকার বলবেন। চুশীল বলবেন। এখন, শুনুন, আমি রাজনীতি করি না। মিটিং মিসিল বা মানব বন্ধন এইসব কোনো দিনও করি নাই। আওয়ামীলীগ বা বিএনপি আমাকে টাকা দেয় না। চাকরি করে আমাকে টাকা রোজগার করতে হয়। সেই কষ্টের রোজগার দিয়ে আমার সংসার চলে। ছোট একটা চাকরি করে, অত্যন্ত সততার সাথে জীবন যাপন করি। যদি খালেদা জিয়া ভালো কাজ করতেন তাহলে আমি উনাকে নিয়েও লিখতাম। এই দেশের সাধারন জনগনের একজন আমি। সরকার ভালো করলে অবশ্যই আমি বলব। বলাটা আমার দায়িত্ব। খারাপ করলেও সেটাও বলব। আসুন আমরা সবাই এক হয়ে দেশের জন্য কাজ করি। দেশটাকে উচ্চতার শিখরে নিয়ে যাই। জয় বাংলা।
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই আগস্ট, ২০১৮ বিকাল ৩:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


