
বাংলা সিনেমার প্রয়াত অভিনেতা আনোয়ার হোসেন মৃত্যুর কয়েকদিন আগে টিভি ক্যামেরা দেখে বলেছিলেন, আমি কিছু বলতে চাই। কিন্তু তিনি আর কিছু বলতে পারেন নি। সাংবাদিক তাকে বারবার বলছেন, আপনি কি বলতে চান? বলুন? প্লীজ বলুন? কিন্তু আনোয়ার হোসেন কিছুই বলতে পারেনি। শুধু ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে ছিলেন। আমি নিজেই কোন দিন মরে যাই! কাজেই আমার যা যা বলার আমিও সব বলে ফেলতে চাই। হুট করে যদি মরে যাই তখন কি হবে! কাজেই ভালো কথা, মন্দ কথা সব বলে ফেলতে চাই।
এই ছাত্রছাত্রীদের বর্তমান আন্দোলনের কথা বলি। আজ এবং গত কয়েকদিন আমরা ছবি আর ভিডিওতে অনেক কিছু দেখলাম। বেশ মর্মান্তিক সব ছবি আর ভিডিও। তথাকথিত এই তৃতীয় পক্ষের হাতে লাঠি, রড, রাম দা। বেশ কয়েকটা ভিডিওতে দেখলাম- লাঠি, রড দিয়ে ইচ্ছা মতো মারছে। কেন মারছে? কি অপরাধ করছে? আচ্ছা, যদি অপরাধ করেই থাকে- তাহলে দেশে আইন আছে, আইন মোতাবেগ বিচার হবে। তৃতীয় পক্ষ কেন আইন নিজের হাতে তুলে নিল। এই সাহস ওদের কে দিল? ওরা বড় ভয়ঙ্কর। আর পুলিশ র্যাব কেন একজনও তৃতীয় পক্ষের কাউকে ধরতে পারলো না? তাদের ছবি আছে, ভিডিও আছে। আজকে যারা গুজবে কান দিবেন না বলে মুখে ফেনা বের করে ফেলে তারাই ঐসব নিউজ শেয়ার দিয়ে পৈশাচিক আনন্দ লাভ করে। তৃতীয় পক্ষ হোক আর প্রথম পক্ষ বা চতুর্থ পক্ষ তাদের ধরুন। গ্রেফতার করুন। তারা খুব বেশি অমানবিক। তারা আরও বড় ধরনের কোনো সর্বনাশ করে ফেলবে। তার আগেই দয়া করে লাগাম টেনে ধরুন।
কিভাব সম্ভব মানুষ হয়ে আরেকজন মানূষকে এইভাবে পিটিয়ে মারা? কি অপরাধ তারা করেছে? অপরাধটা কি? এই শিক্ষা তাদের কে দিয়েছে? তাদের বাবা মা? এইভাবে মেরে তারা কি টাকা পায়? কে তাদের এইভাবে মারতে নির্দেশ দিয়েছে? তারা কি মৃত্যুর ভয় করে না? আল্লাহকে ভয় করে না? তাদের কি ধর্ম নেই? তাদের কি বাবা মা নেই? ভাই বোন বা স্ত্রী সন্তান নেই? এই তৃতীয় পক্ষ কি র্যাব পুলিশের চেয়ে বেশি ক্ষমতাশালী? কোনো মানুষ, অন্য মানূষকে এইভাবে মারতে পারে না? যারা এই নির্মম কাজ গুলো করে অবশ্যই তারা অমানূষের বাচ্চা। ইদানিং 'গুজব' শব্দটা খুব বেশি শোনা যাচ্ছে। সব গুজব মেনে নিলাম। কিন্তু যেটুকু ছবি আছে, ভিডিও আছে সেটুকু তো গুজব নয়। সেটুকুর জবাব কি দিবেন? কেউ'ই কি নিরপেক্ষ নেই আমাদের দেশে? টিভি চ্যানেল বা পত্রপত্রিকা? আজকাল লক্ষ করছি- ফেসবুকেও কেউ নিরপেক্ষ না। হয় বিপ্লবী বা প্রতিবিপ্লবী। কেউ প্রগতিশীল, কেউ প্রতিক্রিয়াশীল, আবার কে ধার্মিক, কেউ নাস্তিক, কেউ মুক্তিযাদ্ধা, কেউ রাজাকার, কেউ আওয়ামী লীগ-বিএনপি। কিন্তু কেউ ভাবে না, বুঝে না যে আমরা বাঙ্গালী। বাংলাদেশী।
এই তৃতীয় পক্ষ জঙ্গীদের চেয়ে হাজার গুন বেশি খারাপ, বেশি ভয়ঙ্কর। আপনি কি পারবেন কাউকে এভাবে মারতে? রড দিয়ে, লাঠি দিয়ে? ইদানিং এই অমানুষের বাচ্চা গুলো হেলমেট পড়ে নেয়। যেন তাদের কেউ চিনতে না পারে। আচ্ছা, এই ভয়ঙ্কর পশুদের জন্ম দিয়েছে কারা? আমি ভেবে পাই না তারা এইভাবে মারে কেন? তাদের লাভটা কি? মেরে কি তারা প্রচুর টাকা পায়? এই টাকা কারা দেয়? ধরে নিলাম তাদের রাগ খুব বেশি। তারা রেগে গিয়ে কি তাদের বাপ মাকেও এইভাবে মারতে পারবে? যেহেতু ছাত্রলীগ এই কাজ করেনি, তাহলে যারা এই কাজ করেছে তাদের ধরছে না কেন? আমাদের দেশে এত গুলো টিভি চ্যানেল কিন্তু কেউ সঠিক খবর দিতে পারে না। সব গুলা চ্যানেল বিটিভির মত হিজড়া চ্যানেল হয়ে গেছে? আমি ভাই এই দেশে থাকবো না। ওরা বড় ভয়ঙ্কর। আমাকে যদি এরকম করে রাস্তার মধ্যে মারে? অনেকে দূর থেকে ভিডিও করবে, ছবি তুলবে কিন্তু কেউ বাঁচাতে আসবে না। আমার বউ বিধবা হবে, বাচ্চাটা এতিম হবে। বাবা মা ভাই মাটিতে গড়াগড়ি করে কাঁদবে।
আরেকটা কথা না বলে পারছি না। যখন একজনকে ধরে পাঁচ সাত জন মিলে মারছে তখন আশে পাশে অসংখ্য মানুষ ছিল কিন্তু কেউ সাহায্য করার জন্য এগিয়ে যায়নি। যারা এগিয়ে যায়নি তারা অবশ্যই হিজড়া সম্প্রদায়ের লোক। আরে নির্বোধ তোরা বিশ পঞ্চাশ মিলে ওদের ধাওয়া দিলেই দেই তো ওরা পালিয়ে যায়। সব গাধা গুলো তখন ছবি তোলায় ব্যস্ত। ভিডিও করায় ব্যস্ত। তোমরা জীবনেও কিছু করতে পারবা না, নির্বোধের দল। একটা জীবন বাচানো আগে? না ছবি তোলা আগে? ঠিক আছে ছবি তোল তারপর বাঁচাতে যা। বিশ্বজিতকে যখন দিনের বেলা সবার সামনে একদল পশু কুপিয়ে মারলো তখনও কেউ এগিয়ে আসে নাই। সবাই শুধু তাকিয়ে তাকিয়ে দেখেছে আর ছবি তুলেছে। আবার বলে বাঙ্গালীরা বীরের জাতি। নির্বোধের জাতি, ভন্ডের জাতি। ভীতুর জাতি। গাধার জাতি। অমানবিক জাতি। তবে আমাদের প্রধানমন্ত্রী আসলেই মানবতার মা। তিনি লক্ষ লক্ষ রোহিঙ্গাকে জায়গা দিয়েছেন। গ্রেট। স্যলুট।
পুলিশের সাথে ওরা কারা লাঠি হাতে ধাওয়া পালটা ধাওয়া খেলছে? ওরাও কি পুলিশ? সিভিল ড্রেসে? আর যদি ওরা পুলিশ না হয় তাহলে পুলিশ ওদের ধরছে না কেন? যারা গুজব ছড়ায়, ছবি এডিট করে মিথ্যাকে সত্য বানায় ওরা কারা? এদেরকে পুলিশ ধরে না কেন? ওরা দেশের শত্রু। জঙ্গীদের চেয়ে ওরা বেশি খারাপ। সরকারের উচিত এদের গ্রেফতার করা। শাস্তি দেওয়া। আমাদের দেশে ফেসবুক উপকারের চেয়ে বেশি ক্ষতি করছে। গত কয়েক দিনের এই সব হামলা ছাত্রদল বা শিবির ক্যাডাররা করুক অথবা যে কেউ'ই করুক তাদের গ্রেফতার করা হচ্ছে না কেন? ভিডিও আছে, স্টিল ছবি আছে। শুধু গুজব উৎপাদনকারী নয়, গুজবের প্রচারকারীদেরও আইনের আওতায় আনা উচিত। কারণ, এরা স্বজ্ঞানে গুজব প্রচার করছে।
শুধুমাত্র দূর্নীতি দূর করতে পারলেই সব অন্যায়, অনিয়ম ও অরাজকতার অবসান হতো।
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই আগস্ট, ২০১৮ রাত ৮:০৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



