
১। এক বুড়ি সকালে আমাদের বাসায় ভিক্ষা করতে এসে আমাকে নিয়ে গেল। আমি খুশি মনে বুড়ির সাথে তার বস্তিতে চলে গেলাম। মনে মনে ভাবলাম, যাক বাসার অত্যাচার থেকে বাচলাম। এত এত শাসন থেকে রেহাই পেলাম।
বুড়ি বলল- বাবু সেজে বসে থাকলে হবে না। আমার সাথে ভিক্ষা করতে হবে রোজ। আমি বললাম জ্বী অবশ্যই। বুড়ি বলল গুড বয়।
বুড়ির এক হাতে লাঠি, এক হাতে আমার হাত। বুড়ি নাকি সুরে বলছে, দেন গো বাবা দু'টা পয়সা ভিক্ষা দেন। নাতিটাকে নিয়ে বড় বিপদে পড়ছি।
লোকজন বেশ ভিক্ষা দিচ্ছে। কয়েক ঘন্টায় আমাদের বেশ ইনকাম হলো। বুড়ি তো আমার উপর মহা খুশি! এক মাসের ইনকাম একবেলায় হয়ে গেল। বুড়ি বলল, বল কি খাবি? আমি বললাম, চিকেন ফ্রাই। বুড়ি ছোট্র করে দমক দিলো আমার কাছে বাবুয়ানা চলবে না। খুব হিসাব করে চলতে হবে।
শেষে বুড়ি এক চা'র দোকানে নিয়ে এক পিস কেক আর চা দিলো। আমি খুব আগ্রহ নিয়ে সবটুকু চা আর কেক খেয়ে নিলাম। আহ কি আন্দময় জীবন!
কপাল মন্দ। সুখ কপালে শইলো না। ফিরে যেতে হলো নিজের আস্থানায়। যদি সেদিন বাসায় না ফেরা হতো, তাহলে আজ আমি ঢাকা শহরের শ্রেষ্ঠ ভিক্ষুক হতাম।
২। অনেক বছর আগের কথা।
রাত ৮ টায় বেইলী রোডে দাঁড়িয়ে আছি। হঠাত দেখি আমার পাশে দাঁড়িয়ে একটি মেয়ে খুব কাঁদছে। চারপাশের লাইটের আলোতে মেয়েটির কান্না ভেজা মুখ ঝকমক করছে। যেন জল রঙ এ আকা ছবি।
খুব'ই রুপসী মেয়ে! সাদা শাড়ি পরা। শাড়ির সাথে মিল রেখে কানে দুল। কপালে টিপ, চোখে মোটা করে কাজল, আর দুই হাত ভরতি কাচের চুড়ি।
মেয়েটি চোখ ভরতি পানি টপ টপ করে পড়ছে। আমার ইচ্ছা করলো মেয়েটির চোখের পানি মুছে দেই। এক আকাশ ভালোবাসা নিয়ে বুকে জড়িয়ে ধরি। আমার সামনে একটি মেয়ে কান্না করবে তা তো হতে পারে না।
শেষমেষ মেয়েটির সাথে আমার ভাব হয়ে গেল। আমরা একসাথে ডিনার করলাম। অনেকক্ষন রিকশা করে ঘুরলাম। বেইলী রোড থেকে নীলক্ষেত গেলাম। মুখস্ত করা সব কবিতা শুনিয়ে দিলাম। কবিতা শুনে কেউ হাসে? কিন্তু মেয়েটি খুব হাসলো!
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ সকাল ১০:৫৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



