somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

কি পেলাম এত বছর ব্লগিং করে?

২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ রাত ৯:৩০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আজ আপনাদের বাস্তব গল্প বলবো। কোনো মিথ্যা বা বানোয়াট ঘটনা না। নিজের চোখে দেখা। আপনারা হয়তো পোষ্ট পড়ে কেউ হেসে উড়িয়ে দিবেন। কেউ দুঃখ প্রকাশ করবেন, কেউ হায় হায় করবেন অথবা কেউ শান্ত্বনার দুই একটা কথা বলবেন। তাতে শাহেদের কোনো উপশম হবে না। তবে শাহেদের ঘটনা জেনে চাকরিজীবি ব্লগাররা হয়তো সাবধান হবেন। যে কারো'ই চাকরি চলে যাওয়া অত্যন্ত দুঃখের। শাহেদ প্রায়'ই আমাকে বলতো, আমার শত্রুরও যেন চাকরি না যায়। হুট করে চাকরি চলে গেলে একটা পরিবারের কি হয় তা অনেকেই বুঝে না। প্রচন্ড কষ্ট। একটা চাকরি অনেক বড় ব্যাপার। বিশেষ করে যার বাপের অঢেল টাকা নেই। যার ক্ষমতাবান মামা চাচা নেই।

শাহেদের চাকরি চলে গেছে। কারন সে অফিস টাইমে ব্লগিং করেছে। তবে শাহেদ অফিসের কাজ বাদ দিয়ে ব্লগিং করেনি। সে অফিসের কাজ শেষ করে ব্লগিং করেছে। কিন্তু বড় সাহেব তাকে চাকরি থেকে অব্যহতি দিয়েছেন। কাগজে স্পষ্ট লেখা ''অফিস টাইমে ব্লগিং করার জন্য আপনাকে চাকরি থেকে অব্যহতি দেওয়া হলো।'' শাহেদ বড় স্যারকে বলেছে, স্যার আমি ব্লগিং করেছি এটা সত্য। কিন্তু অফিসের কাজ শেষ করে ব্লগিং করেছি। বহুদিন এমনও হয়েছে অফিসের সময় শেষ কিন্তু আমি সমস্ত কাজ শেষ করে রাত ৮/৯ টা বাজে বের হয়েছি। দিনের পর দিন আমি রাত ৯/১০ টায় অফিস থেকে বের হয়েছি। এমনকি ছুটির দিনেও আমি অফিস করেছি। প্রতিদিন সময় মতো অফিসে এসেছি। আমার কাজে কোনো গাফিলতি নেই। আমার কোনো বদনাম নেই। বড় স্যার বললেন, এখন তুমি আসতে পারো। আমি তোমার কোনো কথা শুনতে চাই না। বিদায়। প্লীজ গো।

শাহেদ আসলে অফিস পলিটিক্সের শিকার। অফিসে অনেকেই দেরী করে আসে। রোজ দেরী করে আসে। অফিস ছুটি হবার আগেই বের হয়ে যায়। কাজ করে না। ইউটিউবে গান শুনে, নাটক দেখে, মুভি দেখে। তাদের চাকরি যায়নি। তারা বেশ ভালোই আছে। বরং তাদের কারো কারো প্রমোশন হয়েছে। শুধু শাহেদের চাকরি চলে গেল। শাহেদ সৎ এবং পরিশ্রমী মানুষ। তার একটাই নেশা ব্লগিং। প্রতিদিন সে ব্লগে লিখে এবং সবার পোষ্ট পড়ে। আজ থেকে দশ বছর আগে সে সামু ব্লগের খোঁজ পায়। প্রথম দুই বছর সে শুধু ব্লগে চোখ বুলিয়েছে। তখন সে ব্লগে রেজিস্টেশনও করেনি। কেমন একটা ভয় কাজ করতো। দুই বছর পর শাহেদের ছোট ভাই আহাদ তাকে একটা সামুতে একাউন্ট খুলে দেয়। এই শুরু হলো শাহেদের ব্লগে পথ চলা। আগে সে ডায়েরীতে লিখতো। এখন লিখে ব্লগে। যে কোনো কিছু ব্লগে লিখে শাহেদ সীমাহীন আনন্দ পেত।

সমস্যা হলো এই শহরে মামা চাচা ছাড়া চাকরি পাওয়া যায় না। শাহেদের কোনো ক্ষমতাবান মামা চাচা নেই। অর্থাৎ বাকি জীবন তাকে বেকার থাকতে হবে। ত্রিশ বছর পার করে ফেলেছে কবেই, কাজেই সরকারি চাকরি পাওয়া যাবে না। শাহেদ নিজেকে এই বলে শান্ত্বনা দেয় যে- ত্রিশ বছর পার করে ফেলেছি। আর ত্রিশ বছর কি বাঁচবো? কাজেই কোনো না কোনো ভাবে দিন চলে যাবে। যাবেই। মন খারাপ করে লাভ নাই। চিন্তা করে লাভ নেই। শুধু শুধু চিন্তা করে প্রেসার বাড়িয়ে লাভ কি? শেষে দেখা যাবে স্ট্রোক হয়ে যাবে। স্টোক করে মরে গেলে সমস্যা। তার একটা মেয়ে আছে সাত বছর, স্ত্রী আছে। এদের কে দেখবে? জমানো কোনো টাকা পয়সা নেই। গহনা নেই। জায়গা জমি নেই। আজ শাহেদের মনে হচ্ছে- বিয়ে না করলেই ভালো হতো। একা থাকাই সবচেয়ে ভালো। টেনশন কম, প্যারা কম। বউ বাচ্চা না থাকলে তার কোনো চিন্তাই থাকতো না। একা দিব্যি পার করে দিতে পারতো।

শাহদের চাকরি নেই আজ প্রায় এক বছর হয়ে গেল। পরিচিত সব মানুষের হাতে পায়ে ধরে এবং ৫১ টা ইন্টারভিউ দিয়েও সে একটা চাকরি জোগাড় করতে পারেনি। এদিকে তার সংসারের অবস্থা ভয়াবহ খারাপ। অনেকের কাছেই হাত পাততে হয়েছে। আউয়ালের মুদি দোকানে অনেক টাকা বাকি হয়ে গেছে। সে এখন আর বাকি দেয় না। বরং পাওয়া টাকার জন্য তাগাদা দেয়। সব কিছু মিলিয়ে চরম খারাপ অবস্থা শাহেদের। এই খারাপ অবস্থার মধ্যেও সে ব্লগিং করে যাচ্ছে। সব মন্দের একটা ভালো দিক আছে। চাকরি না থাকাতে সে এখন প্রচুর সময় ব্লগে থাকতে পারছে। ব্লগে নিজের দুঃখ দুর্দশা গোপন রাখতে চেষ্টা করেছে। তার স্ত্রী নীলা আজ সকালে চিৎকার করে বলেছে- ''এত বছর ব্লগিং করে কি পেয়েছো? কিচ্ছু পাওনি, বরং চাকরি হারিয়েছো! এখন সারাদিন বাসায় খেয়ে- না খেয়ে, শুয়ে বসে থাকো। ছিঃ।
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ রাত ৯:৩০
৫৯টি মন্তব্য ৫৯টি উত্তর পূর্বের ৫০টি মন্তব্য দেখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

তাসালসুল (অনন্ত পশ্চাদগমন), প্রথম সৃষ্টি ও ‘আকল’: কুরআন-সুন্নাহর আলোকে একটি সতর্ক অনুসন্ধান

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৬:৩৭


ভূমিকা
সৃষ্টিজগতের অস্তিত্ব নিয়ে মানুষের অন্যতম প্রাচীন প্রশ্ন হলো,সবকিছুর শুরু কোথায়? যদি প্রতিটি সৃষ্ট বস্তুর অস্তিত্বের জন্য তার আগে আরেকটি সৃষ্ট বস্তুর প্রয়োজন হয়, এবং সেই নির্ভরতার ধারা কখনো শেষ... ...বাকিটুকু পড়ুন

মরিয়ম খাতুন জীবন থেকে ছুটি নিয়েছে

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:১৮



মরিয়ম খাতুন। মাত্র ১৯ বছরের একটি মেয়ে। ৭৫ বছরের বুইড়া পাঁঠা গাজী নজরুলের লালসার শিকার হয়ে জীবন থেকে ছুটি নিয়েছে। শুধুমাত্র একটি ছোটখাটো চাকুরী সুপারিশের জন্য গিয়েছিল। তখনই ১৯... ...বাকিটুকু পড়ুন

⌛️ সক্রেটিসের আত্মানুসন্ধান

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৫



প্রাচীন গ্রিক দর্শনের মহান পুরুষ সক্রেটিসের আত্মানুসন্ধান বা "নিজেকে জানো" তত্ত্বটি মানুষের ভেতরের ঘৃণা, গোঁড়ামি এবং অজ্ঞানতা দূর করার সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার। সক্রেটিসের মতে, মানুষের সমস্ত নৈতিক স্খলন ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

জ্বালানি তেলের দাম বাড়লো, পকেট খালি হলো সাধারণ মানুষের!

লিখেছেন ওয়াদুদ সোহেল মোল্লা, ২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:২৩


জীবনটা আজকাল বড় অদ্ভুত নিয়মে চলছে। রাতে ঘুমাতে যাওয়ার সময় এক রকম থাকে, আর সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি দুনিয়াটা সম্পূর্ণ বদলে গেছে। গতকাল রাত বারোটা এক মিনিট থেকে জ্বালানি... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফ্যামিলি কার্ডের স্বার্থে তেলের দাম বৃদ্ধি মেনে নিতে হবে

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:১৯


দীর্ঘ সতেরো বছর পর আমরা পেয়েছি একটি নির্বাচিত সরকার । অনেকে ভালোবেসে ইহাকে জনগণের সরকার বলে থাকেন । জনগণের সরকারের উপর একটু আস্থা রাখুন । সরকারকে সময় দিন ;... ...বাকিটুকু পড়ুন

×