
আজ আপনাদের বাস্তব গল্প বলবো। কোনো মিথ্যা বা বানোয়াট ঘটনা না। নিজের চোখে দেখা। আপনারা হয়তো পোষ্ট পড়ে কেউ হেসে উড়িয়ে দিবেন। কেউ দুঃখ প্রকাশ করবেন, কেউ হায় হায় করবেন অথবা কেউ শান্ত্বনার দুই একটা কথা বলবেন। তাতে শাহেদের কোনো উপশম হবে না। তবে শাহেদের ঘটনা জেনে চাকরিজীবি ব্লগাররা হয়তো সাবধান হবেন। যে কারো'ই চাকরি চলে যাওয়া অত্যন্ত দুঃখের। শাহেদ প্রায়'ই আমাকে বলতো, আমার শত্রুরও যেন চাকরি না যায়। হুট করে চাকরি চলে গেলে একটা পরিবারের কি হয় তা অনেকেই বুঝে না। প্রচন্ড কষ্ট। একটা চাকরি অনেক বড় ব্যাপার। বিশেষ করে যার বাপের অঢেল টাকা নেই। যার ক্ষমতাবান মামা চাচা নেই।
শাহেদের চাকরি চলে গেছে। কারন সে অফিস টাইমে ব্লগিং করেছে। তবে শাহেদ অফিসের কাজ বাদ দিয়ে ব্লগিং করেনি। সে অফিসের কাজ শেষ করে ব্লগিং করেছে। কিন্তু বড় সাহেব তাকে চাকরি থেকে অব্যহতি দিয়েছেন। কাগজে স্পষ্ট লেখা ''অফিস টাইমে ব্লগিং করার জন্য আপনাকে চাকরি থেকে অব্যহতি দেওয়া হলো।'' শাহেদ বড় স্যারকে বলেছে, স্যার আমি ব্লগিং করেছি এটা সত্য। কিন্তু অফিসের কাজ শেষ করে ব্লগিং করেছি। বহুদিন এমনও হয়েছে অফিসের সময় শেষ কিন্তু আমি সমস্ত কাজ শেষ করে রাত ৮/৯ টা বাজে বের হয়েছি। দিনের পর দিন আমি রাত ৯/১০ টায় অফিস থেকে বের হয়েছি। এমনকি ছুটির দিনেও আমি অফিস করেছি। প্রতিদিন সময় মতো অফিসে এসেছি। আমার কাজে কোনো গাফিলতি নেই। আমার কোনো বদনাম নেই। বড় স্যার বললেন, এখন তুমি আসতে পারো। আমি তোমার কোনো কথা শুনতে চাই না। বিদায়। প্লীজ গো।
শাহেদ আসলে অফিস পলিটিক্সের শিকার। অফিসে অনেকেই দেরী করে আসে। রোজ দেরী করে আসে। অফিস ছুটি হবার আগেই বের হয়ে যায়। কাজ করে না। ইউটিউবে গান শুনে, নাটক দেখে, মুভি দেখে। তাদের চাকরি যায়নি। তারা বেশ ভালোই আছে। বরং তাদের কারো কারো প্রমোশন হয়েছে। শুধু শাহেদের চাকরি চলে গেল। শাহেদ সৎ এবং পরিশ্রমী মানুষ। তার একটাই নেশা ব্লগিং। প্রতিদিন সে ব্লগে লিখে এবং সবার পোষ্ট পড়ে। আজ থেকে দশ বছর আগে সে সামু ব্লগের খোঁজ পায়। প্রথম দুই বছর সে শুধু ব্লগে চোখ বুলিয়েছে। তখন সে ব্লগে রেজিস্টেশনও করেনি। কেমন একটা ভয় কাজ করতো। দুই বছর পর শাহেদের ছোট ভাই আহাদ তাকে একটা সামুতে একাউন্ট খুলে দেয়। এই শুরু হলো শাহেদের ব্লগে পথ চলা। আগে সে ডায়েরীতে লিখতো। এখন লিখে ব্লগে। যে কোনো কিছু ব্লগে লিখে শাহেদ সীমাহীন আনন্দ পেত।
সমস্যা হলো এই শহরে মামা চাচা ছাড়া চাকরি পাওয়া যায় না। শাহেদের কোনো ক্ষমতাবান মামা চাচা নেই। অর্থাৎ বাকি জীবন তাকে বেকার থাকতে হবে। ত্রিশ বছর পার করে ফেলেছে কবেই, কাজেই সরকারি চাকরি পাওয়া যাবে না। শাহেদ নিজেকে এই বলে শান্ত্বনা দেয় যে- ত্রিশ বছর পার করে ফেলেছি। আর ত্রিশ বছর কি বাঁচবো? কাজেই কোনো না কোনো ভাবে দিন চলে যাবে। যাবেই। মন খারাপ করে লাভ নাই। চিন্তা করে লাভ নেই। শুধু শুধু চিন্তা করে প্রেসার বাড়িয়ে লাভ কি? শেষে দেখা যাবে স্ট্রোক হয়ে যাবে। স্টোক করে মরে গেলে সমস্যা। তার একটা মেয়ে আছে সাত বছর, স্ত্রী আছে। এদের কে দেখবে? জমানো কোনো টাকা পয়সা নেই। গহনা নেই। জায়গা জমি নেই। আজ শাহেদের মনে হচ্ছে- বিয়ে না করলেই ভালো হতো। একা থাকাই সবচেয়ে ভালো। টেনশন কম, প্যারা কম। বউ বাচ্চা না থাকলে তার কোনো চিন্তাই থাকতো না। একা দিব্যি পার করে দিতে পারতো।
শাহদের চাকরি নেই আজ প্রায় এক বছর হয়ে গেল। পরিচিত সব মানুষের হাতে পায়ে ধরে এবং ৫১ টা ইন্টারভিউ দিয়েও সে একটা চাকরি জোগাড় করতে পারেনি। এদিকে তার সংসারের অবস্থা ভয়াবহ খারাপ। অনেকের কাছেই হাত পাততে হয়েছে। আউয়ালের মুদি দোকানে অনেক টাকা বাকি হয়ে গেছে। সে এখন আর বাকি দেয় না। বরং পাওয়া টাকার জন্য তাগাদা দেয়। সব কিছু মিলিয়ে চরম খারাপ অবস্থা শাহেদের। এই খারাপ অবস্থার মধ্যেও সে ব্লগিং করে যাচ্ছে। সব মন্দের একটা ভালো দিক আছে। চাকরি না থাকাতে সে এখন প্রচুর সময় ব্লগে থাকতে পারছে। ব্লগে নিজের দুঃখ দুর্দশা গোপন রাখতে চেষ্টা করেছে। তার স্ত্রী নীলা আজ সকালে চিৎকার করে বলেছে- ''এত বছর ব্লগিং করে কি পেয়েছো? কিচ্ছু পাওনি, বরং চাকরি হারিয়েছো! এখন সারাদিন বাসায় খেয়ে- না খেয়ে, শুয়ে বসে থাকো। ছিঃ।
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ রাত ৯:৩০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




