somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

পাঁচ গল্প

২৩ শে অক্টোবর, ২০১৮ বিকাল ৩:২৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



এক
রাত দুইটায় শাহেদ বিছানায় গেল। তার স্ত্রী আজ বাসায় নেই। খালি বাসা তার ভালো লাগে না। অথচ স্ত্রী বাপের বাড়ি গেলে মানা করাও যায় না। শাহেদ খুব সাহসী না আবার খুব ভীতুও না। ঘুম আসছে না। শাহেদ নানান কথা ভেবে যাচ্ছে। ঘুম আসি আসি করেও আসছে না। ঠিক এমন সময় শাহেদের ঘরের দরজা কে যেন নক করলো। শাহেদ থাকে ছয় তলায়। নিচে কলাপসিবল গেট তালা লাগানো। অন্য ফ্লাটের লোকজনও আসার কথা না। বা তাদের কোনো দরকার হলে তারা ফোন দিত। কে এলো এত রাতে? কেন? কোনো কথা নেই, শুধু দরজায় নক করছে। থামছে। আবার নক করছে। শাহেদ নিশ্চিত এটা কোনো অশরীরির কাজ। দরজা খুললেই তাকে মেরে ফেলবে। শাহেদ বালিশ দিয়ে পুরো মাথা ঢেকে ফেলল। মনে মনে বলল- প্রভু রক্ষা করো।

দুই
আকাশের অবস্থা ভালো না। ঘন ঘন বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে। খুব বাতাস বইছে। হুট করে কারেন্টও চলে গেল। নীলার বাচ্চা হবে। ডাক্তারের হিসাব মতোন আরও দশ দিন বাকি আছে। এখন রাত এগারোটা। শাহেদ এখনও বাসায় ফিরেনি। অবশ্য শাহেদ বলেই গিয়েছে আজ তার ফিরতে দেরী হবে। সে অফিসের কাজে গাজীপুর গিয়েছে। এদিকে নীলার ব্যথা উঠেছে। মনে হচ্ছে বাচ্চা ডেলিভারী হয়ে যাবে। নীলা ব্যথায় ছটফট করছে। মনে হচ্ছে সে মারা যাবে। ছয় তলা থেকে নেমে একা হাসপাতালে যাওয়া সম্ভব না। তাছাড়া এই ফ্ল্যাট বাড়িতে তারা নতুন এসেছে। এখনও কাউকে ভালো করে চেনে না। অন্ধকারে নীলা মোবাইল ফোনটা খুজে পাচ্ছে না। রাত একটায় শাহেদ বাসায় ফিরে নীলাকে অজ্ঞান অবস্থায় দেখতে পায়। নীলার চারপাশ রক্তে ভেজা।

তিন
কলা ভবনের কাছে এক মেয়ে একা বসে আছে। তার হাতে আমড়া। মেয়েটি দেখতে খুব সুন্দর। চোখে মোটা করে কাজল দিয়েছে। কপালে টিপ দিয়েছে। আকাশি রঙের একটা শাড়ি পড়েছে। পুরো শাড়িতে ছোট ছোট ফুল আঁকা। মেয়েটির মাথা ভরতি চুল। চুল গুলো বাতাসে উড়ছে। শাহেদ মুগ্ধ হয়ে মেয়েটিকে দেখল। সে খুব সাহস সঞ্চয় করে মেয়েটির পাশে গিয়ে বসলো। মেয়েটি বলল, একটু দূরে চেপে বসুন। শাহেদ বলল, আজকের দিনটি অনেক সুন্দর! কি ঝলমলে রোদ চারিদিকে! আকাশ খুব বেশি স্বচ্ছ। মেয়েটি বলল- তো? শাহেদ বলল, আমার পুরান ঢাকা গিয়ে কাচ্চি খেতে ইচ্ছা করছে। সাথে ফানটা। এবং সব শেষে একটা বেনসন সিগারেট। মেয়েটি বলল- বুঝতে পেরেছি। খাচ্চি খেতে ইচ্ছা করছে কিন্তু আপনার পকেটে টাকা নেই। শাহেদ হেসে দিল। মেয়েটি বলল, চলুন আপনাকে কাচ্চি খাইয়ে নিয়ে আসি। তবে চাকরি পেলে আমার টাকা কিন্তু ফেরত দিতে হবে। শাহেদ বলল, অবশ্যই। তারা দু'জনে একটা রিকশায় চেপে বসলো। তাদের দুইজনকে হাত নেড়ে নেড়ে খুব গল্প করতে দেখা গেল।

চার
এক ছুটির দিনে নীলার সাথে শাহেদের খুব ঝগড়া হয়ে গেল। নীলা বলল, বাজারে যাও। ফ্রিজ একদম খালি। বাজার থেকে এসে ফ্যানটা পরিস্কার করে দাও। লাইটের হোল্ডার গুলোও মুছতে হবে। খুব ময়লা জমেছে। তারপর ছাদে গিয়ে গাছ গুলোর আগাছা পরিস্কার করবে। শেষে গোছল করে জুম্মার নামাজ পড়তে যাবে। শাহেদ হুট করে প্রচন্ড রেগে গেল। রেগে গিয়ে নীলাকে বলল, তুই যা বাজারে। তুই ফ্যান পরিস্কার কর। আগাছা পরিস্কার কর- হারামজাদী। সারা সপ্তাহ গাধার মতোন খাটি। একটা দিন ছুটি পাই- একটু শুয়ে-বসে আরাম আয়েশ করবো। তা-না বলে বাজারে যাও, ফ্যান মুছো। এই প্রথম শাহেদ নীলাকে হারামজাদী বলে গালি দিল। নীলা প্রচন্ড আঘাত পেয়েছে। সে কোনো হই চই না করে ব্যাগ গুছিয়ে মেয়েকে নিয়ে বাপের বাড়ি চলে গেল। দুপুর দুইটায় শাহেদ বুঝতে পারলো নীলা চলে গেছে। তার প্রচন্ড ক্ষুধা পেয়েছে। সে হোটেলে গেল, ভাতের বদলে ফুল প্লেট মোরগ পোলাউ খেলো। খেয়ে পুরান ঢাকার নারিন্দা গেল তার পুরোনো প্রেমিকা সুমি'র কাছে। কোনো ভনিতা না করে সরাসরি সুমিকে বলল, আমাকে বিয়ে করবে সুমি? আমি নীলাকে ছেড়ে দিব। সুমি বলল, নো নেভার। জাহান্নামে যাও।

পাঁচ
শাহেদের খুব শখ হলো- সে মাস্তান হবে। এলাকার সবাই তাকে ভয় পাবে। সম্মান করবে। মাস্তান হবার চিন্তা থেকে সে মোড়ের দোকান থেকে এক পেকেট সিগারেট নিলো। দাম দিল না। দোকানদার টাকা চাইতেই- শাহেদ রেগে গিয়ে দোকানদার ছোকরাকে ধাম ধাম করে দুইটা চড় বসিয়ে দিল। গলির মধ্যে মাছের বাজার বসে সকাল বেলা। শাহেদ বলল, এক হালি ইলিশ কত? মাছওয়ালা বলল- তিন হাজার টাকা। শাহেদ বলল- পনের শ' টাকায় হবে? মাছ বলল কিঞ্চিৎ তেজ দেখিয়ে বলল- কাচকি মাছ খান। ইলিশ খেতে হবে না। শাহেদ রেখে গিয়ে লাথথি দিয়ে মাছের পাতিল ফেলে দিল। তারপর মাছওয়ালার কলার চেপে ধরে ধাম ধাম করে কয়েকটা বসিয়ে দিল। আশে পাশের সব গুলো মাছ বিক্রেতা এসে বলল- মামা মাফ করে দেন, আপনাকে চিনতে পারে নাই। শাহেদ তার এলাকার হোটেলে গেলো- ওয়েটারকে বলল, নাস্তা দে। ওয়েটার নাস্তা দিল। শাহেদ বলল- ঠান্ডা রুটি দিলি ক্যান? বদলে দে। ওয়েটার বলল, ঠান্ডাই খান। বদলানো যাবে না। শাহেদ রেগে মেগে হোটেল বয়কে মারলো। ম্যানেজারের কলার চেপে ধরে বলল, হারামজাদা ব্যবসা করো মানুষ চিনো না? আজ তোদের শিক্ষা দিয়ে ছেড়ে দিব। ম্যানেজার বলল, মামা স্যরি। আর এরকম ভুল হবে না। আপনার যখন খুশি এসে খেয়ে যাবেন।
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে অক্টোবর, ২০১৮ বিকাল ৩:২৫
৯টি মন্তব্য ৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শহীদ আলেমকে ভুলে গেলাম, আর যুদ্ধাপরাধীকে দিলাম স্বাধীনতা পদক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৮ ই জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৯


উনিশশো ছেষট্টি সালের কোনো এক সকালে ঢাকার বিমানবন্দরে এসে নামলেন এক ব্যক্তি। নাম আবুল আলা মওদুদী। বিমানবন্দর থেকে বের হতেই সাংবাদিকরা তাঁকে ঘিরে ধরলেন। কারণ শেখ মুজিবুর রহমান... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার প্রেমিকা হারিয়ে গিয়েছে

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ১৮ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ৮:১৯

আমি তো চাই নি এমন পৃথিবী
আগুনের সংসার
চেয়েছি একটি প্রেমিকাবধূর
দুটো চোখ কবিতার

চেয়েছি একটি শীতল নদীর
জোছনামুখর বুক
চেয়েছি তোমার কমনীয় রাত
থির পরিপাটি সুখ

আমি তো চেয়েছি সংসার জুড়ে
অমরাবতীর ঘর
কোলাহলহীন নির্ঝঞ্ঝাট
বৈরাগ্যের বর

আজো মনে হয় -... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিচ্ছিন্ন ঘটনা

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১৯ শে জুলাই, ২০২৬ সকাল ৮:৪৪



বিচ্ছিন্ন ঘটনা (রম্য রচনা)

বহু বছর পর এক প্রবাসী ভদ্রলোক দেশে ফিরলেন। বিমানবন্দর থেকে বেরোতেই এক পুরোনো পরিচিত লোকের সঙ্গে দেখা।

ভদ্রলোক: কিরে, দেশের খবর কী? সব ভালো তো?

লোক: আলহামদুলিল্লাহ, কয়েকটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ঘাতক মোজাফফরের গ্রেফতার ও ইতিহাসের দায়

লিখেছেন ওয়াসিম ফারুক হ্যাভেন, ১৯ শে জুলাই, ২০২৬ সকাল ৯:০৬

ইতিহাসের এক অমোঘ নিয়ম অপরাধ যতই নিখুঁত হোক না কেন, সময়ের কোনো এক বাঁকে তার চিহ্ন রয়েই যায়। দীর্ঘ ৪৫ বছর ধরে ছদ্মবেশের আড়ালে নিজের আসল পরিচয় সম্পূর্ণ মুছে ফেলেছিলেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

দু’বছর আগে লেখা; জুলাই নিয়ে প্রতিটি কথা সত্য হয়েছে

লিখেছেন অর্ক, ১৯ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৪:১৩



পুরো ব্যাপারটা আমার চোখে দেখা। আমার সামনে দিয়ে পুলিশের গুলিতে নিহত মাছ ব্যবসায়ী যুবকের লাশ গেছে রিক্সাভ্যানে করে। পিছনে স্বজনদের কান্না। ঢাকার সবচেয়ে গোলযোগপূর্ণ জায়গার একটিতে স্বশরীরে উপস্থিত থেকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×