somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভাবছি ব্যবসা করবো। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

আজকের ডায়েরী- ৭

০৬ ই ডিসেম্বর, ২০১৮ রাত ৯:৪৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



সাতক্ষীরা-২ আসন কী জামাতের দখলে? এই আসন থেকে এবার আওয়ামীলীগ কাকে নমিনেশন দিয়েছে? যাই হোক, এ বিষয় নিয়ে পরে লিখব। আজ লিখব তাবলীগওয়ালাদের সেদিনকার মারামারির ঘটনা। হুজুররা মারামারি করেছে, বাশ নিয়ে একপক্ষ আরেক পক্ষকে ধাওয়া করেছে। ব্যাপারটা যথেষ্ট হাস্যকর। হুজুররা থাকবে মসজিদে, নামাজ পড়বে। দাড়ি, টুপি আর পাঞ্জাবী পড়ে- হাতে লাঠি মানায় না। ধাওয়া-পালটা ধাওয়া হুজুরদের মানায় না। বিশ্ববাসী দেখল, সামান্য ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের মুসলিমরা লাঠি হাতে একে-অপরকে মারছে। এটা আমাদের জন্য অনেক লজ্জার। এই ঘটনার পেছনে কার বা কাদের হাতে আছে? তাদের আসল উদ্দেশ্য কি? তারা কি চায় না বাংলাদেশে বিশ্ব ইজতেমা হোক? নাকি তারা চায় মালোশিয়া বা ইন্দোনেশিয়ায় বিশ্ব ইজতেমা হোক? দূর, আজাইরা বকবক করছি। আসলে আজ কি নিয়ে লিখব- তা চিন্তা ভাবনা না করেই লিখতে বসেছি।

গতকাল অনেক রাতে ঘুমিয়েছি। জটিল একটা মুভি দেখেছি। মুভিটা এত ভালো লেগেছে যে পরপর দুইবার দেখেছি। রাত তিনটায় বিছানায় গিয়েছি। ভেবেছিলাম সকালে দেরী করে উঠবো। কিন্তু সকালে বেশ কয়েকটা চড়ুই পাখি কানের কাছে কিচির মিচির করছে। আমি চোখ বন্ধ করে রেখেছি। একবার চোখে আলো ঢুকলো আর ঘুম আসবে না। কিন্তু কান বন্ধ করতে পারিনি। পাখি কিচির মিচির করেই যাচ্ছে। এই কিচির মিচির শব্দ বাস্তব না স্বপ্ন বুঝতে পারছি না। আমি ঘুমের মধ্যেই চিন্তা করতে লাগলাম- ঢাকা শহরে এত পাখি কোথা থেকে আসবে? আমি থাকি ছয় তালায়। অবশ্যই পাখি কিচির মিচির করছে স্বপ্নে। কিন্তু আবার মনে হচ্ছে, না স্বপ্ন না এটাই বাস্তব। প্রচন্ড দ্বিধার মধ্যে আছি। আরামে ঘুমাতে পারছি না। দ্বিধা কাটানোর একটাই উপায়- চোখ মেলে তাকানো- আসলেই পাখি আছে কিনা দেখা দরকার। আমি স্বপ্ন দেখছি না বাস্তব, তা প্রমান করার জন্য জানালার পর্দা সরিয়ে একটু চোখে মেলে তাকালাম।

না স্বপ্ন না। বাস্তব। আসলেই অনেক গুলো চড়ুই পাখি গ্রীলে বসে সমানে কিচির মিচির করে যাচ্ছে। যেন তাদের জরুরী মিটিং চলছে। খুব গুরুত্বপূর্ন মিটিং। চোখে আলো ঢুকে গেছে আর ঘুম আসবে না। ঘড়ির দিকে তাকালাম সকাল সাতটা বাজে। আমি দুই হাত দিয়ে চোখ কচলাচ্ছি ঠিক এমন সময় মসজিদের মাইকে হুজুর ঘোষনা দিচ্ছেন- একটি সুখ সংবাদ। একটি সুখ সংবাদ। আমি হুজুরের সুখ সংবাদ শুনে অবাক! এত সকালে হুজুর মাইকে সুখ সংবাদ দিচ্ছে!! চোখে প্রশ্ন নিয়ে- সুরভির দিকে তাকালাম(?)- সুরভি বলল, সুখ সংবাদ না শোক সংবাদ। হুজুরের উচ্চারনে সমস্যা আছে। শোককে মনে হচ্ছে সুখ! যাই হোক, সকাল সাতটায় হুজুর মাইকে জানালো কেউ একজন মারা গেছেন। প্রতিটা মৃত্যু'ই কষ্টের। মৃত্যু ব্যাপারটা আমার ভালো লাগে না। মনে হচ্ছে- আজকের দিনটি অবশ্যই অন্যরকম হবে। সকালে পাখির কিচির মিচির। তারপর হুজুরের 'সুখ' স্যরি 'শোক' সংবাদ। আমি সকাল-সকাল গোছল করে নিলাম। বাইরে যাবো। বাসায় থাকা মহা যন্ত্রনা। মেয়ের স্কুল একমাস ছুটি। সে সারাদিন ক্যাট ক্যাট করতেই থাকে। লক্ষ কোটি-কোটি তার প্রশ্ন। একপাশে মেয়ে অন্য পাশে মেয়ের মা। মাঝখানে আমি। দুইজনের ক্রমাগত কথায়-কথায় আমি শেষ। তাই বাইরে-বাইরে থাকাই ভালো।

সকালে বাসা থেকে বের হয়ে খুব অবাক হলাম। রাস্তায় পুলিশ আর পুলিশ। কেউ একজন মারা গেছেন। তাহলে হুজুর মাইকে ঠিকই বলেছেন। কিন্তু এত পুলিশ কেন? একজন পুলিশকে জিজ্ঞেস করলাম কে মারা গেছেন? পুলিশ বলল, শেখ হাসিনার আত্মীয়। আরও জানলাম বঙ্গবন্ধুর বড় পুত্রবধূ সুলতানা কামালের বড় ভাই 'এ এম রফিক' মারা গেছেন। এ এম রফিক ছিলেন নিঃসন্তান এবং তার স্ত্রী ১০ বছর আগে মারা যান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মরহুমের পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা জানাতে আজ সকালে এ এম রফিকের বাসভবনে যান। আমাদের বাসার সামনে যে শেখ হাসিনার আত্মীয় থাকে জানতাম'ই না।

আমার একটুও মনে নেই- অনেক বছর আগে এক বন্ধু আমার কাছ থেকে কুড়ি হাজার টাকা ধার নিয়েছিল। সেই বন্ধু আজ আমাকে একুশ হাজার টাকা ফেরত দিলো। আমি বললাম, কিসের টাকা? বন্ধু বলল- বিদেশ যাওয়ার আগে তোর কাছে থেকে বিশ হাজার টাকা নিয়েছিলাম। ৫/৬ বছর তো হয়েই গেছে। আমি মনে মনে খুব খুশি হলাম। বন্ধুকে জড়িয়ে ধরলাম। হাত একদম খালি। এই মুহুর্তে বিশ হাজার টাকা আমার কাছে বিশ লাখ টাকা। আমি বললাম, এক হাজার টাকা বেশি কেন? বন্ধু হাসলো। জবাব দিলো না। খুব ভালো লাগলো বন্ধুর হাসিটি। আমি সুরভিকে ফোন করে বললাম, রেডি হয়ে থাকো। আজ রাতে ডিনার বাইরে খাবো।
মেয়ে খুশি, মেয়ের মা-ও খুশি। তাদের খুশি দেখে আমিও খুশি।
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই ডিসেম্বর, ২০১৮ রাত ৯:৪৫
১৯টি মন্তব্য ২০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

অগ্রহায়ণের অনুরণন!

লিখেছেন মনিরা সুলতানা, ১২ ই ডিসেম্বর, ২০১৮ বিকাল ৫:০৮




ভেজা আচঁলের খুটে বেঁধে রাখা কিছু মমতা
জমিয়ে রাখি।
ফজর শেষের স্নিগ্ধতা যখন সমস্ত চরাচরে
দরদী দোয়ায় সিক্ত করে -
মুঠোভরে তুলে রাখি তার দু এক ছটাক।... ...বাকিটুকু পড়ুন

সুইটি আপু

লিখেছেন বাকপ্রবাস, ১২ ই ডিসেম্বর, ২০১৮ বিকাল ৫:২৩


সুইটি আপুর তাড়া আছে
চালাও রিকশা জোরে
রিকশাওয়ালার পা চলেনা
কেমনে চাকা ঘুরে।

সুইটি আপুর ওজন ভারি
চেষ্টা চলে তবু
মাজা খিচে পা চলেনা
সহায় হও প্রভূ।

সুইটি আপু রাগলে ভারি
গালাগালি সাথী
চড় থাপ্পড়ে মন ভরেনা
মারল পাছায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতার মৃত্যু নেই *****************

লিখেছেন , ১২ ই ডিসেম্বর, ২০১৮ রাত ৯:৩২

কবিতার মৃত্যু নেই
******************************


কবিতা তো নয় শুধু নিছক কল্পনার স্তুপ,সময়ের সাথে এযে হয়না বিলীন!
কবিতার হৃদপিণ্ডে আছে ভাষা কম্পনের সিম্ফোনি;সুর লহরী চিরকালীন।

কবিতার অন্তর্গত শব্দের শয়ানে সুপ্ত এক বিশাল পৃথ্বী,
কবিতার... ...বাকিটুকু পড়ুন

গণজোয়ার কিংবা পুঁটি মাছের মত ভোট...

লিখেছেন বিচার মানি তালগাছ আমার, ১৩ ই ডিসেম্বর, ২০১৮ রাত ১২:০১



১. আওয়ামী লীগের নেতা কর্মী, সমর্থক গণ এক ধরনের ট্রমার মধ্যে আছে। তারা ভাবতেই পারেনি(এমনকি বিএনপি সমর্থকরাও না) শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচন করার জন্য বিএনপি-র নেতারা ১৩ কোটি টাকা দিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেষ বিকেলের আলোয় - মাইলস (লিরিক্স) পথ চলার গান যখন জীবনের ভালোবাসা

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৩ ই ডিসেম্বর, ২০১৮ রাত ১:৪৬



শীতের দিন, দ্রুত সন্ধ্যা নেমে আসে, গ্রামের বাড়ী হতে কোলাহল মুখর ঢাকা ফিরে আসছি আবার সেই কর্ম ব্যাস্ততা, রুটিন জীবন যাপন, ছাত্র বয়ষে ভাবতাম কবে পড়ালেখা শেষ হবে কাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×