
ভারতের তামিল নাড়ু রাজ্যের রাজধানী চেন্নাই। তামিলনাড়ু রাজ্যটি বঙ্গোপসাগরের উপকূল বরাবর অবস্থিত। ভারতের সর্বদক্ষিণস্থ রাজ্য তামিলনাড়ু। ৩৬৮ বছরের পুরনো এই শহর। জনসংখ্যার দিক থেকে এটি পৃথিবীর ৩৬ তম বৃহত্তম শহর। ভারতে উৎপাদিত গাড়ির একটি প্রধান অংশ এখানে তৈরি হয়। ১৬৩৯ সালে চেন্নাপত্তনম নামে একটি গ্রাম ছিল। ব্রিট্রিশদের কাছে মাদ্রাজ নামে পরিচিত ছিল। ১৯৯৬ সালের আগস্ট মাসে এই শহরের নাম মাদ্রাজ থেকে পরিবর্তন করে চেন্নাই করা হয়।
চেন্নাইয়ের ভেতর দিয়ে দুটি নদী 'কুয়ম নদী' এবং 'আদিয়ার নদী'। দুটি নদীই গার্হস্থ্য ও শিল্পজাত বর্জ্যের কারণে প্রচন্ড দূষণের শিকার। শহরটির পানি সরবরাহ ব্যবস্থা এর জনসংখ্যার তুলনায় অপ্রতুল। ভূগর্ভস্থ পানির উৎসগুলো অধিকাংশই লবণাক্ত। অত্যধিক জনসংখ্যা এবং ফলস্বরূপ উদ্ভূত জলের অভাব হচ্ছে চেন্নাইয়ের প্রধান সমস্যা। চেন্নাইতে সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল সহ বিশ্বমানের চিকিৎসা সুবিধা রয়েছে। চেন্নাই শহরের প্রশাসনব্যবস্থা দেখাশোনা করে চেন্নাই কর্পোরেশন, যেটি একজন মেয়র এবং ১৫৫ জন পারিষদ নিয়ে গঠিত। শহরের জনসংখ্যার ১৮% বস্তিতে থাকে। চেন্নাই শহরে দুটি প্রধান নৌ-বন্দর রয়েছে। বাস এবং ট্রেন হল শহরের জনপ্রিয় পরিবহন মাধ্যম।
তামিল নাড়ু রাজ্যের আয়তন এক লক্ষ ত্রিশ হাজার বর্গকিলোমিটার এবং লোক সংখ্যা প্রায় ৭ কোটি ৬০ লাখের মতো। চেন্নাই শহরটি আয়তনে প্রায় বাংলাদেশের সমান। এখানে চিকিৎসার মান অনেক ভালো তাই প্রতি বছর ১ মিলিয়নেরও বেশি সংখ্যক রোগী আসে শুধু বাংলাদেশ ও কলকাতা। বিশেষ করে চোখের চিকিৎসার জন্য চেন্নাই খুব বিখ্যাত। ভীষন ব্যস্ত শহর। এই শহরের বেশির ভাগ লোক ইংরেজীতে কথা বলতে পারে। জহরলাল নেহেরু" হিন্দিকেই মাতৃভাষা হিসেবে ঘোষণা দিয়েছিলেন সেই থেকে চেন্নাই এর লোকজন হিন্দিকে মেনে নিতে পারেনি। তারা আমাদের মায়ের ভাষা তামিল।
ঢাকা শহরের মতো এই শহরে জ্যাম নেই। বাসে ভাড়া খুব কম। আপনি ৫ কিলোমিটার গেলে ভাড়া হবে পাঁচ টাকা। এখানে লেডিস সিটে ছেলেরা বসে না। সিট খালি থাকলেও বসে না। মেয়েরা স্কুটি চালিয়ে তাদের গন্তব্যে যায়। চেন্নাইয়ে সবচেয়ে বড় সমস্যা অটোরিকশা চালকরা। যেহেতু তারা জানে প্রচুর রোগী আসে, তাই তারা দেখেই বলে দিতে পারে, কে পর্যটক আর কে স্থানীয়। তাই ভাড়া বেশি নিয়ে নেয়।
াং
মুম্বাই, নয়াদিল্লি ও কলকাতার মতো চেন্নাই ভারতের অন্যতম মহানগরী। বাংলাদেশ থেকে ট্রেনে বা বাসে গেলে কলকাতা হয়ে চেন্নাই যেতে হবে। চেন্নাই শহরে পর্যটকদের আকৃষ্ট করার মতো অনেক কিছুই আছে। সেরকম একটি আকর্ষণ সমুদ্র সৈকত মেরিনা বিচ। কলকাতার হাওড়া স্টেশন থেকে ছেড়ে যাওয়া ট্রেন আপনাকে পৌঁছে দেবে চেন্নাই সেন্ট্রাল স্টেশনে। প্রায় ১,৬৫০ কিলোমিটার দূরের চেন্নাই শহরে যেতে ২৬ ঘণ্টা থেকে ২৮ ঘণ্টা সময় লাগতে পারে ট্রেনে। চেন্নাইয়ে রয়েছে বেশকিছু প্রাচীন গির্জা ও মন্দির। চেন্নাইয়ের খাবার-দাবার খুবই সাধারণ ও এরা ঝাল খেতে ভালোবাসে। ইডলি, দোসা, উত্তপম এখানকার রোজকার ব্রেকফাস্ট আইটেম। চেন্নাই পুলিশের উপস্থিতি রাস্তার মোড়ে মোড়ে। তাই চুরী ছিনতাই খুব কম। এই শহরে অসংখ্য লোক বেকার। এবং দুষ্টলোকের অভাব নেই। রাজনীতির হিংস্রতা বিদ্যমান। প্রচুর নেশাদ্রব্য পাওয়া যায়। খুন, ধর্ষন, হামলা-মামলা নিত্যকার ঘটনা।

সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে জানুয়ারি, ২০১৯ বিকাল ৩:১০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



