
তেলেঙ্গানা রাজ্য গঠনের পর এখন ভারতের রাজ্যসংখ্যা হলো ২৯। তেলঙ্গানা রাজ্যের রাজধানী হায়দ্রাবাদ। হায়দ্রাবাদ মুসি নদীর তীরে অবস্থিত। আয়তন ৬৫০ বর্গ কিলো মিটার। আর জনসংখ্যা প্রায় ৮০ লাখ। ভারতের চতুর্থ জনবহুল শহর। এ নগর রাজ্যের জিডিপি আর কর প্রদানে শীর্ষে রয়েছে। ব্রিটিশরা যখন ভারত থেকে চলে যায় তখন হায়াদ্রাবাদের নিজস্ব টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা, বিমান সংস্থা, রেলপথ, ডাকযোগাযোগ ব্যবস্থা, রেডিও স্টেশন, নিজস্ব মুদ্রা এমনকি সেনাবাহিনী পর্যন্ত ছিল। ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ সরকারের কাছ থেকে ভারতস্বাধীন হবার সাথে সাথেই ভারতের বিশাল স্থলভূমি ভারত সরকারের নিয়ন্ত্রণে আসেনি যেমন হায়দ্রাবাদ।
মোঘল সম্রাট আওরঙ্গজেব হায়দ্রাবাদ আক্রমণ করে দেশটির শাসনভার নিজ হাতে তুলে নেন। এরপর নিজাম উল মুলককে হায়দ্রাবাদের দায়িত্ব দেন। নিজাম উল মুলক ছিলেন ভোজনরসিক। তিনি তার রাজত্বকালে যে বিরিয়ানির উথাপন করেছিলেন, সেই বিরিয়ানিই হায়দ্রাবাদি বিরিয়ানি নামে পরিচিত। হায়দ্রাবাদের বিরিয়ানি পৃথিবী বিখ্যাত। তবে ওরা হালিমটা দারুন বানায়।
১৭২৪ সালে মীর কামার-উদ-দীন নিজেকে স্বাধীন ঘোষণা করে হায়দ্রাবাদে নিজের রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। এর আগে ১৭০৭ সালে সম্রাট আওরঙ্গজেবের মৃত্যুর পর এসব অঞ্চলে মুঘলদের আধিপত্য কমতে থাকে। আপাতত এসব আলোচনায় যাচ্ছি না। এক সময় ভারতের সবচেয়ে ধনী মানুষ ছিলেন- 'মির ওসমান আলি খান' তিনি ছিলেন হায়দ্রাবাদের শেষ নিজাম।'
হায়দ্রাবাদে প্রায় ৩০% মানুষ মুসলমান। ১৯৯৬ সালে রামোজী রাও হায়দ্রাবাদের ৩০ কিমি দুরে পাহাড়ের কোলে ১৬৬৬ একর জায়গা নিয়ে রামোজী ফিল্ম প্রতিষ্ঠা করেন। আমাদের হুমায়ূন আহমেদ যেমন বানিয়েছেন নুহাশ পল্লী। একটা সিনেমা তৈরী করতে যা কিছু প্রয়োজন, তা সবই মজুদ আছে সেখানে। বিভিন্ন রকম হিন্দী, তামিল, তেলেগু, মালায়ালাম, কানাড়া, গুজরাটি, বাংলা, ওড়িয়া, ভোজপুরি ম্যুভি ছাড়া টিভি সিরিয়াল ও অ্যাড তৈরী হয় প্রতিনিয়ত। রামোজী ফিল্ম সিটি দেখতে পুরো একদিন লাগবে।
বিশ্বব্যাংকের গবেষণা অনুসারে, এটি ভারতের দ্বিতীয় ব্যবসাবান্ধব শহর। এই শহরে আছে দেখার মতো অনেক কিছু। যেমন- চার মিনার, মক্কা মসজিদ, রামোজি ফ্লিম সিটি, সালার জং যাদুঘর, দুর্গ, নেহেরু পার্ক, বিড়লা মন্দির, হুসেন সাগর লেক ইত্যাদি। প্রতিটা জনবহুল দেশ গুলোতে কিছু সমস্যা থাকেন। চুরী ছিনতাই। চোরাকারবারী আছে, নেশা দ্রব্য পাওয়া যায়, অসৎ রাজনীতিবিদ আছে। রাজনৈতিক হিংস্রতা প্রচুর বিদ্যমান। এই শরের বস্তি গুলোতে অনেক লোক থাকে। তারা নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত। শিক্ষা থেকে বঞ্চিত।
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে জানুয়ারি, ২০১৯ সকাল ১০:৩৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




