somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

অদ্ভুত রহস্যময় অন্যভূবন

০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ সকাল ১১:১৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



স্টল বন্ধ করে বইমেলা থেকে বের হওয়ার সময় একটা বুড়ো লোক আমাকে বলল- একটা বই নেবেন স্যার? একেবারে নতুন বই, বড় অদ্ভুত বই। আমি বুড়োটার দিকে চোখ তুলে তাকালাম। কালো জামা পরা, মাথার চুল মেয়েদের মতন লম্বা। খোচা খোচা দাড়ি। গায়ের রঙ ময়লা। ভাঙ্গা গাল। কপালে রঙ দিয়ে কি যেন আঁকা। আর চোখ দু'টো পাথরের মতো। বুড়ো লোকটা তার জামার ভেতর থেকে একটা কালো মলাটের মোটা বাঁধানো বই আমার হাতে দিলেন। বুড়ো লোকটা কিছু বলছিল- কিন্তু মানূষের ভিড়ের শব্দের কারণে আমি ঠিক শুনতে পাচ্ছিলাম না।
আমার বন্ধু'রা টিএসসি'তে অপেক্ষা করছে, চা খাবো, আড্ডা দিবো- আমার মন পড়ে আছে সেখানে। আমি বই পাগল মানুষ। নতুন বই হাতে নিয়ে দেখতেও অনেক আনন্দ হয়। আমি বুড়োকে বললাম দাম কত? বুড়োটা অবাক হয়ে কিছুক্ষন হেসে বলল- দাম? এর কোনো দাম নেই। আরে খোকা, তুমি কি টাকা দিয়ে এক আকাশ জোছনা কিনতে পারবে? অথবা এক আকাশ মেঘ? এই নাও, বলে বুড়োটা আমার হাতে বইটা দিলো এবং বলল মধ্যরাতের পর বইটা পড়বে। বুড়োর হাত থেকে বইটা নেওয়ার সময় আঙ্গুলে আঙ্গুল ঠেকে গেল, অনুভব করলাম বুড়োর হাত বরফের মতন ঠান্ডা। আমি অবাক হয়ে বুড়োটার দিকে তাকাতেই দেখি- বুড়ো হাসছে রবং তার দাঁত গুলো ঝকমক করছে। বুড়ো বিদায় নেওয়ার সময় বলল- তুমি ঠিক আমার মনের মতন কিন্তু মনে থাকে যেন, ঠিক মধ্য রাত্রের পর... এই বলে বুড়োটা ভিড়ের মধ্যে কোথায় যেন মিশে গেলো।

বন্ধুদের সাথে আড্ডায় মন দিতে পারলাম না, সারাক্ষন মাথায় বাজছে বুড়োটার কথা- ঠিক মধ্য রাত্রের পর ...। খুব তাড়াতাড়ি বাসায় ফিরলাম। খুব অস্থির লাগছিল। মা বলল- কি হয়েছে? আমি একটু হেসে বললাম, কই কি হয়েছে? ভাত দাও, খুব ক্ষুধা লাগছে। তাড়াতাড়ি ভাত খেয়ে নিলাম। মা বলল- এই গপগপ করে খাবি না, প্লেন ছেড়ে দিবে না। আমি অপেক্ষা করছি কখন মধ্যরাত শেষ হবে। আমি বিছানায় শুয়ে ঘড়ির দিকে তাকিয়ে আছি। কিন্তু হঠাৎ কখন ঘুমিয়ে পড়েছি জানি না।
ঘড়ির ঢ়ং ঢ়ং শব্দে ঘুম ভাঙ্গল। চেয়ে দেখি দু'টা বাজে। বইটা হাতে নিলাম। মোটা একটি বই। প্রথম পৃষ্ঠায় লেখা- 'চোখ নেই বলে দেখতে পাওনা শুভঙ্করের ফাঁকি, চোখের মধ্যে গোপন কথা গোপন করেই রাখি।' আমি পাগলের মতন একের পর এক বইয়ের পৃষ্ঠা উ্লটাতে থাকি। কোনো কিছু একবার শুরু করলে শেষ না দেখে স্বস্তি হয় না। আমার মনে হচ্ছে বুড়ো লোকটা আমার পাশেই বসে আছে। বইটার দ্বিতীয় পৃষ্ঠায় লেখা-' পৃথিবীতে দুইটি জগৎ আছে। একটা বইয়ের জগৎ এবং একটা বইয়ের বাইরের জগৎ। লেখগুলো পড়েতে পড়তে আমার গায়ে কাঁটা দিচ্ছে। দেরী না করে পরের পাতায় গেলাম। তৃতীয় পৃষ্ঠায় একটা ছবি-' ঘরবাড়ি, বাগান, বাড়ির পেছনে উঁচু পাহাড়, বাগানের পেছনে সমুদ্র, সমুদ্র থেকে একটা মেয়ে উঠে আসছে। নিখুঁত ছবি। এমন সুন্দর ছবি আমি খুব কমই দেখেছি।

আমি অনুভব করছি কে যেনো আমার মাথার ভেতর বলছে- 'আশে পাশে কেউ নেই তো! তোমাকে যেন কেউ না দেখতে পায়। এই বই দিয়ে তুমি তোমার ইচ্ছে মতো যা খুশি তাই করতে পারবে। পাহাড়, নদী, সমুদ্র, মানুষ্‌ সমাজ- ইচ্ছে মতো সাজিয়ে নিতে পারবে তোমার মনের মতন করে।'

আমি বইটা বন্ধ করে রেখে বেলকনি এসে দাঁড়াই। একটা সিগারেট জ্বালাই। নিজের অজান্তেই আমি একটা- সমুদ্র বানাতে থাকি। বিশাল সমুদ্রের পাশে একটা পাহাড় জুড়ে দিলাম। পাহাড়ের গায়ে একটা দোতলা কাঠের বাড়ি। আমি সমুদ্রের ঢেউয়ের শব্দ শুনতে পাচ্ছি। হঠাৎ আবার মাথার ভেতর কে যেনো বলল- তুমি ইচ্ছে করলেই এই সমুদ্রে নেমে যেতে পারো। আমি স্পষ্ট দেখলাম একটা মেয়ে মুখ ভার করে সমুদ্রের পাড়ে বসে আছে। যেনো সে কারো অপেক্ষায় আছে অনেকক্ষন ধরে! বেলকনিতে দাঁড়িয়ে আমি সমুদ্রের বাতাস গায়ে মেখে নিচ্ছি। ঠান্ডা বাতাস! কি আশ্চর্য বাতাসে মেয়েটির চুল এবং শাড়ির আঁচল উড়ছে। সত্যিই, বইয়ের বাইরের জগৎ অনেক অদ্ভুত। আমার শীত শীত লাগতে শুরু করলো। এমন সময় আমি সেই বুড়োটাকে দেখতে পেলাম পাহাড়ের চূড়ায় বসে আছে। যেনো আমাকে বলছে- এসো চলে এসো। এটাই তোমার নতুন পৃথিবী। আনন্দময় পৃথিবী। আমার ইচ্ছা করছে দৌড়ে গিয়ে মেয়েটির হাত ধরি। কেন জানি মনে হচ্ছে মেয়েটির হাত বরফের মতন ঠান্ডা হবে।



(পাঁচ বছর আগের লেখা গল্প। গল্পটি আগে সামুতে পোষ্ট করেছি কিনা মনে নেই।)
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে মার্চ, ২০২০ রাত ৯:৪৫
১৭টি মন্তব্য ১৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জলরেখার নীচে

লিখেছেন তাহমিদ রহমান, ১১ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১১:৫১

পৃথিবী প্রতিদিন একটি নতুন উচ্চতা আবিষ্কার করে।
কোনো জানালায় আলো জ্বলে,
কোথাও কাচের গায়ে সাঁটা হয় আরেকটি সাফল্যের বিকেল।
সিঁড়িগুলো মানুষের পদচিহ্নে মসৃণ হতে থাকে।

আমি দূর থেকে দেখি—
যেন আমার চোখই কেবল যাত্রা করে,
শরীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

রসায়ন পরীক্ষায় রসটাই আসল :D

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ১২ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ৩:০৩

রসায়ন পরীক্ষায় রসটাই আসল। না দেখলে মিস!! =p~


সালোকসংশ্লেষণ B-)

...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনার ডিসেম্বরে ফেরার ঘোষণা আলোচনায় থাকারই কৌশল মাত্র

লিখেছেন ওয়াসিম ফারুক হ্যাভেন, ১২ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১:০৮

চব্বিশের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে দেশ ছেড়ে প্রতিবেশী ভারতে পালিয়ে আশ্রয় নেওয়া সাবেক স্বৈরশাসক ও বর্তমানে বাংলাদেশে রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনার আগামী... ...বাকিটুকু পড়ুন

জন্মান্তরের ক্ষুধা

লিখেছেন ইসিয়াক, ১২ ই জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৪:০৮




ঝিরিঝিরি বৃষ্টি, সেই সাথে গুমোট আকাশ। মেঘাচ্ছন্ন  আবহ । একটানা টুপটাপ আওয়াজ ছাড়া চারদিক সুনসান।বৃষ্টি তার ক্লান্তি কাটাতে  যেই একটু থমকে দাঁড়িয়েছে অমনি বুনো শালিকেরা নেমে এলো খাবারের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনা খাদক ছিলেন ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১২ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১১:৪৮


আজকে সংসদে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু একটা এমন তথ্য দিলেন যেটা শুনে বাংলাদেশের আমজনতা রীতিমতো ক্যালকুলেটর হাতে বসে গেল। কথা হচ্ছে শেখ হাসিনার খাবার খরচ নিয়ে। কোন সালে কত টাকার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×