
হুট করে ঢাকা শহরে ভিক্ষুক অনেক বেড়ে গেছে।
রাস্তায় বের হলেই ভিক্ষুক। বাসে উঠলেও ভিক্ষুক। গাড়ি সিগনালে থামলেও ভিক্ষুক এসে হাজির হয়। ফুটপাত দিয়ে চলার সময়ও ভিক্ষুক। রাস্তার পাশে ফুটপাতের দোকানে চা খাওয়ার সময়ও ভিক্ষুক এসে হাজির হয়। ঢাকা শহরের এমন কোনো অলি গলি বাদ নেই যেখানে ভিক্ষুক নেই। একেবারে ইয়াবার মতোন অবস্থা। সমস্ত দেশে যেমন ইয়াবা পাওয়া যায় তেমনি সমস্ত দেশে অসংখ্য ভিক্ষুক। আমার কথা হলো- যে দেশ উন্নয়নের মহাসড়কে সে দেশে এত-এত ভিক্ষুক থাকবে কেন? তাহলে কি আমাদের দেশ উন্নয়নের মহাসড়কে না? এটা মিথ্যে কথা?
কাজের সন্ধানে আমি সারাদিন রাস্তায় রাস্তায় থাকি।
প্রতিদিন কমপক্ষে একশ' জন ভিক্ষুক আমার কাছে হাত পাতে। আমি নিজে দরিদ্র মানুষ, কয় জনকে দিতে পারি? আজকাল কাউকে দুই টাকা পাঁচ টাকা দেওয়া যায় না। বিবেকে লাগে। কি হয় ২/৫ টাকা দিয়ে? একটা স্টার সিগারেটও পাঁচ টাকা। এক কাপ চা ছয় টাকা। কমপক্ষে একজন ভিক্ষুককে দশ টাকা দিতে হয়। এখন আমি প্রতিদিন ১০০ ভিক্ষুককে দশ টাকা করে দিলে, এক হাজার টাকা লাগবে। আমার পকেটে থাকে ২/৩ শ' টাকা। কেউ চাইলে না দিয়েও পারি না। আর ভিক্ষুক গুলো এমন করুন অবস্থা। তাদের দেখলে খুব মায়া লাগে। তাদের পোশাক-আশাক, চেহারার জরাজীর্ন অবস্থা। আমাদের দেশের মানুষ গুলো এত গরীব কেন?
রাস্তাঘাটে শুধু ভিক্ষুক আর ভিক্ষুক।
কুরআন ও সুন্নাহর বিধানের আলোকে দারিদ্র্য বা ভিক্ষাবৃত্তির অন্যতম প্রধান দায় বর্তায় সম্পদশালীদের উপর। যে মানুষগুলো আমাদের সমাজে ভিক্ষুক নামে পরিচিত একদিক থেকে তারা আমাদেরই দায়িত্বে অবহেলা ও সমাজ-ব্যবস্থার দীনতার জীবন্ত ও বিচরণশীল ছবি। ভিক্ষুক নিয়ে দেশে তেমন কোনো জরিপ হয় না। সমাজসেবা অধিদপ্তরের কাজ কি? আমার ধারনা রাজধানীতে ভিক্ষুকের সংখ্যা চার লাখেরও বেশি। সমস্ত দেশে ২৫ লাখের উপরে ভিক্ষুক আছে। একসময় ঈদের সময় ভিক্ষুক বেড়ে যেত। যাকাত ফেতরা নিতে গ্রাম থেকে সমস্ত ভিক্ষুক শহরে আসতো। এখন ঈদ লাগে না সারা বছরই প্রচুর ভিক্ষুক। সরকারের সমাজসেবা অধিদপ্তরে উচিত ভিক্ষুকদের তালিকা করা। এবং সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ভিক্ষুককে রিকশা, ভ্যান, সেলাই মেশিন কিনে দেয়া।
এই সমস্ত ভিক্ষুকদের জন্য রাষ্ট্রের কি কোনো দায়িত্ব নেই?
নিরুপায় মানুষের বেঁচে থাকার শেষ উপায় ভিক্ষা। কেউ শখ করে ভিক্ষা করে না। দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেলেই বাধ্য হয় ভিক্ষা করতে। রাস্তা-ঘাটে চলাচলরত পথিককে ভিক্ষুকরা নানাভাবে হেনস্তা করে। এমনকি গাড়িতে বসে থাকলেও কাচে থাপড়ানো হয়। একবার না করলেও তারা যায় না। অথচ কয়েকদিন আগেও সাবেক অর্থমন্ত্রী বলেছেন, দেশে কোন ভিক্ষুক নেই। আমাদের ঘাটতি বা সংকটটা কোথায়? অনেক সুস্থ সবল যুবা নারী বা পুরুষ-ও কাজ না করে পঙ্গু ও অসুস্থের ভান ধরে কেন সিগন্যালে বাড়াচ্ছেন ভিক্ষার হাত? ভিক্ষুকরা চুরি-ছিনতাইসহ ট্রাফিক সমস্যা সৃষ্টি করে। মূলত দেশে দারিদ্র্যতা বাড়ার কারণে ভিক্ষুক বাড়ছে- এটা বলার জন্য বিশেষজ্ঞ হতে হয় না। আর্থ-সামাজিক কাঠামোর ভেতরে এর সমাধানের পথ বের করতে হবে। আমি মনে প্রানে চাই দেশ উন্নয়নের মহাসড়লে চলুক।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।
