
আল্লাহ মানূষকে দুনিয়াতে কেন পাঠান?
তার উদ্দেশ্যটা কি? দুনিয়াতে সমস্যার আর কষ্টের শেষ নেই। বেঁচে থাকার জন্য প্রতিনিয়ত মানূষকে যুদ্ধ করতে হয়। আল্লাহ মানূষকে কি পৃথিবীতে কষ্ট করতে পাঠিয়েছেন? মানুষ কষ্ট করলে আল্লাহর লাভ কি? পৃথিবী হবে আনন্দময়। কিন্তু পৃথিবী হয়েছে দুঃখ কষ্টের কারখানা। এরচেয়ে ভালো হতো আল্লাহ যদি পৃথিবী সৃষ্টি না করতেন। সব মানুষ থাকতো বেহেশতে। আনন্দ আর আনন্দ। খাওয়ার চিন্তা নাই, পরার চিন্তা নাই। কোনো অভাব অনটন নেই। মারামারি, কাটাকাটি, খুন, গুম, চুরী ছিনতাই কোনো ঝামেলা নেই। মানুষ বেঁচে থাকার জন্য পৃথিবীতে কষ্ট করবে, আবার মৃত্যুর পর হাশরের ময়দানে আল্লাহও ভয়াবহ শাস্তি দিবেন। একেই বলে- শাঁখের করাত। দুই দিকেই বিপদ। তার মানে একজন মানুষ দুনিয়াতেও শান্তি পাবে না, আবার মৃত্যুর পরও শান্তি পাবে না। মানুষকে তো আল্লাহ পৃথিবীতে জিজ্ঞেস করে পাঠায় না। মানুষের অনুমতি না নিয়েই পৃথিবীতে পাঠানো হয়। আল্লাহর ইচ্ছায় মানুষ পৃথিবীতে এসে বিরাট বিপদে পড়ে যায়। সীমাহীন দুঃখ-কষ্ট।
টুকরো টুকরো তিনটি ঘটনা বলি-
ঘটনা এক, ফয়সাল রিমা নামের মেয়ের সাথে এক বছর প্রেম করেছে। রিমা লেখাপড়া এখনও শেষ হয়নি । ফয়সাল একটা অল্প বেতনে চাকরি করে। বেশি বেতনের একটা চাকরি পেলেই সে রিমাকে বিয়ে করবে। এদিকে রিমা'র বাবা মা রিমার বিয়ের জন্য উঠে পড়ে লেগেছেন। একদিন ফয়সাল বাধ্য হয়ে তার আত্মীয় স্বজন নিয়ে রিমাদের বাসায় যায়। আজই তারা রিমাকে আংটি পড়িয়ে দিবে। এবং মেয়ের বাপ মা চাইলে কাবিন করতেও তারা রাজী। এক বছর পর রিমাকে বড় অনুষ্ঠান করে তুলে নিবে ফয়সাল। মেয়ের বাপ মা বলে- না, কাবিন হয়ে গেলে মেয়েকে আজ'ই তুলে নিতে হবে। ছেলে পক্ষ বলে, না, এখন না। মাত্র এক বছর পর। মেয়ে পক্ষ রাজী হয় না। এক কথায়, দুই কথায় লেগে যায় তুমুল ঝগড়া। এক পর্যায়ে হাতাহাতি। শেষমেশ পুলিশ এসে তাদের মারামারি থামায়। এবং দুই পক্ষের দুজনকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যায়।
ঘটনা দুই, বউ এর সাথে স্বামীর মনোমালিন্য চলছে।
বউ বলছে, তুমি আমার বাবা-মা, ভাই-বোনসহ আত্মীয় স্বজনকে দাম দাও না। স্বামী বেচারা বলল- সারাদিন পর অফিস থেকে আসছি, দয়া করে ঘ্যানঘ্যান করো না। তোমার ফ্যামিলির প্রতিটা সদস্যকে আমি সম্মান করি। বউ রেগে বলে, না সম্মান করো না। গতকাল আমার বাবা ফোন দিয়েছিল, তুমি ফোন ধরনি। এর আগে আমার ছোট খালু ফোন দিয়েছিলন, তুমি তারও ফোন ধরনি। কেন এত অবহেলা করো আমার ফ্যামিলি মেম্বারদের? স্বামী বলল, তারা যখন ফোন দিয়েছিলেন, তখন আমি অফিসে গুরুত্বপূর্ন মিটিং এ ছিলাম, তাই ফোন ধরতে পারিনি। অসুবিধা নেই, আমি তাদের পরে ফোন দিয়ে দিব। বউ রেগে-মেগে বলল, আমি আজ থেকে তোমার সাথে ঘুমাবো না। সে বালিশ নিয়ে পাশের রুমে চলে গেল। স্বামী রাতে খেয়ে ঘুমিয়ে পড়লো। রাত দুইটায় বউ পাশের ঘর থেকে এসে স্বামীকে বলল, আমি যে রাগ করে পাশের ঘরে চলে গেলাম, একবারও তোমার মনে হলো না বইকে ডেকে আনি? আসলে, তুমি আমাকে ভালোই বাসো না। এই বলেই বউ হাতের কাছে থাকা পিতলের ফুলদানী উড়িয়ে মারলো স্বামীর মাথায়। সাথে মাথা ফেটে রক্ত।
ঘটনা তিন, ঘর জামাই থাকার অনেক জ্বালা।
রিপনের ১৪ গুষ্ঠি থাকে গ্রামে। সে চাকরির কারনে ঢাকা থাকে। বিয়ে করেছে। বউ নিয়ে সে ঘর জামাই থাকে। আলাদা বাসা ভাড়া করে থাকা সম্ভব না, তার ইনকাম কম। এজন্য তাকে সীমাহীন কষ্ট করতে হয়। শ্বশুর বাড়ির লোকজন তাকে দাম দেয় না। বাড়ির বিদ্যুৎ বিল, গ্যাস বিল লাইনে দাঁড়িয়ে দিতে হয়। পাড়া প্রতিবেশীরা দেখে আর হাসে। বাজার করতে হয়। কোনো ফ্লাটের কল বা বেসিন নষ্ট হলে মিস্ত্রি এনে ঠিক করতে হয়। বউ এর হুমকি ধামকি সহ্য করতে হয়। জামাই আদর বলে একটা কথা আছে। সেই জামাই আদর 'ঘর জামাই' যারা থাকেন তারা পায় না। একদিন ঘর জামাই রেগে মেগে অস্থির। তখন মেয়ের বড় বোন এসে চুলের মুঠি ধরে দুইটা থাপ্পড় দিয়ে দিল ঘর জামাইকে। আর বলল, একদম চুপ করে থাকবি। বেশি কথা বললে পা ভেঙ্গে দিব হারামজাদা। ঘর জামাই সাথে সাথে বলল, স্যরি বড় আপা ভুল করে ফেলেছি। আর এরকম হবে না। নো নেভার। পরের দিন ঘর জামাই বাসা থেকে পালিয়ে গ্রামে চলে গেল। এবং সে ফোন করে বলে দিয়েছে সে আর ঢাকা ফিরবে না।
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ দুপুর ২:১৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




