somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

আজকের ডায়েরী- ১৩

২২ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ দুপুর ১২:৪০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



বড় অদ্ভুত স্বপ্ন দেখে ঘুম ভাঙল।
গতরাতে খুব তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। ইচ্ছা ছিল অনেক রাত পর্যন্ত বই পড়বো। অনেক বই জমে আছে, পড়া হচ্ছে না। মুভি দেখে-দেখে সময় অপচয় করছি। যাই হোক, স্বপ্নে দেখলাম- আমি আকাশে উড়ছি। এই স্বপ্নটা আমার খুব প্রিয়। আগেও দেখেছি। দুই হাত উপরের দিকে তুলে দিয়ে আকাশে উড়ছি। অনেকটা সুপারম্যানের মতোন। নিজেকে বেশ হালকা লাগছে। সীমাহীন আনন্দ হচ্ছে। উড়ে উড়ে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় চলে যাচ্ছি। কি যে ভালো লাগছে! সকালে ঘুম ভাঙ্গল। সুরভী বলল, থম ধরে বসে আছো কেন? ফ্রিজে কিচ্ছু নাই। বাজারে যাও। আমি মনে মনে বললাম, বাজারে যে যাবো টাকা নাই। আর আমি থম ধরে বসে নাই। গতরাতে যে স্বপ্নটা দেখেছি তার ব্যাখ্যা খুঁজতেছি। আমার স্বপ্নের ব্যাখ্যা আমাকেই খুজে বের করতে হয়। ব্যাখ্যা হলো- কিছুদিন ধরে যাদু নিয়ে পড়াশোনা করছি। যাদুর মুভি দেখছি। ইউটিউবে যাদু দেখছি ঘন্টার পর ঘন্টা। এই কারনে রাতে স্বপ্ন দেখেছি আকাশে উড়ছি।

গত মাসে বাজার করি নি।
বাজার মানে সারা মাসের বাজার। তেল, ডাল, চিনি, চাল, নুডুলস, দুধ, মাছ, মাংস ইত্যাদি ইত্যাদি। আমি অবশ্য মাসের শুরতেই সারা মাসের বাজার একবারে করে ফেলি। এ মাসে বাজার করিনি কারন সুরভী গ্রামে গিয়েছিল। বাজারের লিস্ট আমার হাতে দেয় নি। মনে মনে ভাবলাম যাক এ মাসে অনেক গুলো টাকা বেঁচে যাবে। গত মাসের বেঁচে যাওয়া জিনিস দিয়ে এ মাসটা চলে যাবে হয়তো। সবচেয়ে বড় কথা ফেব্রুয়ারী মাসটা ছোট। কিন্তু ভাগ্যের কি নির্ম পরিহাস- এ মাসে আমার সবচেয়ে বেশি টাকা খরচ গেছে। খুচরা জিনিস দুইটা একটা করে দোকান থেকে কিনেছি বেশ কয়েকবার। পাড়ায় দোকানের চেয়ে বাজার থেকে জিনিসপত্র কেনা অনেক ভালো। দাম কম পাওয়া যায়। সুরভী বাসায় না থাকার কারনে তিন বেলা'ই আমাকে হোটেলে খেতে হয়েছে। বাসায় গেস্ট এসেছিল তাকেও হোটেল থেকে খাবার কিনে এনে খাইয়েছি।

বাজারে আঙ্গুর বেশ সস্তা যাচ্ছে।
মাত্র দুই শ' টাকা কেজি। চিনির মতো মিষ্টি। বড়ই উঠেছে খুব বেশি। বড় বড় কূল বড়ই। বেশ মিষ্টি। এক কেজি এক শ' টাকা। কমলা পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু খুব টক। মতিঝিল, গুলিস্তানসহ অলিতে গলিতে খুব বেচা বিক্রি হচ্ছে এই সমস্ত ফল। ইদানিং ইলিশ মাছ খুব দেখা যাচ্ছে। সাইজও বেশ বড়। ৬০০ টাকায় এক পিছ পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু দুঃখের ব্যাপার খেতে স্বাদ না। ইলিশ মাছও কি চাষ হয়? সেদিন সন্ধ্যায় দেখি, আমার বাসার কাছে বড় রাস্তার মোড়ে বিশাল সাইজের ইলিশ মাছ বিক্রি করছে। প্রতিটা পিস এক কেজি বা কিছুটা কম হবে। ছয়টা ইলিশ সুন্দর করে সাজিয়ে রেখেছে, রাস্তার লাইটের আলোতে মাছ গুলো চকচক করছে। মাছ বিক্রেতা মোবাইল টিপাটিপিতে ব্যস্ত। আমি বললাম, সব গুলো কত? বিক্রেতা মোবাইল টিপতে টিপতেই বলল, ছয়টা ৬ হাজার টাকা। আমি বললাম, কিছু কম রাখো আমি এক হালি নিব। ঠিক এই সময় এক লোক এসে ছয় হাজার টাকা দিয়ে ছয়টা ইলিশ নিয়ে গেল। কিছু মানুষের কত টাকা!

চকবাজারে ভয়াবহ অগ্নিকান্ড ঘটে গেল।
কেন ঘটলো? কার দোষ? এসব নিয়ে এখন আর আলোচনা করা ঠিক না। এখন হায় হায় করে কোনো লাভ নেই। তদন্ত কমিটি একটা ফালতু বিষয়। এখন যা করতে হবে তা হলো- আর যেন এরকম ঘটনা না ঘটে সেদিকে নজর দিতে হবে। দায়িত্ব নিয়ে কাজ করতে হবে। আমাদের দেশের প্রধান সমস্যা হলো- যোগ্য পদে, যোগ্য লোক না থাকা। বড় বড় পদে সব অযোগ্য লোক বসে আছে। সরকারি বেসরকারি সব জাগায় একই অবস্থা। এমনকি বাংলা একাডেমিতেও যোগ্য লোক নেই। ফালতু সব লোক বাংলা একাডেমি দখল করে বসে আছে। তারা আবার বলে সাহিত্য কেমন হবে! কে লেখক আর কে লেখক না। আর সত্যিকার অর্থে দেশের যোগ্য লোক বেকার অবস্থায় আছে। নিজে কানা পথ চেনে না, পরকে ডাকে বারংবার এসব দেখি কানার হাটবাজার। এই হইলো অবস্থা। কবি ঠিক বলেছেন- সব কিছু নষ্টদের দখলে চলে গেছে।

সর্বশেষ এডিট : ২২ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ দুপুর ১২:৪২
১৬টি মন্তব্য ১৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

"টোকাই থেকে হিরো"

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:১৬



টোকাই থেকে হিরো! বাংলা ছবির  অশ্লীল যুগে মুক্তি পাওয়া এক ঢাকাইয়া চলচ্চিত্র। ছবিতে প্রেক্ষাপটে অনেকটা এইরকম - বস্তিতে বেড়ে উঠা; মানুষের লাথি- উষ্টা খেয়ে বড় হওয়া এক টোকাই (ছবির... ...বাকিটুকু পড়ুন

মুখরিত জীবনের চলার পথে, ব্লগের মুখরিত দিন

লিখেছেন মেহবুবা, ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:১৪


ব্লগ স্কুল, মজারু
ছোটন চলে স্কুলেতে বই শ্লেট হাতে ,
বদরুল ভাই কাঁদছে ভীষন যাবে সাথে সাথে,
চান্কু হল লক্ষ্মীছাড়া পান্কু হয়ে ঘোরে ,
চিটি যাবে সবার আগে উঠল... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ফোনে কয়টি গান সেভ করা আছে? #:-S

লিখেছেন অপু তানভীর, ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:৩০



কদিন আগে একটা ফোন নিতে হয়েছে। আগের ফোনটা তিন বছরের মত সার্ভিস দিয়েছে। তবে টাচস্ক্রিনে সমস্যা দেখার কারণে সেটা ঠিক মত ব্যবহার করা যাচ্ছিল না। নতুন ফোন বলে সেটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

Ripe Age দুই প্রান্তের দুই মানুষঃ সামু শব্দের সেতু প্রজন্মের বন্ধন

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:২৪


একজন দাঁড়িয়ে জীবনের শুরুতে
চোখে তার অগণিত স্বপ্ন
আগামীর পথে কত প্রশ্ন
কত না-জানা, কত বিস্ময়
কত দূরের নীল আকাশ
ডাকে তাকে প্রতিদিন।

অন্যজন বসে জীবনের শেষে নয়
বরং দীর্ঘ পথ পেরিয়ে আসা এক প্রান্তে
প্রায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

ট্রেন টু কক্সবাজার: টিকিট পেলাম না, পেলাম বিকল্প পথের সন্ধান

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:০৭

কক্সবাজার যাওয়ার ইচ্ছে ছিল অনেক দিনের। তবে এবার লক্ষ্য ছিল একটু আলাদা—বাসে নয়, বিমানে নয়; ট্রেনের জানালায় চোখ রেখে সমুদ্রের শহরের পথে যাত্রা। কিন্তু সেই সহজ পরিকল্পনার প্রথম বাধাই হয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×