
দেশের অবস্থা দিন দিন খারাপ হচ্ছে।
পুরান ঢাকায় ভয়াবহ অগ্নিকান্ড হলো। এই ঘটনায় সারা বিশ্বের মানুষ মর্মাহত হয়েছে। যদিও তথ্যমন্ত্রী ধারনা করছেন এই অগ্নিকান্ডে বিএনপির হাত আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা দরকার। এদিকে এক মেয়ে বইমেলা থেকে বের হয়ে দোয়েল চত্বরের কাছে আসতেই রাস্তার পাশে নারকেল গাছ পড়ে মরে গেল। মেয়েটির বিয়ে তারিখ ছিল আগামী শুক্রবার। মাত্র শুনলাম চিটাগাং এ বিমান ছিনতাই এর চেষ্টা করা হয়েছে। প্রিয় বইমেলা শেষের দিকে, কারো কারো বই একেবারেই বিক্রি হয়নি। প্রকাশক মনে মনে বলছেন, বই বিক্রি হয়নি তাতে আমাদের কোনো লস নেই। কারন লেখক নিজেই দুই শ' কপি নগদ টাকায় কিনে নিয়েছেন। এখন এই মৌসুমি লেখকরা চাচ্ছেন, বইমেলা আরও কয়েকদিন বাড়িয়ে দেওয়া হোক। তারা আত্মবিশ্বাস নিয়ে বলছেন, বানিজ্য মেলাও তো বাড়ানো হয়েছে। একটু আগে শুনলাম বহু প্রত্যাশিত ডাকসু নির্বাচন স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে রিট করেছে ছাত্রদল।
আমার এক চাচা আছেন। আমরা বলি- লাল কাকা।
লাল কাকাকে দেখেছি মন্দ কিছু ঘটলেই মিলাদ দিতে। তার ধারনা ছিল মিলাদ দিলেই সব সমস্যার সমাধান হয়ে যায়। উদাহরন দেই- দেখা গেল আমার দাদাজান হাটতে গিয়ে উষ্ঠা খেয়েছেন। লাল কাকা বলতেন মিলাদ দিতে হবে। দেখা গেল, বাড়িতে চোর এসেছিল- কিন্তু কোনো কারনে চুরী করতে পারেনি- তখন লাল কাকা বলতেন- একটা মিলাদ দিতে হবে। অথবা জমি নিয়ে সমস্যা, বা কারো পরীক্ষা ইত্যাদি যে কোনো বিষয়ে লাল কাকা মিলাদ দিতেন। দুই কেজি জিলাপী আনতেন। দেড় শ' টাকা দিয়ে। (তখন জিলাপীর দাম কম ছিল) হুজুরকে দিতেন এক শ' টাকা। বাসার কাছের মসজিদের হুজুর। যেহেতু এখন আমাদের দেশে একের পর এক সমস্যা যাচ্ছে- তাই একটা সরকারী ভাবে মিলাদের আয়োজন করা যেতে পারে। তাতে বালা মসিবত দূর হবে। সারা বাংলাদেশের মানুষ একসাথে আল্লাহর দরবারে হাত তুললে- আল্লাহ নিরাশ করবেন না।
আমাদের মুন্সিগঞ্জে একটা কথা আছে-
ছোট লোকের পোলায় যদি জমিদারী পায়, কানের আগায় কলম গুজে বাঈজী নাচাত। একজন লেখক ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন- পাঠক নাকি স্টলে এসে ফিরে যাচ্ছে। তার বই পাচ্ছে না। তাই উনি জানাচ্ছেন, এখন গেলে তার বই পাওয়া যাবে। দ্বিতীয় মুদ্রন এসে পড়েছে মেলায়। আরেকজন স্ট্যাটাসে লিখেছেন, এক লোক তিন দিন মেলায় এসে বই না কিনে ফিরে গেছেন। কারন লেখিকা স্টলে নেই বলে উনি বই কিনেন নি। জনৈক লেখিকা ফেসবুকে ছবি পোষ্ট করে তার প্রমান দিয়েছেন। আমি নিজে এই লেখিকার বই এক কপি সংগ্রহ করেছি। সত্য কথা বলি- এক পাতা পড়ার পর দ্বিতীয় পাতা পড়তে ইচ্ছা হয়নি। এরচেয়ে একজন সাধারন ব্লগার অনেক বেশি ভালো লিখেন।
মানুষের জীবনে সময় অনেক মূল্যবান। সত্যিকার অর্থে নতুন লেখকদের বেশির ভাগ বইগুলো পড়া মানে সময় নষ্ট করা। বিশেষ করে যারা কবিতার বই প্রকাশ করেছেন। অতি অখাদ্য। খুবই নিম্ম মানের কবিতা। মানুষ কেন টাকা দিয়ে এই ফালতু বই কিনবেন? একটা কবিতা কোনো রকমে পড়লে আর পড়তে ইচ্ছা করে না। কবিতার কোনো আগা মাথা নেই। ভাষা নেই। ছন্দ নেই। এই সমস্ত তথাকথিত লেখকদের বই পড়লে মনে হয় এরা সর্ব্বোচ এইট পাশ। না, আমি তাদের নিয়ে উপহাস করছি না। শুধু তাদের অনুরোধ করবো- দয়া করে প্রচুর পড়াশোনা করুন। তাহলে আপনাদের লেখার মান অনেক ভালো হবে। একজন সচেতন পাঠক বা একজন সত্যিকারের পাঠক আপনার লেখা দুই এক লাইন পড়লেই আপনার দৌড় কোন পর্যন্ত তা অতি সহজেই বুঝতে পারে।
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ রাত ৯:০৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




