
স্বাধীনতার এত বছর পরও কেন আমাদের দেশে একটা ভালো হাসপাতাল নেই?
কেন চিকিৎসার জন্য বিদেশ যেতে হবে? যাদের টাকা নেই তারা কিভাবে চিকিৎসা নিবে বিদেশ গিয়ে? আজও কেন কোনো মন্ত্রী এমপি বা প্রধানমন্ত্রী বলছে না আমরা এমন হাসপাতাল বানাবো এবং হাসপাতালে এমন চিকিৎসক থাকবেন যাতে আর কারো বিদেশ যেতে না হয়। দেশ উন্নয়নের মহাসড়কে তাহলে চিকিৎসা নিতে কেন বিদেশে? দুঃখের বিষয় আজও সরকারী হাসপাতাল গুলোতে দালাল দিয়ে ভরা। দালাল গুলোর ব্যবহার অতি নিষ্ঠুর। গত দশ বছরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী হাসপাতাল থেকে দালাল দূর করতে পারলো না? রোগীদের অনেকক্ষন লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে ডাক্তারের সাথে দেখা করতে হয়। বিশেষ করে সরকারী হাসপাতাল গুলোতে চিকিৎসা নিতে গেলে ভীষন কষ্ট, জীবন নষ্ট। হুমায়ূন আহমেদ ক্যান্সারে মারা যান। তার মৃত্যুর পর বেশ কিছু ছেলে মেয়ে খুব লাফালাফি করেছিল। তারা বলেছিল দেশে ক্যান্সার হাসপাতাল করবে। করবেই। আজ তারা কোথায়? তারা লাফালাফি তো খুব করেছিল।
স্বাধীনতার এত বছর পরও কেন ফুটপাত দিয়ে শান্তিতে হাঁটা যায় না।
ঢাকা সিটির কোনো মেয়র কেন আজও ফুটপাত দখল মুক্ত করতে পারলো না? আজও কেন নগরবাসীর এত দূর্ভোগ? কেন ফুটপাত ভাঙ্গা, রাস্তা ভাঙ্গা? কেন এত জ্যাম? যদি এসবের সমাধান না করতে পারেন তাহলে দায়িত্ব ছেড়ে দিন। পদ দখল করে রেখে লাভ কি? নির্বাচনের সময়ে বলেছিলেন সুন্দর ঢাকা উপহার দিবেন। দিতে পারেন নি। ব্যর্থতা মেনে নিয়ে পদত্যাগ করুন। আমরা ঢাকাবাসী চাই শান্তি। আগুনে পুড়ে মরতে চাই না। মূল্যবান সময় জ্যামে নষ্ট করতে চাই না। ইদানিং মনে হচ্ছে এই দেশে জন্ম নেওয়াটাই যেন পাপ। সব খারাপের দেশ যেন বাংলাদেশ। খাদ্যে ভেজাল। হায়াত থাকতে মানুষ ভেজাল খাবার খেয়ে মরে যাচ্ছে। দেখার কেউ নেই। বলার কেউ নেই। এই দেশের মানুষ, এই দেশে জন্ম নিয়ে যে পরিমান কষ্ট করে সারাটা দিন, আমরা ধারনা আল্লাহ এই দেশের মানূষকে মৃত্যুর পর শাস্তি দিবেন না। কারন তারা নিজ জন্ম ভূমিতেই কষ্ট যা পাবার পেয়ে গেছে।
স্বাধীনতার এত বছর পরও কেন বাসে উঠতে হয় দৌড়ে দৌড়ে, ধাক্কাধাক্কি করে।
সিট পাওয়া তো দূরের কথা। আল্লাহর ত্রিশটা দিন একই অবস্থা। শুক্রবার- শনিবার নেই। বছরের ৩৬৫ দিন একই অবস্থা। কেন আজও কোনো মন্ত্রী এমপি গনপরিবহনের সমস্যার একটা স্থায়ী সমাধান করতে পারলেন না? তাহলে দেশের এত এত মন্ত্রী এমপি কি করে সারা বছর? কেন আজও নদী ভাঙ্গন রোধ করা গেল না? দেশ স্বাধীন হয়েছে ৪৮ বছর হয়ে গেল। কোনো সরকার নদী ভাঙ্গন রোধ করতে পারলো না? কেন দেশে এত এত বেকার? অর্থনীতির সুত্র বলে, জনসংখ্যা অভিশাপ নয় আর্শীবাদ। মালোশিয়া আজ কোথায় চলে গেছে আর আমরা কোথায় পড়ে আছি! পদ্মা সেতু হচ্ছে, মেট্রোরেল হচ্ছে ভালো কথা। মহাখালী, খিলগা বা মগবাজারে ফ্লাই ওভার ব্রীজ হবারও পরেও জ্যাম কিন্তু কমেনি। আজও মানুষ রাস্তায় ঘুমায়। ওভার ব্রীজে ঘুমায়। প্রতিটা রাস্তার মোড়ে মোড়ে ভিক্ষুক। প্রতিদিন কোথাও না কোথাও চুরী হচ্ছে, ছিনতাই হচ্ছে, ডাকাতী হচ্ছে। আর অন্য দিকে কিছু লোক হুট করে সীমাহীন টাকার মালিক বনে গেছেন। তাদের পাসপোর্টে সব সময় ২/৩ টা দেশের ভিসা লাগানোই থাকে।
এই দেশের মানুষ গুলোর মন মানসিকতা নষ্ট হয়ে গেছে।
কেউ কোনো নিয়ম কানুন মানতে চায় না। নিয়ম কানুন না মানাটাই তারা বাহাদূরী মনে করে। বাসা বাড়ির ময়লা ডাস্টবিনে না ফেলে পথের মোড়ে ফেলে রাখে। ইচ্ছা হলো তো ফুটপাতে বাইক উঠিয়ে দিল। যেখানে সেখানে গাড়ি পার্কিং করে। উল্টো পথ দিয়ে গাড়ি চালায়। ফুটপার দখল করে দোকানপাট বসিয়ে এলাহি কান্ড-কারখানা। সরকারী প্রতিষ্ঠান মানেই যেন ঘুষ বাধ্যতামূলক। ঘুষ না দিয়ে কোনো কাজ করা সম্ভব নহে। সিটি করপোরেশনের অফিসে ট্রেড লাইসেন্স করাতে গেলে তাদের বাড়তি টাকা দিতেই হবে। পাসপোর্ট করার জন্য পুলিশ ভেরিফিকেশনের জন্য টাকা দিতে হবে। হবেই। এ সমস্ত কাজ তারা হাসিমুখে করে। এজন্য তাদের বিন্দু মাত্র লজ্জা বা অনুসুচনা হয় না। এই দেশে আজ আর কোনো খাঁটি মানুষ নেই। সব শালা চোর হ্যায়। সব ধান্ধাবাজ। সব দালাল। যাদেরকে ভালো মনে করছেন, তারাও ভালো নয়, ভালোর মুখোশ পরে আছে।
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই মার্চ, ২০১৯ দুপুর ১২:৩৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।





