somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

মুভিতে নায়িকার নাম থাকে 'ভাগ্য'

২০ শে মে, ২০১৯ রাত ৮:৫৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



সাউথ ইন্ডিয়ান মুভি দেখলাম।
হিন্দি ডাবিং। মুভি দেখার কোনো ইচ্ছা'ই ছিল না। ঘুম আসছিল না। বই পড়তে ইচ্ছা করছিল না। তাই একই মুভি দেখে ফেললাম। মুভির কাহিনি অনেকটা এই রকম- একটা ছেলে-মেয়ের প্রেম কাহিনি। ছেলেটা মেয়েটা কলেজ ছুটি হবার সময়- রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকে প্রতিদিন। একদিন মেয়েটা রেগে-মেগে ছেলেটাকে বলল, এই তুই আমার যাওয়া-আসার সময় রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকিস কেন?
ছেলেটা বলল, এই মাইয়া রাস্তা কি তোর বাপের? আমার ইচ্ছা আমি দাঁড়িয়ে থাকি।
মেয়েটা বলল, আমাকে রাগাইস না। মাইর খাবি।
ছেলেটা বলল, আমার মাথা গরম করিস না। তাহলে লাঠি দিয়ে মেরে মাথা ফাটিয়ে দিব- এই কথা বলেই রাস্তা থেকে একটা লাঠি উঠিয়ে নেয় ছেলেটা। লাঠি নিয়ে মেয়েকে মারতে যাবে, তখন দেখে মেয়েটার হাতে একটা ধারালো ছুরি। ছেলেটা ভয় পেয়ে ঝেরে দৌড় দেয়।

পরের দিন আবার ছেলেটা দাঁড়িয়ে থাকে মেয়েটার কলেজের সামনে।
এবার মেয়েটা ছেলেটার আশে পাশে ঘুর-ঘুর করতে থাকে। ছেলেটা বলে ওই মাইয়া তুই আমার আশে পাশে ঘুরতাছিস কেন? তোর সমস্যা কি?
মেয়েটা লাজ-লজ্জার মাথা খেয়ে বলে, তোমাদের বাসায় মনে হয় মূরগীর মাংস রান্না হচ্ছে। খুব সুন্দর গন্ধ বের হয়েছে। আসলে মূরগীর মাংস আমার খুব, খু-উ-ব প্রিয়। এখন তুমি আমাকে একবাটি মূরগীর মাংস দাও।
ছেলেটা বলল, যদি আমার পিঠ চুলকে দাও তাহলে আমি তোমাকে একবাটি মূরগীর মাংস দিব।
মেয়েটা বলল, একটা মেয়ে- কিভাবে একটা অপরিচিত ছেলের পিঠ চুলকে দেয়?
ছেলেটা বলল, যদি তোমার অস্বস্তি লাগে তাহলে আমাকে তুমি তোমার ভাই ভেবে নাও! তবু চুলকে দাও।
মূরগীর লোভে মেয়েটা ছেলেটার পিঠ চুলকে দেয়।

(এই পর্যন্ত দেখে সুরভি বলল, এই ফালতু মুভি আমার পক্ষে দেখা সম্ভব না। সে রাগ করে পাশের ঘরে চলে গেল। আমি ভাবলাম, পরিচালক টাকা খরচ করে এই মুভি বানিয়েছে কেন? এই 'কেন'র উত্তর পাওয়ার জন্য আমাকে পুরো মুভিটা দেখতে হবে।)

আমি মুভি দেখায় মন দিলাম।
এইভাবে প্রতিদিন নানান ছোট ছোট ঘটনা ঘটতে ঘটতে ছেলেটার সাথে মেয়েটার কঠিন প্রেম হয়ে যায়।
নায়কের বাবা প্রতিদিন রাতে অফিস শেষ করে মদ খেয়ে বাসায় ফিরে। বাসায় ফিরে ভুলে ওয়াশরুমের বদলে রান্না ঘরে চলে যায়। রান্না ঘর থেকে ফিরে বউকে বলে, টয়লেটে হাড়ি পাতিল রাখো কেন?
তখন বউ রেগে মেগে বলে- ওইটা বাথরুম নয়। রান্না ঘর।
যাই হোক, নায়কের বাবা রান্না ঘর থেকে ফিরে ছেলেকে বলে- আজ মদ খেয়ে আরাম পাইনিরে। আর একটু খেতে পারলে আরাম হয়। তখন বাপ মদ খেতে বসে। কিছু মদ খেয়ে ছেলেকে বলে এখন আমার নাচতে ইচ্ছা করছে রে।
ছেলে বলে নাচো বাবা।
বাবা ধুমধারাকা নাচ নাচতে থাকে। তখন ছেলে লুকিয়ে লুকিয়ে বাবার মদ খেয়ে ফেলে। আর মা টিভি সিরিয়াল দেখায় ব্যস্ত।

ঘটনা চক্রে নায়ক নায়িকা একই এলাকায় থাকে।
এমনকি তাদের বাসাও পাশাপাশি। দুইজনের টয়লেট পাশাপাশি। ওয়াশরুমের ছোঁট্র জানালা খুললেই- দুইজনের দেখা হয় রোজ। তারা প্রতিদিন ঘন্টার পর ঘন্টা টয়লেটে পার করে। দুইজন দুইপাশ থেকে ঘন্টার পর ঘন্টা দুইজনের দিকে তাকিয়ে থাকে। তারা মুখে কোনো কথা বলে না। তাদের কথা হয় চোখে চোখে। একদিন ছেলের বাপ বলল- এই তোর সমস্যা কি? প্রতিদিন তিন থেকে পাঁচ ঘন্টা টয়লেটে থাকিস? আবার টয়লেটে যাওয়ার আগে চুল আচড়াস, বডি স্প্রে দেছ? আয়রন করা জামা পড়িস।
ছেলের বাপ কোনো উপায় না দেখে ডাক্তারকে ফোন করেন।

এদিকে মেয়ের মা-ও মেয়েকে জিজ্ঞেস করে- কেন তুই প্রতিদিন সাজগোজ করে ওয়াশরুমে যাস? চার পাঁচ ঘন্টা বাথরুমে কাটিয়ে দিস! ঘটনা কি?

এইভাবে নানান টুকরো টুকরো ঘটনা চলতে থাকে।
শেষের দিকে, একসময় নায়িকা সব ভূত হয়ে যায়। নায়ককে একটা ভাঙ্গা বাড়িতে নিয়ে যায় গুন্ডারা মেরে ফেলার জন্য। তখন নায়িকা নায়কের শরীরে প্রবেশ করে সব গুন্ডাদের মেরে ফেলে।
মুভিতে কিভাবে কি ঘটলো- আমি কিছুই বুঝলাম না।
আজ আবার দেখব মুভিটা।

সর্বশেষ এডিট : ২০ শে মে, ২০১৯ রাত ৮:৫৭
১৭টি মন্তব্য ১৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মাতৃভূমিকে ছোট করে প্রতিবেশী দেশকে মহান দেখানোর উদ্দেশ্য কি?

লিখেছেন ভুয়া মফিজ, ০৮ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:২১



বহুদিন ব্লগে ঘোরাঘুরি করা হয় না। গত সপ্তাহে কি মনে হলো, ভাবলাম একটু ঘোরাঘুরি করি। তো ঘুরতে ঘুরতে কিছু পোষ্ট পড়লাম; কিছু মন্তব্যও নজরে আসলো, বিশেষভাবে দুইটা মন্তব্য।... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ নিত্য তোমার অন্বেষণে

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ০৮ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:২২

জানি,
তুমি ছড়িয়ে আছো চতুর্দিকেই,
তবুও,
মন খারাপে তাকাই আমি আকাশপানেই
দিনে তাকাই, রাতেও তাকাই,
আলোয় তাকাই , কালোয় তাকাই,
তাকাই মানে তোমায় খুঁজি,
খুঁজতে খুঁজতে চোখ বুঁজি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ১৯৩

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৮ ই জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৫০



আর্জেন্টিনা দুই গোল খেয়ে গেছে!
মেসি পেনাল্টি মিস করেছে। এদিকে খেলা অর্ধেক শেষ। তখনও আমি বলেছি, আর্জেন্টিনা জিতবে। কোনো চিন্তা নাই। প্যারা নাই। চিল। হ্যা আমার কথাই সত্য হয়েছে। আর্জেন্টিনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

এদেরকে না রুখলে চড়া মূল্য দিতে হবে

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৮ ই জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৬



মাহবুব আজিজ, আনিস আলমগীর, সোমা ইসলাম, শাওন, মঞ্জুরুল পান্না, শম্পা রেজা, কালচারাল ফ্যাসিস্ট ফরিদুর রেজা শাইখ সিরাজ এদেরকে এখনই বন্ধ করতে হবে না হলে বাংলাদেশকে চড়া মূল্য দিতে হবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

সব দোষ গাজী সাহেবের!

লিখেছেন মাথা পাগলা, ০৯ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ২:৫৩



ধরেন, এখন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আছে। শেখ হাসিনা সংসদ ভবনের সামনে ভারতের স্বাধীনতা দিবস জাঁকজমক করে পালন করলেন। ভারতের শীর্ষ নেতা এলেন, ভারতের পতাকা উড়ল...

এখন চুপ করে থাকা পাকিস্থানপন্থীরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×