
সাউথ ইন্ডিয়ান মুভি দেখলাম।
হিন্দি ডাবিং। মুভি দেখার কোনো ইচ্ছা'ই ছিল না। ঘুম আসছিল না। বই পড়তে ইচ্ছা করছিল না। তাই একই মুভি দেখে ফেললাম। মুভির কাহিনি অনেকটা এই রকম- একটা ছেলে-মেয়ের প্রেম কাহিনি। ছেলেটা মেয়েটা কলেজ ছুটি হবার সময়- রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকে প্রতিদিন। একদিন মেয়েটা রেগে-মেগে ছেলেটাকে বলল, এই তুই আমার যাওয়া-আসার সময় রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকিস কেন?
ছেলেটা বলল, এই মাইয়া রাস্তা কি তোর বাপের? আমার ইচ্ছা আমি দাঁড়িয়ে থাকি।
মেয়েটা বলল, আমাকে রাগাইস না। মাইর খাবি।
ছেলেটা বলল, আমার মাথা গরম করিস না। তাহলে লাঠি দিয়ে মেরে মাথা ফাটিয়ে দিব- এই কথা বলেই রাস্তা থেকে একটা লাঠি উঠিয়ে নেয় ছেলেটা। লাঠি নিয়ে মেয়েকে মারতে যাবে, তখন দেখে মেয়েটার হাতে একটা ধারালো ছুরি। ছেলেটা ভয় পেয়ে ঝেরে দৌড় দেয়।
পরের দিন আবার ছেলেটা দাঁড়িয়ে থাকে মেয়েটার কলেজের সামনে।
এবার মেয়েটা ছেলেটার আশে পাশে ঘুর-ঘুর করতে থাকে। ছেলেটা বলে ওই মাইয়া তুই আমার আশে পাশে ঘুরতাছিস কেন? তোর সমস্যা কি?
মেয়েটা লাজ-লজ্জার মাথা খেয়ে বলে, তোমাদের বাসায় মনে হয় মূরগীর মাংস রান্না হচ্ছে। খুব সুন্দর গন্ধ বের হয়েছে। আসলে মূরগীর মাংস আমার খুব, খু-উ-ব প্রিয়। এখন তুমি আমাকে একবাটি মূরগীর মাংস দাও।
ছেলেটা বলল, যদি আমার পিঠ চুলকে দাও তাহলে আমি তোমাকে একবাটি মূরগীর মাংস দিব।
মেয়েটা বলল, একটা মেয়ে- কিভাবে একটা অপরিচিত ছেলের পিঠ চুলকে দেয়?
ছেলেটা বলল, যদি তোমার অস্বস্তি লাগে তাহলে আমাকে তুমি তোমার ভাই ভেবে নাও! তবু চুলকে দাও।
মূরগীর লোভে মেয়েটা ছেলেটার পিঠ চুলকে দেয়।
(এই পর্যন্ত দেখে সুরভি বলল, এই ফালতু মুভি আমার পক্ষে দেখা সম্ভব না। সে রাগ করে পাশের ঘরে চলে গেল। আমি ভাবলাম, পরিচালক টাকা খরচ করে এই মুভি বানিয়েছে কেন? এই 'কেন'র উত্তর পাওয়ার জন্য আমাকে পুরো মুভিটা দেখতে হবে।)
আমি মুভি দেখায় মন দিলাম।
এইভাবে প্রতিদিন নানান ছোট ছোট ঘটনা ঘটতে ঘটতে ছেলেটার সাথে মেয়েটার কঠিন প্রেম হয়ে যায়।
নায়কের বাবা প্রতিদিন রাতে অফিস শেষ করে মদ খেয়ে বাসায় ফিরে। বাসায় ফিরে ভুলে ওয়াশরুমের বদলে রান্না ঘরে চলে যায়। রান্না ঘর থেকে ফিরে বউকে বলে, টয়লেটে হাড়ি পাতিল রাখো কেন?
তখন বউ রেগে মেগে বলে- ওইটা বাথরুম নয়। রান্না ঘর।
যাই হোক, নায়কের বাবা রান্না ঘর থেকে ফিরে ছেলেকে বলে- আজ মদ খেয়ে আরাম পাইনিরে। আর একটু খেতে পারলে আরাম হয়। তখন বাপ মদ খেতে বসে। কিছু মদ খেয়ে ছেলেকে বলে এখন আমার নাচতে ইচ্ছা করছে রে।
ছেলে বলে নাচো বাবা।
বাবা ধুমধারাকা নাচ নাচতে থাকে। তখন ছেলে লুকিয়ে লুকিয়ে বাবার মদ খেয়ে ফেলে। আর মা টিভি সিরিয়াল দেখায় ব্যস্ত।
ঘটনা চক্রে নায়ক নায়িকা একই এলাকায় থাকে।
এমনকি তাদের বাসাও পাশাপাশি। দুইজনের টয়লেট পাশাপাশি। ওয়াশরুমের ছোঁট্র জানালা খুললেই- দুইজনের দেখা হয় রোজ। তারা প্রতিদিন ঘন্টার পর ঘন্টা টয়লেটে পার করে। দুইজন দুইপাশ থেকে ঘন্টার পর ঘন্টা দুইজনের দিকে তাকিয়ে থাকে। তারা মুখে কোনো কথা বলে না। তাদের কথা হয় চোখে চোখে। একদিন ছেলের বাপ বলল- এই তোর সমস্যা কি? প্রতিদিন তিন থেকে পাঁচ ঘন্টা টয়লেটে থাকিস? আবার টয়লেটে যাওয়ার আগে চুল আচড়াস, বডি স্প্রে দেছ? আয়রন করা জামা পড়িস।
ছেলের বাপ কোনো উপায় না দেখে ডাক্তারকে ফোন করেন।
এদিকে মেয়ের মা-ও মেয়েকে জিজ্ঞেস করে- কেন তুই প্রতিদিন সাজগোজ করে ওয়াশরুমে যাস? চার পাঁচ ঘন্টা বাথরুমে কাটিয়ে দিস! ঘটনা কি?
এইভাবে নানান টুকরো টুকরো ঘটনা চলতে থাকে।
শেষের দিকে, একসময় নায়িকা সব ভূত হয়ে যায়। নায়ককে একটা ভাঙ্গা বাড়িতে নিয়ে যায় গুন্ডারা মেরে ফেলার জন্য। তখন নায়িকা নায়কের শরীরে প্রবেশ করে সব গুন্ডাদের মেরে ফেলে।
মুভিতে কিভাবে কি ঘটলো- আমি কিছুই বুঝলাম না।
আজ আবার দেখব মুভিটা।
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে মে, ২০১৯ রাত ৮:৫৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



