somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

আজকের ডায়েরী- ১৯

২৭ শে মে, ২০১৯ রাত ৯:৫১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



এক সরকারী অফিসে বসে আছি।
বড় স্যার তার পিয়নকে ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন দিয়ে বলছেন, যেখান থেকে পারো ওষুধ গুলো নিয়ে আসো। আমার মেয়ে অসুস্থ। আমি শ্যামলীতে খুঁজেছি, পাইনি। তুমি শাহবাগ যাও। শাহবাগ না পেলে মিডফোর্ড যাবে। পুরো ঢাকা শহর খুঁজে যেখান থেকে পাও ওষুধ নিয়ে আসো। আসতে হবে দুপুর দু’টার আগে। আমি আবার আজ তাড়াতাড়ি বের হবো। পিওন সাথে সাথে তুফানের মতোন বের হয়ে গেলো জ্বী স্যার বলে।

রাতে ভয়ানক স্বপ্ন দেখেছি।
যেদিন রাতেই আমি খারাপ স্বপ্ন দেখি, পরের দিনটা খারাপ যায়। স্বপ্ন দেখে রাতে ঘুমের মধ্যেই ভয় পাই। শরীর কেঁপে উঠে। চোখ মেলে যে তাকাবো সেই সাহসও থাকে না। সকালে ঘুম থেকে উঠে ভাবি, এত ভয় পাওয়ার তো কিছু ছিল না। নিজের কাছেই লজ্জা লাগে। দিনের বেলা হুটহাট করে খাপছাড়াভাবে রাতের স্বপ্ন গুলো মনে পরে। রক্ত, খুন, ভূত, রামদা। স্বপ্নের ব্যাখ্যা আমি নিজেই নিজেকে দেই- মুভি দেখি। মুভিতে মারামারি, কাটাকাটি থাকে। এগুলোই রাতে স্বপ্নে দেখি। সাউথ ইন্ডিয়ান মুভি গুলোতে মারামারি, খুনখারাবি বেশি থাকে। নিজেকে বারবার বলি, মুভি দেখব না, বই পড়বো। অথচ বই পড়া কম হচ্ছে।

ইফতারের আগে আগে বাসায় ফিরলাম।
বাসায় ফিরে দেখি মা আর সুরভি ছাড়া কেউ নাই। সবাই ইফতার পার্টিতে গিয়েছে। আমি মার ঘরে বসলাম। মা নীচ তালায় থাকে। আমি থাকি ছয় তলায়। মার শরীরটা আজ কিছু দিন ধরে ভালো নেই। ইফতারীর ঠিক আগ মুহুর্তে মা খুব অসুস্থ হয়ে পড়লো। বাইরে তখন বাতাস ছেড়েছে বাতাস, সাথে বৃষ্টি। বিদ্যুত গেলো চলে। মার জ্বর ১০৩ এর বেশি। সে আবোল তাবোল বকছে। অবশ্য আমি ১০৩ জ্বর নিয়ে স্বাভাবিক থাকতে পারি। সুরভি মার মাথায় পানি দিচ্ছে। অবস্থা বেশি সুবিধার না। তাই আমি দৌড়ে গেলাম বাড়ির কাছের হাসপাতালে। তখনও মানূষজন ইফতারী করছে। হাসপাতালের লোক বলল, আজ শুক্রবার। ইমার্জেন্সীতে একজন ডাক্তার’ই আছেন। কাজেই ডাক্তার সাহেব বাসায় যেতে পারবো না।

আমি বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে বাসায় ফিরলাম।
মা প্রায় বেহুশ অবস্থা। মেয়েকে (পরীকে) নিয়ে আমি বাসায় থাকলাম। সুরভি মাকে নিয়ে হাসপাতাল গেল। বাড়ির কাছেই হাসপাতাল। হেঁটে গেলেও চার মিনিট লাগে। হাসপাতাল যেতে যেতেই মা সুরভি ভিজে একাকার। আমি আর পরী অন্ধকারে মন খারাপ করে বসে আছি। মায়ের এই অবস্থাতে আজ ইফতার করা হয়নি। সুরভি হাসপাতাল থেকে ফোন করলো। ইমার্জেন্সীতে আরও চারজন রোগী আছে। তারপর মাকে দেখবে ডাক্তার। মেয়েকে বললাম, তুমি থাকো বাসায়, আমি তোমার দিদাকে দেখে আসি। মেয়ে বলল- না, আমি একা থাকতে পারবো না। কারেন্টও নেই। আমি তোমার সাথেই যাবো।

মেয়েকে নিয়েই ভিজতে ভিজতে হাসপাতালে গেলাম।
অথচ আমাদের বাসায় কম করে হলেও দশটা ছাতা আছে। গিয়ে দেখি মা সুরভির কাঁধে মাথা রেখে শুয়ে আছে। ইমার্জেন্সীতে যে ক’জন রোগী আছে সবার’ই ভয়াবহ অবস্থা। কাউকে যে অনুরোধ করবো, আগে ডাক্তার আমার মাকে দেখুক। তা বলা যায় না, সব গুলো রোগীর’ই ভয়াবহ অবস্থা। এর মধ্যে একজন আসছেন শরীয়তপুর থেকে। রোগীকে যিনি শরীয়তপুর থেকে নিয়ে আসছেন তার সাথে অনেকক্ষন কথা হলো। তার এক ছেলে, এক মেয়ে। মেয়েকে সাথে করে নিয়ে আসছেন। এই মেয়ে বড় হয়ে ডাক্তার হবে। ছেলে মাদরাসায় পড়ে। ছেলের হাতের লেখা আবার অনেক সুন্দর। একটা কাগজে আমাকে হাতের লেখাও দেখালেন ভদ্র মহিলা।

যাই হোক, মাকে নিয়ে বাসায় ফিরলাম।
এবং হাসপাতাল থেকে বাসায় ফেরার আগে ভদ্রমহিলাকে কথা দিতে হয়েছে- তাদের শরীয়তপুরের বাড়িতে অবশ্যই বেড়াতে যাবো। উনাদের বাড়ির পেছনে বিশাল এক দীঘি আছে। সেই দীঘির পানি কঠিন টলটলা আর খেতে ভীষন মিষ্টি। যাই হোক, তবে এবার আমার ভাগ্য ভালো, মা সন্ধ্যায় অসুস্থ হয়েছেন। এর আগে যতবার মা অসুস্থ হয়েছেন তখন রাত তিনটা। এই রাত তিনটায় একা মাকে নিয়ে হাসপালাতে যেতে হয়েছে আমাকেই। ঘটনা চক্রে তখন আমার কোনো ভাইরা সেদিন বাসায় থাকে না। অসংখ্যবার রাত তিনটায় আমি একা মাকে নিয়ে হাসপাতালে গিয়েছি। রিকশা নাই, সিএনজি নাই। ভয়াবহ অবস্থা।
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে মে, ২০১৯ রাত ৯:৫১
১২টি মন্তব্য ১২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মাতৃভূমিকে ছোট করে প্রতিবেশী দেশকে মহান দেখানোর উদ্দেশ্য কি?

লিখেছেন ভুয়া মফিজ, ০৮ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:২১



বহুদিন ব্লগে ঘোরাঘুরি করা হয় না। গত সপ্তাহে কি মনে হলো, ভাবলাম একটু ঘোরাঘুরি করি। তো ঘুরতে ঘুরতে কিছু পোষ্ট পড়লাম; কিছু মন্তব্যও নজরে আসলো, বিশেষভাবে দুইটা মন্তব্য।... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ নিত্য তোমার অন্বেষণে

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ০৮ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:২২

জানি,
তুমি ছড়িয়ে আছো চতুর্দিকেই,
তবুও,
মন খারাপে তাকাই আমি আকাশপানেই
দিনে তাকাই, রাতেও তাকাই,
আলোয় তাকাই , কালোয় তাকাই,
তাকাই মানে তোমায় খুঁজি,
খুঁজতে খুঁজতে চোখ বুঁজি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ১৯৩

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৮ ই জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৫০



আর্জেন্টিনা দুই গোল খেয়ে গেছে!
মেসি পেনাল্টি মিস করেছে। এদিকে খেলা অর্ধেক শেষ। তখনও আমি বলেছি, আর্জেন্টিনা জিতবে। কোনো চিন্তা নাই। প্যারা নাই। চিল। হ্যা আমার কথাই সত্য হয়েছে। আর্জেন্টিনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

এদেরকে না রুখলে চড়া মূল্য দিতে হবে

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৮ ই জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৬



মাহবুব আজিজ, আনিস আলমগীর, সোমা ইসলাম, শাওন, মঞ্জুরুল পান্না, শম্পা রেজা, কালচারাল ফ্যাসিস্ট ফরিদুর রেজা শাইখ সিরাজ এদেরকে এখনই বন্ধ করতে হবে না হলে বাংলাদেশকে চড়া মূল্য দিতে হবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

সব দোষ গাজী সাহেবের!

লিখেছেন মাথা পাগলা, ০৯ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ২:৫৩



ধরেন, এখন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আছে। শেখ হাসিনা সংসদ ভবনের সামনে ভারতের স্বাধীনতা দিবস জাঁকজমক করে পালন করলেন। ভারতের শীর্ষ নেতা এলেন, ভারতের পতাকা উড়ল...

এখন চুপ করে থাকা পাকিস্থানপন্থীরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×