somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

অবশেষে

৩০ শে মে, ২০১৯ রাত ১১:০৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আমি একটি ব্যাংকে চাকরী করি।
আমার বাবা মা নেই। চাচার কাছ থেকেই অনেক কষ্টে লেখাপড়া শেষ করেছি। চাচা-চাচী আমাকে কখনও ভালোবাসেন নি। প্রচুর কাজ করতে হয়েছে আমার। অথচ আমার’ই বয়সী তাদের তিনটি ছেলে মেয়ে খেলা করেছে। তখন হয়তো আমি উঠান ঝাড়ু দিয়েছি, বাজারে গিয়েছি অথবা কাপড় ধুচ্ছি। শুধু মাত্র নিজের তীব্র ইচ্ছার কারনেই লেখাপড়া শেষ করতে পেরেছি। একটা ভালো চাকরী পেয়েছি। এখন আমি শহরে থাকি। চাচা চাচীকে নিয়মিত টাকা পাঠাই। যতদিন তারা বেঁচে আছেন- আমি টাকা পাঠাবো। আল্লাহর রহমতে এখন আমি বেশ ভালো আছি। ব্যাংকে আমার প্রতিমাসে টাকা জমছে। আমি একটা মেসে থাকি। এক কথায় বলা যায়, সীমাহীন আনন্দময় একটা জীবন। প্রতিদিন অফিস করি। ছুটির দিনে একা একাই বেড়াতে যাই। বই পড়ি, গান শুনি।

অফিসে আমার সামনের টেবিলে রিমি নামে একটা মেয়ে বসে।
চমৎকার হাসি খুশি প্রানবন্ত মেয়ে। প্রতিদিন খুব সুন্দর করে সেজেগুজে অফিসে আসে। মেয়েটা হয়তো আমাকে পছন্দ করে। মাঝে মাঝে রাতে ফোন দেয়। একদিন মেয়েটা আমাকে জোর করে বেড়াতে নিয়ে গেল। আমরা সারাটা দিন খুব ঘুরে বেড়ালাম। নৌকায় উঠলাম। রিমি টিফিন কেরিয়ারে করে নিজের হাতে রান্না করে খাবার নিয়ে এসেছে। দুপুরে খুব মজা করে খেলাম। সন্ধ্যায় আচমকা রিমি বলল, সে আমাকে খুব ভালোবাসে। আমি খুব অবাক হলাম। এখন আমি ভালোবাসাবাসির ঝামেলায় যাবো না। আগে নিজের লাইফটা গুছাবো। ফ্লাট কিনবো, গাড়ি কিনব। ব্যাংকে অনেক টাকা জমাবো তারপর বিয়ে। কিন্তু এই কথা আমি রিমিকে বলতে পারলাম না। সব কথা সব সময় বলা যায় না।

একদিন অফিস ছুটি শেষে রিমি বলল, আজ সে আমার মেসে যাবে। যাবেই।
আমি কোথায় থাকি দেখবে। আমি খুব লজ্জার মধ্যে পড়লাম। একটা ছোট্র ফ্ল্যাটে আমরা চারজন গাদাগাদি করে থাকি। আমি বললাম, রিমি পরে যেও, অন্য কোনো দিন। রিমি বলল, নো নেভার। আজ’ই যাবো। সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় রিমিকে নিয়ে আমার ফ্লাটে আসলাম। আমার রুমমেটরা খুব অবাক হলো। প্রতিটা ছেলে খুব ভালো। ওরা সবাই ছাত্র, শুধু মাত্র আমি’ই চাকরীজীবি। আমি আর রিমি আমার রুমে বসলাম। রুম বন্ধ করতেই রিমি আমার উপর ঝাঁপিয়ে পড়লো। ঠোটে ঠোট রেখে গভীরভাবে চুমু দিলো। জীবনে প্রথম কোনো নারী আমার ঠোটে ঠোঁট রাখলো। অন্যরকম একটা ভালো লাগায় পুরো শরীর যেন কেমন করে উঠলো। একসময় দু’জনেই সমস্ত জামা কাপড় ফ্লোরে ছুড়ে ফেললাম। আমি নিজেকে আটকে রাখতে পারিনি। দু’জনেরই পুরো শরীর জেগে উঠেছিল। আমার কোনো দোষ নেই। আমি জোর করিনি। আর এরকম চিন্তাও ছিল না আমার মনে।

শরীরের স্বাদ একবার পেয়ে গেলে, বার বার সেই স্বাদ পেতে মন চায়।
না পেলে অস্থির অস্থির লাগে। কোনো কিছু ভালো লাগে না। কাজে মন বসে না। আমি বার বার সুযোগ খুঁজি কিভাবে রিমিকে কাছে পাবো। একদিন রিমিকে বলেই ফেললাম, রিমি আমি তোমাকে একান্ত গোপনে কাছে পেতে চাই। রিমি বলল, আমার কোনো সমস্যা নেই। তুমি জায়গা দাও। তোমার ঐ মেসে যেতে পারবো না। রুমে থাকে তোমার রুমমেটরা- আমার খুব লজ্জা করে। অন্য কোথাও চলো। এরপর আমি গোপনে গোপনে একটা এক রুমের বাসা খুঁজতে থাকি। আমার ভাগ্য ভালো একটা বাসা পেয়ে গেলাম। আঠারো তলা বাড়ি। বাড়িতে এখনও কোনো ভাড়াটিয়া উঠেনি। ইলেকট্রিক লাইন এখনও দেওয়া হয়নি। গ্যাস লাইনও দেওয়া হয়নি। পানির লাইনও দেওয়া হয়নি। তবে এক মাসের মধ্যে পুরো বাড়ির কাজ সম্পূর্ন করা হবে।

আমাকে এই বাড়ির সন্ধান দেয় রফিক নামের একজন।
তার মামা আঠারো তালার ফ্ল্যাট্টি কিনে। পুরো ফ্ল্যাট সাজানো গুছানো। রফিক আমাকে তিন মাসের জন্য ফ্ল্যাটটি অল্প টাকায় ভাড়া দিয়েছে। রফিক এক বিশেষ কাজে খুলনা যাবে। তাই সে ফ্ল্যাটের চাবি আমার হাতে দিয়ে গেল। আমি দুই মাসের ভাড়া রফিককে দিয়ে দিলাম। এই আঠারো তালা ফ্লাটে আমি আর রিমি আনন্দময় সময় পার করবো। একদিন রাতে হুট করে আমি আমার ব্যাগ গুছিয়ে নতুন ফ্ল্যাটে চলে আসি। বাড়ির নম্বর ১৩২০। বাড়িতে প্রবেশ করে দেখি বুড়ো দাড়োয়ান ঘুমাচ্ছে। বিদ্যুতের সংযোগ দেওয়া হয়নি। লিফট বন্ধ। আমি আস্তে ধীরে অন্ধকার মাড়িয়ে ১৮ তলায় এসে উঠলাম। চাবি দিয়ে দরজা খুলে রুমে ঢুকলাম। মোবাইলের টর্চ জ্বেলে পুরো রুম ঘুরে ঘুরে দেখলাম। নতুন খাট, এসি, বাথরুম ঝকমক করছে। রাতে এখানে ঘুমিয়ে পড়লাম। রিমিকে ফোন করা হলো না। মোবাইলে চার্জ নেই। ঘুমের আগে রিমিকে নিয়ে কি কি করবো সব ভেবে রাখলাম।

বেশ ভালো ঘুম হলো।
পানি নেই। তাই ফ্রেশ না হয়েই বের হলাম। দরজায় তালায় চাবি লাগালাম। রুম লক করবো। তখন মনে পড়লো মোবাইলটা রেখে আসছি। আবার ঘরের ভিতর ঢুকলাম মোবাইল নিতে। মোবাইল নিয়ে ফিরে এসে দেখি ঘরের দরজা লক হয়ে গেছে। আমি ভিতরে আটকে গেছি। চাবি বাইরে তালার সাথে ঝুলছে। খুব চেষ্টা করলাম ভিতর থেকে তালা খুলতে। দরজায় অনবরত লাথথি দিলাম। ধাক্কা দিলাম। কিছুতেই তালা খোলা বা ভাঙ্গা সম্ভব হলো না। পুরো বিল্ডিং এ আমি একা। নিচে দাড়োয়ান। এখন থেকে চিৎকার দিলেও কেউ শুনবে না। তারপর বেলকনিতে গিয়ে খুব চিৎকার চেচামেচি করলাম। বারান্দার গ্রীল ধরে ধাক্কাধাক্কি করলাম। আমার চিৎকার কারো কানে গেলো না। গ্রীলের শব্দ কারো কাছে গিয়ে পোঁছাল না। কিভাবে বাঁচবো আমি? আমার কাছে এক বক্স দেয়াশলাই ছাড়া কিছুই নাই।

দুপুর গড়িয়ে সন্ধ্যা। সন্ধ্যা থেকে রাত।
প্রচন্ড ক্ষুধা পেয়েছে। ঘরে কোনো খাবার নেই। এমন কি পানি পর্যন্ত নেই। তৃষ্ণায় বুক ফেটে যাচ্ছে। একাএকা অনেকক্ষন কান্না করলাম। কাঁদতে কাঁদতে মা, মাগো বলে মাটিতে গড়াগড়ি দিলাম। পুরো ঘর অন্ধকার। বেলকনিতে গেলে আসে পাশের আলো দেখা যায়। কি করবো কিছুই বুঝতে পারছি না। মাথা কাজ করছে না। রাগের মাথায় মোবাইলটা আছাড় দিয়ে ভেঙ্গে ফেললাম। চার্জ নেই। ঘরে একটা টিভি ছিল, সেটাও আছাড় দিয়ে ভাঙ্গলাম। আমি ছোটবেলা থেকেই তেলাপোকা আর ইঁদুর খুব ভয় পাই। এই ফ্ল্যাটের রান্না ঘরে ইঁদুর তেলাপোকা দু’টাই আছে। আমার দম বন্ধ হয়ে আসছে। ক্ষুধায় জীবন শেষ। মনে মনে প্রভুকে বলি- কি পাপ আমি করেছিলাম! বারান্দায় নিজের গায়ের গেঞ্জিটা খুলে আগুন জ্বালিয়ে দিলাম। যদি বাইরে থেকে কেউ আগুন দেখতে পায়। কিন্তু না, কিছুই হলো না। আগুন ধরে কিছুক্ষন পর নিভে গেলো।

ছয় দিন আমি এই বাড়ির আঠারো তালার ফ্ল্যাটে বন্দী।
আমার শরীর নিস্তেজ হয়ে গেছে। বেলকনিতে দাঁড়িয়ে এত চেচামেচি করেছি যে, এখন আর আমার গলা দিয়ে কোনো শব্দ বের হয় না। শরীরে কোনো শক্তি নেই। পুরো ঘর তছনছ করে ফেলেছি। ঘরের সমস্ত জিনিসত্র দরজায় উড়িয়ে মেরেছি। টিভি, মাইক্রোওভেন, বালতি, টি টেবিল ইত্যাদি সব কিছু। তবু দরজার তালা একটু নড়াতে পারিনি। আমার ভাগ্য ভালো একদিন হুট করে খুব বৃষ্টি হলো- বেলকনিতে গিয়ে বৃষ্টির পানি ডিব্বা-ডাব্বা যা পেলাম সব কিছুতে পানি জমিয়ে রাখলাম। ইচ্ছে মতোন বৃষ্টির পানি খেলাম। মন প্রান সব জুড়িয়ে গেলো। বৃষ্টির পানি পুরো শরীরে মাখলাম। ওই দিন বিকেলে, রান্না ঘরে যে ইদুরটা থাকে সেটাকে মেরে ফেললাম। তারপর পুড়িয়ে খেলাম। পরের দিন তিনটা তেলাপোকা ধরে খেয়ে ফেললাম। কেউ আসার আগ পর্যন্ত আমাকে বেঁচে থাকতে তো হবে। ন্যাশনাল জিওগ্রাফী চ্যানেলে দেখেছি একলোক ইঁদুর ধরে পুড়িয়ে খায়। নানান রকম জীবন্ত পোকা খায়। অবশ্য ক্ষুধার তাড়নায় খেয়েছি আর বমি করেছি।

(দ্বিতীয় পর্ব আগামীকাল)
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে মে, ২০১৯ রাত ১১:০৭
১০টি মন্তব্য ১০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মাতৃভূমিকে ছোট করে প্রতিবেশী দেশকে মহান দেখানোর উদ্দেশ্য কি?

লিখেছেন ভুয়া মফিজ, ০৮ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:২১



বহুদিন ব্লগে ঘোরাঘুরি করা হয় না। গত সপ্তাহে কি মনে হলো, ভাবলাম একটু ঘোরাঘুরি করি। তো ঘুরতে ঘুরতে কিছু পোষ্ট পড়লাম; কিছু মন্তব্যও নজরে আসলো, বিশেষভাবে দুইটা মন্তব্য।... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ নিত্য তোমার অন্বেষণে

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ০৮ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:২২

জানি,
তুমি ছড়িয়ে আছো চতুর্দিকেই,
তবুও,
মন খারাপে তাকাই আমি আকাশপানেই
দিনে তাকাই, রাতেও তাকাই,
আলোয় তাকাই , কালোয় তাকাই,
তাকাই মানে তোমায় খুঁজি,
খুঁজতে খুঁজতে চোখ বুঁজি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ১৯৩

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৮ ই জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৫০



আর্জেন্টিনা দুই গোল খেয়ে গেছে!
মেসি পেনাল্টি মিস করেছে। এদিকে খেলা অর্ধেক শেষ। তখনও আমি বলেছি, আর্জেন্টিনা জিতবে। কোনো চিন্তা নাই। প্যারা নাই। চিল। হ্যা আমার কথাই সত্য হয়েছে। আর্জেন্টিনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

এদেরকে না রুখলে চড়া মূল্য দিতে হবে

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৮ ই জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৬



মাহবুব আজিজ, আনিস আলমগীর, সোমা ইসলাম, শাওন, মঞ্জুরুল পান্না, শম্পা রেজা, কালচারাল ফ্যাসিস্ট ফরিদুর রেজা শাইখ সিরাজ এদেরকে এখনই বন্ধ করতে হবে না হলে বাংলাদেশকে চড়া মূল্য দিতে হবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

সব দোষ গাজী সাহেবের!

লিখেছেন মাথা পাগলা, ০৯ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ২:৫৩



ধরেন, এখন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আছে। শেখ হাসিনা সংসদ ভবনের সামনে ভারতের স্বাধীনতা দিবস জাঁকজমক করে পালন করলেন। ভারতের শীর্ষ নেতা এলেন, ভারতের পতাকা উড়ল...

এখন চুপ করে থাকা পাকিস্থানপন্থীরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×