somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভাবছি ব্যবসা করবো। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

স্তব্ধ সময়

০৩ রা জুন, ২০১৯ বিকাল ৩:৫২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



‘দরকার ধীর-স্থির ও কষ্টসহিষ্ণু একটি মেয়ে৷ যাঁর চাহিদা থাকবে কম, প্রেরণা থাকবে বেশি’৷
সকালে ঘুম থেকে উঠেই এই কথাটিই মনে হলো- ফরহাদ সাহেবের। ফরহাদ বিয়ে করেছে, আজ ছয় বছর হলো। তার স্ত্রী সুমি। তাদের দু’টা সন্তান। এই শহরেই তারা একটা ভাড়া বাড়িতে থাকে। বিয়ে করার সাত দিন পর ফরহাদের মনে হয়েছে ‘বিয়ে করে সে জীবনের সবচেয়ে বড় ভুলটা করেছে। তারপরও এই বঊ বাচ্চা আর সংসার টেনে ছয় বছর পার করে ফেলেছে। এখন সে অতিষ্ঠ। বিরক্তির শেষ সীমায় পৌঁছে গেছে। তার দম বন্ধ হয়ে আসে। আর ভালো লাগে না। সমাজ, পরিবার, সন্তান এবং চক্ষু লজ্জার কারনে বউকে তালাকও দিতে পারছে না। অন্যদিকে বউকে সহ্য করাও অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। এক বিছানায় ঘুমালেও মনের দূরত্ব সাত সমুদ্র। ফরহাদ মনে মনে চায় সুমি পাশের ঘরে গিয়ে ঘুমাক।

ফরহাদ সাহেব তার স্ত্রীকে সহ্য করার মতোন কোনো কারন খুঁজে পায় না।
অথচ এক সময় এই মেয়ের জন্যই কি পাগলামী’ই না করেছেন তিনি! বিয়ের আগে সপ্তাহে দুই দিন দেখা না হলে পাগল হয়ে যেতেন। এখন ফরহাদ সাহেব বুঝতে পারছেন, বিয়ের আগেই জীবনটাই বেশ সুন্দর ছিল। প্রেম ভালোবাসার সময়টাই আনন্দময়। বিয়ের পর দোজক। গত ছয় বছরে ফরহাদ সাহেবের জীবনটা শেষ। কোনো আনন্দ নেই। সে আর পারছে না। এখন আপনারা জানতে চাইবেন- সমস্যাটা কোথায়? সুমি কি করেছে? ভদ্রলোকের ছেলে বলে, সমস্যাটা যে কোথায় তা কাউকে বলতেও পারছে না ফরহাদ সাহেব। মনে মনে নিজের বউকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করেন সকাল দুপুর। ভদ্রলোকের ছেলে বলে চিৎকার চেচামেচি করতে পারছেন না। চিৎকার চেচামেচি করলে আশে পাশের লোকজন শুনবে। জানবে। হাসবে। বাইরে থেকে অনেকেই বলেন, সুমি খুব ভালো। সংসারটা কি সুন্দর করে সাজিয়ে গুজিয়ে রাখে।

ফরহাদের বউ সুমি মাস্টার্স পাশ।
চালচলনে আধুনিক। সংসার জীবন ছয় বছর হয়ে গেছে। সুমি মনে করে সে তার বেস্টটাই দিয়েছে সংসারে। এখন, ফরহাদ বউ এর রান্না মুখে দিতে পারে না। দিনের পর দিন হোটেল থেকে খেয়ে আসে। অথচ সে নিয়মিত ভালো ভালো বাজার করে। রান্না খারাপ হলেও ফরহাদ সুমিকে বলে না। বলতে ইচ্ছা করে না। সুমি ভালো কথা বললেও ফরহাদের শরীর জ্বলে। গত ছয় মাস ধরে ফরহাদ পারতপক্ষে বউ এর সাথে বাড়তি কথা বলে না। বউ যখন বলে তার বাবা ফোন করেছিল- যেতে বলেছে। তখন ফরহাদের মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়ে। সারা বাংলাদেশের সব জাগায় ফরহাদের যেতে ইচ্ছা করে অথচ ওদের বাসায় (শ্বশুরবাড়ি) যেতে ইচ্ছা করে না। ফরহাদের দম বন্ধ হয়ে আসে। ওদের বাসায় গেলে সারাটা দিন মাটি আমার ফরহাদ বলে। সুমি কোথাও বেড়াতে গেলে ফরহাদের খুব শান্তি লাগে। যাক, কিছুটা সময় ধপাশ শব্দ আর ক্যাট ক্যাট থেকে রক্ষা পাওয়া গেল।

আরেকটা বিয়ে যে ফরহাদ করবে সে সাহস তার নেই।
আসলে টাকা নেই। টাকা থাকলে সাহস আপনা আপনি চলে আসে। রাতে সুমি ফরহাদের গায়ে হাত দিলে ফরহাদ ধাক্কা দিয়ে হাত সরিয়ে দেয়। ফরহাদের কাছে মনে হয়- ওর গায়ে বাজে গন্ধ, মুখেও বাজে গন্ধ। কতদিন যে ফরহাদ সুমি’র সাথে সহবাস করে না- তার হিসাব নেই। গত ছয় মাস ধরে সুমি বুঝতে পেরেছে- তার প্রতি ফরহাদেরর ভালোবাসা কমতে শুরু করেছে। তবে ফরহাদ সংসারের অন্যসব দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করছে। দুই হাত ভর্তি করে প্রতি সপ্তাহে নিয়মিত বাজার করে। বাচ্চাদের সমস্ত খরচ যথাসময়ে দিয়ে দেয়। ফল দিয়ে ফ্রিজ সব সময় ভরে রাখে। এমনকি প্রতিমাসের এক তারিখে সুমির হাত খরচ দিয়ে দেয়। এককথায় সংসারের সমস্ত দায়িত্ব পালন করছে।

সুমির কোন কোন বিষয় গুলো ফরহাদের অসহ্য লাগে তা সে একটা তালিকা তৈরি করেছে। তালিকায় ৩১৭ টা বিষয় আছে। যেমন, সুমি সকালে ব্রাশে পেষ্ট লাগিয়ে পেষ্টের মুখ লাগায় না। হাজার বার বলার পরও সে এই কাজ বছরের পর বছর করছে। হাঁটা চলা এমনকি বসার মধ্যেও কোনো সুমির কোনো সৌন্দর্য নেই। ধপাশ করে শব্দ করে বসে। আরে মেয়েদের হাঁটা চলা, বসার মধ্যে একটা নমনীয় ব্যাপার থাকে। সুমি হস্তিনী টাইপ নারী। সে শিক্ষিত হয়েও বস্তির মাতারিদের মতোন আচরন করে। ফরহাদ যখন সারাদিন অফিস শেষ করে বাসায় আসে এবং বিশ্রাম নেয় তখন সুমি এসে কানের কাছে চিবিয়ে চিবিয়ে কথা বলে। যা ফরহাদ একেবারেই সহ্য করতে পারে না। দিনের পর দিন একই অবস্থা। এজন্য ফরহাদ এখন অফিস থেকে দেরীতে বাসায় ফিরে। রাতে বাসায় ফিরেই চুপ করে ঘুমিয়ে পড়ে। সকালে সময়ের আগে অফিসের উদ্দেশ্যে বের হয়ে যায়। অফিসে ছুটি একেবারেই নেয় না।
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা জুন, ২০১৯ বিকাল ৩:৫২
১৮টি মন্তব্য ১৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মালয়েশিয়াতে ডাঃ জাকির নায়েকের দিন কি শেষ হয়ে আসছে?

লিখেছেন মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন, ১৯ শে আগস্ট, ২০১৯ সকাল ৮:৩৪


প্রভাবশালী মন্ত্রী এবং চায়নিজ ও ভারতীয় বংশোদ্ভূত মালয়েশিয়ানরা তাঁর বক্তব্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে।

নিজ দেশ ভারত থেকে পালিয়ে মালয়েশিয়া এসে বেশ ভালই ছিলেন ভারতীয় ধর্ম প্রচারক... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের শিশু আগামী দিনের ধর্ষক, দূর্নীতিবাজ, চোর-ছিনতাইকারী, চাঁদাবাজ, দালাল

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৯ শে আগস্ট, ২০১৯ দুপুর ১:৪৮



একজন শিশু জন্ম দেয়া কি খুব বেশি প্রয়োজন এই সমাজে?
প্রতিটা সংসারেই একটি ছেলে-মেয়ের বিয়ের পর আত্মীয় স্বজন সবাই বাচ্চার জন্য তাড়া দেয় কেন? বাচ্চা না নিলে সমস্যা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ব্লগারদের নামটি উল্টো করে পড়ুন আর হাসুন-রম্য-রঙ্গ-১৪

লিখেছেন মোঃ মাইদুল সরকার, ১৯ শে আগস্ট, ২০১৯ বিকাল ৩:৩৯




নজু

ময়াসি দমেহআ রজীনতা

বিছ মাতেফা জীকা

লইমাছই

লড়গ

বীথিপূনহী খঃদু

শবেগ্নিঅ

সাবালোভা-কনিল্পকা

দমুহমারকুঠা

নামাসীষ্টিদৃ

৭৪কেএ

জীগাদচাঁ

মহিফা করেতা

রকারস লদুইমা মোঃ

কন্তুগআ রতেরাধ্যম

নখা নসাহা বরাহমে

দজ্জাাসাা

ছবি-নিজের করা ডিজাইন। ...বাকিটুকু পড়ুন

ডেংগু ধরা পড়লে, রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করানোর দায়িত্ব কার?

লিখেছেন চাঁদগাজী, ১৯ শে আগস্ট, ২০১৯ বিকাল ৪:৩০



Tragic death of a child without any treatment

তানহা নামের ৭ বছরের একটি মেয়ে ঢাকায় নানীর সাথে থেকে পড়ালেখা করতো, ডেংগুতে গত শনিবার (আগষ্ট, ১৭) তানহা মৃত্যুবরণ করেছে; সে... ...বাকিটুকু পড়ুন

নীল আকাশের প্রান্ত ছুঁয়ে-২ (আকাশ ভালোবেসে লেখা)

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৯ শে আগস্ট, ২০১৯ বিকাল ৪:৫০



=চাঁদালোর ঘোর=
তাকিয়ো না আসমানে আজ, পুড়ে যাবে চোখ
মায়াবী আলোয় ইচ্ছে কেবল পথে পথে হাঁটি
ইট সুড়কির পথ, চলতেই যেনো বুক ধুকপুক,
এখানে নেই শিশির ভেজা দূর্বাঘাসের মাটি।
যদি সঙ্গে থাকো তুমি,ভয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×