somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভাবছি ব্যবসা করবো। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

ভাঙ্গা কূলার ছাই

১২ ই জুন, ২০১৯ বিকাল ৫:০৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



ইদানিং আমার মন মেজাজ বিক্ষিপ্ত হয়েছে।
ঘর সংসার, বন্ধু বান্ধব, আত্মীয় স্বজন, পরিচিত-অপরিচিত কাউকেই ভালো লাগছে না। ইচ্ছা করছে রসুলপুরের গ্রামে চলে যাই। শহরের জীবন অসহ্য লাগছে। দম বন্ধ হয়ে আসছে। কিন্তু বঊ আর বাচ্চার জন্য বাঁধা পড়ে যাচ্ছি।

একদিন সুরভিকে সাহস করে বলেই ফেললাম।
আমি কিছু দিনের জন্য ঢাকার বাইরে যেতে চাচ্ছি। তোমরা সুন্দরভাবে থাকো। আমি যথাসময়ে চলে আসবো। তোমাদের কোনো অসুবিধা হবে না। আমি দুই মাসের বাজার একসাথে করে দিয়ে যাবো। যাবতীয় সব খরচ দিয়ে যাচ্ছি। আমাকে যেতে দাও। আমি না বলেও চলে যেতে পারতাম। কিন্তু বলে যাওয়াটাই শোভন। তাছাড়া আমি পালিয়ে যাচ্ছি না, কিছুদিন পর ফিরে আসবো। তোমাদের ছাড়া বাকি জীবন আমি পার করতে পারবো না। তা তো ভালো করেই জানো।

এই কথা শুনেই সুরভি কান্নাকাটি করে অস্থির। চিৎকার চেচামেচি করে পুরো বাড়ি মাথায় তুললো। আর আমি তো চোখের পানি সহ্য করতে পারি না। বললাম, ঠিক আছে যাবো না। কান্নাকাটি বন্ধ করো। আমি তোমাদের খুব ভালোবাসি, তাতো জানো। কিন্তু সুরভি ঘ্যান ঘ্যান করেই যাচ্ছে। বলছে, কোন মেয়ের সাথে তোমার সম্পর্ক হয়েছে? নাম কি? আমি পড়ে গেলাম বিরাট বিপদে- বউ বলে কি? সহজ সরল ভাবে নিজের একটা ইচ্ছা প্রকাশ করে ঝামেলা বাঁধিয়ে ফেললাম নাকি? আমি আবারও কঠিন গলায় বললাম, কোথাও যাবো না আমি। কোথাও না। থামো। প্লীজ থামো।

সন্ধ্যায় বাসার সবাই মিলে বাইরে গেলাম।
রাতে সবাইকে চায়নিজ খাওয়াবো। বাসার পরিস্থিতি শান্ত করার জন্য- অন্য কোনো উপায় নেই। কিন্তু আমার মন পড়ে আছে মাটির রাস্তায়। ধুলো উড়িয়ে সারা বিকাল মাটির রাস্তায় হেঁটে বেড়াবো। মাইলের পর মাইল ধানী জমি। সেই জমিতে কৃষকের সাথে সারাদিন পাল্লা দিয়ে কাজ করবো। বিশাল পুকুর। পুকুরে দাপাদাপি করে গোছল করবো। জাল ফেলে পাঁচ মিশালী মাছ ধরবো। আকাশ ছোয়া বিশাল বিশাল গাছ। গাছের পাতার ফাঁক দিয়ে আকাশ দেখবো। স্কুলে গিয়ে বাচ্চাদের গল্প শোনাবো। বিকেলে স্কুল মাঠে বাচ্চাদের সাথে ফুটবল খেলব, ক্রিকেট খেলবো। রাতে হারিকেন জ্বালিয়ে উঠোনে খেতে বসবো। পাশেই থাকবে বিড়াল। সে একটু পরপর মিউ মিউ করে তার উপস্থিতি জানান দিবে। তাকে মাছের কাটা খেতে দিব। হারিকেনের আলোয় ঘুম না আসা পর্যন্ত বই পড়বো। খুব ভোরে মাটির পথ দিয়ে হেঁটে যাবো রসুলপুর বাজারে।

এখানে বনের কাছে ক্যাম্প আমি ফেলিয়াছি;
সারারাত দখিনা বাতাসে
আকাশের চাঁদের আলোয়
এক ঘাইহরিণীর ডাকে শুনি –
কাহারে সে ডাকে!

-------- জীবনানন্দ দাশ
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই জুন, ২০১৯ বিকাল ৫:০৫
১২টি মন্তব্য ১২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

টুকরো টুকরো সাদা মিথ্যা- ৯৮

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৬ ই জুন, ২০১৯ রাত ৯:১৬




অনেক বছর আগের কথা।
কত বছর আগের কথা(?) তা আর আজ মনে নেই। তবে কোনো মানুষ'ই অতীতের কথা পুরোপুরি ভুলে যেতে পারে না। হুটহাট করে কিছুটা মনে পড়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

@এপিটাফ

লিখেছেন , ১৭ ই জুন, ২০১৯ সকাল ৮:১২

@এপিটাফ


সব মায়ার বাঁধন ছিন্ন করে কষ্টের ডিঙি বেয়ে সমুদ্দুর,
তোমার থেকে দূরে গিয়ে পরখ করবো মমত্ব কতদূর !

আজ নির্ঘুম রাত্রিতে পাহারা দেয় দীর্ঘশ্বাসের নোনাজল,
এই বুকের ভিটায় আদিম নৃত্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

মোহনীয় রমণীয় প্যারিস (পর্ব ২)

লিখেছেন ভুয়া মফিজ, ১৭ ই জুন, ২০১৯ দুপুর ১২:৩৮



১ম পর্বের লিঙ্কview this link


আমি আজ পর্যন্ত যতগুলো নগরী দেখেছি, তার মধ্যে প্যারিসকে মনে হয়েছে সবচেয়ে রুপবতী। সত্যিকারের প্রেমে পরার মতোই একটা নগরী। ভেবে দেখলাম, এতোটা সাদামাটা আর ম্যাড়মেড়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

সাময়িক পোষ্ট

লিখেছেন জুন, ১৭ ই জুন, ২০১৯ বিকাল ৫:১৭

সামুতে এখন ৩৯ জন ব্লগার। কতদিন, কতদিন পর এত লোকজন দেখে কি যে ভালোলাগছে বলার নয় :)

...বাকিটুকু পড়ুন

কিছুই পড়েনা মনে আর , শালা !

লিখেছেন আহমেদ জী এস, ১৭ ই জুন, ২০১৯ বিকাল ৫:৩৬



কিছুই পড়েনা মনে আর , শালা !
একদিন যে, এই পথে হেটেছি অনেক,
দেখেছি কিছু ঘর-বাড়ী, বাগান-সড়ক,
ঝুলে থাকা বারান্দার গরাদে তিথীর ব্রা
কিছু কায়া , কিছু ছায়া সবই ছাড়া ছাড়া,
বেওয়ারিশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×