
১। হুমায়ূন আহমেদ একবার ঠিক করলেন তাঁর বাবার কবর পিরোজপুর থেকে উঠিয়ে নুহাশ পল্লীতে নিয়ে আসবেন। সবার সাথে আলোচনা করে কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েই ফেললেন।
তখন ঘনিষ্ঠ একজন প্রশ্ন করলেন, স্যার তাহলে পিরোজপুরে আপনার বাবার খালি কবরটা কি হবে? হুমায়ূন আহমেদ একটু ভাবলেন, তারপর গম্ভীর গলায় বলেন- 'টু-লেট জুলিয়ে দিলেই হবে'।
(যদিও পরে তাঁর বাবার কবর নুহাশ পল্লীতে আনা হয়নি বড় বোনের প্রবল আপত্তির কারনে।
২। হুমায়ূন আহমেদের একটা স্বপ্ন ছিলো। তা হলো একটি ক্যান্সার হাসপাতাল তৈরি করা। আমি অপেক্ষায় আছি কবে সেটার কাজ শুরু হবে..... কবে আমরা একটি ক্যান্সার হাসপাতাল দেখতে পারবো... স্যার নিজেও মনে হয় অপেক্ষায় আছেন। একসময় কিছু ছেলে মেয়ে খুব লাফালাফি করছিল ক্যান্সার হাসপাতাল করবে বলে। আজ তারা কোথায়?
৩। বাংলাদেশ গর্ব করতে পারে এমন একজন লেখক- হুমায়ূন আহমেদ। তিনি নেই এই কথা মনে পড়লেই কোত্থেকে যেন এতগুলো কষ্ট এসে জমে বুকে।
আমার সবচেয়ে প্রিয় লেখক। হয়তো আজীবন লিখলেও উনার সম্পর্কে আমার সব অনুভূতি বোঝাতে পারব না। কোনোদিন না।
শব্দের এই যাদুকরের কাছে আমাদের অনেক ঋণ। একবার ভাবুন, হুমায়ুন আহমেদ বলে কোনো লেখকের জন্ম হয়নি। তাহলে কেমন হত?
৪। আমি নিজে হুমায়ূন আহমেদ স্মরনে বেশ কিছু গল্প লিখেছি এই সামু ব্লগে। গল্প গুলো সামুর ব্লগাররা বেশ পছন্দ করেছেন। হুমায়ূণ আহমেদের মতো এত সুন্দর করে সহজ সরল ভাবে আর কেউ লিখতে পারে না। সহজ সরল সত্য কথা হলো, বাংলাদেশে হুমায়ূন আহমেদের মতো কোনো লেখক নেই। বহু লেখককে দেখেছি, হুমায়ূন আহমেদকে নিয়ে আজে বাজে কথা বলতে। অথচ যখন সেই আজে বাজে কথা বলা লেখকটা যখন হুমায়ূন আহমেদ সাহিত্য পুরস্কার পেলো- হাসি মুখে সেই পুরস্কার গ্রহন করলো। হা হা হা ----
প্রিয় হুমায়ূন আহমেদ আমাদের কাছে আপনি-
কখনও হিমু, কখনও শুভ্র কখনও বা মিসির আলি
শত দুঃখ-কষ্টের মধ্যে এক টুকরো আনন্দ আপনি
অনেক যত্ন নিয়ে পরম মমতায় লিখেছেন গল্প উপন্যাস
আপনার মৃত্যু নেই, নেই এবং নেই...
আপনার সাজানো বাগানে আপনি আছেন
বাংলার বুক থেকে-
কোনো শকুন আপনাকে মুছে ফেলতে পারবে না
নো নেভার
কোনো ভয় নেই, কোনো চিন্তা নেই, বলি পরিস্কার-
আমাদের মনের নরম ঘরে আপনাকে দিয়েছি স্থান।
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে জুলাই, ২০১৯ দুপুর ১২:৫৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


