
ভালো কোনো কথা শুনলে খুব অল্প সময়ের জন্য উজ্জীবিত হই, চোখ জ্বলজ্বল করে উঠে। তারপর মনে মনে অনেক কিছু ভাবি এবং পরের দিন সম্পূর্ন ভুলে যাই। এর কারন হলো নিজের মনের উপর আত্মনিয়ন্ত্রণ নেই। আর মনে উপর আত্মনিয়ন্ত্রণ না থাকলে কোনো ভালো কথায় কাজ হয় না। নিজের লক্ষ্য অর্জনের জন্য নিজেকেই এগিয়ে আসতে হয়। অন্য কেউ এসে করে দিবে না। ছোটবেলা থেকেই আমি অনেক কিছুই হতে চেয়েছিলাম, অনেক কিছুই হতে চেয়েছিলাম বলেই আজ আমি কিছুই হতে পারিনি। ইদানিং আমার মধ্যে শুধু নেগেটিভ চিন্তা। এজন্য অবশ্যই আমার আশে পাশের মানুষ গুলো দায়ী। কমপক্ষে প্রতিদিন এক লক্ষ নেতিবাচক চিন্তা আমার মাথায় ঘুরপাক খায়।
এই ভেবে আমি শান্তি পাই যে পৃথিবী সব মানুষই ১০০% সঠিক না। তাদের মধ্যে অনেক ভুলভ্রান্তি আছে। বুদ্ধিমান মানুষ ভুল থেকে শিক্ষা নেয়। আর আমি নিজের ভুলের কথা ভুলে যাই। তাই ভুল গুলো থেকে শিক্ষা নেওয়া হয় না। ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত, কখন কি ঘটবে আমরা কেউ'ই কিছুই জানি না। অথচ আমি ভবিষ্যৎ নিয়ে নানান চিন্তা ভাবনা করে-করে নিজের প্রেসার বাড়াই। অথচ সমস্যা প্রতিটা মানূষের'ই আছে। থাকবে। রাগ খুব খারাপ। অথচ আমার খুব রাগ। রাগটা কিছুতেই দমন করতে পারি না। অনুপ্রেরণা খুব মূল্যবান। অথচ কেউ আমাকে অনুপ্রেরণা দেয় না। অনুপ্রেরণা পেলে অনেক কিছু করা সম্ভব।
স্বপ্ন দেখতে আমার খুব ভালো লাগে। আমি জেগে জেগে বড় বড় স্বপ্ন দেখি। আমরা জীবনে ভালো-মন্দ যাই করি না কেন, সবকিছুরই প্রতিদান আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে। ভালো করলে ভালো প্রতিদান, মন্দ করলে মন্দ প্রতিদান। খালেদা জিয়া মন্দ করেছে, তাই সে এখন কারাগারে। আমার বন্ধু শাহেদ জামালের একটা গল্প বলি। তার জবানিতেই।
ঢাকা শহরে আমার একটানা দুই দিন না খাওয়ার রেকর্ড আছে।
--দুইইই দিন!
-জ্বি ভাই দুই দিন। এছাড়া পুরো দিন না খেয়ে ছিলাম এমন দিনের সংখ্যাও কম নয়। বাবা মারা যাওয়ার পরে ঢাকায় নতুন আসছি, যেই মেসে উঠছিলাম সেখানে দুই মাসের ভাড়া বাকী পড়ছিল, দেড় মাসের মিল খরচও দিতে পারি নাই। পরে ওরা আমার মিল বন্ধ করে দেয়। ওদেরই বা কী দোষ বলেন, ওরদেরও তো নুন আনতে পান্তা ফুরায় অবস্থা। আরেকজনকে মাসের পর মাস ফ্রী খাওয়ানোর মত অবস্থা নাই।
--তারপর?
-তারপরে আর কী? ক্ষুধার জ্বালায় অস্থির হয়ে রাগ জমলো আমার সার্টিফিকেটের উপরে। ডিগ্রীর সার্টিফিকেট ছিঁড়ে ফেললাম। এই সার্টিফিকেট আমার পেটে ভাত দিচ্ছিল না। চাকরি চাইতে গেলে মানুষ দূর দূর করে তাড়িয়ে দেয়।
--তারপরে?
-তারপরে মেস থেকে অনেক দূরে ফার্মগেইটের একটা ছালাদিয়া হোটেলের সামনে গিয়ে লাজ লজ্জার মাথা খেয়ে ভাত খুঁজি। বললাম "দুই দিন ধরে খাই নাই, পকেটে টাকাও নাই, শুধু একটা প্লেট ভাত দিলেই হবে। আমি পানি মিশিয়ে লবন দিয়ে খেয়ে ফেলব।
-ছালাদিয়া হোটেলের মালিকের মনে দয়া হল। উনি আমাকে এক প্লেট ভাত দিলেন। সাথে অবশ্য কোন এক তরকারীর পাতিল থেকে সামান্য ঝোলও দিলেন। আমি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে খেলাম। দুই মিনিটের মধ্যে খাওয়া শেষ। দোকানি বুঝলেন আমার পেটের সিকি ভাগও পূরণ হয় নি। উনি আমাকে বললেন এভাবে ফ্রী দিলে তো আমার চালান শেষ হয়ে যাবে। আমি গরিব মানুষ। তুমি এক কাজ করো, এই প্লেট গুলো ধুয়ে দেও, তাহলে আরো ভাত দিব।
আমি আরো ভাত খাওয়ার জন্য সবগুলো প্লেট ধুলাম। একের পর এক কাস্টমার আসছে, কারো প্লেট, কারো বাটি সবই ধুতে হল। এরপরে এক টেবিলে এক কাস্টমার অনেকক্ষণ ধরে বসে আছেন। ওনার টেবিল ময়লা, কেউ পরিষ্কার করছে না। আমার হাতে কাজ নেই, আমি গিয়ে টেবিল পরিষ্কার করে দিলাম। এভাবে পাশের টেবিলটাও। এভাবে কখন যে তিন ঘন্টা পার হয়ে গেল টের পেলাম না। তিন ঘন্টা পরে দোকান ফাঁকা। দোকানদার আমাকে পাতিলে থাকা অবশিষ্ট ভাত খেতে দিলেন। আমি মাছের ঝোল দিয়ে পুরো ভাতই খেলাম। পাতিলে অবশ্য মাছ ছিল না। আর মাছ থাকলেও আমি খেতাম না। আমাকে ভাত খেতে দিয়েছেন এটাই তো বেশি।
আসার সময় উনি বললেন আমার ছেলেটার দুই দিন হল জ্বর তাই দোকানে আসছে না। তুমি ইচ্ছে করলে এই কয়দিন আমার ছেলের বদলে কাজ করতে পার। তিনবেলা খেতে পারবে, কোন বেতন পাবে না।
দুই দিন কাজ করলাম। ওনার ছেলে চলে এলো। তিনি আমাকে কাজ থেকে বাদ দিলেন না। ওনাকে বললাম আমার মেস থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে।
উনি আমাকে হোটেলেই থাকার ব্যবস্থা করে দিলেন।
ছয় মাস পরে পুলিশ এসে হোটেলটা গুড়িয়ে দেয়, ঐ জায়গাটা সরকারী ছিল। উনি এবার টং দোকান দিলেন, চা বেচা শুরু করলেন, সেখানে আমার জায়গা হল না। চা বিস্কুট এক একাই বেচা যায়। আমি আবার বেকার হয়ে পড়লাম।
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ দুপুর ১২:৫৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



