
শুভ সকাল। মেজাজ চরম খারাপ। সবাই সাধান।
বিপদের উপর বিপদ যাচ্ছে। গতকাল সিড়ি দিয়ে নামতে গিয়ে হুড়মুড় করে পা উলটে পড়ে গেলাম। এই সিড়ি দিয়ে প্রতিদিন ৩/৪ বার উঠা নামা করি। কাল কি হলো কে জানে! পা-টা উলটে গেলো, পড়ে যাচ্ছিলাম। নিজেকে বাঁচাতে সিড়ির রেলিং ধরতে গিয়ে ধূম করে পড়ে গেলাম। বিরাট ব্যথা পেলাম। ব্যথা পেয়েও আমি খুশি। যেভাবে পড়েছিলাম তাতে পা ভেঙ্গে যাওয়ার কথা ছিলো। পা ভাঙ্গে নাই তাই খুশি। পা-টা ভেঙ্গে গেলে কি উপায় হতো! কমপক্ষে তিনমাস বিছানায় পড়ে থাকতে হতো। প্রচুর টাকা খরচ হতো। টাকা না থাকলেও ধারদেনা করে খরচ করতে হতো। ভাঙ্গা পা নিয়ে তো আর বসে থাকতে পাড়তাম না।
সুরভি'রও একটা বিরাট বিপদ গেলো।
আমি যখন ছয়তলার সিড়িতে পড়ে গেলাম। ঠিক তখন সুরভি দোতলায় রান্না করছিল। আরিশের জন্ম দিন। জন্মদিন উপলক্ষ্যে ৪৫ জনকে দাওয়াত করা হয়েছে। ৪৫ জনের রান্না তো কম না। সুরভিকে রান্না একাই করতে হচ্ছে। বিশেষ কাজে ভাবী এবং আরিশের মা গেছে বাইরে। এবং সব সময় যা হয় আজও তাই হলো বুয়া আসে নাই। বুয়াকে বলা হয়েছিল আজ বাসায় অনেক কাজ সে যেন আজ অবশ্যই আসে। খাবারের আয়োজন ভালোই করা হচ্ছে। তিন রকমের পিঠা। পিঠা অবশ্য আগের দিন রাতেই বানানো হয়েছে। মোরগ পোলাউ। বোরহানি আর ডিমের কোরমা। যাই হোক, সুরভি রান্না করছে।
সুরভির ওড়নাতে আগুন ধরে গেলো।
সামান্য আগুন না। দাউ দাউ আগুন। মুহুর্তের মধ্যে পুরো ওড়নাতে দাউ দাউ করে আগুন ধরে গেলো। সুরভির ডান হাতে অনেকখানি পুড়ে গেল। তখন দোতলায় আর কেউ ছিল না। এই ছোট ছোট বিপদ দিয়ে আল্লাহপাক কি ইশারা দিতে চাচ্ছেন? বড় কোনো বিপদ কি সামনে অপেক্ষা করছে? আমি তো দুষ্টলোক না। আমি তো দূর্নীতিবাজ না। অসৎ লোক নই। কারো ক্ষতি করি নি। কারো অমঙ্গল কামনা করিনি কখনও। তবে কেন আমার এই সমস্ত বিপদ? সারা জীবন তো বিপদ-আপদ থেকে দূরে থাকতেই চেয়েছি। যাই হোক, বিপদ আরো আছে। বিপদ যখন আসে আসতেই থাকে। শুনুন।
ফ্রিজ খালি। সকালে বাজারে গিয়েছি।
বাজারে গিয়ে দেখি, ম্যানিব্যাগ নিয়ে যাই নি। আবার বাসায় ফিরলাম। ছয় তলায় উঠলাম। আমার বাসায় নাই লিফট। ম্যানিব্যাগ নিয়ে বাজারে গিয়ে দেখি টাকা নেই। টাকা থাকার কথাও না। গতকাল আলসেমি করে বুথ থেকে টাকা উঠাই নাই। ভেবেছিলাম পরে কোনো বুথ থেকে টাকা তুলে নিবো। আবার বাসায় গেলাম। কার্ড নিলাম। বাসার কাছেই বুথ। অথচ টাকা তুলতে পারছি না। নেটওয়াক সমস্যা। কয়েকবার চেষ্টা করলাম। না, টাকা তোলা যায় না। নেটওয়ার্ক সমস্যা। সিকিউরিটি গার্ডকে জিজ্ঞেস করলাম আসে পাশে কোথাও বুথ আছে কিনা। সে ঠিকানা দিলো, পঞ্চাশ টাকা রিকশা ভাড়া দিয়ে সেই ঠিকানায় গিয়ে দেখি কোনো বুথ নাই।
জগতের সবচেয়ে ভয়ংকর কথাগুলির একটি হলো:
তুমি তোমার 'বন্ধু'র এমনভাবে ক্ষতি করো যাতে সে ভাবে তুমি তার উপকার করছো। সবারই কম বেশি বন্ধু আছে। তবে জগতে কি ভালো বন্ধু নেই? সব দুষ্ট বন্ধু? আজ সকালে ঘুম থেকে উঠেই নেপোলিয়ন এর এই কথাটা মনে পড়লো- 'আমাকে একটি ভালো বিচার ব্যবস্থা দাও, আমি সব কুত্তার লেজ সোজা করে দিবো।'
কখনো কখনো বুকের পাঁজর ভেঙে পড়ে অযথা, অশনিসংকেতে কেঁপে ওঠে বুক। হৃদয়ের দেয়াল বড্ড নড়বড়ে, ভাঙার জন্য টোকা লাগে না। এই শীতে কুকুরও উষ্ণতা খোঁজে। শিশিরের সাথে মাটির প্রেমটা সবসময় স্যাতস্যাতে। কথাগুলো দাফন করতে করতে পাথর হয়ে ওঠে সময়। বোবা ধরা কান্নায় ঝিম হয়ে ওঠে মাথার তালু, চিনচিনে ব্যথাটা গলা অব্দি এসে আটকে থাকে। মানুষ প্রেমে পড়লে সবুজ হয়, নীল হয়, রঙিন হয়। কখনো কখনো স্তব্ধও হয়।
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে ডিসেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৩:২৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



