
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে লেখাপড়ার মান একেবারে নিচে নেমে গেছে। নিচে নামতে নামতে শুয়ে পড়েছে- এমন অবস্থা। এখন, বলবেন পাশের হার তো বেশি। সব নকল করে পাশ করেছে। চাঁদগাজী ঠিকই বলেন প্রশ্নপত্র ফাঁস জেনারেশন। আমার ধারনা শিক্ষকরা মনে হয় খাতাও দেখেন নি। কারো ইশারায় হয়তো গনপাশ করিয়ে দিয়েছেন সকলকে। বিভিন্ন অফিস আদালতে আমি দেখেছি- একপাতা দরখাস্ত লিখতে কমপক্ষে ত্রিশটা বানান ভুল করে। বহু মাস্টার্স পাশ করা পোলাপান দেখেছি- ইংরেজীতে পাঁচ লাইন লিখতে পারে না। একেবারে অদক্ষ। অযোগ্য। কিন্তু এই জেনারেশনের বহু পুলাপান ক্ষমতাবান মামা চাচার জোরে চাকরী পেয়ে গেছে। কেউ কেউ ব্যাংকে চাকরী করছে। লেখাপড়ার এই দশার কারনে দক্ষ এবং যোগ্য লোক আমাদের নেই। দক্ষ ও যোগ্য লোক না থাকার কারনে আমরা পিছিয়ে পড়ছি। সুষ্ঠু জাতি গঠনে লেখাপড়ার মান উন্নত করা ছাড়া অন্য কোনো উপায় নেই।
বিএনপির আমলে লেখপড়ার মান খুব ভালো ছিলো।
নকল করে পাশ করার কোনো উপায় ছিলো না। সেই আমলে যারা পাশ করে বের হয়েছে তারা আসলেই দক্ষ ও যোগ্য। আসলে সব সরকার সব কাজে দক্ষ হয় না। আওয়ামী লীগ বিদ্যুৎ খাতে সফল, যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নতি করনে সফল। বিএনপির আমলে দেশ পরপর বেশ কয়েকবার দূর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। কিন্তু আওয়ামী লীগের আমলে দেশ দূর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়নি। তার মানে এই না যে দেশে দূর্নীতি হচ্ছে না। প্রচুর দূর্নীতি হয়। বরং বিএনপির আমলের চেয়ে বেশি হয়। তবে আল্লাহর রহমত আছে বলেই, অন্ততপক্ষে চ্যাম্পিয়ন হয় না। বিএনপির আমলে কিছু লোক হুট করে ধনী হয়ে গেছে। তারা টিভি চ্যানেল করেছে, দৈনিক পত্রিকা বের করেছে, নানান ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলেছে। আওয়ামী লীগের আমলেও একই অবস্থা। সরকার কখনও জানতে চায় না- নব্য ধনীদের কাছে তারা কিভাবে এত স্বল্প সময়ে ধনী হলো! একজন ছিনতাইকারী বা চোর ধরা কঠিন কিন্তু দূর্নীতিবাজ ধরা সবচেয়ে সহজ। দুদক করে কি? তারা কি চোখে দেখে না?
দূর্নীতিবাজদের ধরা কি বন্ধ হয়ে গেলো নাকি?
নব্য ধনীদের ব্যাপারেও তো কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হলো না। এই নব্য ধনী কারা? আমি বলি নব্য ধনী কারা। রাজনীবিদিদের ছত্রছায়ায় থাকা লোকজনই নব্য ধনী। এবং খোজ নিলে জানা যাবে এরা সবাই'ই আওয়ামীলীগে কোনো না কোনো পদে আছেন। তবে আমি দূর্নীতিবাজদের সাপোর্ট করি। দূর্নীতিবাজরা কোটি কোটি টাকা দূর্নীতি করে, সেই টাকা দিয়ে তারা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলে। তাতে অনেক লোকের কর্মসংস্থান হয়। দূর্নীতিবাজদের সাথে থেকে থেকে চাটুকারিতা করে অনেক লোক গাড়ি, বাড়ি এমনকি দেশ বিদেশ ভ্রমন করছে। দূর্নীতি করা টাকা লোকজন পানির মতো খরচ করে। কোনো মায়া দয়া নেই। কষ্টের, পরিশ্রমের টাকা হলে এভাবে উড়াতে পারতো না। দূর্নীতি হয় কিন্তু আপনার বা আমার ব্যাক্তিগত টাকা না। দূর্নীতি হয় সরকারের টাকা। অবশ্য সরকারের টাকা আমাদেরই টাকা। এক যুগ যদি আমাদের দেশে দূর্নীতি না হয় তাহলে দেশ অনেক এগিয়ে যাবে। সরকারী আমলারা দেশটারে শেষ করে দিচ্ছে। লোকজন যেমন ঘুষ খাওয়ার জন্য পুলিশে ঢুকে তেমনি সরকারী চাকরীও মানুষ পেতে চায় ঘুষ খাওয়ার জন্য।
আমাদের দেশের লোকজন অনেক ভালো।
বেশির ভাগ লোকজনই সহজ সরল। সহজ সরল বলেই তারা দুঃখী। ভাতে দুঃখী, কাপড়ে দুঃখী, প্রেম ভালোবাসায় দুঃখী। এই সমাজের ধনী লোকগুলো অনেক ভালো। তারা ধনী সৎ পথে হয়েছেন না দূর্নীতি করে হয়েছেন সেটা কোনো বিষয় না। প্রত্যেক ধনীলোক প্রতি বছর শীতের সময় দরিদ্র লোকদের কম্বল দেয়। মসজিদে টাকা দেয়। মাদ্রাসায় টাকা দেয়। বন্যা কবলিত অসহায় মানুষকে সাহায্য করে। ধনী লোকজন সাহায্য করার জন্য এক পায়ে দাঁড়িয়ে আছে। তারা নিজের নামে অথবা বাপ মার নামের ফাউন্ডেশন করে। সেই ফাউন্ডেশন থেকে নিয়মিত দরিদ্র লোকদের সাহায্য সহযোগিতা করেই যাচ্ছে। কেউ কেউ গ্রাম থেকে অসুস্থ রোগী ঢাকায় এনে চিকিৎসা করাচ্ছেন। স্কুল কলেজ মাদ্রাসা করছেন। কেউ কেউ গ্রামে পাকা রাস্তা করে দিচ্ছেন। তারা যদি দূর্নীতি না করতো তাহলে তারা এমন মহৎ কাজ করতে পারতো না। অনেক ভালো কাজ করার জন্য কিছু মন্দ কাজ করতেই হয়।
আমি এই দেশ নিয়ে আশাবাদী।
যদিও মাঝে মাঝে খুব হতাশ হয়ে যাই। একদিন এই দেশের কোথাও কেউ না খেয়ে থাকবে না। কেউ রাস্তায় ঘুমাবে না। সিগনালে এবং ফুটপাতে কোনো ভিক্ষুক থাকবে না। চুরী-ছিনতাই হবে না। কোনো বেকার থাকবে না। দরিদ্র মানুষ চিকিৎসা করাতে পারবে। খাদ্যে ভেজাল থাকবে না। রাস্তায় বাচ্চা মেয়েরা ফুল বিক্রি করবে না। গ্রামের পর গ্রাম বন্যায় তলিয়ে যাবে না। যথা সময়ে বাঁধ দেওয়া হবে। সেদিন আমি চিৎকার করে বলল, দেশ উন্নয়নের মহাসড়কে। বিশ্বাস করুন দেশ আজ সত্যি সত্যি উন্নয়নের মহাসড়কে। এখন যখন কেউ বলে দেশ আজ উন্নয়নের মহাসড়কে তখন আমার হাসি পায়। না, আমরা এখনও উন্নয়নের মহাসড়কে যেতে পারি নি। তবে আমরা সেদিকেই এগিয়ে যাচ্ছি। দেরী হোক, যায়নি সময়। জয় বাংলা।
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে ডিসেম্বর, ২০১৯ সকাল ১০:১২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



