somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

আমার দাদাজান

৩০ শে ডিসেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৩:১৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



মন মেজাজ আজ ভালো নেই।
বিরাট দিকদারির মধ্যে আছি। আর বাঁচতে ইচ্ছা করে না এই পোড়া দেশে। এই দেশে শান্তি নাই। এই দেশ হয়ে গেছে দুষ্টলোকদের দেশ। পুরো দেশ দুষ্টলোক দিয়ে ভরে গেছে। এত এত দুষ্টলোকের ভিড়ে আমার দম বন্ধ হয়ে আসে। মনে হয়, আর বেশি দিন বাঁচবো না। বাঁচতে চাইও না। কিছু আফসোস নিয়ে মরতে হবে। আমার একসময় ধারনা ছিলো সব মানুষ আমাকে ভালোবাসে। আমাকে পছন্দ করে। কিন্তু না বহু লোক আমাকে পছন্দ করে না। একেবারেই পছন্দ করে না। অগোচরে আকথা, কুকথা বলে। অথচ এমনটা হওয়ার কথা ছিলো না। কারন আমি কোনো সাতেপাচে যাই না। আপন মনে থাকি। অনেক কিছু দেখি, শুনি এবং বুঝি। তবু চুপ করে থাকি। বোবার শত্রু নেই, এই মনে করে। বই পড়ি, মুভি দেখি আর ব্লগিং করি।

যাই হোক, আসল কথায় আসি।
ভোর রাতে দাদাকে স্বপ্ন দেখেছি। মরা মানুষকে স্বপ্নে দেখা কি ভালো? বার বার? গত সাতদিনে তিন বার দাদাকে স্বপ্নে দেখলাম। আমার দাদা ছিলেন জমিদার মানুষ। যতদিন বেঁচে ছিলেন রাজার হালে বেঁচে ছিলেন। যদিও দাদা একদিন হঠাত অন্ধ হয়ে যান। একদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে, দাদা অনুভব করলেন তিনি চোখে দেখতে পারছেন না। তখন তার পয়ত্রিশ বছর। দেশ বিদেশে কত ডাক্তার দেখানো হলো। কোনো লাভ হলো না।

গ্রামের বাড়ি গেলে দাদার সাথে মজার অনেক গল্প হতো। আমার দাদা দেখতে দারুন সুন্দর ছিলেন। গায়ের রঙ, চোখ, মুখ দেখার মতোন ছিলো। এমন রুপবান মানুষ আমি খুব কম দেখেছি। আমার দাদীও সেই রকম সুন্দরী ছিলেন। দাদা দেশ বিদেশ ব্যবসার কারনে ঘুরে বেড়াতেন। সেই আমলে দাদার পাসপোর্টে লেখা ছিলো ল্যান্ড লর্ড। কোলকাতায় দাদার বিশাল ব্যবসা ছিলো। দাদা খুব পান খেতেন। কোলকাতা থেকে পানের জর্দা আনাতেন। বিক্রমপুরের মানুষজন দাদার চলাফেরা দেখে দাদার নাম দিয়েছিলো নওসা মিয়া। দাদার গল্প আরেকদিন করবো। আজ দাদাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখার কথা বলি।

ভোর রাতে আজ স্বপ্নে দেখলাম,
গতকাল বেশ তাড়াতাড়িই বিছানায় গিয়েছি। ঘুমের জন্য ভেড়া গুনতে হয়নি। স্বনটা দেখলাম ভোরের দিকে। ফযরের আযানের আগে আগে। বিরাট বড় একটা জমিদার বাড়ির বিশাল বারান্দা কাচের মতো স্বচ্ছ রোদে ভেসে যাচ্ছে। রোদে তাপ নেই। একেই বলে মিষ্টি রোদ। এত বড় বারান্দায় আর কেউ নেই। চারিদিক কেমন ভয় করা নির্জন। সবচেয়ে বড় আশ্চর্য, বারান্দার শেষ নেই। আমি হাঁটছি তো হাঁটছি'ই। বারান্দা আর শেষ হয় না, ভীষন ভয় করছিল আমার। মনে মনে ভাবছি- এত বড় বারান্দা কে বানালো! আমার ঢাকার বাড়ির বেলকনি তো দুই হাত।
হঠাৎ পেছন থেকে কে যেন শান্ত গলায় বলল- যা না, আরও যা, একসময় শেষ হবে ঠিকই।
কে বলল কথাটা? মুখ ঘুরিয়ে দেখি আমার দাদাজান। তেমনই ফরসা টকটকে রঙ, তেমনি মাথা ভর্তি চুল, তেমনি মোস্ত গোঁফ, তেমনি সুন্দর। দাদাজানকে দেখে বেশ আনন্দ হলো। মুহুর্তের মধ্যে সব ভয় চলে গেল। আমি দৌড়ে দাদার কাছে গেলাম।
বললাম, লোকে যে বলে তুমি মরে গেছ?
দাদা বললেন, দূর বোকা! মরবো কেন? এই একটু বেড়াতে বের হয়েছি।
আমি বললাম, এই বাড়িটা কে বানিয়েছে? এত বিশাল বারান্দা কেন?
দাদা বললেন- তা ঠিক, বারান্দাটা একটু বড়। চল তোকে এগিয়ে নিয়ে যাই।
আমি আর দাদাজান হাঁটছি তো হাঁটছি। বারান্দা আর শেষ হয় না।

স্বপ্ন নিয়ে আমার তেমন কুসংস্কার নেই। আবার এও মনে হয়- কী জানি, স্বপ্নের মধ্যে কোনও ইশারা ইঙ্গিত থাকতে পারে।
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে ডিসেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৩:১৩
১০টি মন্তব্য ১০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমি টুপ করে চলে আসবো

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০১ লা জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:১৯


আমি হাসিনা। আমি আমার স্বামী ওয়াজেদ মিয়াকে কোনদিন স্বামীর মর্যাদা দেইনি। সে জ্ঞানী হলেও আমি সবসময় তাকে বাসার কাজের লোকের চেয়ে বেশি কিছু মনে করিনি। আমি সবসময় মৃণাল কান্তি... ...বাকিটুকু পড়ুন

রুবা

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০১ লা জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:২৮




রুবার সাথে আমার বিয়েটা ওঠ ছেড়ি তোর বিয়ের মতোই হয়েছে । একদম সাধারন কোনরকম অনুষ্ঠান নাই । সেইদিন অফিসে অনেক কাজ ছিলো । চোখে তারা ফারা দেখছিলাম । বসের... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রথম .........।

লিখেছেন মায়াস্পর্শ, ০১ লা জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৪


আন্ডারগ্রাউন্ড শোতে এটাই আমার প্রথম ড্রামস বাজানোর একটা মুহূর্ত।

কিছু গল্প আসলে পরিকল্পনা করে শুরু হয় না।কিছু গল্প হঠাৎ করে একটা মুহূর্ত থেকে জন্ম নেয় আর তারপর... ...বাকিটুকু পড়ুন

সমুদ্রের নীল খাম

লিখেছেন ডি এইচ তুহিন, ০১ লা জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৪২


এই শহরে থাকি প্রায় সাতাশ-আটাশ বছর ধরে। তিন প্রেমিকার মায়া ছেড়ে যাওয়া যায় না এমন এক অদ্ভুত সুন্দর এই শহর। যার এক হাতে নদী, অন্য হাতে সমুদ্র, আর কপালে জায়গা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আওয়ামী দুঃশাসনের পতন অনিবার্য ছিল, জুলাই তো স্রেফ উছিলা মাত্র!

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০১ লা জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৮



জুলাই নিয়ে অনেক বিতর্ক, সমালোচনা আছে। কিন্তু, এটা অস্বীকার করার উপায় নেই যে জুলাই গণঅভ্যূত্থান না হলে আমরা দীর্ঘদিনের স্বৈরশাসন থেকে মুক্তি পেতাম না। জুলাই ঘিরে যত বিতর্ক, সমালোচনাই... ...বাকিটুকু পড়ুন

×