
মন মেজাজ আজ ভালো নেই।
বিরাট দিকদারির মধ্যে আছি। আর বাঁচতে ইচ্ছা করে না এই পোড়া দেশে। এই দেশে শান্তি নাই। এই দেশ হয়ে গেছে দুষ্টলোকদের দেশ। পুরো দেশ দুষ্টলোক দিয়ে ভরে গেছে। এত এত দুষ্টলোকের ভিড়ে আমার দম বন্ধ হয়ে আসে। মনে হয়, আর বেশি দিন বাঁচবো না। বাঁচতে চাইও না। কিছু আফসোস নিয়ে মরতে হবে। আমার একসময় ধারনা ছিলো সব মানুষ আমাকে ভালোবাসে। আমাকে পছন্দ করে। কিন্তু না বহু লোক আমাকে পছন্দ করে না। একেবারেই পছন্দ করে না। অগোচরে আকথা, কুকথা বলে। অথচ এমনটা হওয়ার কথা ছিলো না। কারন আমি কোনো সাতেপাচে যাই না। আপন মনে থাকি। অনেক কিছু দেখি, শুনি এবং বুঝি। তবু চুপ করে থাকি। বোবার শত্রু নেই, এই মনে করে। বই পড়ি, মুভি দেখি আর ব্লগিং করি।
যাই হোক, আসল কথায় আসি।
ভোর রাতে দাদাকে স্বপ্ন দেখেছি। মরা মানুষকে স্বপ্নে দেখা কি ভালো? বার বার? গত সাতদিনে তিন বার দাদাকে স্বপ্নে দেখলাম। আমার দাদা ছিলেন জমিদার মানুষ। যতদিন বেঁচে ছিলেন রাজার হালে বেঁচে ছিলেন। যদিও দাদা একদিন হঠাত অন্ধ হয়ে যান। একদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে, দাদা অনুভব করলেন তিনি চোখে দেখতে পারছেন না। তখন তার পয়ত্রিশ বছর। দেশ বিদেশে কত ডাক্তার দেখানো হলো। কোনো লাভ হলো না।
গ্রামের বাড়ি গেলে দাদার সাথে মজার অনেক গল্প হতো। আমার দাদা দেখতে দারুন সুন্দর ছিলেন। গায়ের রঙ, চোখ, মুখ দেখার মতোন ছিলো। এমন রুপবান মানুষ আমি খুব কম দেখেছি। আমার দাদীও সেই রকম সুন্দরী ছিলেন। দাদা দেশ বিদেশ ব্যবসার কারনে ঘুরে বেড়াতেন। সেই আমলে দাদার পাসপোর্টে লেখা ছিলো ল্যান্ড লর্ড। কোলকাতায় দাদার বিশাল ব্যবসা ছিলো। দাদা খুব পান খেতেন। কোলকাতা থেকে পানের জর্দা আনাতেন। বিক্রমপুরের মানুষজন দাদার চলাফেরা দেখে দাদার নাম দিয়েছিলো নওসা মিয়া। দাদার গল্প আরেকদিন করবো। আজ দাদাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখার কথা বলি।
ভোর রাতে আজ স্বপ্নে দেখলাম,
গতকাল বেশ তাড়াতাড়িই বিছানায় গিয়েছি। ঘুমের জন্য ভেড়া গুনতে হয়নি। স্বনটা দেখলাম ভোরের দিকে। ফযরের আযানের আগে আগে। বিরাট বড় একটা জমিদার বাড়ির বিশাল বারান্দা কাচের মতো স্বচ্ছ রোদে ভেসে যাচ্ছে। রোদে তাপ নেই। একেই বলে মিষ্টি রোদ। এত বড় বারান্দায় আর কেউ নেই। চারিদিক কেমন ভয় করা নির্জন। সবচেয়ে বড় আশ্চর্য, বারান্দার শেষ নেই। আমি হাঁটছি তো হাঁটছি'ই। বারান্দা আর শেষ হয় না, ভীষন ভয় করছিল আমার। মনে মনে ভাবছি- এত বড় বারান্দা কে বানালো! আমার ঢাকার বাড়ির বেলকনি তো দুই হাত।
হঠাৎ পেছন থেকে কে যেন শান্ত গলায় বলল- যা না, আরও যা, একসময় শেষ হবে ঠিকই।
কে বলল কথাটা? মুখ ঘুরিয়ে দেখি আমার দাদাজান। তেমনই ফরসা টকটকে রঙ, তেমনি মাথা ভর্তি চুল, তেমনি মোস্ত গোঁফ, তেমনি সুন্দর। দাদাজানকে দেখে বেশ আনন্দ হলো। মুহুর্তের মধ্যে সব ভয় চলে গেল। আমি দৌড়ে দাদার কাছে গেলাম।
বললাম, লোকে যে বলে তুমি মরে গেছ?
দাদা বললেন, দূর বোকা! মরবো কেন? এই একটু বেড়াতে বের হয়েছি।
আমি বললাম, এই বাড়িটা কে বানিয়েছে? এত বিশাল বারান্দা কেন?
দাদা বললেন- তা ঠিক, বারান্দাটা একটু বড়। চল তোকে এগিয়ে নিয়ে যাই।
আমি আর দাদাজান হাঁটছি তো হাঁটছি। বারান্দা আর শেষ হয় না।
স্বপ্ন নিয়ে আমার তেমন কুসংস্কার নেই। আবার এও মনে হয়- কী জানি, স্বপ্নের মধ্যে কোনও ইশারা ইঙ্গিত থাকতে পারে।
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে ডিসেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৩:১৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



