somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

আজকের ডায়েরী- ৪০

০২ রা জানুয়ারি, ২০২০ দুপুর ১:১৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



ভীষন ব্যস্ততার মধ্যে আছি।
আসলেই আমি কোনো ব্যস্ত না। আজাইরা কাজে ব্যস্ত। নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে রাত বারোটায় ছাদে গেলাম। আশেপাশের সমস্ত বাড়ির ছাদে ফটকা, আতশবাজি ফুটাচ্ছে। ধুম-ধাম শব্দ। মানুষের কত রস! আমাদের এলাকার সমস্ত লোকজন ঘর ছেড়ে ছাদে এসে উপস্থিত হয়েছে। টানা দেড় ঘন্টা ফটকা আতশবাজি ফুটানো দেখলাম। ঢাকা শহরের ঠান্ডাটা আচমকা খুব কমে গেছে। গতকাল রাতে তো আমি ফ্যান ছেড়ে ঘুমিয়েছি। পুরাতন বছরকে বিদায় জানানোর জন্য আমার কোনো আয়োজন ছিলো না। তবে সন্ধ্যায় বের হয়েছিলাম আমি আর সুরভি। রাতে বাইরে খেলাম। খাওয়ার বিল সুরভি দিলো। অকারনে রিকশা দিয়ে অনেকক্ষন ঘুরলাম এলোমেলো। বাসায় ফিরলাম ১১ টায়। পরী বাসায় ছিলো। সে ছবি আঁকায় ব্যস্ত।

আজ বছরের প্রথম দিন।
সকালেই বাজারে গেলাম। বাসায় আজ অনেক মেহমান আসবে। মেহমান বলতে সুরভির বান্ধবীরা। বড় একটা রুই মাছ কিনলাম। বাজার থেকেই মাছটা কাটিয়ে নিলাম। পাবদা মাছ কিনলাম। চাষের না, দেশী। এক হাজার টাকা কেজি। পাবদা মাছও কাটিয়ে নিলাম। এক কেজি বড়-বড় চিংড়ি মাছ কিনলাম। মূরগী, গরু আছে ফ্রিজে। একমুদি দোকান থেকে আরো কিছু জিনিসপত্র কিনলাম। বাসায় সুরভিকে বাজার দিয়ে আমি বাইরে গেলাম। একটু পরেই সুরভির ফোন। বাজারের ব্যাগে কোনো মাছ নেই। মাছের বদলে দু'টা নারকেল এবং এক কেজি খেজুরের গুড়। ঘটনা হলো মুদি দোকান থেকে কেনাকাটা করার সময় আমি ভুলে অন্য কারো ব্যাগ নিয়ে চলে আসছি। পরে আবার বাজারে গেলাম। আমার মাছের ব্যাগ পেলাম না। নতুন করে আবার বাজার করতে হলো। এরকম ভুল আমার খুব হয়। সদাইপাতি কিনেও বাজারে রেখে আসি। পরে সেই জিনিস আর পাই না।



বিকেল থেকেই মেহমান আসতে শুরু করলো।
সব মিলিয়ে তের জন। সবাই সুরভির বান্ধবী। দুইজন বান্ধবীর জামাইও এসেছে। খুব হইচই আর আড্ডা চলছে। ব্যাপক হাসাহাসি। আমি ওদের আনন্দ আর হাসাহাসিতে অংশ গ্রহন করতে পারছি না। ওদের চিন্তা ভাবনা কথার সাথে আমার মিলে না। ওরা আধুনিক। আমি আধুনিক হতে পারিনি। তাই আলাপ জমাতে পারি না। বেশ কিছুক্ষন চুপ করে বসে থেকে আমি আস্তে করে বের হয়ে গেলাম। তালতলা মার্কেটের কাছে একটা চায়ের দোকানে আমি প্রায়ই যাই আড্ডা দিতে। সেখানে গেলাম। খুব জমিয়ে আড্ডা দিচ্ছি। এমন সময় সুরভির ফোন। সুরভি বলল, তুমি না বলে চলে গেলে কেন? বাসায় গেস্ট। তুমি এত অসামজিক কেন? আমি বললাম, বাইরে যাইনি। কোক স্প্রাইট আনতে দোকানে এসেছি। সুরভি বলল, এক্ষন আসো। আমি বললাম, জ্বী আসতেছি।

সুরভির রান্নার সুনাম বেশ ছড়িয়ে পড়েছে।
আমারও মনে হয় সুরভি রান্নাটা ভালো করে। কাচ্চি রান্না করেছে। আমি কসম খেয়ে বলতে পারি, স্টার বা ফখরুদ্দিনের কাচ্চির চেয়ে সুরভির কাচ্চি বেশি ভালো হয়েছে। সবাই খেয়ে বেশ মজা পেয়েছে। মেহমান বিদায় নিয়েছে রাত বারটায়। পুরো ঘর এলোমেলো হয়ে আছে। সুরভিও বেশ ক্লান্ত। ঘরে যখন কাজ বেশি থাকে তখন আমাদের বুয়া আসে না। বুয়াকে হাজারবার করে বললে বুয়া আসে না। গত চার দিন ধরে বুয়া আসে না। অবশ্য আমাদের বুয়া মাসে পনের দিন আসে না। গত একবছর ধরেই দেখছি। ফোন দিলে ফোন ধরবে না। তিন-চার দিন পর এসে হাসি মুখে বলবে কোমরে বেধনা (ব্যাথা)। তাই শুয়ে শুয়ে বাংলা সিনেমা দেখছি। বুয়ার এই আচরনে আমরা অভ্যস্ত হয়ে গেছি। বুয়া-বুয়া বলাটা ঠিক হচ্ছে না। নাম হলো নাছিমা বেগম। নাছিমাকে আজ পর্যন্ত না আসার জন্য সুরভি কখনও ধমক দেয়নি। ধমক না দেওয়ার কারনে নাছিমা মনে হয় নিজেও বেশ অবাক।



আমি আছি বিরাট ঝামেলায়।
আগামীকাল আমার এক বন্ধু আসেবে। মিজান। দুই দিন থাকবে আমার বাসায়। বউ বাচ্চা নিয়ে আসবে। ঢাকায় ডাক্তার দেখাতে আসবে। মিজান থাকে বাগেরহাট। সে বিয়ে করেছে। দু'টা ছেলে হয়েছে। অথচ তার বিয়েতে আমি যাই নি। দু'টা ছেলে হয়েছে। তাদেরকেও আজ পর্যন্ত দেখিনি। অবশ্য মিজানের সাথে বেশ কয়েকবার দেখা হয়েছে। ফোনে কথা তো প্রায়ই হয়। এমাসে ছয়টা দাওয়াত আছে। তিনটা বিয়ের। দুইটা জন্মদিনের এবং একটা মুসলমানির। মুসলমানির দাওয়াত নারায়নগঞ্জে। এদিকে আমার ল্যাপটপে সমস্যা দেখা দিয়েছে। হুটহাট ল্যাপটপ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ক্যামেরাটা তো দীর্ঘদিন ধরে নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। সুরভি ডাক্তার দেখিয়েছে। নানান রকম টেস্ট ফেস্ট দিয়েছে। দুনিয়ার ওষুধ দিয়েছে। সুরভির বান্ধবীরা সেন্টমার্টিন যাচ্ছে। তারা ধরেছে আমি আর সুরভি যেন যাই। যেতেই হবে।
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা জানুয়ারি, ২০২০ দুপুর ১:১৪
১৩টি মন্তব্য ১৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমি টুপ করে চলে আসবো

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০১ লা জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:১৯


আমি হাসিনা। আমি আমার স্বামী ওয়াজেদ মিয়াকে কোনদিন স্বামীর মর্যাদা দেইনি। সে জ্ঞানী হলেও আমি সবসময় তাকে বাসার কাজের লোকের চেয়ে বেশি কিছু মনে করিনি। আমি সবসময় মৃণাল কান্তি... ...বাকিটুকু পড়ুন

রুবা

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০১ লা জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:২৮




রুবার সাথে আমার বিয়েটা ওঠ ছেড়ি তোর বিয়ের মতোই হয়েছে । একদম সাধারন কোনরকম অনুষ্ঠান নাই । সেইদিন অফিসে অনেক কাজ ছিলো । চোখে তারা ফারা দেখছিলাম । বসের... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রথম .........।

লিখেছেন মায়াস্পর্শ, ০১ লা জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৪


আন্ডারগ্রাউন্ড শোতে এটাই আমার প্রথম ড্রামস বাজানোর একটা মুহূর্ত।

কিছু গল্প আসলে পরিকল্পনা করে শুরু হয় না।কিছু গল্প হঠাৎ করে একটা মুহূর্ত থেকে জন্ম নেয় আর তারপর... ...বাকিটুকু পড়ুন

সমুদ্রের নীল খাম

লিখেছেন ডি এইচ তুহিন, ০১ লা জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৪২


এই শহরে থাকি প্রায় সাতাশ-আটাশ বছর ধরে। তিন প্রেমিকার মায়া ছেড়ে যাওয়া যায় না এমন এক অদ্ভুত সুন্দর এই শহর। যার এক হাতে নদী, অন্য হাতে সমুদ্র, আর কপালে জায়গা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আওয়ামী দুঃশাসনের পতন অনিবার্য ছিল, জুলাই তো স্রেফ উছিলা মাত্র!

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০১ লা জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৮



জুলাই নিয়ে অনেক বিতর্ক, সমালোচনা আছে। কিন্তু, এটা অস্বীকার করার উপায় নেই যে জুলাই গণঅভ্যূত্থান না হলে আমরা দীর্ঘদিনের স্বৈরশাসন থেকে মুক্তি পেতাম না। জুলাই ঘিরে যত বিতর্ক, সমালোচনাই... ...বাকিটুকু পড়ুন

×