
ভুটানের জনসংখ্যা প্রায় আট লাখ।
সার্কভুক্ত দেশের নাগরিকদের জন্য ভুটানে যেতে ভিসার দরকার হয় না। কেবল টিকিট কাটুন আর চলে যান। ভুটানে সবকিছুরই দাম অবিশ্বাস্য। ওদের নিজেদের পণ্য নেই বললেই চলে। সব ভারতীয়, চীনা, তিব্বতি বা নেপালি। ভুটানের রাস্তাঘাটে অনেক বেওয়ারিশ কুকুরের দেখা মিলবে। কারণ ওরা প্রাণী হত্যা করে না। ভুটানীদের সবচেয়ে জনপ্রিয় খাবার 'থুপকা'। এ এক অদ্ভুত জিনিস; ভাত-নুডলস-মাছ-মাংস-সবজি-তরকারি-ঝোল সবকিছু একসাথে ঘ্যাঁট পাকিয়ে বানানো হ-য-ব-র-ল এক খাবার। অর্থনৈতিকভাবে ভুটান সম্পূর্ণই ভারতের উপর নির্ভরশীল। এই নির্ভরশীলতার পরিমাণ এতটাই যে, দেশটিতে তার নিজের মুদ্রা 'গুলট্রাম' এর চেয়ে ভারতীয় রুপিই বেশি চলে!

ভূটান হল একটি রাজতন্ত্র বিশিষ্ট দেশ।
ভূটানের আকার, আকৃতি ও পার্বত্য ভূ-প্রকৃতি সুইজারল্যান্ডের সদৃশ বলে দেশটিকে অনেক সময় এশিয়ার সুইজারল্যান্ড ডাকা হয়। কৃষি ও বনজ সম্পদ নির্ভর অর্থনীতি। জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রতি বর্গকিলোমিটারে ৪৭ জন। ভূটানের বাসিন্দারা মূলত বৌদ্ধ ধর্মে বিশ্বাসী। ভূটানের সাক্ষরতার হার প্রায় ৬০%। জনগণের প্রায় ৯৪% শতাংশ কৃষিকাজে নিয়োজিত। সপ্তম শতাব্দীতে বৌদ্ধরা প্রথম ভুটানে আসে। চীন ও ভুটানের মধ্যে আজ পর্যন্ত কোনও ফর্মাল কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই, ফলে দুই দেশের মধ্যে কোনও দূতাবাসও নেই। শুধু প্রাকৃতিক দৃশ্য বা বৌদ্ধধর্ম নয়, ছোট্ট এই দেশ আমাদের শেখায় বেঁচে থাকার মানেও।

ভূটান এশিয়ার সবচেয়ে সুখি দেশ।
পাহাড় ঘেরা পারোর বিমানবন্দর ভুটানের একমাত্র এয়ারপোর্ট— ‘দ্য মোস্ট ডিফিকাল্ট কমার্শিয়াল এয়ারপোর্ট অব দ্য ওয়র্ল্ড’। লোককথা, বৌদ্ধগুরু পদ্মসম্ভব বাঘের পিঠে চড়ে তিব্বত থেকে সোজা উড়ে এসেছিলেন এখানে। ভুটানের মেয়েরা যেমন সুন্দরী, তেমনই স্বাধীনচেতা। ছোট থেকে বৃদ্ধ... সকলেই সব সময়ে পরেন জাতীয় পোশাক। ভুটান বিশ্বের একমাত্র কার্বন নেগেটিভ দেশ, এই দেশ য্ত না কার্বন বাতাসে ছাড়ে তার চেয়ে বেশি কার্বণ শোষণ করে। ভুটানের শহর আর পথঘাট মুগ্ধ করার মতো। উঁচু-নিচু পথ, দু’ধারে প্রাচীন রীতির বাড়ি। একে পরিচ্ছন্ন তাতে যানজট নেই। ট্রাফিক পুলিশ ১০০ বছর আগের মতো হাতের ইশারায় নিয়ন্ত্রণ করে যানবাহন।

ভূটানের আয়তন ৪৬,৫০০ বর্গকিলোমিটার।
ভুটান ভারতীয় উপমহাদেশে হিমালয় পর্বতমালার পূর্বাংশে অবস্থিত। ভূটানের উত্তরে চীনের তিব্বত অঞ্চল ও পশ্চিমে ভারতের সিকিম অবস্থিত। ভূটান সার্কের একটি সদস্য রাষ্ট্র এবং মালদ্বীপের পর দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে কম জনসংখ্যার দেশ। ভুটানের রাজধানী ও বৃহত্তম শহর থিম্পু। ১৯৫০-এর দশক পর্যন্ত ভূটান একটি বিচ্ছিন্ন দেশ ছিল। ১৯৬০-এর দশকে ভারতের কাছ থেকে অর্থনৈতিক সাহায্য নিয়ে দেশটি একটি আধুনিক রাষ্ট্রে রূপান্তরিত হতে শুরু করে। ১৯৪৭ সালে ভারত স্বাধীনতা লাভের পর ভূটানকে একটি স্বাধীন দেশ হিসেবে গণ্য করে। ভূটানের রাজা, যার উপাধি ড্রাগন রাজা, হলেন রাষ্ট্রের প্রধান।

ভুটানের ৬০ শতাংশজুড়ে বনভূমি।
আশির দশকে ভুটানের ৯৫ শতাংশই ছিল গ্রামীণ এলাকা। এখন তা কমে দাঁড়িয়েছে ৬০ শতাংশ। আধুনিকতার স্পর্শে জেগে উঠেছে রাজধানী থিম্পু। সেলফোন নিয়ে রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন দলে-দলে মানুষ। তরুণদের যথাযথ কাজের ব্যবস্থা করাটাই এখন সবচেয়ে বড় সমস্যা ভুটান সরকারের কাছে। তরুণ প্রজন্মের ছাত্রছাত্রীরা পড়াশোনা করতে অনেকেই বিদেশ পাড়ি দিচ্ছেন। এর বেশিরভাগই পড়তে যান ভারতে। ডিগ্রি নিয়ে দেশে ফেরার পরেই দেখা দেয় সমস্যা। উপযুক্ত কাজ নেই। ভুটানে সৌন্দর্য দেখার জন্য আপনাকে কোন বিশেষ জায়গায় যেতে হবে না। আপনি যেই জায়গাটিতে দাঁড়িয়ে থাকবেন সেই জায়গাটিই অপরূপ সুন্দর। ১৯৯৯ সালে প্রথম দেশটিতে ইন্টারনেট ও টেলিভিশনের অনুমতি দেওয়া হয়। ১৯৭০-এর দশকে প্রথমবার বিদেশ পর্যটকদের প্রবেশে অনুমতি দেওয়া হয়।

অধিকাংশ ভুটানবাসী তার জীবন নিয়ে সুখী।
১৯৯৯ সাল থেকে পলিথিন নিষিদ্ধ করা হয়। তা ছাড়া তামাক সেখানে পুরোপুরি অবৈধ। রাষ্ট্রধর্ম বৌদ্ধ। গড় আয়ু পুরুষের ৬৬ বছর এবং নারীর ৭০ বছর। ১৯৫৮ সাল পর্যন্ত দাসপ্রথা প্রচলিত ছিল। ভুটানের বর্তমান রাজা আমেরিকা ও ব্রিটেনে লেখাপড়া করেছেন। ২০১১ সালে তিনি বিয়ে করেছেন। ভুটানের বর্তমান রানি জেটসান পেমা। এই দুজন মানুষ গোটা ভুটানে সবার ভালোবাসার পাত্র। চমৎকার একটা তথ্য দিয়ে লেখা শেষ করছি- ভুটানবাসী প্রচুর গাছ লাগাতে পছন্দ করেন। রাজা-রানির প্রথম সন্তানের জন্ম জনগণ পালন করে ১ লাখ ৮ হাজার গাছ লাগিয়ে। গাছ তাদের কাছে দীর্ঘ জীবন, সৌন্দর্য এবং সহমর্মিতার প্রতীক। ২০১৫ সালে মাত্র ১ ঘণ্টায় ৫০ হাজার গাছের চারা লাগিয়ে ভুটান গিনেস রেকর্ড বুকে স্থান করে নেয়।

(এই পোষ্টে আমার কোনো ভূমিকা নেই। সম্পূর্ন নেট থেকে নেওয়া)
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা জানুয়ারি, ২০২০ রাত ১০:০৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



