somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

প্রেম ও প্রকৃতি

০৭ ই জানুয়ারি, ২০২০ বিকাল ৪:১৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



ও যে মানে না মানা।
আঁখি ফিরাইলে বলে, 'না, না, না।'
যত বলি 'নাই রাতি-- মলিন হয়েছে বাতি'
মুখপানে চেয়ে বলে, 'না, না, না।'


প্রেম আর ভালোবাসার শক্তি অসীম।
শাহেদ জামাল লাবন্যর দিকে মুগ্ধ চোখে তাকিয়ে আছে। আজ লাবন্যকে এত সুন্দর লাগছে কেন! মেয়েটা খুব বেশি সাজেও নি। শুধু চোখে মোটা করে কাজল দিয়েছে, কপালে একটা ছোট্র টিপ আর দুই হাত ভরতি কাঁচের চুড়ি। খুব সুন্দর একটা সুতি শাড়ি পরেছে। মোটা পাড়। পুরো শাড়ি জুড়ে স্বচ্ছ নীল আকাশ। কোথাও কোথাও আকাশ ভরা সাদাকালো মেঘ। লাবন্যও মুগ্ধ চোখে তাকিয়ে আছে শাহেদ জামালের দিকে। আজ পাঁচ বছর পর তাদের দেখা। হঠাৎ দেখা। লাবন্য শাহেদ একই সাথে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে মাস্টার্স করেছিলো। শাহেদের সব সময়ই লাবন্যকে ভালো লাগতো। কিন্তু কোনো দিন বলা হয় নি। চমৎকার হাসি খুশি প্রানবন্ত মেয়ে লাবন্য। চারুকলার বকুলতলায় তাদের দেখা।

তখনও সন্ধ্যা হয় নি।
তবে যে কোনো সময় সন্ধ্যা নেমে যাবে। শীতের সময় সন্ধ্যা দ্রুত আসে। শাহেদ জামাল আর লাবন্য বসলো বকুলতলায়। শাহেদ এতটুকু জানে লাবন্যর বিয়ে হয়েছে মাস্টার্স শেষ করার পরেই। শাহেদও বিয়ে করেছে। তবে তার বউ তার সাথে থাকে না। দুই বছর হলো। শাহেদকে তালাক দিতে চায়।
লাবন্য বলল, কেমন আছো?
শাহেদ বলল, ভালো আছি। তুমি কেমন আছো?
আমিও ভালো আছি। বলেই, দুইজনই উচ্চ স্বরে হেসে উঠলো। স্বচ্ছ প্রানবন্ত হাসি।
তাদের হাসিতে গাছের পাখিরা বিরক্ত হলো। সারাদিন পর তারা ঘরে ফিরেছে। এখন বিশ্রাম নেবে। বাচ্চাদের খাওয়াবে। শীতের রাত। তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়বে। তা-না ভর সন্ধ্যায় দুইজন মানব মানবী ভালোবাসায় মজেছে।

অনেক আগেই সন্ধ্যা নেমেছে।
শাহেদ জামাল আর লাবন্য সেদিকে খেয়াল নেই। তারা নানান রকম গল্পে ভীষন ব্যস্ত। দীর্ঘদিনের সব জমানো কথা তারা একে অন্যকে বলছে। শাহেদ কোনো রকম ভনিতা না করেই বলল, লাবন্য তোমাকে দেখে আজ আমি অনেক খুশি। ভীষন খুশি। তোমাকে আমার খুব ভালো লাগতো। কিন্তু কখনও সাহস করে বলতে পারি নি।
লাবন্যও কোনো ভনিতা না করেই বলল, নির্বোধ কোথাকার। তোমার আগেই বলা উচিত ছিল। তাহলে আমাদের জীবনটা দারুন আনন্দময় হতো। শাহেদ জামাল বলল, লাবন্য তোমাকে খুব সুন্দর লাগছে। আমি কি তোমাকে একটা চুমু খেতে পারি? অন্ধকার হয়ে গেছে। কেউ দেখতে পাবে না। কেউ জানবে না।
লাবন্য বলল, দাও।
এক আকাশ ভালোবাসা নিয়ে শাহদ জামাল লাবন্যর ঠোটে আর গলায় চুমু খেল। চুমু দিয়ে শাহেদ জামালের মন ভরলো না। কমপক্ষে এক লাখ চুমু দিতে পারলে শাহেদ জামালের ভালো লাগতো। একটা দুইটা চুমুতে কি মন ভরে! প্রান ভরে! চুমু দিতে দিতে রাত পার হয়ে যাবে, তবেই না মজা। তবেই না আনন্দ।

রাত আট টা বেজে গেছে।
শাহেদ লাবন্য হাঁটতে হাঁটতে বাংলা একাডেমির সামনে চলে এসেছে। তারা হাত ধরাধরি করে হাঁটছে। এরকম দৃশ্য দূর থেকে দেখেও আনন্দ আছে। এই মুহুর্তে তাদের দেখে মনে হচ্ছে তারা এই পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী মানুষ। তাদের কোনো দুঃখ কষ্ট নেই।
শাহেদ বলল, লাবন্য বাসায় যাবে না।
লাবন্য কোনোরকম ইতস্তত না করেই স্পষ্ট করে বলল, বাসায় যেতে ইচ্ছা করছে না। তোমার সাথে থাকতেই ভালো লাগছে।
শাহেদ বলল, আমারও বাসায় যেতে ইচ্ছা করছে না। তোমার সাথেই থাকতে ভালো লাগছে।
লাবন্য বলল, তবে থাকো। চলো আমরা দূরে কোথাও যাই। একটা বাসে উঠে পড়ি। বাস যেখানে থামবে সেখানে আমরা নেমে যাবো।
শাহেদ বলল, ওকে।
শাহেদের লাবন্যর সঙ্গ ভালো লাগছে। খুব ভালো লাগছে। তার মন বলছে, যতটা সময় পারো মেয়েটার সাথে থাকো। মেয়েটাকে একা ছেড়ে দিও না। ভালোবাসাকে অবহেলা করতে নেই।

আরামবাগ থেকে তারা একটা বাসে উঠলো।
বাস যাবে চিটাগাং। বাস চিটাগাং না গিয়ে খুলনা গেলেও সমস্যা নেই। উদ্দেশ্যবিহীণ যাত্রা। উদ্দেশ্যবিহীণ হলেও দারুন আনন্দময়। লাবন্য এবং শাহেদ দুইজনই মনে মনে একই কথা ভাবছে- সব জাহান্নামে যাক। আপাতত মানুষটার সঙ্গ প্রান ভরে উপভোগ করে নেওয়া যাক। বাস চলছে। লাবন্য শাহেদের কাঁধে মাথা রেখেছে। লাবন্যর চোখে পানি। শাহেদ বলছে, কেঁদো না। প্লীজ কেঁদো না। আমি আছি। আমি আর কোথাও যাবো না। আমার সমস্ত ভালোত্ব দিয়ে, তোমাকে আগলে রাখবো। পৃথিবীর কোনো খারাপ, ধুলো-ময়লা আর তোমাকে স্পর্শ করতে পারবে না। শাহেদ জামাল লাবন্যর কপালে চুমু দিলো। আরো শক্ত করে দুজন দু'জনকে জড়িয়ে ধরলো। যেন কেউ তাদের আর আলাদা করতে পারবে না। কেউ না।

ভোরে বাস থামলো অচেনা একটা জায়গায়।
তখন আকাশ পুরোপুরি ফর্সা হয়নি। চারিদিকে ভীষন শীত। ভীষন কুয়াশা। কুয়াশা যে এত সাদা হয় আগে জানা ছিলো না। বাস স্টেশনের পাশেই একটা চায়ের দোকান খোলা। শাহেদ লাবন্য চায়ের দোকানে বসল। তারা চা খাবে। ঠিক এমন সময় কোথা থেকে একটা পাগল দৌড়ে এলো। এই প্রচন্ড শীতেও তার গায়ে কোনো জামা নেই। ছেঁড়া একটা প্যান্ট পরা। পাগলটা শাহেদ আর লাবন্যর কাছে এসে বলল, তোরা সুখী হবি। তোদের আর কোনো দুঃখ-কষ্ট নেই। সাহস করে সামনে এগিয়ে যা। এই বলে পাগল চলে যাচ্ছে। শাহেদ বলল, এক কাপ চা খেয়ে যাও। পাগল ঘাড় কাত করে বলল, সময় নেই রে। অনেক কাজ আমার। অনেক কাজ।

শাহেদ লাবন্য জানে না কোথায় যাবে।
অচেনা শহর। তারা একটা রিকশা নিলো। আকাশে আলো ফুটতে শুরু করেছে যদিও, তবু সামনে কিছু দেখা যায় না। চারিদিকে গাঢ় কুয়াশা। রিকশা কিছু দূর যাওয়ার পর লাবন্য বলল, রিকশা ছেড়ে দিয়ে চলো আমরা হাঁটি।
শাহেদ বলল, এই পথ কোথায় শেষ হয়েছে জানি না। কতটুকু হাঁটবো?
লাবন্য বলল, নদী পর্যন্ত। মন বলছে, এই পথের শেষে একটা নদী আছে।
আসলেই চারিদিকে ভীষন কুয়াশা। এক হাত দূরের জিনিসও দেখা যায় না। ছোট্র চিকন রাস্তা। এই পথ কোথায় শেষ হয়েছে শাহেদ আর লাবন্যর জানা নেই। তারা হাঁট ধরাধরি করে হাঁটছে। হেঁটেই চলেছে।

বিধুর বিকল হয়ে খেপা পবনে
ফাগুন করিছে হাহা ফুলের বনে।
আমি যত বলি 'তবে এবার যে যেতে হবে'
দুয়ারে দাঁড়ায়ে বলে, 'না, না, না।'
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই জানুয়ারি, ২০২০ বিকাল ৪:১৩
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

১ কোটি চাকরি: শর্ত প্রযোজ্য, মেধার প্রবেশ নিষেধ !

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:২৫


ভোটের আগে বলা হয়েছিল, ক্ষমতায় এলে প্রথম আঠারো মাসেই এক কোটি মানুষকে চাকরি দেওয়া হবে। কথাটা শুনে দেশের বেকার তরুণেরা তো মহাখুশি, কেউ ভাবল সরকারি চাকরি হবে, কেউ ভাবল... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিশ্বে ঋণ খেলাপিতে বাংলাদেশ ১ নম্বর এবং দেশে ঋণ খেলাপিতে শীর্ষ ২০ জনের ১৯ জনই ওনাদের!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:০৫



শাস্ত্রীয় কথায় না গিয়ে সোজা কথায় কেউ ঋণ নিয়ে তা পরিশোধ না করলে তাকে ঋণ খেলাপি বলা হয়। আপনি জানলে অবাক হবেন যে শীর্ষ ২০ ঋণ খেলাপির ১৯ জনই... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কি ডার্ক জাস্টিসকে ফলো করছেন?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:১০



ছোটবেলায় দেখা একটি টিভি সিরিয়াল তুমুল জনপ্রিয় হয়েছিলো। একজন বিচারক যিনি দিনের বেলায় কোর্ট রুমে অপরাধের বিচার করতেন, আর, রাতেরবেলা আইনের ফাঁক -ফোকর গলে বেরিয়ে যাওয়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

একদিন আমরা ক’জনা মিলে …….

লিখেছেন আহমেদ জী এস, ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:১২



ব্লগের একাধারে নম্র ও প্রাজ্ঞ এবং গবেষক সহ-ব্লগার শ্রদ্ধেয় ডঃ এম এ আলীর “ব্লগের সুদিন ফিরিয়ে আনতে ব্লগ টিমের প্রতি বিনীত আবেদন”... ...বাকিটুকু পড়ুন

জুলাই আগস্ট সেপ্টেম্বর কোন মাসেই নয় দুর্নীতি সেদিনই বন্ধ হবে-----

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:৫৪



জুলাই আগস্ট সেপ্টেম্বর কোন মাসেই নয় ..।

দুর্নীতি সেদিনই বন্ধ হবে
যেদিন মানুষ নিজের কাছে
মিথ্যে বলা বন্ধ করবে
অন্যায়ের সঙ্গে আপস না করে
সত্যের পথে দৃঢ় পায়ে চলবে।

যেদিন বিবেক জাগবে মনে
লোভ হারাবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×