somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

এই সমাজ- ১৬

২৮ শে জানুয়ারি, ২০২০ বিকাল ৫:২২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



এই সমাজ বদলে গেছে।
গত বিশ বছরে সব বদলে গেছে। দীর্ঘদিনের সব নিয়ম-কানুন বদলে গেছে। এই বদলে যাওয়াটা অবশ্যই ভালো অর্থে না। বর্তমানের সাথে তুলনা করলে বলা যায়, আশির দশকে বা নব্বই এর দশক সমাজ বেশ ভালোই ছিলো। তখনও বাঙ্গালী এতটা নষ্ট হয়ে যায় নি। যদিও তখনও ধর্ষন হতো, চুরী ডাকাতি বা ছিনতাই হতো। এখন বাঙ্গালীর নষ্টামীর শেষ নেই। এখন এই দেশের মানুষের মধ্যে কোনো মায়া-দয়া নেই। প্রতিটা মানুষ হৃদয়হীন হয়ে গেছে। নিজের পরিবারের বাইরে কারো জন্য মায়া মমতা নেই। কেউ কারো কথা ভাবে না। সবাই শুধু নিজ নিজ চিন্তা নিয়ে ব্যস্ত। রাস্তায় একজন মানুষ অজ্ঞান হয়ে পড়ে গেলেও কেউ ফিরে তাকায় না। প্রতিটা লোক নিজেকে জাহির করার জন্য ব্যস্ত। সে নিজেই বড়, সে মস্ত পণ্ডিত, সে নিজেই সব জান্তা। বাকি সবাই লাউ।

সব নষ্টের মূলে হলো-
ডিশ, ইন্টারনেট এবং মোবাইল ফোন। নানান রকম নাটক সিনেমা দেখে মানুষের মাথা আউলায়ে গেছে। বাংলাদেশের বেশির ভাগ ছেলে মেয়ের কাছে ইন্টারনেট মানে- পর্ন, ফেসবুক, ইউটিউব, ইন্সটাগ্রাম আর টিকটক। এর বাইরে তারা আর কিছু করে না। জানেও না। এটাই তাদের জীবন-মরন। এযুগের ছেলে মেয়েরা তাদের নতুন ভাষা তৈরি করেছে। এদের বুঝা যায় না। চেনা যায় না। চিপা চিপা প্যান্ট পড়ে, চুল গুলো খাড়া করে রাখে, লাল কেডস পড়ে এবং সবার হাতে স্মার্ট ফোন। এই তাদের দুনিয়া। তিন বন্ধু একসাথে হলেও কেউ কারো সাথে কথা বলে না। সবাই যার যার মোবাইল নিয়ে ব্যস্ত। এই প্রজন্ম বই পড়ে না। বইয়ের প্রতি তাদের কোনো আগ্রহ নেই। এরাই হবে ভবিষ্যতে জাতির বোঝা। এরা হবে বড় ভয়ঙ্কর।

আমাদের ছোটবেলা কত সুন্দর কেটেছে।
মোবাইল ছিলো না, ডিস ছিলো না, ইন্টারনেট ছিলো না। আমরা বন্ধুরা দলবেঁধে স্কুলে যেতাম। বিকেলে দলবেঁধে ক্রিকেট বা ফুটবল খেলতাম স্কুল মাঠে। মাগরিবের আযানের আগে বাসায় ফিরে হাত-পা ধুয়ে পড়তে বসতাম। মা বলতেন জোড়ে জোরে পড়ো যেন আমি রান্না ঘর থেকে শুনতে পাই। চিৎকার করে পড়তাম। পড়াও তাড়াতাড়ি মুখস্ত হয়ে যেত। রাতে খেয়ে নয়টার মধ্যে ঘুমিয়ে পড়তাম। বড় আনন্দময় আর শান্তির জীবন ছিলো। বিটিভি ছাড়া আর কোনো চ্যানেল ছিলো না। টিভির অনুষ্ঠান মানে ম্যাগগাইভার, রোবকোপ আর থান্ডারকিডস কার্টুন। বাপ মায়ের হাত ধরে বেড়াতে যেতাম রমনা পার্ক, শিশু পার্ক। বার্ষিক পরীক্ষার শেষে যেতাম গ্রামের বাড়ি। আর এখন গ্যাদা গ্যাদা পিচ্চি পোলাপান স্মার্ট ফোনে ভিডিও বানায়, টিকটক করে, মারামারির মুভি দেখে। এবং তারা নিজেরাও মারামারি করে। এবং সবার গার্লফ্রেন্ড আছে।

এযুগের বাপ মা-ও যেন কেমন!
ছেলেমেয়ে কই যায় কিচ্ছু খোঁজ খবর রাখে না। স্কুল বাদ দিয়ে বয়ফ্রেন্ডের সাথে ফাস্টফুডের দোকানে লদকালদকি করে। এরা চুলের বিছছিরি কাট দিলেও এদের বাপ মা কিচ্ছু বলে না। আমার মনে আছে, চুল বড় হয়ে গেলেই আমার বাপ ধরে সেলুনে নিয়ে যেতেন। চুল একদম ছোট করে কেটে দিত। চুল এত ছোট করতো যে মুঠ করে চুল ধরাও যেত না। চুল কাটাতে নিতো আট টাকা, দশ টাকা। এখন নেয় কমপক্ষে একশ' টাকা। সেসময় কোনো মেয়ে চুল কালার করতো না। এখনকার মেয়েরা চুলে নানান রকম কালার করে। এযুগের ছেলে মেয়েদের লাজলজ্জা খুব কম। এরা নিজেদের হিরো-হিরোইন ভাবে। এরা আধুনিকতার নামে যা-তা করে বেড়াচ্ছে। এই প্রজন্ম বড় ভুলের মধ্যে আছে। এদের শুধরে দিতেও কেউ আসে না। বাপ-মা চুপ। শিক্ষকরাও চুপ। এলাকার ময়মুরুব্বীরাও চুপ। তাই এই প্রজন্ম বেলাইনে চলে গেছে।

দুই হাজার সালের পর থেকেই এদেশে লেখাপড়ার মান কমতে শুরু করেছে।
দুনিয়ার স্কুল, কলেজ আর প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি খোলা হয়েছে। লেখাপড়া না করেই পরীক্ষা দিলেই ছেলেমেয়েরা পাশ করে যাচ্ছে। অথচ একপাতা দরখাস্ত ঠিকভাবে লিখতে পারে না। এক লাইনে তিনটা অতি সহজ বানানও ভুল করে। মামা চাচার জোরে এরা চাকরীও পেয়ে যাচ্ছে কেউকেউ। অথচ দেশ পিছিয়ে যাচ্ছে। সরকারী অফিসে কর্মরত লোকজনদের দেখলে মনে হয় এদের রাস্তায় চায়ের দোকানদারি করা উচিত ছিলো। অথচ বড় বড় পোষ্ট দখল করে বসে আছে। সমানে ঘুষ খাচ্ছে। স্বাধীনতার ৫০ বছর হতে চলল- দেশ অনেক দূর এগিয়ে যাওয়ার কথা কিন্তু দেশ থমকে আছে। এত এত অযোগ্য আর অদক্ষ লোক দিয়ে জাতি করবে কি? এরা সমাজের বোঝা।
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে জানুয়ারি, ২০২০ বিকাল ৫:২৩
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

=শরত তুই যাস নে ! =

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:১৩



ভ্যাপসা গরমে নাভিশ্বাস জীবনে কেবল বৃষ্টির হাপিত্যেশ,
মেঘ বলেছে আসবো আসবো আমার উদ্দেশ,
শুভ্র মেঘেদের নাচন
উত্তাপ হাওয়ায় যায় না আর বাঁচন,
তবুও স্নিগ্ধ আবেশ মনজুড়ে,
হঠাৎ হাওয়ার ঝাপটা, বাজে পাতার বাঁশি সুরে।

বিকেলের হাওয়ায় দেহ... ...বাকিটুকু পড়ুন

১ কোটি চাকরি: শর্ত প্রযোজ্য, মেধার প্রবেশ নিষেধ !

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:২৫


ভোটের আগে বলা হয়েছিল, ক্ষমতায় এলে প্রথম আঠারো মাসেই এক কোটি মানুষকে চাকরি দেওয়া হবে। কথাটা শুনে দেশের বেকার তরুণেরা তো মহাখুশি, কেউ ভাবল সরকারি চাকরি হবে, কেউ ভাবল... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিশ্বে ঋণ খেলাপিতে বাংলাদেশ ১ নম্বর এবং দেশে ঋণ খেলাপিতে শীর্ষ ২০ জনের ১৯ জনই ওনাদের!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:০৫



শাস্ত্রীয় কথায় না গিয়ে সোজা কথায় কেউ ঋণ নিয়ে তা পরিশোধ না করলে তাকে ঋণ খেলাপি বলা হয়। আপনি জানলে অবাক হবেন যে শীর্ষ ২০ ঋণ খেলাপির ১৯ জনই... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কি ডার্ক জাস্টিসকে ফলো করছেন?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:১০



ছোটবেলায় দেখা একটি টিভি সিরিয়াল তুমুল জনপ্রিয় হয়েছিলো। একজন বিচারক যিনি দিনের বেলায় কোর্ট রুমে অপরাধের বিচার করতেন, আর, রাতেরবেলা আইনের ফাঁক -ফোকর গলে বেরিয়ে যাওয়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

একদিন আমরা ক’জনা মিলে …….

লিখেছেন আহমেদ জী এস, ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:১২



ব্লগের একাধারে নম্র ও প্রাজ্ঞ এবং গবেষক সহ-ব্লগার শ্রদ্ধেয় ডঃ এম এ আলীর “ব্লগের সুদিন ফিরিয়ে আনতে ব্লগ টিমের প্রতি বিনীত আবেদন”... ...বাকিটুকু পড়ুন

×