
নতুন লেখকের নতুন বই প্রকাশে যে কত ঝক্কি-ঝামেলা, নানা রকম আজেবাজে অনুভূতিতে মন ভরা থাকে তা কেবল নতুন লেখকরাই সম্ভবত বোঝে। লেখক, প্রকাশ ভালো করেই জানেন নতুন লেখকদের বই কেউ কিনে না। লেখক জোর করে আত্মীয়স্বজন আর বন্ধু বান্ধবদের কাছে বিক্রি করে। এই বিক্রিও খুব বেশি হয় না। সর্ব্বোচ্চ ২০/২৫ টা বিক্রি হয়। অন্যদিকে বই ছাপানোর সময় প্রকাশকের সাথে কথা হয়ে থাকে লেখকের ১০০ বই আপনাকে নগদ টাকায় কিনতে হবে। কমপক্ষে একশ' বইয়ের দাম বিশ হাজার টাকা। গত দশ বছর ধরে এরকমই চলছে।
শুভ হোক অমর একুশে বইমেলা।
বাংলাদেশে হাজারো মেলার মাঝে বইমেলার গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি। নতুন নতুন বই, কার কয়টা বই এলো এটা যেমন আনন্দের। তেমনি নতুন বইয়ের খোঁজে মেলায় পাঠকের ভিড়। পছন্দের বই খুঁজে নিতে ব্যস্ত পাঠক। বইমেলা বাঙালির প্রাণের উৎসব, সবচেয়ে বড় মিলনমেলা। বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ ছাড়িয়ে বইমেলা বিস্তৃত হয়েছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানেও। বইমেলায় রঙিন সুন্দর বইগুলো নেড়েচেড়ে দেখতেও অনেক আনন্দ হয়। অদ্ভুত সুন্দর সব প্রচ্ছদ। মানুষ মানুষের শত্রু হতে পারে, তাকে প্রবঞ্চনা করতে পারে, কিন্তু বই কখনো মানুষের সাথে প্রবঞ্চনা বা শত্রুতা করে না।
এবছর আমি কোনো বই কিনব না।
মিথ্যা ভাব নিয়ে তো লাভ নাই। হাত একদম খালি। দুই জন বড় ভাই বলেছেন- তারা আমাকে আমার ইচ্ছা মতোণ অনেক বই কিনে দিবেন। দুই ভাইয়ের কল্যানে কিছু নতুন বই হাতে আসবে। নিজের কোনো বই বে রহবে না। এটা খুব কষ্টের। নিজের একটা প্রকাশনী দেওয়ার ইচ্ছা তাও পারছি না। হু হু করে সময় চলে যাচ্ছে। এভাবেই কাটছে দিন-রাত। দিনগত পাপ। বেঁচে তো আছি। এটাই বড় কথা। যাই হোক, অন্য গল্প করি-
সময় সন্ধ্যা সাতটা।
পান্থপথ থেকে বাসায় ফিরছি হেঁটে হেঁটে। মালিবাগ মোড়ে খুব সুন্দরী একটা মেয়ে আমাকে বললো- যাবেন? আমি তো প্রচন্ড অবাক! চিনি না, জানি না। তবু বলছে যাবেন? 'যাবেন' শব্দটা যেন আমার বুকে এসে লাগলো। আমি কসম খেয়ে বলতে পারি- ঢাকা শহরের কোনো মেয়ে এত সুন্দর করে বলতে পারবে না 'যাবেন'? আমি মুগ্ধ চোখে মেয়েটার দিকে তাকিয়ে আছি। কি মায়াময় মুখ। খুব আপন আপন লাগছে। আমি বুঝি না একটা মানুষ এত সুন্দর হয় কি করে?
আমি মেয়েটাকে ভালো করে লক্ষ্য করলাম।
সহজ সরল সুন্দর একটা মেয়ে। মুখটা ভীষন মিষ্টি। চোখে মোটা করে কাজল দিয়েছে। সেজেছেও খুব সুন্দর করে। মনে মনে ঠিক করে ফেললাম- যা আছে কপালে। আপাতত সুন্দরী মেয়েটার সান্নিধ্য কিছুক্ষন পাওয়া যাক। অবশ্যই যাবো মেয়েটার সাথে। যেখানে খুশি নিয়ে যাক। মেয়েটার সঙ্গ অবশ্যই আমাকে আনন্দ দিবে। জীবনে আনন্দের দরকার আছে। নানান রকম দুঃখ কষ্টে আমি বিধ্বস্ত।
ঠিক এই সময় মেয়েটা আবার বলল, যাবেন?
হায় হায়! আমার বুঝার একটু ভুল হয়েছে। মেয়েটা আমাকে না, সিএনজিওয়ালাকে বলছে যাবেন?
আমার বুকটা যেন কাঁচের মতো ভেঙ্গে টুকরা টুকরা হয়ে গেল।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।






