somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

ভায়োলিন

০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২০ রাত ১০:৩৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



তানিয়ার সাথে কিভাবে পরিচয় সেটা আগে বলে নিই।
কিছু দিন আমি ভায়োলিন বাজানো শিখেছিলাম। সেখানেই তানিয়ার সাথে আমার পরিচয়। সপ্তাহে তিন দিন আমাদের ক্লাশ ছিলো। তানিয়া খুব অল্প সময়ে ভায়োলিন বাজানো শিখেছিলো। চমৎকার বাজাতো। আমি বেশ দরিদ্র মানুষ। ভায়োলিন শেখার মতো আর্থিক অবস্থা আমার নাই। বলতে লজ্জা নেই। তানিয়া আমাকে সহযোগিতা করেছিলো। তানিয়ে বেশ সহজ সরল মেয়ে। দারুন রুপসী। মুখটা খুব মায়াময়। দীর্ঘ দিবস, দীর্ঘ রজনী এই মুখের দিকে তাকিয়ে থাকা যায়। তানিয়াকে দেখলে ধার্মিক লোকেরা বলবে তানিয়ার পোষাক উগ্র। রাস্তার লোকজন তানিয়ার দিকে হা করে তাকিয়ে থাকে। তানিয়া তাদের দিকে ফিরেও তাকায় না। ক্লাশ শেষে আমি তানিয়াকে তার বাসায় পৌঁছে দিতাম। হেঁটে আসতে আমাদের সময় লাগতো মাত্র পনের মিনিট। এই পনের মিনিটে আমি অনেক গল্প বলে ফেলতাম। তানিয়া মুগ্ধ হয়ে আমার গল্প শুনতো। তাতে আমি বেশ আনন্দ পেতাম।

একদিন দুপুরবেলা তানিয়া আমাকে ফোন করলো।
বললো, ধানমন্ডি রাপা প্লাজার সামনে আসতে। আমি তাড়াহুড়া করে গেলাম রাপায়। তানিয়া জিন্স প্যান্ট পরেছে। আর একটা টাইট লাল শার্ট। শার্টের আবার বুকের কাছে দু'টা বুতাম খোলা। ধবধবে ফর্সা বুক অনেকখানি দেখা যাছে। সমানে সিগারেট খাচ্ছে তানিয়া। আশে পাশে বেশ ভিড় জমে গেছে। সমস্ত রিকশাওয়ালারা হা করে দাঁড়িয়ে দেখছে, পথচারীরা হা করে দাঁড়িয়ে আছে। তানিয়ার সেদিকে খেয়াল নেই। সে আপন মনে সিগারেট টেনেই চলেছে। আমি গিয়ে তানিয়াকে শপিংমলের ভিতরে নিয়ে গেলাম। ছোট একটা ধমক দিয়ে বললাম, কি শুরু করেছো? রাস্তায় জ্যাম লেগে গেছে। এটা বাংলাদেশ। মুসলিম দেশ। তানিয়া বলল, তাতে আমার কি! আমি কি স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতে পারবো না? আমি বললাম, ডেকেছো কেন? তানিয়া বলল, মদ খাওয়াতে পারবে আজ? মন মেজাজ খুব খারাপ। আমি বললাম, মন মেজাজ খারাপ কেন? তানিয়া বলল আব্বা বকেছে। আমি বললাম, মদ খাওয়াতে পারবো না। থাই স্যুপ খাওয়াতে পারি। আমার কথা শুনে তানিয়া হেসে ফেলল।

তানিয়াদের পরিবারের কথা একটু বলে নিই।
তানিয়ারা ভাই বোন দুইজন। ভাইটা কেমন পাগল পাগল। সারাদিন গিটার নিয়ে পড়ে থাকে। সিগারেট খেয়ে পুরো ঘর ধোঁয়া দিয়ে ভরে ফেলে। তানিয়ার বাবা ব্যারিস্টার। মা সমাজ সেবিকা। সারাদিন বাইরে বাইরে থাকেন। ছেলেমেয়ের কোনো খোঁজ খবর রাখেন না। তারা সবাই এক বাড়িতে থাকলেও কেউ কারো সাথে কথা বলে না। এমন কি তানিয়ার বাবা মা এক বিছানায় ঘুমান না দীর্ঘ বারো বছর ধরে। ধানমন্ডিতে তিনতলা বাড়ি তাদের। টাকার অভাব নেই। আমি ওদের বাড়িতে গেলে বেশ অবাক হই। তানিয়া আর তার ভাই বাড়ির সবার সামনেই সিগারেট খায়। লুকোছাপার কিছু নেই। একদিন সন্ধ্যায় তানিয়াদের বাসায় গিয়েছি। তানিয়া আমাকে ছাদে নিয়ে গেল। বলল, সিগারেট আছে? আমি বললাম, গ্লোল্ডলিফ আছে। তানিয়া বেনসন খায়। সেদিন আমার কাছ থেকে নিয়ে গোল্ডলিফ খেলো। আর বলল, সিগারেট খেতে হয় ভালো ব্র্যান্ডের। আমি মুগ্ধ হয়ে তানিয়ার দিকে তাকিয়ে আছি। বাংলাদেশের কোনো মেয়ে তানিয়ার মতোন এত সুন্দর করে সিগারেট খেতে পারবে না।

মধ্যরাত ছাড়া তানিয়া আমাকে ফোন করতো না।
ফোন করেই বলতো নতুন একটা সুর তুলেছি। শুনো। তানিয়া দারুন বেহালা বাজায়। আমরা সারারাত কথা বলতাম। একদিন তানিয়া বলল, আমাকে একটা সাপ যোগাড় করে দিতে পারবে? আমি বললাম, মানে কি? তানিয়া বলল সাপ। সাপ। স্নেক। বিষ ছাড়া সাপ। আমি বললাম, সাপ দিয়ে কি করবে? তানিয়া বলল পুষবো। রাতের বেলা সাপ গলায় প্যাচিয়ে ঘুমিয়ে থাকবো। আমি তানিয়াকে সাপ যোগাড় করে দেই নি। কিন্তু সে নিজেই সাপ যোগাড় করেছে। একদিন তানিয়ার বাসায় গিয়ে দেখি তানিয়া ঘুমিয়ে আছে তার পাশে বিশাল একটা সাপ কুন্ডলি পাকিয়ে বসে আছে। আমার জীবনে আমি সবচেয়ে বেশি ভয় পাই সাপ। সেদিন আমি দৌড়ে তানিয়াদের বাসা থেকে বের হয়ে গেলাম। এবং সিদ্ধান্ত নিলাম তানিয়ার সাথে আর কোনো যোগাযোগই রাখবো না। এই মেয়ে নির্ঘাত পাগল। এর কাছ থেকে দূরে থাকাই মঙ্গল। যতসব পাগল ছাগল। মনে মনে সিদ্ধান্ত নিয়ে নিলাম- তানিয়া ফোন দিলেও আর ধরবো না। অনেক হয়েছে। আর না। নো, নেভার।

যতই আমি দূরে যেতে চাই, ততই আসি কাছে।
তিনদিন আমি তানিয়ার সাথে কোনো যোগাযোগ করি নাই। রাত আড়াই টায় তানিয়া ফোন করলো আমাকে। তার মন খুব খারাপ। তার সাপটা মরে গেছে। আমি বললাম, মরা সাপটা কি করেছো? সে বলল, ফরমালিনে ডুবিয়ে রেখেছি। মায়া পড়ে গেছে। আমি মনে মনে বললাম, উফ আল্লাহ! তানিয়া বলল, আমাকে একটা কাজ করে দিতে পারবে? আমি বললাম, কি কাজ? আমাকে একটা কংকালের মাথা যোগাড় করে দিতে পারবে? আমি বললাম, কংকালের মাথা দিয়ে কি করবে? সে বলল, কোনো প্রশ্ন করবা না। আগামীকালের মধ্যে মাথা নিয়ে আসবে। আমি বললাম, ওকে। আমাদের এলাকার কবরস্থান থেকে অনেক বলে-কয়ে, টাকা দিয়ে একটা মাথা নিলাম। বাসায় এনে ধুয়ে মুছে পরিস্কার করলাম। তারপর তানিয়াকে দিলাম। তানিয়া মাথা পেয়ে খুব খুশি। বাচ্চাদের মতো চিৎকার দিয়ে উঠলো। আমাকে বললো- মাথাটা কি ছেলে না মেয়ের? আমি প্রশ্নের কোনো উত্তর দিলাম না।

তানিয়াকে আমার ভালো লাগে।
খুব ভালো লাগে। হয়তো মেয়েটাকে আমি ভালোবাসি। একদিন সিদ্ধান্ত নিলাম তানিয়াকে বলল, আমি তোমাকে ভালোবাসি। আমি তোমাকে বিয়ে করতে চাই। কোনো একটা ভালো দিন দেখে- খুব শ্রীঘই বলব। এর মধ্যে তানিয়া একদিন খুব নেশা করেছে। রাতে আমাকে ফোন দিয়ে খুব কাঁদছে। আমি বললাম, কাদছো কেন? কান্না করার কি আছে? থামো। কান্না বন্ধ করো। আমি তো আছি। প্রিয় মানুষের কান্না সহ্য করার ক্ষমতা আল্লাহ আমাকে দেন নি। তানিয়া শুধু বলছে- তুমি আসো। প্লীজ, তুমি আসো। তুমি আসলে আমার ভালো লাগবে। রাত তিনটায় নিশ্চয়ই কারো বাসায় যাওয়া যায় না। আমি ভোরে তানিয়ার বাসায় গেলাম। তানিয়া আমারে কোলে মাথা রেখে অনেকক্ষন কাদলো। বলল, আমার খুব কষ্ট। খুব। আমি একটা ছেলেকে ভালোবাসতাম। ছেলেটা আমার সাথে বেইমানি করেছে। আমি দুইবার এবরশন করিয়েছি।

(দ্বিতীয় পর্ব আগামীকাল)
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২০ রাত ১০:৪০
৬টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

।।মাদার অব ড্রাকুলা হাসিনার রাস্ট্রীয় জঙ্গীবাদ।।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:২৮


মাদার অব ড্রাকুলা হাসিনা ভারতের প্রযোজনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীদেরকে দিয়ে জঙ্গী জঙ্গী নাটক মঞ্চস্থ করতো। বহিবিশ্বকে বোঝাতো দেশে ইসলামী জঙ্গী দিয়ে ভরে গেছে এবং সেই জঙ্গীরা ইউরোপ আমেরিকার ভয়াবহ ক্ষতি করবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

=শরত তুই যাস নে ! =

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:১৩



ভ্যাপসা গরমে নাভিশ্বাস জীবনে কেবল বৃষ্টির হাপিত্যেশ,
মেঘ বলেছে আসবো আসবো আমার উদ্দেশ,
শুভ্র মেঘেদের নাচন
উত্তাপ হাওয়ায় যায় না আর বাঁচন,
তবুও স্নিগ্ধ আবেশ মনজুড়ে,
হঠাৎ হাওয়ার ঝাপটা, বাজে পাতার বাঁশি সুরে।

বিকেলের হাওয়ায় দেহ... ...বাকিটুকু পড়ুন

১ কোটি চাকরি: শর্ত প্রযোজ্য, মেধার প্রবেশ নিষেধ !

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:২৫


ভোটের আগে বলা হয়েছিল, ক্ষমতায় এলে প্রথম আঠারো মাসেই এক কোটি মানুষকে চাকরি দেওয়া হবে। কথাটা শুনে দেশের বেকার তরুণেরা তো মহাখুশি, কেউ ভাবল সরকারি চাকরি হবে, কেউ ভাবল... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিশ্বে ঋণ খেলাপিতে বাংলাদেশ ১ নম্বর এবং দেশে ঋণ খেলাপিতে শীর্ষ ২০ জনের ১৯ জনই ওনাদের!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:০৫



শাস্ত্রীয় কথায় না গিয়ে সোজা কথায় কেউ ঋণ নিয়ে তা পরিশোধ না করলে তাকে ঋণ খেলাপি বলা হয়। আপনি জানলে অবাক হবেন যে শীর্ষ ২০ ঋণ খেলাপির ১৯ জনই... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কি ডার্ক জাস্টিসকে ফলো করছেন?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:১০



ছোটবেলায় দেখা একটি টিভি সিরিয়াল তুমুল জনপ্রিয় হয়েছিলো। একজন বিচারক যিনি দিনের বেলায় কোর্ট রুমে অপরাধের বিচার করতেন, আর, রাতেরবেলা আইনের ফাঁক -ফোকর গলে বেরিয়ে যাওয়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

×