somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

আধুনিকতা

০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২০ বিকাল ৫:১৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



চায়ের দোকানে নাস্তিক আস্তিক নিয়ে তুমুল হইচই শুরু হয়েছে। আমি চুপ করে বসে আছি। খুব মন দিয়ে তাদের কথা শুনছি। যা শুনেছি তাই আপনাদের জন্য তুলে ধরছি। সবার মনে রাখা দরকার- পৃথিবীতে নেই কোনো বিশুদ্ধ ধর্ম। ধর্ম মানেই ক্যাচাল। ধর্ম মানেই কুসংস্কার। যারাই দিনরাত ধর্ম ধর্ম করে, তাদের মধ্যে ঝামেলা আছে। বাইবেলে বলা হয়েছে, “God created man in His own image”। বাইবেলের কথাটা অন্যভাবে বলা যায়, “Man created God in his own image”। প্রায় সব ধর্মেই তাই। তাই ঈশ্বরও মানুষের মতো। তিনি জীবের দুঃখে কাতর হন, আনন্দে উল্লসিত, ক্রোধে উন্মাদ। তাই বলা যায় ঈশ্বর আসলে সৃষ্টির সেরা গুজব। ধরে নিন ঈশ্বর আছে বা ধরে নিন ঈশ্বর নেই- তাতে দুনিয়ার কোনো পরিবর্তন হবে না। একই নিয়মে দুনিয়া চলবে।

ঈশ্বর সম্পূর্ণ কাল্পনিক ব্যাপার।
ঈশ্বর জীব জগৎ সৃষ্টি করেননি। জীবজন্তু পশু পাখি কীটপতঙ্গ, মানুষ কিছুই ঈশ্বরের সৃষ্টি নয়। এসবই হয়েছে সৃষ্টির নিয়মে, বিবর্তনের হাত ধরে। প্রাণের ইউনিট যে অ্যামিনো এসিড তা এখন ল্যাবরেটরীতে কৃত্রিমভাবে তৈরি করা সম্ভব হয়েছে, অর্থ্যাৎ প্রাণের উপাদান ইতোমধ্যেই ল্যাবরেটরীতে তৈরি করা সম্ভব হয়েছে। কে জানে হয়তো একদিন প্রাণও তৈরি করা সম্ভব হবে। বিজ্ঞান যে দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে, তাতে ল্যাবরেটরীতে প্রাণ তৈরির সম্ভাবনা অসম্ভব নয়। সুতরাং বোঝা যাচ্ছে, যে জিনিস এখন ল্যাবরেটরীতে হতে চলেছে, সুদূর অতীতে এইভাবেই সে জিনিস প্রকৃতিতে সৃষ্টি হয়েছিল, এর সঙ্গে ঈশ্বরের কোন সম্পর্ক নেই। ঈশ্বর প্রাণ সৃষ্টি করেননি।

ঐ যে “বিগ ব্যাং”– এর পর নিউক্লিয়ন ইত্যাদি কিছু কণিকা সৃষ্টি হয়েছিল সে তো শূণ্য থেকে হয়নি। নিশ্চয় কিছু ছিল যা থেকে হয়েছিল। কারণ বিজ্ঞানের গোড়ার কথাই হল – matter cannot be created nor can it be destroyed। শুধু ম্যাটার নয়, এনার্জীর বেলায়ও এই কথা। তাহলে দেখা যাচ্ছে, ম্যাটার আর এনার্জী বিশ্বসৃষ্টির আগেও ছিল, বিশ্ব যদি কোনদিন ধ্বংস হয়ে যায় তখনো থাকবে। তবে আজ যেভাবে আছে সেইভাবে হয়তো থাকবে না। হয়তো আবার “ব্ল্যাক হোল”- এর মতো কিছু একটা হয়ে ম্যাটারগুলো সব এক জায়গায় জড়ো হয়ে যাবে, যেমন দেড় হাজার কোটি বছর আগে “বিগ ব্যাং”-এর আগে যেমন ছিল। তার মানে ম্যাটার আর এনার্জী আগেও ছিল, পরেও থাকবে-চিরকালই থাকবে। কেবল রূপ বদলাবে হয়তো।

আপনি চিৎকার করে বললেন, ঈশ্বর নেই।
তাতে কার কি? কারো কিছু যায় আসে না। বাজারে জিনিসপত্রের দাম কমেও যাবে না, বেড়েও যাবে না। ঈশ্বর থাকা, না থাকা সমান। মৃত্যুর পরেরটা মৃত্যুর পরে দেখা যাবে। ধরুন আপনি দুনিয়ায়তে ঈশ্বর না মেনেই জীবন যাপন করলেন- আপনি কি লাভবান হবেন? না। ক্ষতিগ্রস্ত হবেন? না। ফলাফল শূন্য। এই যুগ আধুনিক যুগ। শিক্ষিত মানুষের যুগ। বিজ্ঞানের যুগ। এখানে কুসংস্কারের কোনো দাম নেই। দিন দিন ধর্মের প্রতি মানূষের আস্থা বিশ্বাস ভরসা কমে যাচ্ছে। এখন তো শূন্যের কোঠায় এসে ঠেকেছ। এক সময় দেখা যাবে পৃথিবীতে কেউই ঈশ্বর মানছে না। ধর্ম মানছে না। তখন পৃথিবীটা খুব সুন্দর হবে। কোনো হানাহানি থাকবে না। সমগ্র পৃথিবীতে একটাই ধর্ম থাকবে। সেটা হলো মানবতার ধর্ম।

নিজের উন্নতি, সমাজের উন্নতি সর্ব্বোপরি দেশের উন্নতির জন্য ধর্মকে চিরতরে বলি দিতে হবে। ভবিষ্যত্ব প্রজন্মের কথা ভেবে হলেও ধর্মকে দূর করতে হবে। জীবন থেকে ধর্মকে বাদ দিলে জীবন সুন্দর হবে। সমাজ থেকে ধর্মকে বাদ দিলে সমাজ উন্নত হবে। দেশ থেকে ধর্মকে ঝাঁটা মেরে বিদায় করলে- দেশ দ্রুত উন্নয়নের প্রথম কাতারে চলে যাবে। সবচেয়ে মজার ব্যবসা হলো ধর্ম ব্যবসা। তাই হুজুর সম্প্রদায়রা চিৎকার করে ধর্ম ধর্ম করে। ধর্মের গুন গায়। এর চাইতে সহজ ব্যবসা দুনিয়াতে আর নেই। অল্প সময়ে বেশি ইনকাম। একটা মসজিদ হলে ইমাম লাগবে, মোয়াজ্জিম লাগবে। খাদিম লাগবে। মাদ্রাসায় লেখাপড়া করে সব গরীব বাচ্চাকাচ্চারা। কিন্তু আধুনিক শিক্ষা দরকার শিশুকাল থেকেই। ধর্মের বানী হলো রুপকথা। রুপকথা দিয়ে জীবন চলে না।
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২০ বিকাল ৫:১৭
১৮টি মন্তব্য ১৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

।।মাদার অব ড্রাকুলা হাসিনার রাস্ট্রীয় জঙ্গীবাদ।।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:২৮


মাদার অব ড্রাকুলা হাসিনা ভারতের প্রযোজনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীদেরকে দিয়ে জঙ্গী জঙ্গী নাটক মঞ্চস্থ করতো। বহিবিশ্বকে বোঝাতো দেশে ইসলামী জঙ্গী দিয়ে ভরে গেছে এবং সেই জঙ্গীরা ইউরোপ আমেরিকার ভয়াবহ ক্ষতি করবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

=শরত তুই যাস নে ! =

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:১৩



ভ্যাপসা গরমে নাভিশ্বাস জীবনে কেবল বৃষ্টির হাপিত্যেশ,
মেঘ বলেছে আসবো আসবো আমার উদ্দেশ,
শুভ্র মেঘেদের নাচন
উত্তাপ হাওয়ায় যায় না আর বাঁচন,
তবুও স্নিগ্ধ আবেশ মনজুড়ে,
হঠাৎ হাওয়ার ঝাপটা, বাজে পাতার বাঁশি সুরে।

বিকেলের হাওয়ায় দেহ... ...বাকিটুকু পড়ুন

১ কোটি চাকরি: শর্ত প্রযোজ্য, মেধার প্রবেশ নিষেধ !

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:২৫


ভোটের আগে বলা হয়েছিল, ক্ষমতায় এলে প্রথম আঠারো মাসেই এক কোটি মানুষকে চাকরি দেওয়া হবে। কথাটা শুনে দেশের বেকার তরুণেরা তো মহাখুশি, কেউ ভাবল সরকারি চাকরি হবে, কেউ ভাবল... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিশ্বে ঋণ খেলাপিতে বাংলাদেশ ১ নম্বর এবং দেশে ঋণ খেলাপিতে শীর্ষ ২০ জনের ১৯ জনই ওনাদের!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:০৫



শাস্ত্রীয় কথায় না গিয়ে সোজা কথায় কেউ ঋণ নিয়ে তা পরিশোধ না করলে তাকে ঋণ খেলাপি বলা হয়। আপনি জানলে অবাক হবেন যে শীর্ষ ২০ ঋণ খেলাপির ১৯ জনই... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কি ডার্ক জাস্টিসকে ফলো করছেন?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:১০



ছোটবেলায় দেখা একটি টিভি সিরিয়াল তুমুল জনপ্রিয় হয়েছিলো। একজন বিচারক যিনি দিনের বেলায় কোর্ট রুমে অপরাধের বিচার করতেন, আর, রাতেরবেলা আইনের ফাঁক -ফোকর গলে বেরিয়ে যাওয়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

×