
চায়ের দোকানে নাস্তিক আস্তিক নিয়ে তুমুল হইচই শুরু হয়েছে। আমি চুপ করে বসে আছি। খুব মন দিয়ে তাদের কথা শুনছি। যা শুনেছি তাই আপনাদের জন্য তুলে ধরছি। সবার মনে রাখা দরকার- পৃথিবীতে নেই কোনো বিশুদ্ধ ধর্ম। ধর্ম মানেই ক্যাচাল। ধর্ম মানেই কুসংস্কার। যারাই দিনরাত ধর্ম ধর্ম করে, তাদের মধ্যে ঝামেলা আছে। বাইবেলে বলা হয়েছে, “God created man in His own image”। বাইবেলের কথাটা অন্যভাবে বলা যায়, “Man created God in his own image”। প্রায় সব ধর্মেই তাই। তাই ঈশ্বরও মানুষের মতো। তিনি জীবের দুঃখে কাতর হন, আনন্দে উল্লসিত, ক্রোধে উন্মাদ। তাই বলা যায় ঈশ্বর আসলে সৃষ্টির সেরা গুজব। ধরে নিন ঈশ্বর আছে বা ধরে নিন ঈশ্বর নেই- তাতে দুনিয়ার কোনো পরিবর্তন হবে না। একই নিয়মে দুনিয়া চলবে।
ঈশ্বর সম্পূর্ণ কাল্পনিক ব্যাপার।
ঈশ্বর জীব জগৎ সৃষ্টি করেননি। জীবজন্তু পশু পাখি কীটপতঙ্গ, মানুষ কিছুই ঈশ্বরের সৃষ্টি নয়। এসবই হয়েছে সৃষ্টির নিয়মে, বিবর্তনের হাত ধরে। প্রাণের ইউনিট যে অ্যামিনো এসিড তা এখন ল্যাবরেটরীতে কৃত্রিমভাবে তৈরি করা সম্ভব হয়েছে, অর্থ্যাৎ প্রাণের উপাদান ইতোমধ্যেই ল্যাবরেটরীতে তৈরি করা সম্ভব হয়েছে। কে জানে হয়তো একদিন প্রাণও তৈরি করা সম্ভব হবে। বিজ্ঞান যে দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে, তাতে ল্যাবরেটরীতে প্রাণ তৈরির সম্ভাবনা অসম্ভব নয়। সুতরাং বোঝা যাচ্ছে, যে জিনিস এখন ল্যাবরেটরীতে হতে চলেছে, সুদূর অতীতে এইভাবেই সে জিনিস প্রকৃতিতে সৃষ্টি হয়েছিল, এর সঙ্গে ঈশ্বরের কোন সম্পর্ক নেই। ঈশ্বর প্রাণ সৃষ্টি করেননি।
ঐ যে “বিগ ব্যাং”– এর পর নিউক্লিয়ন ইত্যাদি কিছু কণিকা সৃষ্টি হয়েছিল সে তো শূণ্য থেকে হয়নি। নিশ্চয় কিছু ছিল যা থেকে হয়েছিল। কারণ বিজ্ঞানের গোড়ার কথাই হল – matter cannot be created nor can it be destroyed। শুধু ম্যাটার নয়, এনার্জীর বেলায়ও এই কথা। তাহলে দেখা যাচ্ছে, ম্যাটার আর এনার্জী বিশ্বসৃষ্টির আগেও ছিল, বিশ্ব যদি কোনদিন ধ্বংস হয়ে যায় তখনো থাকবে। তবে আজ যেভাবে আছে সেইভাবে হয়তো থাকবে না। হয়তো আবার “ব্ল্যাক হোল”- এর মতো কিছু একটা হয়ে ম্যাটারগুলো সব এক জায়গায় জড়ো হয়ে যাবে, যেমন দেড় হাজার কোটি বছর আগে “বিগ ব্যাং”-এর আগে যেমন ছিল। তার মানে ম্যাটার আর এনার্জী আগেও ছিল, পরেও থাকবে-চিরকালই থাকবে। কেবল রূপ বদলাবে হয়তো।
আপনি চিৎকার করে বললেন, ঈশ্বর নেই।
তাতে কার কি? কারো কিছু যায় আসে না। বাজারে জিনিসপত্রের দাম কমেও যাবে না, বেড়েও যাবে না। ঈশ্বর থাকা, না থাকা সমান। মৃত্যুর পরেরটা মৃত্যুর পরে দেখা যাবে। ধরুন আপনি দুনিয়ায়তে ঈশ্বর না মেনেই জীবন যাপন করলেন- আপনি কি লাভবান হবেন? না। ক্ষতিগ্রস্ত হবেন? না। ফলাফল শূন্য। এই যুগ আধুনিক যুগ। শিক্ষিত মানুষের যুগ। বিজ্ঞানের যুগ। এখানে কুসংস্কারের কোনো দাম নেই। দিন দিন ধর্মের প্রতি মানূষের আস্থা বিশ্বাস ভরসা কমে যাচ্ছে। এখন তো শূন্যের কোঠায় এসে ঠেকেছ। এক সময় দেখা যাবে পৃথিবীতে কেউই ঈশ্বর মানছে না। ধর্ম মানছে না। তখন পৃথিবীটা খুব সুন্দর হবে। কোনো হানাহানি থাকবে না। সমগ্র পৃথিবীতে একটাই ধর্ম থাকবে। সেটা হলো মানবতার ধর্ম।
নিজের উন্নতি, সমাজের উন্নতি সর্ব্বোপরি দেশের উন্নতির জন্য ধর্মকে চিরতরে বলি দিতে হবে। ভবিষ্যত্ব প্রজন্মের কথা ভেবে হলেও ধর্মকে দূর করতে হবে। জীবন থেকে ধর্মকে বাদ দিলে জীবন সুন্দর হবে। সমাজ থেকে ধর্মকে বাদ দিলে সমাজ উন্নত হবে। দেশ থেকে ধর্মকে ঝাঁটা মেরে বিদায় করলে- দেশ দ্রুত উন্নয়নের প্রথম কাতারে চলে যাবে। সবচেয়ে মজার ব্যবসা হলো ধর্ম ব্যবসা। তাই হুজুর সম্প্রদায়রা চিৎকার করে ধর্ম ধর্ম করে। ধর্মের গুন গায়। এর চাইতে সহজ ব্যবসা দুনিয়াতে আর নেই। অল্প সময়ে বেশি ইনকাম। একটা মসজিদ হলে ইমাম লাগবে, মোয়াজ্জিম লাগবে। খাদিম লাগবে। মাদ্রাসায় লেখাপড়া করে সব গরীব বাচ্চাকাচ্চারা। কিন্তু আধুনিক শিক্ষা দরকার শিশুকাল থেকেই। ধর্মের বানী হলো রুপকথা। রুপকথা দিয়ে জীবন চলে না।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।






