
নতুন নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন হয়, আমি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখি। লেখক পাঠক হাত নেড়ে নেড়ে গল্প করে। কত শত নতুন বই। সুন্দর সুন্দর প্রচ্ছদ। নতুন বইয়ের ঘ্রান। বই হাতে লেখক পাঠক ছবি তোলে। আমি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখি । খুব ভালো লাগে।
নতুন কোনো লেখকের বই বের হলে, সবাই তাকে শুধু শুভেচ্ছা আর অভিনন্দন জানায়। ব্যাপারটা খুব দুঃখজনক। সহজ সরল সত্য কথা হলো- লেখকরা শুধু শুভেচ্ছা আর অভিনন্দন চায় না। নতুন লেখক চায় সবাই এক কপি করে তার বই কিনুক। আমি স্পষ্ট করে- শুভেচ্ছা আর অভিনন্দনওয়ালাদের বলতে চাই- দয়া করে বই কিনতে শিখুন।
আমরা সাধারণত নতুন লেখকদের বই কিনি না। এতে করে আমরা তিনটা ভুল কাজ করি।
এক, নতুন লেখক বের হয়ে আসার পথ নষ্ট করি।
দুই, নতুন অভিজ্ঞতা, অনুভূতি আস্বাদনের পথ বন্ধ করি।
তৃতীয়টি মারাত্মক, ভাষা সাহিত্যের বিকাশের পথ বন্ধ করি।
বই মেলায় অন্তত তিনজন নতুন লেখকের বই কিনুন। একটা বিষয় দারুণ সত্য যে পৃথিবীর সবচেয়ে খারাপ বইও অন্তত একটা ভাল লাইন আপনাকে আস্বাদন করতে দেবে। সবচেয়ে অপ্রয়োজনীয় বইও মগজকে একবার নাড়া দিবে।
বইমেলার সঙ্গে সংস্কৃতির যোগাযোগ নিবিড়। বাংলার এই সংস্কৃতিতে থাকে সব ধর্মের মানুষের সংস্কৃতির সমন্বয়। পুরো ফেব্রুয়ারী মাস জুড়ে থাকে বইমেলা। দেশের সবগুলো প্রকাশনী তাদের যতো বই আছে, প্রায় সবগুলো নিয়ে মেলায় তাদের স্টল সাজায়। আর আমরা সবাই মেলায় যাই, বই নেড়েচেড়ে দেখি, নতুন বইয়ের ঘ্রাণ নেই, আর পছন্দের বই গুলো কিনে বাসায় আসি। তারপর নতুন বইয়ের টাটকা ঘ্রাণ থাকতে থাকতেই সেগুলো পড়ে ফেলি।
শীতের বুড়ি ফেরত যাওয়ার রাস্তা খুঁজছে। প্রকৃতিতে লেগেছে ফাগুনের ছোঁয়া। নতুন বইগুলোকে ঘিরে লেখক-পাঠক-প্রকাশকেরা সব্বাই ভীষণ ব্যস্ত। মেলায় লেখক পাঠক হাত নেড়ে নেড়ে খুব গল্প করে, আমি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখি। খুব ভালো লাগে।
প্রতিদিন চায়ের কাপের পাশে বই থাকুক, মনিটরের পাশে থাকুক বই, বিছানায় বালিশের পাশে থাকুক বই, বই থাকুক বাথরুমে, জ্যামের বাসে, কিবা যাত্রা পথে। ইলেকট্রিক বিল অথবা ব্যাংকে লম্বা লাইনে দাড়িয়ে আপনার হাতে একটা বই থাকতেই পারে। সময়কে উপভোগ করতে চান বা সময় থেকে পালিয়ে থাকতে চান বই হোক শ্রেষ্ঠ সঙ্গী।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।






