
উপরের ছবিটিতে আমি এবং তাইয়েবা।
তাইয়েবার বয়স সতের দিন। তাইয়েবা আমাদের এক আত্মীয়'র মেয়ে। সে আমাদের বাসায় বেড়াতে এসেছে। সুরভি তাইয়েবা'কে হঠাত আমার কোলে দিয়ে দিয়েছে। ছোট বাচ্চাদের আমি কোলে নিতে পারি না। কখন হাত থেকে পড়ে যায়! তাইয়েবাকে যখন কোলে নিই তখন পরী এই ছবিটা তুলে দেয়। কি মনে করে আমি ছবিটা ফেসবুকে দেই। ফেসবুকে সবাই মনে করেছে এই শিশুর পিতা আমি। আমাকে সবাই ঝড়ের গতিতে অভিনন্দন জানাতে শুরু করেছে। যাই হোক, তাইয়েবা ভালো থাকুক। সুস্থ থাকুক। অবশ্য তাইয়েবা সারাদিন আমাদের বাসায়ই থাকবে। কারন তাইয়েবার মা একটা স্কুলে চাকরী করে। সকাল আট থেকে বিকেল তিনটা পর্যন্ত। স্কুল থেকে ফেরার পথে তাইয়েবাকে নিয়ে যাবে।
বাজারে এখন প্রচুর ইলিশ।
দামও বেশ সস্তা। বিক্রেতা মাছ গুলো খুব সুন্দর করে সাজিয়ে রাখে। লাইটের আলোতে মাছ গুলো ঝলমল করে। প্রতিদিন এপথ দিয়ে যাওয়ার সময় মাছ গুলো দেখি। খুব সাহস করে চারটা ইলিশ কিনে নিলাম। বড় ইলিশ। দাম নিলো দুই হাজার টাকা। মানে একটা পাঁচ শ' টাকা করে। অন্য সময় এই ইলিশের দাম নিতো কমপক্ষে একটা এক হাজার টাকা করে। বাজার থেকেই চারটা মাছ কাটিয়ে নিলাম ষাট টাকা দিয়ে। রাতে সুরভি ইলিশ মাছ ভেজে রান্না করলো। কিন্তু মাছটা খেয়ে আরাম পেলাম না। কেমন মাটি মাটি লাগলো। একদম স্বাদ নেই। ঘটনা কি? অনুসন্ধান করে জানলাম। এখন ইলিশের সিজন না। এই জন্য মাছে স্বাদ নাই।
আগামী শুক্রবার নোয়াখালী যাবো।
না গিয়ে উপায় নাই। যেতেই হবে। দাওয়াত আছে। কাছের আত্মীয়'র দাওয়াত। একটা মাইক্রোবাস ভাড়া করা হয়েছে। ঢাকা থেকে আমরা সাত জন যাবো। ফেরার সময় আমি একা ফিরব। কারন তারা সবাই নোয়াখালি থেকে কক্সবাজার যাবে। আমি সুরভিকে স্পষ্ট করে বলে দিয়েছি আমি যাবো না। তুমি গেলে যাও। সুরভি বলল, তুমি কোথাও যেতে চাও না কেন? তোমার জন্য আমারও যাওয়া হয় না। সুরভিকে কি করে বুঝাই বিয়ের আগেই আমি কমপক্ষে ১৪ বার কক্সবাজার গিয়েছি। আর কত যাবো। এক জাগায় এতবার করে যেতে আমার ভালো লাগে না। যেখানে আমি আগে যাই নি, সেখানে যাওয়া যেতে পারে।
আমার এক বড় ভাই। খুব জ্ঞানী মানুষ।
তবে সে ভীষন রকমের নাস্তিক। আমি তাকে প্রশ্ন করলাম- আপনি কবে থেকে এবং কেন নাস্তিক হলেন? বড় ভাই বললেন, যেদিন আমি পুরো কোরআন বাংলা অনুবাদ পড়ে শেষ করলাম। সেদিন থেকে আমি নাস্তিক হয়ে গেলাম। যাই হোক, ভাইয়ের কথা পরে অন্য কোনো সময় বিস্তারিত লিখব। আজ অন্য কথা বলি- ইহুদীদের নবী মুসা (আঃ)। একদিন ঈশ্বর তাকে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি আমার কাছে কী চাও? মুসা নবী বেশ ফাঁপড়ে পড়লেন।
কী চাই, কী চাই? কিছুই ভেবে পাচ্ছেন না।
পরে বললেন, তুমি যদি আমার অবস্থানে থাকতে আর আমি যদি তোমার অবস্থানে থাকতাম, তুমি কী চাইতে আমার কাছে? তুমি যা চাইতে আমিও তাই চাই ।
তখন ঈশ্বর বললেন, আমার তো চাওয়া পাওয়ার কিছু নেই, তবে তোমার অবস্থানে থাকলে আমি সর্বদা সুস্থ থাকতে চাইতাম।
এই গল্প থেকে আমরা কী শিক্ষা পাই?
ইদানিং আমি খাওয়া খাদ্য কমিয়ে দিয়েছি।
বাইরের খাবার খাওয়া প্রায় ছেড়েই দিয়েছি। আমি চিন্তা করে বের করেছি- বেশি খেলেই অসুখ বিসুখ বেশি হয়। কম খেলে অসুখ বিসুখ কম হয়। পোলাউ আমার ভীষন প্রিয় ছিলো। সেদিন সুরভি পোলাউ রান্না করেছে। কিন্তু আমি খাই নি। রাতে শুধু মুড়ি খেয়ে ঘুমিয়েছি। একবার এক সাংবাদিক মালায়েশিয়ার প্রেসিডেন্ট মাহাথির সাহেবকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, আপনি ৯২ বছরেও সুস্থ আছেন, রহস্য কী?
তখন মাহাথির উত্তর দিয়েছিলেন, সুস্বাদু খাবার আমি অল্প খাই। অর্থাৎ যে খাবার খেতে মুখে স্বাদ লাগে তা তিনি অল্প খেতেন।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।






