
ঢং ঢং করে ঘড়ি বেজে উঠল।
রাত তিনটা। বিছানায় গিয়েছি রাত দুইটায়। আমি বিছানায় শুয়ে আছি। কখন ঘুমিয়ে পড়েছিলাম জানি না। একটা সুন্দর স্বপ্ন দেখেছি। স্বপ্নে দেখি- নুহাশ পল্লীতে হুমায়ুন আহমেদ আর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর খুব গল্প করছেন। আমি তাদের পাশে গিয়ে বসলাম। রবীন্দ্রনাথ আমাকে চায়ের কাপ এগিয়ে দিলেন, বললেন- চা খাও।
আমি চায়ে চুমুক দিয়ে দেখি চিনি ছাড়া চা।
বললাম, চিনি ছাড়া চা আমি খাই না।
হুমায়ুন আহমেদ বললেন- এখন চিনি কোথায় পাবো?
আমি বললাম, তাহলে এক চিমটি লবন কি পাওয়া যাবে?
হুমায়ুন আহমেদ লবনের বদলে চিনিই ব্যবস্থা করে দিলেন।
আমাদের তিন জনের চা শেষ হলো।
রবীন্দ্রনাথ বললেন, আমরা তিনজন মিলে একটা করে প্রেমের গল্প লিখব। সময় এক ঘন্টা। হুমায়ুন তুমি লিখবে রুপাকে নিয়ে, আমি লিখব লাবণ্যকে নিয়ে আর রাজীব নূর তুমি লিখবে হিমিকে নিয়ে।
আমি বললাম, স্যার আমি পারব না।
রবীন্দ্রনাথ বললেন, তুমি পারবে- আমি হিমিকে নিয়ে তোমার কিছু লেখা পড়েছি। ভালো লিখেছো। একজন প্রকাশক এসে আমাদের তিন জনের হাতে সাদা কাগজ আর কলম ধরিয়ে দিলেন। আমার মনে হচ্ছে- বিশাল সমুদ্রের মাঝে ডুবে যাচ্ছি।
আমরা তিনজন দ্রুত লিখে চলেছি।
কেউ কারো দিকে তাকাচ্ছি না। সময় খুব কম। সবাই হয়তো মনে মনে চাচ্ছি জীবনের সেরা গল্পটা এখনই লিখে ফেলব। এক ঘন্টা দ্রুত কেটে গেল। আমাদের গল্প লেখাও শেষ হলো। প্রকাশক হলেন বিচারক। তার কাছে আমরা গল্প জমা দিলাম। তিনি বললেন, গল্প লেখার আগে একটা জরুরী ঘোষনা দিতে ভুলে গিয়েছিলাম। যার গল্প সবচেয়ে ভালো হবে তাকে এখনই হত্যা করা হবে। প্রকাশের হাতে একটা পিস্তল দেখা গেল। কোনো রকম ভূমিকা না করেই প্রকাশক আমার মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে গুলি করলেন। আমি ছিটকে পড়লাম তিন হাত দূরে। আমার ঘুম ভেঙ্গে গেল।
(ছবিঃ আমারই তোলা)
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই জুন, ২০২০ বিকাল ৪:০৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



