somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

এই সমাজ- ২৭

১৯ শে জুন, ২০২০ বিকাল ৪:৫৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



এই করোনা কালে- ব্যাংকসহ বেসরকারী প্রতিষ্ঠান গুলো তার কর্মীদের সেলারি কমিয়ে দিচ্ছে। কর্মী ছাটাই করছে। বিশেষ করে মিডিয়াতে লোকজন বেশি ছাটাই হচ্ছে। ঘর ভাড়া তো দিতে হয়, পরিবারের খাওয়া খরচ আছে, ডাক্তার ওষুধ আছে। মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়েছে। সরকারি চাকরিজীবি ছাড়া কেউ ভালো নেই। আমার সবচেয়ে খারাপ লাগে- রাস্তায় বের হলেই ভিক্ষুক। প্রচুর ভিক্ষুক। ভিক্ষুক আগেও ছিলো কিন্তু অতি মাত্রায় তাদের সংখ্যা অনেক বেড়ে গেছে। একদম ছোট ছোট বাচ্চাও ভিক্ষা করছে। আগে যে সমস্ত জায়গাতে ভিক্ষুক দেখা যেত না এখন সেখানেও ভিক্ষুক দেখা যাচ্ছে। যে দেশ উন্নয়নের মহাসড়কে সে দেশে এত ভিক্ষুক থাকবে কেন?

এই করোনা মহামারীর মধ্যেও অনেক কষ্ট করে প্রবাসীরা তাদের পরিবার বা আত্মীয়স্বজনদের জন্য দেশে ঠিকই টাকা পাঠাচ্ছেন! মানুষের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। মানুষের সহ্যের বাধ ভেঙ্গে গেছে। মানুষের ক্ষোভ কোন পর্যায়ে গেলে ডাক্তারকে পিটিয়ে মেরে ফেলে। যদিও এটা কিছুতেই কাম্য নয়। ডাক্তারদের অবহেলা ( কিছু সংখ্যক বাদে) প্রতিদিনকার ঘটনা। হাসপাতালে হাসপাতালে ঘুরে অবশেষে রাস্তায় মৃত্যু। রোগী ও রোগীর স্বজনদের আর্তচিৎকারের করুন চিত্র কার চোখে না পড়েছে? এসবের পুঞ্জিভূত ক্ষোভ হয়তো ডাক্তারের উপর আক্রমণ। রাষ্ট্র ও শাসকশ্রেণীর অব্যবস্থাপনা আর ব্যর্থতাই এসব মৃত্যুর জন্য দায়ী। বড় বড় পদ গুলোতে অযোগ্য লোকজন বসে আছে। কোণ ত্রান চোরকে পিটিয়ে মারা হয় নি। কোনো দূর্নীতিবাজকে পিটিয়ে মারা হয়নি। কোনো রাজনীতিবিদকে পিটিয়ে মারা হইয়নি। নিশ্চয়ই কোনো গরীব মানুষ ডাক্তারকে পিটিয়ে মেরে ফেলেনি।

এদিকে লাদাখে চীনা বাহিনীর হামলায় ৭৬ ভারতীয় সেনা আহত। উপমহাদেশ অশান্ত হলে ভয় লাগে। চারপাশে আবদ্ধ ছোট এই দেশের উপর সব কিছুর প্রভাব কোন না কোনভাবে পরে যায়। চারিদিকে শুধু দুঃসংবাদ। ঢাকা-১৮ আসনের অভিভাবক, মাটি ও মানুষের নেত্রী, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, সকলের প্রিয় জন মাতৃতুল্য এড. সাহারা খাতুন এম পি ICU তে। আশা করি উনি দ্রুত রোগ মুক্ত হয়ে ঢাকা ১৮ আসনের জনগনের সেবায় আবারো আত্মনিয়োগ করতে পারেন। আল্লাহ উনাকে দ্রুত সুস্থতা দান করুক, আমিন। আজ জানলাম, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব কামাল লোহানী করোনা আক্রান্ত। এদিকে শুনলাম, সাবেক এলজিইআরডি মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেনও নাকি করোনা আক্রান্ত!

একের পর এক প্রকাশনী বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।
প্রথমে পেন্সিল এরপর মধ্যমা, দীপনপুর, কবিতাক্যাফে, নালন্দা এসব নাকি বন্ধ হয়ে গেছে। এরপর কোন প্রকাশনী বন্ধ হবে? এই করুন অবস্থা শুধু কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের নয়। এখন দীর্ঘশ্বাস ও দুঃসময় সমস্ত জাতির। সমস্ত বিশ্বের। এজন্য দায়ী করোনা নয়। দায়ী হলো- সমাজ ব্যবস্থার। রাষ্ট্র ব্যবস্থার। শাসন ব্যবস্থা। রাজনীতিবিদ। শিক্ষা ব্যবস্থা। দূর্নীতি। এই জাতি মূর্খ থাকতে ভালোবাসে তাই বইয়ের দোকান বন্ধ হবে এটা স্বাভাবিক ব্যাপার। এগুলোতে এখন টিশার্ট ও খাবার দোকান ভালো বিকোবে।

একটা কৌতুক দিয়ে লেখাটা শেষ করছি।
এক শিক্ষকের স্ত্রী মাঝরাতে উঠে দেখলেন, স্বামীর দু চোখ লাল, মাথার চুল এলোমেলো। পরীক্ষার খাতা খুলে একদৃষ্টে খাতার দিকে তাকিয়ে আছেন।
স্ত্রীঃ এ কী? রাত দশটা থেকে দেখছি এই খাতাটা নিয়েই বসে আছো ?
শিক্ষকঃ হ্যাঁ, ওকে কত নাম্বার দেব বুঝতে পারছি না।
স্ত্রীঃ কেন? কী লিখেছে?
শিক্ষকঃ লিখেছে, সম্রাট আকবর বিপদের দিনে জাঙ্গিয়া পড়িতেন না।
স্ত্রীর চোখ কপালে উঠে গেল। এ আবার কী? তিনি স্বামীকে প্রশ্ন করলেন, জাঙ্গিয়া পরিতেন না? মানে কি? তখন তো জাঙ্গিয়ার কোম্পানিই ছিল না!
শিক্ষকঃ সেটাই তো ভাবছি। কেন সে এটা লিখল।
স্ত্রী চলে গেলেন।

ভোর রাত্রে একটা হৈ হল্লার আওয়াজে স্ত্রীর ঘুম ভেঙে গেল। উঠে দেখলেন, স্বামী অত্যন্ত আনন্দের ভঙ্গিতে উন্মাদের মত সারা ঘরে নেচে বেড়াচ্ছেন, সারা ঘরে খাতা কলম ছড়ানো। স্ত্রীকে দেখে স্বামীর উল্লাস দ্বিগুণ বেড়ে গেল। স্ত্রীকে বললেন, গিন্নী, নাম্বার দিয়েছি।
স্ত্রীঃ কত দিয়েছ?
শিক্ষকঃ শূণ্য।
আশ্চর্য হয়ে স্ত্রী বললেন, সারারাত জেগে খাতা দেখে শুধু শূণ্য দিলে?
শিক্ষকঃ হ্যাঁ।
স্ত্রীঃ কিন্তু কেন?
শিক্ষকঃ মাল টুকলি করেছে।
স্ত্রীঃ টুকলি? তার মানে আরো অনেকে লিখেছে?
শিক্ষকঃ না।
স্ত্রীঃ তবে?
শিক্ষকঃ সে দেখতে ভুল করেছে। যারটা দেখে সে টুকেছে সে লিখেছিল, সম্রাট আকবর বিপদের দিনে ভাঙ্গিয়া পড়িতেন না"। আর সে লিখেছে সম্রাট আকবর বিপদের দিনে জাংগিয়া পড়িতেন না।

(ছবিঃ আমার তোলা।)
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে জুন, ২০২০ বিকাল ৪:৫৫
১৫টি মন্তব্য ১৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

২০১৮ সালের পর ঢাকাতেই ৪টা এক্সপ্রেসওয়ে

লিখেছেন মাথা পাগলা, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:৫৩



একটা দেশের উন্নয়ন কতটা এগিয়েছে, সেটা বোঝার অনেকগুলো উপায় আছে। তবে সবচেয়ে সহজ উপায় হলো সেই দেশের রাস্তা, সেতু আর যোগাযোগব্যবস্থা। কারণ এগুলোর পরিবর্তন সরাসরি মানুষের দৈনন্দিন জীবনে চোখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অভ্যাস বিষয়ে

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:১২

অভ্যাস আসলে কীভাবে তৈরি হয়?

আমরা অনেক সময় ভাবি, কোনো একটা অভ্যাস তৈরি করতে হলে অনেক বেশি Willpower দরকার।

আসলে ব্যাপারটা একটু অন্যরকম।

আপনি যদি প্রতিদিন এক ঘণ্টা বই পড়ার সিদ্ধান্ত নেন, কিন্তু... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ১৯৭

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৪



শরতের সকাল! সকাল ৮ টা।
ভাদ্র মাস। ইংরেজি সেপ্টেম্বর মাস। ২০২৬ সাল। ঘটনাটা কি হয়েছে, আমি বলি। মোটামোটি ভয়াবহ ঘটনা বলা যেতে পারে! যে কোনো সময় রোদ উঠবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশে বর্তমান গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট: দায় কার?

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:০৭


সংক্ষিপ্ত রায় সবচেয়ে বড় দায় বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ নীতির। এর মধ্যে ২০০৯–২০২৪ সময়কালের সরকারের সিদ্ধান্তগুলোর দায় তুলনামূলকভাবে বেশি, কারণ ওই সময়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা দ্রুত বাড়ানো হলেও... ...বাকিটুকু পড়ুন

যাপিত জীবন.....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৭


১।মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ব্রুনাই দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কিছু দেশে জুম্মার নামাজ পড়ার সুযোগ হয়েছে। ১২.৫০ এ আজান তারপর ১.১৫ দিকে জুম্মার নামাজের সকল আনুষ্ঠানিকতা শেষ। আজানের কিছুক্ষণ পর খুতবা শুরু তারপর... ...বাকিটুকু পড়ুন

×