somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

আজকের ডায়েরী- ৬০

১৯ শে জুন, ২০২০ রাত ১০:৪০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আজকের ডায়েরীতে নতুন কিছু লেখার নেই।
নতুন কিছু ঘটছে না। প্রতিটা দিন একই রকম যাচ্ছে। কোনো পরিবর্তন নাই। মুভি দেখছি। বই পড়ছি। নিজের চা নিজেই বানিয়ে খাচ্ছি। ঘরে খুব বেশি দম বন্ধ লাগলে বিকেলের দিকে হাটতে বাইরে যাচ্ছি। আমাদের এলাকার দোকানপাট, বাজার আর মানুষজনের চলা ফেরা দেখলে কেউ বিশ্বাস করবে না করোনা বলে কিছু আছে। আমি চারপাশ দেখি। চারিপাশের পরিস্থিতি বুঝতে চেষ্টা করি। মানুষের সমস্যা গুলো বুঝতে চেষ্টা করি। বাসায় ফেরার পথে আম কিনি। কখনও পেয়ারা বা লিচু। বাসায় ফেরার পথে সুরভিকে ফোন দেই- আর্জেন্ট কিছু লাগবে কিনা। সুরভি একেক সময় একেকটা বলে। কখনও আলু, কখনও ডিম, কখনও মরিচের গুড়া। ব্যলকনিতে গিয়ে বসলেই অতীতের ঘটনা গুলো মনে পরে যায়।


একদিন দুপুর দেড়টার সময়।
বাস ভর্তি যাত্রী। স্থানঃ ফার্মগেট। লোকাল বাসের মধ্যে বসে আছি। যাবো উত্তরা। রাস্তায় ভয়াবহ জ্যাম, ভয়াবহ গরম। চারিদিকে কড়া রোদ উঠেছে। আমার সারা শরীর ঘামে ভেজা, কপাল থেকে টপটপ করে ঘাম পড়ছে। বসার জায়গা পাইনি। হেন্ডেল ধরে দাড়িয়ে আছি। কিন্তু আমার বিরক্ত লাগছে না। বাসের ভেতরে চরম বিনোদন চলছে। কত রকম মানুষ। তাদের প্রত্যেককে আমি দেখছি। মুগ্ধ হচ্ছি। মানুষের চেয়ে আজব প্রানী দুনিয়াতে আর কিছু নাই।

বাসের ভেতরে ভিক্ষুক গান গেয়ে ভিক্ষা করছেন।
কি চমতকার গলা। ভিক্ষুক সংগীত প্রতিযোগিতায় যোগ দিচ্ছে না কেন? একজন ভিক্ষুক নামছে আরেকজন উঠছে। যার হাত নেই সে হাত দেখিয়ে ভিক্ষা করছে, যার পা নেই সে পা দেখিয়ে ভিক্ষা করছে, যার চোখ নেই সে চোখ দেখিয়ে ভিক্ষা করছে। একেক জনের আচার আচরন একেক রকম। কারো সাথে কারো মিল নেই। বাসের যাত্রীরা কেউ কেউ পাঁচ টাকা, দশ টাকা ভিক্ষা দিচ্ছে। মানুষের মনে এখনও মায়া দয়া আছে। সবাই নিষ্ঠুর না। আচারওয়ালা আচার বিক্রি করছে- একটা ২ টাকা আর তিনটা ৫ টাকা। অনেক যাত্রীই আগ্রহ নিয়ে আচার কিনছেন। আরেক লোক বাসে চটি বই বিক্রি করছে। তিনটা নিলে ১০ টাকা, ১০ টাকা। ১০ টাকা। আমি নিজে হাতে নিয়ে দেখলাম চটি বই গুলো। পাতলা বই গুলোতে ধাধা আছে, মজার প্রশ্ন আছে, ইয়াসীন সূরার বাংলা অনুবাদ আছে। ডায়বেটিকস ও যৌন্য সমস্যা থেকে মুক্তি উপায় আছে।

আরেক যাত্রী ভাড়া কম দেওয়ায় কন্ট্রাকটরের সাথে ঝগড়া।
তুমুল ঝগড়া। হয়তো কিছুক্ষনের মধ্যে মারামারি শুরু হবে। যাত্রী কাকে যেন ফোন দিয়ে আসতে বললেন। কন্টাকটর মোটেও ভয় পেল না। বরং সে বলছে, পাঠাওতে করে তাড়াতাড়ি আসতে বলেন। এদিকে আরেক যাত্রী 'স্টুডেন্ট' বলছে, আমি ছাত্র আমার ভাড়া অর্ধেক। দশ টাকা ভাড়া বাচানোর জন্য যাত্রীদের কত রকমের চেষ্টা! বাসে এক হুজুর উঠেছে, সে বলছে মসজিদ ও মাদ্রাসার জন্য দান করুন। বেহেশতে যাবেন। সেই দেশ ভাগের পর থেকেই আজও মসজিদ আর মাদরাসার জন্য বাসে ফু্টপাতে টাকা সংগ্রহ চলছেই। শসা ওয়ালা শসা বিক্রি নিয়ে ব্যস্ত- তার বক্তব্য, গরমে শসা খান। আরাম পান। যাত্রীরা শশা খাচ্ছে। মনে হচ্ছে শশা খেয়ে তারা আসলেই আরাম পাচ্ছে। মানুষের আরামের দরকার আছে।

দুইজন যাত্রী বাসের মধ্যে রাজনৈতিক আলোচনা শুরু করেছেন।
তাদের সাথে যোগ দিয়েছেন আরো সাতজন। আলোচনার বিষয়- আওয়ামী লীগ আর বিএনপি। আমি দূর থেকেই তাদের আলোচনা উপভোগ করছি। চোখের ইশারায় আমি তাদের আলোচনায় অংশ গ্রহন করলাম। বক্তারা তাদের কথা শেষ করে আমার দিকে তাকাচ্ছেন। আমি চোখ দিয়েই তাদের বলছি- ভালো হচ্ছে। হুম ঠিক আছে। অবশ্যই। না না এটা ভুল। বাসের পেছনে সিটে বসা অল্প বয়সী স্কু্ল পড়ুয়া ছেলেরা ক্রিকেট নিয়ে আলোচনায় মেতে উঠেছে। একজন তো রেগে গিয়ে বলল, ধোনির মায় রে বাপ, আফ্রিদির মায় রে বাপ। আমি বাস থেকে জানালা দিয়ে বাইরের দিকে তাকালাম। সুখবর হচ্ছে, আকাশে মেঘ জমতে শুরু করেছে। বড় বড় মেঘের খন্ড দেখতে পাচ্ছি, মনে হয় ঝুম ঝুম বৃষ্টি নামবে। আকাশে মেঘ দেখে মনটা খুশিতে ভরে গেল।

(ছবিঃ আমার তোলা)
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে জুন, ২০২০ রাত ১০:৪০
১০টি মন্তব্য ১০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

২০১৮ সালের পর ঢাকাতেই ৪টা এক্সপ্রেসওয়ে

লিখেছেন মাথা পাগলা, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:৫৩



একটা দেশের উন্নয়ন কতটা এগিয়েছে, সেটা বোঝার অনেকগুলো উপায় আছে। তবে সবচেয়ে সহজ উপায় হলো সেই দেশের রাস্তা, সেতু আর যোগাযোগব্যবস্থা। কারণ এগুলোর পরিবর্তন সরাসরি মানুষের দৈনন্দিন জীবনে চোখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অভ্যাস বিষয়ে

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:১২

অভ্যাস আসলে কীভাবে তৈরি হয়?

আমরা অনেক সময় ভাবি, কোনো একটা অভ্যাস তৈরি করতে হলে অনেক বেশি Willpower দরকার।

আসলে ব্যাপারটা একটু অন্যরকম।

আপনি যদি প্রতিদিন এক ঘণ্টা বই পড়ার সিদ্ধান্ত নেন, কিন্তু... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ১৯৭

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৪



শরতের সকাল! সকাল ৮ টা।
ভাদ্র মাস। ইংরেজি সেপ্টেম্বর মাস। ২০২৬ সাল। ঘটনাটা কি হয়েছে, আমি বলি। মোটামোটি ভয়াবহ ঘটনা বলা যেতে পারে! যে কোনো সময় রোদ উঠবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশে বর্তমান গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট: দায় কার?

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:০৭


সংক্ষিপ্ত রায় সবচেয়ে বড় দায় বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ নীতির। এর মধ্যে ২০০৯–২০২৪ সময়কালের সরকারের সিদ্ধান্তগুলোর দায় তুলনামূলকভাবে বেশি, কারণ ওই সময়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা দ্রুত বাড়ানো হলেও... ...বাকিটুকু পড়ুন

যাপিত জীবন.....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৭


১।মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ব্রুনাই দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কিছু দেশে জুম্মার নামাজ পড়ার সুযোগ হয়েছে। ১২.৫০ এ আজান তারপর ১.১৫ দিকে জুম্মার নামাজের সকল আনুষ্ঠানিকতা শেষ। আজানের কিছুক্ষণ পর খুতবা শুরু তারপর... ...বাকিটুকু পড়ুন

×