
আজকের ডায়েরীতে নতুন কিছু লেখার নেই।
নতুন কিছু ঘটছে না। প্রতিটা দিন একই রকম যাচ্ছে। কোনো পরিবর্তন নাই। মুভি দেখছি। বই পড়ছি। নিজের চা নিজেই বানিয়ে খাচ্ছি। ঘরে খুব বেশি দম বন্ধ লাগলে বিকেলের দিকে হাটতে বাইরে যাচ্ছি। আমাদের এলাকার দোকানপাট, বাজার আর মানুষজনের চলা ফেরা দেখলে কেউ বিশ্বাস করবে না করোনা বলে কিছু আছে। আমি চারপাশ দেখি। চারিপাশের পরিস্থিতি বুঝতে চেষ্টা করি। মানুষের সমস্যা গুলো বুঝতে চেষ্টা করি। বাসায় ফেরার পথে আম কিনি। কখনও পেয়ারা বা লিচু। বাসায় ফেরার পথে সুরভিকে ফোন দেই- আর্জেন্ট কিছু লাগবে কিনা। সুরভি একেক সময় একেকটা বলে। কখনও আলু, কখনও ডিম, কখনও মরিচের গুড়া। ব্যলকনিতে গিয়ে বসলেই অতীতের ঘটনা গুলো মনে পরে যায়।
একদিন দুপুর দেড়টার সময়।
বাস ভর্তি যাত্রী। স্থানঃ ফার্মগেট। লোকাল বাসের মধ্যে বসে আছি। যাবো উত্তরা। রাস্তায় ভয়াবহ জ্যাম, ভয়াবহ গরম। চারিদিকে কড়া রোদ উঠেছে। আমার সারা শরীর ঘামে ভেজা, কপাল থেকে টপটপ করে ঘাম পড়ছে। বসার জায়গা পাইনি। হেন্ডেল ধরে দাড়িয়ে আছি। কিন্তু আমার বিরক্ত লাগছে না। বাসের ভেতরে চরম বিনোদন চলছে। কত রকম মানুষ। তাদের প্রত্যেককে আমি দেখছি। মুগ্ধ হচ্ছি। মানুষের চেয়ে আজব প্রানী দুনিয়াতে আর কিছু নাই।
বাসের ভেতরে ভিক্ষুক গান গেয়ে ভিক্ষা করছেন।
কি চমতকার গলা। ভিক্ষুক সংগীত প্রতিযোগিতায় যোগ দিচ্ছে না কেন? একজন ভিক্ষুক নামছে আরেকজন উঠছে। যার হাত নেই সে হাত দেখিয়ে ভিক্ষা করছে, যার পা নেই সে পা দেখিয়ে ভিক্ষা করছে, যার চোখ নেই সে চোখ দেখিয়ে ভিক্ষা করছে। একেক জনের আচার আচরন একেক রকম। কারো সাথে কারো মিল নেই। বাসের যাত্রীরা কেউ কেউ পাঁচ টাকা, দশ টাকা ভিক্ষা দিচ্ছে। মানুষের মনে এখনও মায়া দয়া আছে। সবাই নিষ্ঠুর না। আচারওয়ালা আচার বিক্রি করছে- একটা ২ টাকা আর তিনটা ৫ টাকা। অনেক যাত্রীই আগ্রহ নিয়ে আচার কিনছেন। আরেক লোক বাসে চটি বই বিক্রি করছে। তিনটা নিলে ১০ টাকা, ১০ টাকা। ১০ টাকা। আমি নিজে হাতে নিয়ে দেখলাম চটি বই গুলো। পাতলা বই গুলোতে ধাধা আছে, মজার প্রশ্ন আছে, ইয়াসীন সূরার বাংলা অনুবাদ আছে। ডায়বেটিকস ও যৌন্য সমস্যা থেকে মুক্তি উপায় আছে।
আরেক যাত্রী ভাড়া কম দেওয়ায় কন্ট্রাকটরের সাথে ঝগড়া।
তুমুল ঝগড়া। হয়তো কিছুক্ষনের মধ্যে মারামারি শুরু হবে। যাত্রী কাকে যেন ফোন দিয়ে আসতে বললেন। কন্টাকটর মোটেও ভয় পেল না। বরং সে বলছে, পাঠাওতে করে তাড়াতাড়ি আসতে বলেন। এদিকে আরেক যাত্রী 'স্টুডেন্ট' বলছে, আমি ছাত্র আমার ভাড়া অর্ধেক। দশ টাকা ভাড়া বাচানোর জন্য যাত্রীদের কত রকমের চেষ্টা! বাসে এক হুজুর উঠেছে, সে বলছে মসজিদ ও মাদ্রাসার জন্য দান করুন। বেহেশতে যাবেন। সেই দেশ ভাগের পর থেকেই আজও মসজিদ আর মাদরাসার জন্য বাসে ফু্টপাতে টাকা সংগ্রহ চলছেই। শসা ওয়ালা শসা বিক্রি নিয়ে ব্যস্ত- তার বক্তব্য, গরমে শসা খান। আরাম পান। যাত্রীরা শশা খাচ্ছে। মনে হচ্ছে শশা খেয়ে তারা আসলেই আরাম পাচ্ছে। মানুষের আরামের দরকার আছে।
দুইজন যাত্রী বাসের মধ্যে রাজনৈতিক আলোচনা শুরু করেছেন।
তাদের সাথে যোগ দিয়েছেন আরো সাতজন। আলোচনার বিষয়- আওয়ামী লীগ আর বিএনপি। আমি দূর থেকেই তাদের আলোচনা উপভোগ করছি। চোখের ইশারায় আমি তাদের আলোচনায় অংশ গ্রহন করলাম। বক্তারা তাদের কথা শেষ করে আমার দিকে তাকাচ্ছেন। আমি চোখ দিয়েই তাদের বলছি- ভালো হচ্ছে। হুম ঠিক আছে। অবশ্যই। না না এটা ভুল। বাসের পেছনে সিটে বসা অল্প বয়সী স্কু্ল পড়ুয়া ছেলেরা ক্রিকেট নিয়ে আলোচনায় মেতে উঠেছে। একজন তো রেগে গিয়ে বলল, ধোনির মায় রে বাপ, আফ্রিদির মায় রে বাপ। আমি বাস থেকে জানালা দিয়ে বাইরের দিকে তাকালাম। সুখবর হচ্ছে, আকাশে মেঘ জমতে শুরু করেছে। বড় বড় মেঘের খন্ড দেখতে পাচ্ছি, মনে হয় ঝুম ঝুম বৃষ্টি নামবে। আকাশে মেঘ দেখে মনটা খুশিতে ভরে গেল।
(ছবিঃ আমার তোলা)
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে জুন, ২০২০ রাত ১০:৪০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


